আবহাওয়ার খারাপ হওয়ার কারণে নেপালে আজ শনিবার উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিদেশি কারিগরি সহায়তাও প্রয়োজন বলে জানিয়েছে দেশটি। বার্তা সংস্থা এ খবর জানিয়েছে।
বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাসুয়া জেলার শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা নরেন্দ্র পারিয়ার রয়টার্সকে বলেন, বৃষ্টি হচ্ছে এবং কুয়াশার কারণে আবহাওয়া খারাপ। তাই উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবারও কিছু সময়ের জন্য উদ্ধার অভিযান বন্ধ রাখা হয়েছিল। বন্যার পর নেপাল-চীন সীমান্তে একটি হ্রদের সৃষ্টি হয়। সেই হ্রদের পানি উপচে নেপালের লেন্দে খোলা ও ত্রিশূলী নদীতে প্রবাহিত হতে শুরু করলে উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বলেছেন, তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযানে নেপালের বাইরের সহায়তা প্রয়োজন নেই। তবে কিছু বিশেষ কাজে বিদেশি সহায়তা দরকার। তিনি জানান, সেতু ধ্বংস হওয়ার কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এলাকার যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা চালু করা, টানেলে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধার, নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা, ডিএনএ পরীক্ষা করা এবং মরদেহ দীর্ঘ সময় সংরক্ষণের জন্য বিশেষজ্ঞ সহায়তা প্রয়োজন।
শুক্রবার রাতে রয়টার্সকে এই মন্ত্রী বলেন, “এসব বিশেষায়িত সেবা ও কারিগরি সহায়তার জন্য আমরা ইতিমধ্যে অনুরোধ জানিয়েছি। যেসব ক্ষেত্রে আমাদের যথেষ্ট দক্ষতা ও কারিগরি জ্ঞান নেই, সেসব কাজেই আমরা সহায়তা চাইছি।”
এর আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী বলেছিলেন, “সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া স্বাভাবিক। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। আপাতত আমাদের এ ধরনের সহায়তার প্রয়োজন নেই।”
এদিকে আকস্মিক বন্যার পর দেশের অবকাঠামো পুনর্গঠনের জন্য কমপক্ষে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন নেপালের অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে। তিনি বলেন, “এটি কেবল একটি প্রাথমিক হিসাব। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা হচ্ছে।”
স্বর্ণিম ওয়াগলে বলেন, এখন উদ্ধার হওয়া তীর্থযাত্রীদের রাজধানী কাঠমান্ডুতে নিয়ে যাওয়ার জন্য সড়কপথের ব্যবস্থা করাই মূল লক্ষ্য।
৩ কোটি মানুষের দরিদ্র হিমালয় দেশ নেপাল। গত ২৬ আগস্ট হিমালয়ে হিমবাহ ধসের পর সৃষ্টি হওয়া আকস্মিক বন্যায় নেপাল এবং চীনের তিব্বতে এখন পর্যন্ত অন্তত ছয় শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। এই দুর্যোগের কবলে পড়ে অন্তত ১ হাজার ৯২৪ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।