বিনিয়োগ কমে যাওয়া, উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং ঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলোর অতি সতর্ক অবস্থানের কারণে দেশের ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য বেড়েই চলেছে। জুন মাস শেষে মোট উদ্বৃত্ত তারল্য প্রথমবারের মতো চার লাখ কোটি টাকার মাইলফলক ছাড়িয়ে গেছে। অর্থাৎ, ব্যাংকে বিশাল অঙ্কের টাকা অলস পড়ে আছে।
আজ রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান চরচাকে এই তথ্য জানিয়েছেন।
আরিফ হোসেন বলেন, “গত জুন শেষে ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে চার লাখ আট হাজার কোটি টাকা। ঠিক তার আগের মাস, অর্থাৎ মে শেষে এর পরিমাণ ছিল তিন লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা। সেই হিসেবে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ব্যাংকগুলোতে উদ্বৃত্ত তারল্য বেড়েছে ৭১ হাজার কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের জুন শেষে উদ্বৃত্ত তারল্য ছিল দুই লাখ ৮৩ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা।”
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের ব্যাংকিং খাতে উদ্বৃত্ত তারল্যের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বেশ কিছুদিন ধরেই চলছে। ২০২৪ সালের জুন মাসে ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য ছিল এক লাখ ৯৩ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা। ২০২৩ সালের জুনে এর পরিমাণ ছিল এক লাখ ৬৬ হাজার ২৭২ কোটি টাকা। গত কয়েক বছর ধরে ব্যাংকগুলোতে আমানত ও তহবিলের প্রবাহ বাড়লেও তা কাঙ্ক্ষিত হারে অর্থনীতিতে পুনর্বিনিয়োগ হচ্ছে না।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকট, অবকাঠামোগত নানা সীমাবদ্ধতা এবং সামগ্রিক ব্যবসায়ীক পরিস্থিতির অনিশ্চয়তার কারণে নতুন বিনিয়োগে উদ্যোক্তারা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। একই সাথে আশঙ্কাজনক হারে খেলাপি ঋণ বাড়ায় ব্যাংকগুলোও নতুন করে ঋণ দিয়ে ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। ব্যবসা-বাণিজ্যের এমন মন্দা ও সতর্ক অবস্থানের সার্বিক প্রভাবে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে বর্তমানে ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে নেমে এসেছে।