ads

স্পেন ৩ : ০ অস্ট্রিয়া

১৬ বছরে যা হয়নি, তা-ই করে দেখাল ইয়ামালের স্পেন

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
১৬ বছরে যা হয়নি, তা-ই করে দেখাল ইয়ামালের স্পেন
গোল-অ্যাসিস্ট না পেলেও ইয়ামাল খারাপ খেলেননি। ছবি: রয়টার্স

গ্রুপ পর্বে এই স্পেনের দেখা মেলেনি। দুই বছর আগে ইউরোতে যে দাপুটে স্পেনের দেখা মিলেছিল, সেই দলটার খোঁজে ছিলেন স্প্যানিশ সমর্থকেরা। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে একটা জয়ের খোঁজ তো সেই ২০১০-এর ফাইনালের পর থেকেই চলছে!

স্পেনের দুই অপেক্ষারই শেষ হলো আজ সোফি স্টেডিয়ামে। অস্ট্রিয়ার প্রেসিং আর গতি ভয় ধরাবে বলে মনে হচ্ছিল, কিন্তু কোথায় কী! স্পেন বরং দেখা দিল স্পেন হয়ে, তাতে খড়কুটোর মতো উড়ে গেল অস্ট্রিয়া। মিকেল ওইয়ারসাবালের জোড়া গোলের সঙ্গে রাইটব্যাক পেদ্রো পোরোর এক গোল মিলিয়ে অস্ট্রিয়াকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলোতে চলে গেল স্পেন, যেখানে তাদের সামনে পড়বে পর্তুগাল আর ক্রোয়েশিয়ার মধ্যে ম্যাচের জয়ী দল।

ম্যাচের আগে লামিন ইয়ামালকে কীভাবে ঠেকাবে অস্ট্রিয়া, তা নিয়েই আলোচনা হচ্ছিল। রাইটব্যাক-রাইট মিডফিল্ডার-সেন্ট্রাল ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার-অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার…সব কাজের কাজী কনরাড লাইমারকে আজ লেফটব্যাকে খেলিয়ে সে কাজটা করার চেষ্টা করেছেন অস্ট্রিয়া কোচ রালফ রাংনিক। লাইমার একেবারে হতাশ করেননি, ইয়ামাল কয়েকটা ড্রিবলিং আর পাসে মুগ্ধতা ছড়ালেও ঠিক ভয়ংকর হয়ে দেখা দিতে পারেননি। সে তুলনায় স্পেনের এই জয়ে স্ট্রাইকার ওইয়ারসাবালের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি অবদান দুই ফুলব্যাক পেদ্রো পোরো আর মার্ক কুকুরেইয়ার। স্পেন কোচ দুই উইঙ্গারকে টাচলাইনে রেখে দুই ফুলব্যাককে ‘আন্ডারল্যাপ’ করে উঠিয়ে দেওয়ার যে কৌশল নিয়েছেন, তারই ফল বলা যায় একে!

২৯ মিনিটেই গোল পেয়ে যেতে পারতেন কুকুরেইয়া। স্পেন বল জালে জড়ালেও সেটি ফাউলের অভিযোগে বাতিল করে দেন রেফারি। কর্নার থেকে ভেসে আসা বল হাত থেকে ছুটে যায় অস্ট্রিয়া গোলকিপার শ্ল্যাগারের, যদিও স্পেন ডিফেন্ডার কুবার্সির সঙ্গে তার ধাক্কা লেগেছিল। সেটিকেই ফাউল ধরে বসেন রেফারি। ততক্ষণে ফিরতি বল কুকুরেইয়া জালে জড়ালেও গোল আর পায়নি স্পেন।

তিন মিনিট পর ওইয়ারসাবালের শট দারুণভাবে ফিরিয়ে দেন অস্ট্রিয়া গোলকিপার। চার মিনিট পর অবশ্য আর পারেননি। এত অনায়াস এক গোল স্পেনের, মনে হচ্ছিল ট্রেনিং গ্রাউন্ডে কোনো আক্রমণের চাল নিয়ে কাজ হচ্ছিল। মাঝমাঠ থেকে পেদ্রি বল বাড়ালেন বাঁদিকে লেফটব্যাক কুকুরেইয়ার কাছে, তার মাটি কামড়ানো ক্রসে বক্সের মাঝ থেকে শট ওইয়ারসাবালের। গোল!

বিরতির ঠিক আগে বায়েনার ফ্রি-কিক ঠেকানোর পর ফিরতি বলে ইয়ামালের শটও অস্ট্রিয়া গোলকিপার ঠেকিয়ে না দিলে ততক্ষণেই স্পেনের অর্ধেক কাজ সারা হয়ে যেত।

তখন হয়নি, ৬৬ মিনিটে হয়ে গেল। বিরতির পর প্রায় একমুখী স্রোতে স্পেনের গোলটাই শুধু বাকি ছিল, সেটা হয়ে গেল বায়েনার ক্রসে হঠাৎ বক্সে ঢুকে পড়া পেদ্রো পোরোর দারুণ হেডে। এরপর ম্যাচে আসলে আর তেমন কিছু বাকি ছিল না। অস্ট্রিয়া তেমন কোনো হুমকিই তৈরি করতে পারেনি, স্পেনও দুই গোলের পর আর তেমন তেড়েফুড়ে ওঠেনি। তবু ৮৯ মিনিটে আরেকটা গোল হয়েই গেল!

আক্রমণের শুরু গোলপোস্টে উনাই সিমনের পা থেকে। ডান দিক থেকে বাঁ দিকে দ্রুতগতির পাসিংয়ে বল নিয়ে গেল স্পেন। বাঁ দিক থেকে কুকুরেইয়ার মাটি কামড়ানো ক্রস, আবারও ট্রেনিং গ্রাউন্ডের কোনো অনুশীলনের মতো তাতে দারুণ ফিনিশিং ওইয়ারসাবালের।

ভিয়েনার টিকিট কাটল অস্ট্রিয়া, স্পেন শেষ ষোলোর। সেটাও দাপট দেখিয়ে। পর্তুগাল কিংবা ক্রোয়েশিয়া – যারাই হোক, তাদের প্রতি অনুচ্চারে হুঙ্কার ছড়িয়ে। তিন গোল করে, টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত কোনো গোল না খেয়ে।

সম্পর্কিত