হঠাৎ কেন সাকিবকে ফেরাতে তৎপর বিসিবি

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
হঠাৎ কেন সাকিবকে ফেরাতে তৎপর বিসিবি
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে সাকিব আল হাসানকে ফেরানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ছবি: রয়টার্স

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ পড়ার দিন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে সাকিব আল হাসানকে ফেরানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। শনিবার গভীর রাতে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশ ও দেশের বাইরে বাংলাদেশ দলের হয়ে খেলার জন্য সাকিবকে বিবেচনা করা হবে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তনের ব্যাপারে সাকিবের সম্মতি আছে।

বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান আমজাদ হোসেন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “যদি সাকিব আল হাসানের অ্যাভেইলেবিলিটি, ফিটনেস এবং অ্যাকসেসেবেলেটি; সঙ্গে যে ভেন্যুতে খেলা হবে, ওখানে যদি উপস্থিত থাকার মতো সক্ষমতা থাকে, অবশ্যই বোর্ড বা নির্বাচক প্যানেল সাকিব আল হাসানকে পরবর্তী সময়ে দলে নির্বাচনের জন্য বিবেচনা করবে।’’

সাকিবের আগ্রহের ব্যাপারে বলা হয়, ‘‘তার সঙ্গে আলাপ–আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম হোম ও অ্যাওয়ে দুই ধরনের সিরিজ খেলার জন্যই অ্যাভেইলেবল আছেন কিনা! তিনি বলেছেন, ‘আছেন।’”

২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা–১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নির্বাচন করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সাকিব। জুলাই আন্দোলনের সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ছিলেন। আগস্টে ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি আর দেশে ফিরতে পারেননি। যদিও আগস্টেই পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয়ের দলে ছিলেন তিনি। খেলেছেন দুটি টেস্টই। সেপ্টেম্বরে ভারতের বিপক্ষে টেস্টও খেলেন। কানপুরের সেই টেস্টই ছিল দেশের হয়ে সাকিবের সর্বশেষ টেস্ট।

অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঘরের মাঠে টেস্ট খেলে অবসরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সাকিব। তাকে নিয়ে বাংলাদেশ দলও ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ–সম্পৃক্ততার কারণে সাকিবকে না খেলানোর পক্ষে দেশে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের কারণে তিনি আর ফেরেননি।

এক বছরেরও বেশি সময় পর তাকে ফেরানোর সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক বাধার সৃষ্টি করবে কিনা, এমন ব্যাপারে বিসিবির বক্তব্য, ‘ওটা সরকারের সিদ্ধান্ত। রাজনৈতিক দিকটা সরকার দেখবে। সরকার যদি মনে করে তিনি অপরাধী, তার বিচার তারা করবে। ওটা বিসিবির দেখার বিষয় নয়।’

এখন সরকার যদি না চায়, তাহলে বিসিবির সিদ্ধান্তে কি সাকিব খেলতে পারবেন? দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের মতোই যদি তাকে দলে নিয়েও না খেলানো যায়? এ ব্যাপারে অবশ্য বিসিবি পরিস্কার করে কিছু বলেনি।

২০২৪ সালের আগস্টের পর সাকিবের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে হত্যা মামলাও। এই মামলাগুলোর কারণেই সাকিবের দেশে ফেরা সম্ভব হয়নি। এখন সাকিব দেশে ফিরলে তাকে যে গ্রেপ্তার করা হবে না, এমন কোনো নিশ্চয়তা সাকিব বা বিসিবি পেয়েছে কি না, সে ব্যাপারেও সংবাদ সম্মেলন থেকে পরিস্কার করে কিছু বলা হয়নি। এ ব্যাপারে আমজাদ হোসেনের কথা, ‘‘আমরা সাকিবকে চাই, এটাই মূল কথা। সাকিবের ইস্যুগুলো ব্যক্তিগত, সেটা সরকার দেখবে।’’

সম্পর্কিত