উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার কাছে পৌঁছেছে। বর্তমানে লালমনিরহাটের ডালিয়া পয়েন্টে নদীটির পানি বিপৎসীমার সামান্য নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জেলার নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু করায় দেখা দিয়েছে বন্যার আশঙ্কা।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বরাত দিয়ে বার্তাসংস্থা ইউএনবির এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আজ বুধবার সকাল ৯টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১৪ মিটার, যেখানে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার।
পানি ক্রমাগত বাড়তে থাকায় লালমনিরহাট সদর, আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলার নিম্নাঞ্চলে ইতোমধ্যেই পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারেজের প্রয়োজনীয় সব জলকপাট খোলা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার জানান, আজ সকাল ৯টা থেকে তিস্তার পানি বিপৎসীমার সামান্য নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। চলমান বৃষ্টির কারণে পানির স্তর ক্রমাগত ওঠানামা করছে।
এদিকে, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) এক বুলেটিনে জানিয়েছে, দেশের প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি এবং ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসে অন্তত ১৬টি জেলায় আকস্মিক বন্যা হতে পারে। গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আগামী দুই দিন এই বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে।
আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এসব নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।