অপরিশোধিত তেলের (ক্রুড অয়েল) তীব্র সংকটের কারণে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। কর্তৃপক্ষ আশা করছে, আগামী মে মাসের শুরুর দিকে অপরিশোধিত তেলের নতুন চালান দেশে পৌঁছালে শোধনাগারটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে।
ইস্টার্ন রিফাইনারির একজন কর্মকর্তা চরচাকে জানান, মূলত গত রোববার রাত থেকেই রিফাইনারিটি শাটডাউন করা হয়। এখন তারা রিফাইনারির মেইনটেনেন্সের কাজ করছেন।
শোধনাগারটিতে ব্যবহারের মতো পর্যাপ্ত অপরিশোধিত তেল কমে আসায় কয়েকদিন আগে থেকেই এই অচলাবস্থার শঙ্কা তৈরী হয়েছিল। তেলের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে শোধনাগারটির অপারেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুসারে, মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই তেলের নতুন চালান আসার কথা রয়েছে। সেই আমদানিকৃত তেল পাওয়ার পরই পুনরায় উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে ইআরএল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
দেশের জ্বালানি তেলের চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বন্ধ হওয়া একটি বড় সংকটের ইঙ্গিত দিলেও মে মাসের শুরুতেই তা নিরসনের চেষ্টা চলছে।
ইআরএল সাধারণত দৈনিক গড়ে ৪ হাজার ৫০০ টন ক্রুড তেল পরিশোধন করে থাকে। তবে, ক্রুড সংকটের কারণে গত মাস থেকেই পরিশোধন কমিয়ে দৈনিক ৩ হাজার ৫০০ টন করা হয়েছিল। বেশ কিছুদিন যাবত প্রতিষ্ঠানটির কাছে ব্যবহারযোগ্য তেলের মজুত ২ হাজার টনের নিচে নেমে আসে।
বিপিসির তথ্যমতে, দেশে প্রতি বছর ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে ডিজেল ও অপরিশোধিত তেলের পরিমাণ বেশি। প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে, যা ইআরএলে পরিশোধন করা হয়।