Advertisement Banner

মেসিকে ছুঁয়ে অমরত্বের আরও কাছে ‘মিস্টার বিশ্বকাপ’ এমবাপ্পে

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
মেসিকে ছুঁয়ে অমরত্বের আরও কাছে ‘মিস্টার বিশ্বকাপ’ এমবাপ্পে

নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে এসে লিওনেল মেসির রেকর্ডটি নিজের করে নিয়েছেন, ব্যক্তিগত তৃতীয় আসরেই তা ভেঙে দেওয়ার জন্য ছুটে চলেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। রিয়াল মাদ্রিদ তারকা সুইডেনের বিপক্ষে শেষ ৩২-এ ফ্রান্সের সহজ জয়ে অবদান রাখলেন জোড়া গোলে, আর গড়লেন দুর্দান্ত কিছু রেকর্ডও।

বুধবারের ম্যাচে একচেটিয়া প্রাধান্য দেখিয়েছে ফ্রান্স। এমবাপ্পের সঙ্গে ব্র্যাডলি বারকোলার গোলে জয় মিলেছে ৩-০ গোলে। শেষ ১৬-তে ফ্রান্স প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছেন প্যারাগুয়েকে।

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নরওয়ের সঙ্গে গোল না করা এমবাপ্পে এদিন যথারীতি ছিলেন সেরা ছন্দেই। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে যে তিনি সবসময়ই বিধ্বংসী। সুইডেন ম্যাচ দিয়ে ব্রাজিল গ্রেট রোনালদো দি নাজারিওকে পেছনে ফেলে নকআউট পর্বে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে গেছেন এমবাপ্পেই (৯ গোল)।

আর দুই গোলে বিশ্বকাপের মাত্র ১৮ ম্যাচে গোলসংখ্যাও হয়ে গেছে ১৮। আর চলতি আসরে করেছেন লিওনেল মেসির সমান ৬ গোল, যা যৌথভাবে সর্বোচ্চ।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমবাপ্পের চেয়ে বেশি গোল করেছেন কেবল মেসি (১৯ গোল)। যেভাবে ছুটছেন এমবাপ্পে, তাতে এই বিশ্বকাপেই হয়ত এই রেকর্ডটিও নিজের করে নেবেন সময়ের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার।

ম্যাচের প্রথম থেকেই ফ্রান্সের আক্রমণভাগের তিন অস্ত্র এমবাপ্পে, মাইকেল ওলিস ও উসমান দেম্বেলে মিলে তটস্থ রাখেন সুইডেনের ডিফেন্স। ৬১% পজেশন ধরে রেখে গোলের জন্য ফ্রান্স মোট ১২টি শট নিয়ে লক্ষ্যে রাখতে পারে ৬টি, যার তিনটি খুঁজে নেয় ঠিকানা।

১৫ মিনিটেই প্রায় গোল পেয়ে যাচ্ছিলেন এমবাপ্পে। তবে কয়েক ইঞ্চি ব্যবধানে অফসাইড থাকায় মেলেনি গোল। আদ্রিয়েন র‍্যাবিওর কঠিন এঙ্গেল থেকে নেওয়া জোরালো শট ফিরিয়ে দেন গোলকিপার। এমবাপ্পের শট ফিরে আসে গোলপোস্টে লেগে।

একের পর এক আক্রমণে সুইডেনকে ব্যস্ত রাখা ফ্রান্সকে এগিয়ে দিতে পারতেন ওলিস। তবে তার ওভারহেড কিক গোলপোস্টের নিচের অংশে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে দেম্বেলে শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি।

প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে গোল করেন এমবাপ্পে। বক্সের ভেতর থেকে বাঁকানো শটে বল পাঠান জালে। এরপর সোজা চলে যান কোচ দিদিয়ে দেশমের সঙ্গে উদযাপন করতে।

দ্বিতীয়ার্ধের সাত মিনিটের ব্যবধান বাড়ায় ফ্রান্স। সুইডিশ রক্ষণের ফাঁক গলে বারকোলার উদ্দেশ্যে বল বাড়ান ওলিস, জোরালো শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করতে ভুল হয়নি তার।

গোটা ম্যাচে আলেকজান্ডার ইসাকের পাওয়া একটি সুযোগ বাদে সুইডেনকে সুবিধাজনক অবস্থানে দেখা যায়নি। ৭৪তম মিনিটে ওলিসের ওলিসের সঙ্গে 'ওয়ান-টু' খেলে নিজের দ্বিতীয় গোলের দেখা পান ফ্রান্স অধিনায়ক এমবাপ্পে।

ম্যাচ শেষ হওয়ার ছয় মিনিট আগে এমবাপ্পেকে তুলে নেওয়া হয়। এরপর সেরা সুযোগটা পেয়েছিল সুইডেন। তবে দারুণ পজিশনে থেকেও সরাসরি ফ্রান্সের গোলরক্ষক মাইক মেইনিয়ানের হাতে বল মেরে বসেন ভিক্টর গিওকেরেস।

সম্পর্কিত