Advertisement Banner

‘কীসের মে দিবস, একদিন হাত বন্ধ রাখলে পেটে ভাত জুটবে না’

‘কীসের মে দিবস, একদিন হাত বন্ধ রাখলে পেটে ভাত জুটবে না’
তেঁতুলতলা এলাকার বিভিন্ন ইটভাটায় মে দিবসেও কাজ করছেন শ্রমিকেরা। ছবি: চরচা

“বাপু, আমাদের আবার কীসের মে দিবস? দিন আনি দিন খাই। একদিন হাত বন্ধ রাখলে পেটে ভাত জুটবে না। তাই পেটের তাগিদেই কাজে আইছি।”

ভাটায় দীর্ঘক্ষণ হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে কপালে জমে থাকা ঘাম মুছে আক্ষেপ করে এভাবেই বলছিলেন ৬০ বছর বয়সী শ্রমিক আব্দুল আজিজ।

আজ ১ মে, আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। সারা বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের এই দিনে যখন সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে ছুটি পালিত হচ্ছে, তখন রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিয়ান ইউনিয়নের তেঁতুলতলা এলাকার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।

সেখানে উৎসব বা ছুটির কোনো ছোঁয়া লাগেনি; বরং প্রখর রোদ আর ইটভাটার আগুনের উত্তাপের মধ্যে ঘাম ঝরিয়ে চলেছেন শত শত শ্রমিক।

আজ শুক্রবার সকালে তেঁতুলতলা এলাকার বিভিন্ন ইটভাটায় গিয়ে দেখা যায়, ভোর থেকেই পুরোদমে চলছে কাজ। কেউ কাঁচা ইট সাজাচ্ছেন, কেউ বা মাথায় করে ইটের বোঝা নিয়ে ছুটছেন ভাটায়। তাদের কাছে ক্যালেন্ডারের ‘লাল তারিখের’ কোনো বিশেষত্ব নেই।

একই স্থানে কাজ করছেন ২৭ বছর বয়সী যুবক মো. সোহেল। মে দিবস সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সবাই জানে আজ ছুটির দিন, কিন্তু আমাদের ভাটায় কোনো ছুটি নাই। মালিকপক্ষ থেকে বলে দিছে, কাজ না করলে টাকা নাই। উৎসবের আনন্দ বড়লোকদের জন্য, আমাদের জন্য কেবল হাড়ভাঙা খাটুনি।”

ভাটার আগুনের পাশে প্রচণ্ড গরমে কাজ করছিলেন ৪০ বছর বয়সী নারী শ্রমিক রহিমা বেগম। তিনি বলেন, “রোদের তাপ আর আগুনের গরমে টেকা দায়, কিন্তু কী করার আছে? ঘরে অভাব, বাচ্চাকাচ্চার মুখ চেয়েই এই তপ্ত দুপুরেও ইটের বোঝা টানছি। মালিকরা তো আর মে দিবসের দোহাই দিয়ে আমাদের বিনে পয়সায় চাল-ডাল দেবে না।”

কাজে ব্যস্ত ২৬ বছর বয়সী আরেক শ্রমিক আকাশ হোসেন বলেন, “শহরে হয়তো মিছিল-মিটিং হচ্ছে, কিন্তু আমাদের খবর কেউ রাখে না। আমরা কাজ করলে পয়সা পাই, না করলে উপোস থাকতে হয়। আমাদের কাছে মে দিবস মানে কেবল ঘাম ঝরানো আর জীবন-যুদ্ধ।”

এ ব্যাপারে তেঁতুলতলা এলাকার বিভিন্ন ইটভাটার মালিক ও সংশ্লিষ্টদের কাছে জানতে চাইলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সম্পর্কিত