নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় টিকটক করাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহত গৃহবধূর নাম সুমনা ফেরদৌসী (৩৮)। এ ঘটনায় তার স্বামী লিমন মল্লিককে গতকাল সোমবার রাতে দিঘলিয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
লোহাগড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বার্তা সংস্থা ইউএনবিকে জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লিমন তার স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।
নিহত সুমনা নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি লোহাগড়া উপজেলার চর দিঘলিয়া গ্রামের ইদ্রিস মল্লিকের ছেলে লিমনের দ্বিতীয় স্ত্রী।
জিজ্ঞাসাবাদে লিমন পুলিশকে জানান, তার অনুপস্থিতিতে স্ত্রী নিয়মিত টিকটকে ভিডিও পোস্ট করতেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত পুরুষদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। লিমনের দাবি অনুযায়ী, সুমনা তাদের সাথে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও আদান-প্রদান করতেন।
এসব বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। সুমনা ভবিষ্যতে এমন কাজ আর করবেন না বলে আশ্বাস দিলেও এই সমস্যার সমাধান হয়নি।
পুলিশ জানায়, সোমবার সকাল ৮টার দিকে টিকটক ভিডিও নিয়ে তাদের মধ্যে আবারও কথা-কাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে লিমন সুমনাকে মারধর করলে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর লিমন তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন এবং পরবর্তীতে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার জন্য ঘরের আড়ার সঙ্গে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখেন।
হত্যাকাণ্ডের পর লিমন স্বাভাবিক সময়ের মতোই সকাল ১০টার দিকে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। বিকেল ৫টার দিকে বাড়ি ফিরে দরজা খুলে তিনি চিৎকার ও কান্নাকাটি শুরু করলে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন।
পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই রাতেই লিমনকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
পরিদর্শক অজিত কুমার রায় বলেন, ‘‘হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি আড়াল করতে এবং এটিকে আত্মহত্যা হিসেবে রূপ দিতে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। নিহতের পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’’