Advertisement Banner

শিক্ষিত বেকার সন্তানদের কর্মসংস্থানের দাবিতে আমরণ অনশনে এক বাবা

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
শিক্ষিত বেকার সন্তানদের কর্মসংস্থানের দাবিতে আমরণ অনশনে এক বাবা
ছবি: সংগৃহীত

তিন সন্তানকে উচ্চশিক্ষিত করার জন্য জমিজমা বিক্রি করেছেন। সংসারের সঞ্চয় শেষ করেছেন। স্বপ্ন ছিল সন্তানরা একদিন প্রতিষ্ঠিত হবে, পরিবারের হাল ধরবে, দেশের জন্য কাজ করবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি।

শিক্ষিত দুই ছেলের কর্মসংস্থান না হওয়ায় চরম হতাশা থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আমরণ অনশনে বসেছেন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

গত ২ জুন সকাল ৯টা থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনশন শুরু করেন তিনি। দাবি, শুধু তার দুই সন্তানের নয়, দেশের লাখো শিক্ষিত বেকারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।

মিজানুর রহমান বলেন, “আমি আমার তিন সন্তানকে উচ্চশিক্ষিত করতে গিয়ে জমিজমা, ব্যবসা যা ছিল সব বিক্রি করেছি। ভেবেছিলাম তারা একদিন প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু আজ আমার পরিবার ধ্বংসের মুখে। ছেলে-মেয়েদের শিক্ষিত করেও তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারিনি।”

মিজানুর রহমান জানান, তার বড় ছেলে ২০১৫ সালে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন। পরে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি পেলেও করোনার সময়ে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চাকরি হারান। এরপর একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরির সুযোগ তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত যোগদান করতে পারেননি। ছোট ছেলে সম্প্রতি এভিয়েশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে বিএসসি সম্পন্ন করেছেন। কিন্তু তারও এখনো কর্মসংস্থান হয়নি।

মিজানুর রহমান বলেন, “আমার বড় ছেলে, তার স্ত্রী ও দুই সন্তান আজও আমার ওপর নির্ভরশীল। ছোট ছেলে ইঞ্জিনিয়ার হয়েও বেকার। আমি চাই সরকার অথবা দেশের শিল্পপতিরা তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিক। আমি ভিক্ষা চাই না, কাজ চাই। আমার সন্তানদের দুবেলা দুমুঠো ভাত খেয়ে বেঁচে থাকার অধিকার ফিরিয়ে দিতে চাই।”

শুধু নিজের পরিবারের নয়, দেশের শিক্ষিত বেকার যুবকদের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে মিজানুর রহমান বলেন, “বেকার ভাতা দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। যারা কাজ করতে পারে, যারা লেখাপড়া করেছে, তাদের কাজের সুযোগ দিতে হবে। দেশের লাখো শিক্ষিত যুবক আজ হতাশ। তাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা গেলে দেশও উপকৃত হবে।”

নিজেকে একজন সমাজসেবক হিসেবে পরিচয় দিয়ে মিজানুর রহমান জানান, দীর্ঘদিন মাদকবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। ‘আলোর প্রত্যাশায়’ নামে একটি সংগঠনের মাধ্যমে নেশাগ্রস্ত তরুণদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এমনকি ‘পথ পেয়েছি নেশা ছাড়ার’ নামে একটি বইও লিখেছেন। তবে অর্থের অভাবে সেই কার্যক্রম এখন প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে।

মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময় সরকার ও শিল্পপতিদের কাছে সহযোগিতা চাইলেও সাড়া পাননি। ফলে তার পরিকল্পিত মাদকবিরোধী কার্যক্রম বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।

অনশনরত মিজানুর রহমান বলেন, “আমি দেশকে অনেক কিছু দিতে চেয়েছিলাম। মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু আজ নিজের সন্তানদের কর্মসংস্থান চাইতে রাজপথে বসতে হয়েছে। আমার সন্তানদের বিষয়টি একটি উদাহরণ মাত্র। দেশের হাজার হাজার পরিবার একই কষ্ট নিয়ে বেঁচে আছে।”

সরকার ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মিজানুর রহমান বলেন, “আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আমার সন্তানদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হলে আমি অনশন প্রত্যাহার করব। অন্যথায় আমার নিথর দেহ এখান থেকেই বাড়িতে যাবে।”

সম্পর্কিত