সংবিধান সংশোধনে একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি শিগগিরই গঠন করার ইঙ্গিত দিয়েছেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।
আজ বুধবার সংসদ ভবনে সংসদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, ১৫ থেকে ২০ সদস্যের একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি খুব শিগগির গঠন করা হবে।
কমিটিতে সরকারি দল, বিরোধী দল, অন্যান্য দল এবং স্বতন্ত্র সদস্যদেরও রাখা হবে। আগামী রোববারের মধ্যেই কমিটি গঠনের অগ্রগতি দেখা যেতে পারে বলেও জানান তিনি।
‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের বৈঠক আহ্বান প্রসঙ্গে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমানের একটি মুলতবি প্রস্তাব নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার সংসদে আলোচনা হয়। ওই আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। পরে জামায়াত আমির শফিকুর রহমান স্পিকারকে ওই কমিটি গঠনের জন্য আহ্বান জানান। তবে তারা কমিটিতে সমানসংখ্যাক সদস্য দাবি করেন।
সাংবাদিকদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম বলেন, “সংবিধান সংশোধনের জন্য একটা কমিটি হবে। সেখানে সব দলের প্রতিনিধি রাখতে চাই আনুপাতিক হারে। স্বতন্ত্র থেকেও আমরা রাখতে চাই। সকলের মতামত নিয়ে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি কমিটি অচিরেই করব। আগামী রোববারের মধ্যে আপনারা দেখবেন হয়তো… খুব শিগগিরই এটা করব।”
কত সদস্যের কমিটি হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটা একটা উদ্ভূত পরিস্থিতি। এখানে সরকারি দলের যারা আইন বিশেষজ্ঞ আছেন, তাদের রাখতে চাই। বিরোধী দলের যারা আইন বিশেষজ্ঞ আছেন, তাদের রাখতে চাই। আইন বিশেষজ্ঞ না থাকলে অন্যান্য দলের প্রতিনিধি রাখতে চাই। সবমিলিয়ে ২০ বা ১৮ বা ১৫ সদস্যের কমিটি করতে চাই। এটা নির্দিষ্ট না।”
বিরোধী দল বিশেষ কমিটিতে না থাকার কথা বলছে। এর প্রতিক্রিয়ায় নূরুল ইসলাম বলেন, “তাদের এ অবস্থান সঠিক হবে না। আজ বা কাল হোক সংবিধান সংশোধন আমাদের করতেই হবে। সংবিধান সংশোধন কমিটিতে তাদের আমরা চাই। জুলাই সনদ অনুযায়ী এটা করা উচিত। এটা আমরা দেশের জন্যই করব। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বা আমার কোনো বিশেষ সুবিধা হবে? ওনার বিশেষ কোনো ক্ষতি হবে? যেটা দেশের জনগণের কল্যাণে হবে, তাতে দ্বিমত করার কিছু আছে বলে মনে করি না।”
সংসদ কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। বৈঠকে অংশ নেন মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, মো. শহিদুল ইসলাম, নায়াব ইউসুফ আহমেদ, এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, অলি উল্লাহ, সাইফুল আলম মিলন এবং আবুল হাসনাত (হাসনাত আবদুল্লাহ)।