ads

প্রযুক্তিনির্ভর ও চতুর্মাত্রিক সশস্ত্র বাহিনী গঠনে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
প্রযুক্তিনির্ভর ও চতুর্মাত্রিক সশস্ত্র বাহিনী গঠনে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন
ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। রোববার, ৫ জুলাই। ছবি: সংগৃহীত

পরিবর্তিত বৈশ্বিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও চতুর্মাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, এসব নীতি ও উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সশস্ত্র বাহিনীর সার্বিক সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দক্ষ, আধুনিক ও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে পিজিআরের কর্মসক্ষমতা ও দক্ষতাও বৃদ্ধি পাবে।

আজ রোববার ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বার্তা সংস্থা ইউএনবি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, রাষ্ট্রপতি, সরকারপ্রধান এবং দেশি-বিদেশি অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তার সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের মর্যাদার বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও নিশ্ছিদ্র করতে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় বজায় রাখা জরুরি।

তিনি বলেন, “আমি জানি, আপনারা সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করছেন। আমি আশা করি, এই সমঝোতা ও সমন্বয় আপনারা আগামীতে আরও জোরদার করবেন।”

পিজিআর সদস্যদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে জনগণের স্বাভাবিক যোগাযোগ ও সুসম্পর্ক যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়েও বিশেষভাবে সচেতন থাকতে হবে।

প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতার ওপর জোর

রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান বিশ্বে নিরাপত্তার ধারণা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রচলিত নিরাপত্তা ঝুঁকির পাশাপাশি নতুন ধরনের হুমকি সৃষ্টি হয়েছে। “এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা বৃদ্ধি, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ, কার্যকর কৌশল গ্রহণ এবং সার্বক্ষণিক প্রস্তুতির কোনো বিকল্প নেই।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, আধুনিক প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ও পেশাগত উৎকর্ষের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট ভবিষ্যতে নিজেদের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করবে এবং পরিবর্তিত বৈশ্বিক নিরাপত্তা কৌশলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাবে।

পেশাদারত্ব ও শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব

রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অন্যতম বিশেষায়িত, সুশৃঙ্খল ও পেশাদার ইউনিট। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিদেশি অতিথি এবং অন্য গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতায় দেশের মর্যাদার প্রতীক হিসেবে বাহিনীটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে।

তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে দায়িত্বের পরিধি বাড়ায় পিজিআর এখন একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

অনুষ্ঠানের দরবারে সেনাবাহিনী প্রধান, মিলিটারি সেক্রেটারি এবং রাষ্ট্রপতির প্রেসসচিব উপস্থিত ছিলেন। পরে ফটোসেশন ও কেক কাটার অনুষ্ঠানে বিমান বাহিনী প্রধান এবং সহকারী নৌবাহিনী প্রধান অংশ নেন।

সম্পর্কিত