Advertisement Banner

ঋণপত্র ছাড়াই আমদানি-রপ্তানির সুযোগ পাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
ঋণপত্র ছাড়াই আমদানি-রপ্তানির সুযোগ পাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা
ছবি: এআই দিয়ে বানানো

আমদানি-রপ্তানি ব্যবসায় চিরাচরিত ঋণপত্র বা এলসি ব্যবস্থার বাইরে এখন কয়েকটি বিকল্প পদ্ধতিতে ব্যবসা করতে পারবেন ব্যবসায়ীরা। প্রথাগতভাবে ঋণপত্রের মাধ্যমে আমদানিকারকের ব্যাংক রপ্তানিকারককে টাকা পরিশোধের নিশ্চয়তা দেয়। ১৫ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকে এর বিকল্প কয়েকটি পদ্ধতির অনুমোদন দিয়ে একটি নির্দেশনা জারি করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা সার্কুলার অনুযায়ী, দেশের বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এখনও এলসির মাধ্যমে হলেও বিশ্বজুড়ে এখন আরও সহজ ও কম খরচের বেশ কিছু পদ্ধতি জনপ্রিয় হচ্ছে। সেই ধারায় বাংলাদেশেও এখন ‘ওপেন অ্যাকাউন্ট’ পদ্ধতিতে ব্যবসা করা যাবে, যেখানে রপ্তানিকারক আগে পণ্য পাঠিয়ে, পরে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পওয়ার নিশ্চয়তা পাবেন এলসি খোলার ঝামেলা ছাড়াই।

এ ছাড়া ‘ডকুমেন্টারি কালেকশন’ পদ্ধতিতে ব্যাংকের মাধ্যমে কাগজপত্র পাঠানোর পর ক্রেতা টাকা পরিশোধ করলে বা পরে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেই তার হাতে কাগজপত্র যাবে।

একই সাথে ঐ সার্কুলারে বলা হয়, ছোট ও মাঝারি সরবরাহকারীদের জন্য সুবিধাজনক ‘সাপ্লাই চেইন ফাইন্যান্স’ পদ্ধতিও চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বড় ও আর্থিকভাবে সচ্ছল প্রতিষ্ঠানের গ্যারান্টিতে ব্যাংক সরবরাহকারীকে নির্ধারিত সময়ের আগেই টাকা দিয়ে দিতে পারবে। পরে বড় প্রতিষ্ঠান সেই টাকা ব্যাংককে ফেরত দেবে। তবে কোনো ব্যাংক এই পদ্ধতি চালু করার আগে ব্যবসায়িকে সে পরিকল্পনা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে।

অগ্রিম টাকা পরিশোধের নিয়মেও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে বিদেশি ব্যাংকের নিশ্চয়তা থাকলে আমদানির জন্য কোনো সীমা ছাড়াই অগ্রিম টাকা পাঠানো যাবে। নিশ্চয়তা না থাকলেও সাধারণ অনুমতির আওতায় ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত অগ্রিম পাঠানো যাবে। তবে এক্ষেত্রে নিজের জমা থাকা ডলার হিসাব থেকে হলে ৫০ হাজার ডলার পর্যন্তও পাঠানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।

এর বেশি অঙ্কের প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিতে হবে। জরুরি প্রয়োজন হলে ই-মেইলে আবেদন করলে তা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিষ্পত্তি করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

নতুন এই সুযোগগুলো এলসির ব্যবহার বন্ধ করছে না, বরং ব্যবসায়ীদের হাতে আরও বিকল্প সুযেগ রাখা হয়েছে বরে জানিয়েছে বাংলাদশে ব্যাংক। এতে করে ব্যবসায়িরা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সবচেয়ে উপযোগী পদ্ধতি বেছে নিতে পারবেন।

সম্পর্কিত