ইউরোপীয় দেশগুলো রাশিয়ার সামরিক অভিযান থামানোর জন্য মস্কোর ওপর চাপ বাড়ালেও, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে আরও হামলা চালানোর এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইরানকে সহায়তা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিরগিজস্তানে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলন শেষে পুতিন জানান, ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপকভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রুশ বাহিনীকে।
পুতিন আরও দাবি করেন, রাশিয়ার এসব হামলায় কিয়েভের কৃষি পণ্য রপ্তানি চরম ঝুঁকিতে পড়ছে, যা সেখানে আর্থিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি করছে। পুতিন বলেন, “আমি বলছি না যে আমরা ওদের অর্থনীতি পুরোপুরি ধসিয়ে দেব, তবে এটি তাদের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ।”
একই সাথে, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার কারণে রাশিয়ার আকাশে বেসামরিক বিমান নিরাপদ নয়—ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির এমন সতর্কবার্তার পর তাকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদে’ অভিযুক্ত করেন পুতিন। তিনি বলেন, “আমি একটি বিষয়ের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই—তারা নিজেরাই আমাদের সাথে আলোচনায় বসতে এবং ব্যক্তিগত বৈঠকের অনুরোধ জানাচ্ছে। অথচ সন্ত্রাসীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয় না।”
পুতিন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন এবং নিজ দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ইরানি জনগণের সাহস ও দৃঢ়তার প্রতি তার সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।
পারস্য উপসাগরে মার্কিন সমরশক্তির অবস্থান সম্পর্কিত গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে রাশিয়া ইরানকে সহায়তা করেছে এবং কাস্পিয়ান সাগর দিয়ে তেহরানে ড্রোনের যন্ত্রাংশ পাঠিয়েছে—এমন একাধিক রিপোর্টের প্রেক্ষাপটেই তাদের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, কিছুদিন যুদ্ধ সাময়িক স্থগিত থাকার পর গতকাল মঙ্গলবার উভয় দেশই একে অপরের ওপর পাল্টা হামলা চালায়।
বিশকেকে পেজেশকিয়ানকে উদ্দেশ্য করে পুতিন বলেন, “এই কঠিন সময়ে আমরা আপনাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছি। আমরা এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি এবং আপনাদের প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সরবরাহ করছি।”
২০২৩ সাল থেকে রাশিয়া মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ও অন্যান্য যুদ্ধজাহাজকে পরাস্ত করার সক্ষমতা দিতে ইরানকে গোপন উপায়ে উন্নতমানের সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে সহায়তা করছে।