আর্জেন্টিনা ৩ : ২ কেপ ভার্দে
চরচা ডেস্ক

লিওনেল মেসি দারুণ একটা গোল করেছেন, বিশ্বকাপে টানা গোল করার রেকর্ডটাকে ৮ ম্যাচে নিয়ে গেছেন।
লিসান্দ্রো মার্তিনেসও প্রায় একই ঢংয়ে একটা গোল করেছেন। আর্জেন্টিনা আরেকটা গোল পেয়েছে, সেটা আত্মঘাতী।
আর্জেন্টিনা ম্যাচটা জিতে শেষ ষোলোতে উঠে গেছে।
কিন্তু মায়ামিতে আজ আর্জেন্টিনা কী করেছে, তা নিয়ে সম্ভবত এই মুহূর্তে খুব বেশি মানুষ ভাবছেন না। আর্জেন্টিনা কোথায় ভুল করেছে, আর্জেন্টিনা এভাবে খেললে কত দ্রুত বিদায় নেবে – এসব নিয়ে যা কিছু শঙ্কা কাজ করতে পারে দলটার সমর্থকদের। এর বাইরে আজ সব চিন্তা-ভাবনার কেন্দ্রে কেপ ভার্দে।
বিশ্বকাপের শুরু থেকেই চমকের পর চমক দেখিয়ে আসা পুঁচকে কেপ ভার্দে - র্যাঙ্কিংয়ে ৬৭তম কেপ ভার্দে - আজ শেষ ৩২-এর ম্যাচে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সঙ্গে যেভাবে চোখে চোখ রেখে লড়েছে, যেভাবে আর্জেন্টিনাকে একেবারে বাড়ি ফেরার গাড়িতে প্রায় উঠিয়েই দিয়েছিল, যেভাবে অসাধারণ দুটি গোল করেছে – বিশ্বকাপ ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা ‘আন্ডারডগ স্টোরি’ লেখা হয়ে গেছে তাতে।
ম্যাচের স্কোরলাইনই চোখ কপালে তুলে দেওয়ার মতো। ৯০ মিনিটে আর্জেন্টিনাকে ১-১ সমতায় আটকে রাখা কেপ ভার্দে অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে ২-২ সমতাও ফেরায়। ১১০ মিনিট পর্যন্তও আর্জেন্টিনা কোনোভাবে পেছনে ফেলতে পারেনি কেপ ভার্দেকে। শেষ পর্যন্ত ১১১ মিনিটে আত্মঘাতী গোলে হার মানতে হয় কেপ ভার্দেকে। তৃতীয় গোলটা খাওয়ার পরও অবশ্য আর্জেন্টিনার ঘাম ছুটিয়ে ছেড়েছে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নকআউট পর্বে খেলা সবচেয়ে ছোট দেশটি।

তাদের গোল দুটিও কী অসাধারণ! যেন মন খারাপ দেওয়া সমাপ্তির আগের সর্বশেষ দুই আনন্দের ক্ষণ।
এ ম্যাচে আর্জেন্টিনার হয়ে ২৯ মিনিটে মেসি আর অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই লিসান্দ্রোর গোল দুটিতে আপনি টেকনিক্যাল দক্ষতার কথা বলবেন। দুজনই যেভাবে কাছের পোস্ট দিয়ে বল জালে জড়ালেন, তাতে কেপ ভার্দে গোলকিপার ভোজিনিয়ার ‘নিয়ার পোস্টে’ দুর্বলতা নিয়ে আর্জেন্টিনা আলাদা করে কাজ করেছে বলেও মনে হবে। ১১১ মিনিটে আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলটি কর্নার থেকে, মেসির ক্রসে রোমেরোর হেড জালে ঢোকার আগে লাগে কেপ ভার্দের ডিফেন্ডারের মাথায়। কিন্তু এই ম্যাচের হাইলাইটসেও আপনি বারবার দেখবেন কেপ ভার্দের গোলগুলো – বিশেষ করে এ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সেরা গোলের উপাধি পাওয়ার দাবি তুলে দেওয়া দ্বিতীয় গোলটি।
৫৯ মিনিটে দেরয় দুয়ার্তের গোলের পথে দুটি ‘নাটমেগ’ চোখে পড়বে। গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেসের পায়ের ফাঁক গলে বল জালে পাঠালেন দুয়ার্তে, এর আগে তাকে গোলে সহায়তা করা রায়ান মেন্দেস করেছেন নাটমেগ - পাসটা দিয়েছেনই আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার ফাকুন্দো মেদিনার দু পায়ের ফাঁক দিয়ে।
আর ১০৩ মিনিটে সিডনি কাবরাল যে গোল করলেন, সেটাকে আপনি চাইলে এই বিশ্বকাপের আরও ১৮ ম্যাচ বাকি থাকা অবস্থাতেই টুর্নামেন্টের সেরা গোল বলে দিতে পারেন। আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ে খেলতে বাধ্য করা কেপ ভার্দে ততক্ষণে লিসান্দ্রো মার্তিনেসের গোলে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে। আবার সমতায় ফেরার প্রাণপণ চেষ্টা, হেরে যাওয়ার আগেই হার না মানার দৃঢ়তা তাদের ফুটবলে আর তাদের চোখেমুখে ততক্ষণে দৃশ্যমান। কিন্তু গোলটা যখন হলো, গ্যালারিতে ন্যানোসেকেন্ডের নীরবতা। কিংবা বলতে পারেন গ্যালারি হতভম্ব। কী হয়েছে, সেটা বুঝে উঠতে মস্তিষ্কের যে ন্যানোসেকেন্ড লাগে আর কী!
SIDNEY LOPES CABRAL, TAKE A BOW! pic.twitter.com/ylc6NZuscv
— SOMTOCHUKWU 🔴🇬🇭 (@SommyMufc) July 4, 2026
বাঁ দিক থেকে পাস পেয়ে এক ঘূর্ণিতেই আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডারকে কাটালেন কাবরাল, এরপর বক্সের বাঁ দিকের কোণা থেকেই ডান পায়ের শট। এত চোখধাঁধানো বাঁক শটটাতে, এত দারুণ গতি! আর্জেন্টিনার গোলকিপার ঝাঁপালেন বটে, তবে তা অর্থহীন। বল একেবারে নিখুঁত কোণ দিয়েই ঢুকে গেল জালে।
আর্জেন্টিনা তখন প্রমাদ গুণছে। স্পেন, উরুগুয়ে গ্রুপ পর্বে কেপ ভার্দের এই লড়াই দেখেছে, কিন্তু নকআউট পর্বে যখন বাড়ি ফেরা আর পরের রাউন্ডের যাওয়ার রাস্তা ঠিক হয়ে যেতে পারে খুব অল্প ব্যবধানে, আর্জেন্টিনার কপালে চিকন ঘাম জমতে শুরু হয়ে যাওয়ার কথা।
১১১ মিনিটে আত্মঘাতী গোল সেখান থেকে তাদের উদ্ধার করেছে, এরপরও কেপ ভার্দে পরীক্ষা নিয়েছে তাদের। শেষ পর্যন্ত রেফারি যখন ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজালেন, ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ার অনুভূতি হয়েছে আর্জেন্টিনার। আকাশে তাকিয়ে মেসির বিড়বিড় করা কথা আর তার মুখের ভঙ্গি তা-ই মনে করাল।
আর্জেন্টিনা বেঁচে গেল। আর যারা বিদায় নিল, তারা রেখে গেল মুগ্ধতা। আয়তনে ছোট হয়েও বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার চমক দিয়ে যাদের টুর্নামেন্ট শুরু, সেই কেপ ভার্দের টুর্নামেন্ট শেষ হলো বড় বড় সব দলকে ভয় ধরিয়ে দিয়ে।

লিওনেল মেসি দারুণ একটা গোল করেছেন, বিশ্বকাপে টানা গোল করার রেকর্ডটাকে ৮ ম্যাচে নিয়ে গেছেন।
লিসান্দ্রো মার্তিনেসও প্রায় একই ঢংয়ে একটা গোল করেছেন। আর্জেন্টিনা আরেকটা গোল পেয়েছে, সেটা আত্মঘাতী।
আর্জেন্টিনা ম্যাচটা জিতে শেষ ষোলোতে উঠে গেছে।
কিন্তু মায়ামিতে আজ আর্জেন্টিনা কী করেছে, তা নিয়ে সম্ভবত এই মুহূর্তে খুব বেশি মানুষ ভাবছেন না। আর্জেন্টিনা কোথায় ভুল করেছে, আর্জেন্টিনা এভাবে খেললে কত দ্রুত বিদায় নেবে – এসব নিয়ে যা কিছু শঙ্কা কাজ করতে পারে দলটার সমর্থকদের। এর বাইরে আজ সব চিন্তা-ভাবনার কেন্দ্রে কেপ ভার্দে।
বিশ্বকাপের শুরু থেকেই চমকের পর চমক দেখিয়ে আসা পুঁচকে কেপ ভার্দে - র্যাঙ্কিংয়ে ৬৭তম কেপ ভার্দে - আজ শেষ ৩২-এর ম্যাচে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সঙ্গে যেভাবে চোখে চোখ রেখে লড়েছে, যেভাবে আর্জেন্টিনাকে একেবারে বাড়ি ফেরার গাড়িতে প্রায় উঠিয়েই দিয়েছিল, যেভাবে অসাধারণ দুটি গোল করেছে – বিশ্বকাপ ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা ‘আন্ডারডগ স্টোরি’ লেখা হয়ে গেছে তাতে।
ম্যাচের স্কোরলাইনই চোখ কপালে তুলে দেওয়ার মতো। ৯০ মিনিটে আর্জেন্টিনাকে ১-১ সমতায় আটকে রাখা কেপ ভার্দে অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে ২-২ সমতাও ফেরায়। ১১০ মিনিট পর্যন্তও আর্জেন্টিনা কোনোভাবে পেছনে ফেলতে পারেনি কেপ ভার্দেকে। শেষ পর্যন্ত ১১১ মিনিটে আত্মঘাতী গোলে হার মানতে হয় কেপ ভার্দেকে। তৃতীয় গোলটা খাওয়ার পরও অবশ্য আর্জেন্টিনার ঘাম ছুটিয়ে ছেড়েছে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নকআউট পর্বে খেলা সবচেয়ে ছোট দেশটি।

তাদের গোল দুটিও কী অসাধারণ! যেন মন খারাপ দেওয়া সমাপ্তির আগের সর্বশেষ দুই আনন্দের ক্ষণ।
এ ম্যাচে আর্জেন্টিনার হয়ে ২৯ মিনিটে মেসি আর অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই লিসান্দ্রোর গোল দুটিতে আপনি টেকনিক্যাল দক্ষতার কথা বলবেন। দুজনই যেভাবে কাছের পোস্ট দিয়ে বল জালে জড়ালেন, তাতে কেপ ভার্দে গোলকিপার ভোজিনিয়ার ‘নিয়ার পোস্টে’ দুর্বলতা নিয়ে আর্জেন্টিনা আলাদা করে কাজ করেছে বলেও মনে হবে। ১১১ মিনিটে আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলটি কর্নার থেকে, মেসির ক্রসে রোমেরোর হেড জালে ঢোকার আগে লাগে কেপ ভার্দের ডিফেন্ডারের মাথায়। কিন্তু এই ম্যাচের হাইলাইটসেও আপনি বারবার দেখবেন কেপ ভার্দের গোলগুলো – বিশেষ করে এ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সেরা গোলের উপাধি পাওয়ার দাবি তুলে দেওয়া দ্বিতীয় গোলটি।
৫৯ মিনিটে দেরয় দুয়ার্তের গোলের পথে দুটি ‘নাটমেগ’ চোখে পড়বে। গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেসের পায়ের ফাঁক গলে বল জালে পাঠালেন দুয়ার্তে, এর আগে তাকে গোলে সহায়তা করা রায়ান মেন্দেস করেছেন নাটমেগ - পাসটা দিয়েছেনই আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার ফাকুন্দো মেদিনার দু পায়ের ফাঁক দিয়ে।
আর ১০৩ মিনিটে সিডনি কাবরাল যে গোল করলেন, সেটাকে আপনি চাইলে এই বিশ্বকাপের আরও ১৮ ম্যাচ বাকি থাকা অবস্থাতেই টুর্নামেন্টের সেরা গোল বলে দিতে পারেন। আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ে খেলতে বাধ্য করা কেপ ভার্দে ততক্ষণে লিসান্দ্রো মার্তিনেসের গোলে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে। আবার সমতায় ফেরার প্রাণপণ চেষ্টা, হেরে যাওয়ার আগেই হার না মানার দৃঢ়তা তাদের ফুটবলে আর তাদের চোখেমুখে ততক্ষণে দৃশ্যমান। কিন্তু গোলটা যখন হলো, গ্যালারিতে ন্যানোসেকেন্ডের নীরবতা। কিংবা বলতে পারেন গ্যালারি হতভম্ব। কী হয়েছে, সেটা বুঝে উঠতে মস্তিষ্কের যে ন্যানোসেকেন্ড লাগে আর কী!
SIDNEY LOPES CABRAL, TAKE A BOW! pic.twitter.com/ylc6NZuscv
— SOMTOCHUKWU 🔴🇬🇭 (@SommyMufc) July 4, 2026
বাঁ দিক থেকে পাস পেয়ে এক ঘূর্ণিতেই আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডারকে কাটালেন কাবরাল, এরপর বক্সের বাঁ দিকের কোণা থেকেই ডান পায়ের শট। এত চোখধাঁধানো বাঁক শটটাতে, এত দারুণ গতি! আর্জেন্টিনার গোলকিপার ঝাঁপালেন বটে, তবে তা অর্থহীন। বল একেবারে নিখুঁত কোণ দিয়েই ঢুকে গেল জালে।
আর্জেন্টিনা তখন প্রমাদ গুণছে। স্পেন, উরুগুয়ে গ্রুপ পর্বে কেপ ভার্দের এই লড়াই দেখেছে, কিন্তু নকআউট পর্বে যখন বাড়ি ফেরা আর পরের রাউন্ডের যাওয়ার রাস্তা ঠিক হয়ে যেতে পারে খুব অল্প ব্যবধানে, আর্জেন্টিনার কপালে চিকন ঘাম জমতে শুরু হয়ে যাওয়ার কথা।
১১১ মিনিটে আত্মঘাতী গোল সেখান থেকে তাদের উদ্ধার করেছে, এরপরও কেপ ভার্দে পরীক্ষা নিয়েছে তাদের। শেষ পর্যন্ত রেফারি যখন ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজালেন, ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ার অনুভূতি হয়েছে আর্জেন্টিনার। আকাশে তাকিয়ে মেসির বিড়বিড় করা কথা আর তার মুখের ভঙ্গি তা-ই মনে করাল।
আর্জেন্টিনা বেঁচে গেল। আর যারা বিদায় নিল, তারা রেখে গেল মুগ্ধতা। আয়তনে ছোট হয়েও বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার চমক দিয়ে যাদের টুর্নামেন্ট শুরু, সেই কেপ ভার্দের টুর্নামেন্ট শেষ হলো বড় বড় সব দলকে ভয় ধরিয়ে দিয়ে।