চরচা প্রতিবেদক

সংবাদ সম্মেলনে এসেই তামিম ইকবাল বললেন, সকাল থেকে ভোটের মাঠে থাকায় তিনি বেশ ক্লান্ত। সেই ক্লান্তির ছাপও দেখা গেল কয়েকবার। সাংবাদিকদের ফোন বেজে ওঠা কিংবা নিজেদের মধ্যে কথা বলাতেও বিরক্তি প্রকাশ করতে দেখা যায় তাকে। চার বছরের জন্য বিসিবি সভাপতি হওয়ার বিশেষ দিনেও মুখোমুখি হতে হয়েছে কিছু অস্বস্তিকর প্রশ্নের। যার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ প্রসঙ্গটি। মেজাজ না হারিয়ে অবশ্য হাসিমুখেই দিলেন জবাব। তবে সেখানেও যেন থেকে গেল অনেক প্রশ্ন।
প্রশ্নটি অবশ্য একেবারে অপ্রত্যাশিত ছিল না। নির্বাচনের আগে থেকেই বোর্ডের গঠন ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলে আসছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদেরও কঠিন কিছু প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। নির্বাচন পরিচালনায় কী ধরনের চ্যালেঞ্জ ছিল — এমন প্রশ্নেরও সুস্পষ্ট উত্তর দিতে হিমশিম খেতে দেখা যায় তাদের। এমনকি এক পর্যায়ে একটি সাধারণ গাণিতিক হিসাবেও ভুল করে বসেন একজন কর্মকর্তা।
এবার ফেরা যাক মূল প্রসঙ্গে। একজন সংসদ সদস্য এডহক কমিটিকে কটাক্ষ করে ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ নাম দিয়েছিলেন। তখন অনেকেই বিষয়টিকে সাময়িক আলোচনার বিষয় বলে মনে করেছিলেন। কিন্তু বিসিবির নির্বাচন শেষ হওয়ার পরও সেই তকমা আলোচনায় থাকার কারণ একটাই, বোর্ডে রাজনৈতিকভাবে পরিচিত মুখের আধিপত্য।
সরকারি দল বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন। আবার যারা ক্যাটাগরি-২ থেকে নির্বাচন করেছেন, তাদের জয়ও অনেকটাই অনুমিত ছিল। শুধু পরিচালকই নন, কাউন্সিলরদের বড় একটি অংশেরও ক্রিকেটের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক নেই।
নির্বাচন ঘিরেও ছিল না কোনো বাড়তি রোমাঞ্চ। তামিম যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি হতে যাচ্ছেন, তা অনেক আগেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ৭৪ ভোটের মধ্যে ৭৩ ভোট পেয়েছেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের ছেলে সৈয়দ ইবরাহিম আহমেদ ও অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ছেলে ইসরাফিল খসরু পেয়েছেন ৭২টি করে ভোট। আর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের ছেলে মির্জা ইয়াসির আব্বাস পেয়েছেন ৬৩ ভোট।
এডহক কমিটির মতো নবনির্বাচিত বোর্ডেও তাই রয়েছেন এই তিন রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। মূলত তাদের উপস্থিতিকেই কেন্দ্র করে ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ তকমাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক ট্রল ও সমালোচনাও হয়েছে এবং নিশ্চিতভাবেই আগামীতেও হবে।
তামিম অবশ্য এ বিষয়ে তেমন প্রতিক্রিয়া জানাতে চাননি, “অনেকেই অনেক ধরনের ট্যাগ দিচ্ছে। এটা অবশ্যই তাদের ব্যক্তিগত মতামত। দেখি, বাপের দোয়া থেকে ক্রিকেটের দোয়া করতে পারি কি না ভবিষ্যতে।”
ইবরাহিম আহমেদ, ইসরাফিল খসরু বা মির্জা ইয়াসির আব্বাসের কেউই অবশ্য সহ-সভাপতির দায়িত্ব পাননি। সেই পদে এসেছেন অভিজ্ঞ ক্রিকেট সংগঠক ফাহিম সিনহা। আর সভাপতি তামিম তো আপাদমস্তক ক্রিকেটেরই লোক। তবুও কেন প্রথম দিনেই তাকে এমন একটি বিব্রতকর প্রশ্নের মুখে পড়তে হল?
কারণটা খুব স্পষ্ট। আমজনতার মনে এটা গেঁথে গেছে যে, রাজনৈতিক পরিচয়ে অনেকেরই বোর্ডে আসার পথে তামিম বাধা হননি। বরং তাদের সমর্থন নিয়েই সভাপতি হয়েছেন। ফলে দেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান রাতারাতি তাদের চোখে ‘ভিলেন’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।
যদিও এডহক কমিটির প্রধান হয়ে দুই মাসে এমন কিছু কাজ করেছেন তামিম, যা আগের কেউই করতে পারেননি। ক্রিকেটারদের বেতন-ভাতা বাড়ানো, মাঠকর্মীদের সুযোগ-সুবিধা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার কিছু পদক্ষেপ ইতিবাচকভাবেই গ্রহণ করেছিলেন অনেকেই। তবে এখন থেকে তাকে নিয়মিতভাবেই প্রমাণ করতে হবে যে, এই বোর্ড সত্যিকার অর্থেই ক্রিকেটের জন্য কাজ করছে। তিনি সহ বোর্ডে তিনি সহ যারাই এসেছেন, তাদের ভিন্ন কোনো লক্ষ্য নেই। ক্রিকেটের উন্নয়নই শেষ কথা।
এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুরু থেকেই ইতিবাচক সুর ধরেছেন তামিম, “আমি আগেও বলেছি, কারও ব্যক্তিগত পরিচয় আমার কাছে মুখ্য নয়। আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো তার উদ্দেশ্য। আমাদের ২৫ জন পরিচালক যদি একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেন, সেটাই সবচেয়ে বড় বিষয়। গত এক-দুই বছরে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে অনেক নেতিবাচকতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। আমি আশা করি, আজকের পর থেকে আমরা ইতিবাচকভাবে সামনে এগোতে পারব।”
তবে বাস্তবতা হলো, নতুন বোর্ডকে ঘিরে নেতিবাচক আলোচনার শেষ নেই। নির্বাচনের ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই রাজশাহী বিভাগ থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত পরিচালক মীর শাকরুল আলম পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। উল্লেখ্য, তার বাবা মীর শাহে আলম স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী। ফলে যে বোর্ড শুরু থেকেই রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে সমালোচনার মুখে ছিল, তাদের পথচলার শুরুটাও হলো তেমনই একজনের পদত্যাগ দিয়ে। যদিও শাকরুল পদত্যাগ করেছেন ‘ব্যবসায়িক ব্যস্ততা’র কারণ দেখিয়ে।
তবে আগে থেকেই তার পদত্যাগের গুঞ্জন ছিল। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচন পর্যন্ত তাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে। তবে যেহেতু তিনি একজন প্রতিমন্ত্রীর সন্তান, তাই এই বিষয়টি নিয়েও সমালোচকেরা আক্রমণে বিদ্ধ করতে চাইবেন তামিমকে।
অবশ্য সভাপতি হিসেবে ভালো-মন্দ সবকিছুর দায়ভার শেষ পর্যন্ত তামিমের কাঁধেই তো বর্তাবে। খেলোয়াড়ি জীবনে একবার দল থেকে বাদ পড়ার পর ফিরে টানা চার ম্যাচে করেছিলেন ফিফটি। ভিন্ন ভূমিকায় এভাবেই তার কাছ থেকে সবার প্রত্যাশা থাকবে এমনটাই। কথা নয়, কাজেই হোক পরিচয়।
আর সেটা করতে হলে প্রথমেই নিশ্চিত করতে হবে, বোর্ডের পরিচালকরা যেন রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে ক্রিকেট প্রশাসক হিসেবেই বেশি পরিচিত হন। দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে বাস্তব অবদান রেখেই তাদের নিজেদের প্রমাণ করতে হবে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিশ্বের সেরা বোলারদের বিপক্ষে অসংখ্য কঠিন ইনিংস খেলেছেন তামিম। কিন্তু বিসিবি সভাপতি হিসেবে সম্ভবত সবচেয়ে কঠিন ইনিংসটি শুরু করলেন এখন। এখানে তিনি একা যত ভালোই করুন না কেন, সেটাই যথেষ্ট হবে না। তার দলের অন্যদের সামান্যতম ভুল হলেও আঙ্গুল তোলা হবে তামিমের দিকেই।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেন, তামিমের সভাপতি হওয়া বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য ইতিবাচক। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, দেশ-বিদেশে বিস্তৃত যোগাযোগ এবং অতি সম্প্রতি পেশাদার ক্রিকেট খেলার সঙ্গে যুক্ত থাকাটাই এর পেছনে মূল কারণ। তবে বিশেষ একটি দোয়ার বোর্ড ট্যাগ নিয়ে যেভাবে যাত্রা শুরু করতে হয়েছে তাকে, তাতে দীর্ঘমেয়াদে কিছু ‘যদি’, ‘কিন্তু’ থেকেই যাবে।
তামিমের আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বড় তারকাদের অনেকেই বোর্ড সভাপতি হয়েছেন। অধিকাংশের রেকর্ড খুব একটা সুখকর নয়। এমনকি ভারতীয় কিংবদন্তি অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলীও পার করেছেন বেশ কঠিন সময়।
তাই সামনে পথচলায় তামিমকে হতে হবে আরও সতর্ক, আরও বিচক্ষণ। তিনি যদি বিসিবিকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে ক্রিকেটকে অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, তাহলে হয়তো সত্যিকার অর্থেই ‘ক্রিকেটের দোয়া’ তকমা অর্জন করতে পারবেন।
প্রশ্ন হচ্ছে, তামিমের দ্বারা সেটা সম্ভব হবে তো?

সংবাদ সম্মেলনে এসেই তামিম ইকবাল বললেন, সকাল থেকে ভোটের মাঠে থাকায় তিনি বেশ ক্লান্ত। সেই ক্লান্তির ছাপও দেখা গেল কয়েকবার। সাংবাদিকদের ফোন বেজে ওঠা কিংবা নিজেদের মধ্যে কথা বলাতেও বিরক্তি প্রকাশ করতে দেখা যায় তাকে। চার বছরের জন্য বিসিবি সভাপতি হওয়ার বিশেষ দিনেও মুখোমুখি হতে হয়েছে কিছু অস্বস্তিকর প্রশ্নের। যার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ প্রসঙ্গটি। মেজাজ না হারিয়ে অবশ্য হাসিমুখেই দিলেন জবাব। তবে সেখানেও যেন থেকে গেল অনেক প্রশ্ন।
প্রশ্নটি অবশ্য একেবারে অপ্রত্যাশিত ছিল না। নির্বাচনের আগে থেকেই বোর্ডের গঠন ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলে আসছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদেরও কঠিন কিছু প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। নির্বাচন পরিচালনায় কী ধরনের চ্যালেঞ্জ ছিল — এমন প্রশ্নেরও সুস্পষ্ট উত্তর দিতে হিমশিম খেতে দেখা যায় তাদের। এমনকি এক পর্যায়ে একটি সাধারণ গাণিতিক হিসাবেও ভুল করে বসেন একজন কর্মকর্তা।
এবার ফেরা যাক মূল প্রসঙ্গে। একজন সংসদ সদস্য এডহক কমিটিকে কটাক্ষ করে ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ নাম দিয়েছিলেন। তখন অনেকেই বিষয়টিকে সাময়িক আলোচনার বিষয় বলে মনে করেছিলেন। কিন্তু বিসিবির নির্বাচন শেষ হওয়ার পরও সেই তকমা আলোচনায় থাকার কারণ একটাই, বোর্ডে রাজনৈতিকভাবে পরিচিত মুখের আধিপত্য।
সরকারি দল বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন। আবার যারা ক্যাটাগরি-২ থেকে নির্বাচন করেছেন, তাদের জয়ও অনেকটাই অনুমিত ছিল। শুধু পরিচালকই নন, কাউন্সিলরদের বড় একটি অংশেরও ক্রিকেটের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক নেই।
নির্বাচন ঘিরেও ছিল না কোনো বাড়তি রোমাঞ্চ। তামিম যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি হতে যাচ্ছেন, তা অনেক আগেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ৭৪ ভোটের মধ্যে ৭৩ ভোট পেয়েছেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের ছেলে সৈয়দ ইবরাহিম আহমেদ ও অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ছেলে ইসরাফিল খসরু পেয়েছেন ৭২টি করে ভোট। আর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের ছেলে মির্জা ইয়াসির আব্বাস পেয়েছেন ৬৩ ভোট।
এডহক কমিটির মতো নবনির্বাচিত বোর্ডেও তাই রয়েছেন এই তিন রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। মূলত তাদের উপস্থিতিকেই কেন্দ্র করে ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ তকমাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক ট্রল ও সমালোচনাও হয়েছে এবং নিশ্চিতভাবেই আগামীতেও হবে।
তামিম অবশ্য এ বিষয়ে তেমন প্রতিক্রিয়া জানাতে চাননি, “অনেকেই অনেক ধরনের ট্যাগ দিচ্ছে। এটা অবশ্যই তাদের ব্যক্তিগত মতামত। দেখি, বাপের দোয়া থেকে ক্রিকেটের দোয়া করতে পারি কি না ভবিষ্যতে।”
ইবরাহিম আহমেদ, ইসরাফিল খসরু বা মির্জা ইয়াসির আব্বাসের কেউই অবশ্য সহ-সভাপতির দায়িত্ব পাননি। সেই পদে এসেছেন অভিজ্ঞ ক্রিকেট সংগঠক ফাহিম সিনহা। আর সভাপতি তামিম তো আপাদমস্তক ক্রিকেটেরই লোক। তবুও কেন প্রথম দিনেই তাকে এমন একটি বিব্রতকর প্রশ্নের মুখে পড়তে হল?
কারণটা খুব স্পষ্ট। আমজনতার মনে এটা গেঁথে গেছে যে, রাজনৈতিক পরিচয়ে অনেকেরই বোর্ডে আসার পথে তামিম বাধা হননি। বরং তাদের সমর্থন নিয়েই সভাপতি হয়েছেন। ফলে দেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান রাতারাতি তাদের চোখে ‘ভিলেন’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।
যদিও এডহক কমিটির প্রধান হয়ে দুই মাসে এমন কিছু কাজ করেছেন তামিম, যা আগের কেউই করতে পারেননি। ক্রিকেটারদের বেতন-ভাতা বাড়ানো, মাঠকর্মীদের সুযোগ-সুবিধা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার কিছু পদক্ষেপ ইতিবাচকভাবেই গ্রহণ করেছিলেন অনেকেই। তবে এখন থেকে তাকে নিয়মিতভাবেই প্রমাণ করতে হবে যে, এই বোর্ড সত্যিকার অর্থেই ক্রিকেটের জন্য কাজ করছে। তিনি সহ বোর্ডে তিনি সহ যারাই এসেছেন, তাদের ভিন্ন কোনো লক্ষ্য নেই। ক্রিকেটের উন্নয়নই শেষ কথা।
এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুরু থেকেই ইতিবাচক সুর ধরেছেন তামিম, “আমি আগেও বলেছি, কারও ব্যক্তিগত পরিচয় আমার কাছে মুখ্য নয়। আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো তার উদ্দেশ্য। আমাদের ২৫ জন পরিচালক যদি একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেন, সেটাই সবচেয়ে বড় বিষয়। গত এক-দুই বছরে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে অনেক নেতিবাচকতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। আমি আশা করি, আজকের পর থেকে আমরা ইতিবাচকভাবে সামনে এগোতে পারব।”
তবে বাস্তবতা হলো, নতুন বোর্ডকে ঘিরে নেতিবাচক আলোচনার শেষ নেই। নির্বাচনের ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই রাজশাহী বিভাগ থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত পরিচালক মীর শাকরুল আলম পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। উল্লেখ্য, তার বাবা মীর শাহে আলম স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী। ফলে যে বোর্ড শুরু থেকেই রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে সমালোচনার মুখে ছিল, তাদের পথচলার শুরুটাও হলো তেমনই একজনের পদত্যাগ দিয়ে। যদিও শাকরুল পদত্যাগ করেছেন ‘ব্যবসায়িক ব্যস্ততা’র কারণ দেখিয়ে।
তবে আগে থেকেই তার পদত্যাগের গুঞ্জন ছিল। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচন পর্যন্ত তাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে। তবে যেহেতু তিনি একজন প্রতিমন্ত্রীর সন্তান, তাই এই বিষয়টি নিয়েও সমালোচকেরা আক্রমণে বিদ্ধ করতে চাইবেন তামিমকে।
অবশ্য সভাপতি হিসেবে ভালো-মন্দ সবকিছুর দায়ভার শেষ পর্যন্ত তামিমের কাঁধেই তো বর্তাবে। খেলোয়াড়ি জীবনে একবার দল থেকে বাদ পড়ার পর ফিরে টানা চার ম্যাচে করেছিলেন ফিফটি। ভিন্ন ভূমিকায় এভাবেই তার কাছ থেকে সবার প্রত্যাশা থাকবে এমনটাই। কথা নয়, কাজেই হোক পরিচয়।
আর সেটা করতে হলে প্রথমেই নিশ্চিত করতে হবে, বোর্ডের পরিচালকরা যেন রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে ক্রিকেট প্রশাসক হিসেবেই বেশি পরিচিত হন। দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে বাস্তব অবদান রেখেই তাদের নিজেদের প্রমাণ করতে হবে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিশ্বের সেরা বোলারদের বিপক্ষে অসংখ্য কঠিন ইনিংস খেলেছেন তামিম। কিন্তু বিসিবি সভাপতি হিসেবে সম্ভবত সবচেয়ে কঠিন ইনিংসটি শুরু করলেন এখন। এখানে তিনি একা যত ভালোই করুন না কেন, সেটাই যথেষ্ট হবে না। তার দলের অন্যদের সামান্যতম ভুল হলেও আঙ্গুল তোলা হবে তামিমের দিকেই।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেন, তামিমের সভাপতি হওয়া বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য ইতিবাচক। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, দেশ-বিদেশে বিস্তৃত যোগাযোগ এবং অতি সম্প্রতি পেশাদার ক্রিকেট খেলার সঙ্গে যুক্ত থাকাটাই এর পেছনে মূল কারণ। তবে বিশেষ একটি দোয়ার বোর্ড ট্যাগ নিয়ে যেভাবে যাত্রা শুরু করতে হয়েছে তাকে, তাতে দীর্ঘমেয়াদে কিছু ‘যদি’, ‘কিন্তু’ থেকেই যাবে।
তামিমের আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বড় তারকাদের অনেকেই বোর্ড সভাপতি হয়েছেন। অধিকাংশের রেকর্ড খুব একটা সুখকর নয়। এমনকি ভারতীয় কিংবদন্তি অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলীও পার করেছেন বেশ কঠিন সময়।
তাই সামনে পথচলায় তামিমকে হতে হবে আরও সতর্ক, আরও বিচক্ষণ। তিনি যদি বিসিবিকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে ক্রিকেটকে অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, তাহলে হয়তো সত্যিকার অর্থেই ‘ক্রিকেটের দোয়া’ তকমা অর্জন করতে পারবেন।
প্রশ্ন হচ্ছে, তামিমের দ্বারা সেটা সম্ভব হবে তো?

এডহক কমিটির মতো নবনির্বাচিত বোর্ডেও তাই রয়েছেন এই তিন রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। মূলত তাদের উপস্থিতিকেই কেন্দ্র করে ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ তকমাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক ট্রল ও সমালোচনাও হয়েছে এবং নিশ্চিতভাবেই আগামীতেও হবে।