ads

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা করেই ঘরে ফিরব: রুহিন হোসেন প্রিন্স

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা করেই ঘরে ফিরব: রুহিন হোসেন প্রিন্স
ছবি: চরচা

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির পরিপন্থী কি না—সে প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনায় সরকারের এই সিদ্ধান্তে জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার চট্টগ্রাম নগরের হোটেল সৈকত মিলনায়তনে ‘চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি-সিসিটি ইজারা: বাংলাদেশের অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

বৈঠকে রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘‘দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব রক্ষার অন্যতম ধারক-বাহক হলো এই চট্টগ্রাম বন্দর। এটি একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান। অথচ এই বন্দরকে নানাভাবে অলাভজনক হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বন্দর চেয়ারম্যান ও বিডার চেয়ারম্যান দেশের স্বার্থবিরোধী অবস্থানে আছেন। বন্দর নিয়ে তাঁরা যেসব তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করছেন, তার সবই ভুল ও মিথ্যা।’’

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের প্রসঙ্গ টেনে সিপিবির এই নেতা বলেন, “এর আগে কর্তৃত্ববাদী আওয়ামী লীগ সরকার এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দিতে চেয়েছিল। তাদের পতনের পর আমাদের সাধারণ ধারণা ছিল, অন্তর্বর্তী সরকার জনস্বার্থের পক্ষে অবস্থান নেবে, কিন্তু তারা তা নেয়নি। আমাদের সবার মনে আছে, ওই সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস অত্যন্ত অনমনীয়ভাবে বলেছিলেন—যারা এর বিরোধিতা করবে, তাদের প্রতিরোধ করা হবে।”

বর্তমানে দেশে নির্বাচিত সরকার রয়েছে উল্লেখ করে রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘‘আমি বর্তমান সরকারের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই—আপনারা যে 'সবার আগে বাংলাদেশ' স্লোগান দিয়েছেন, বন্দর নিয়ে এখন আপনারা যে পথে হাঁটছেন, তা কি সত্যি সবার উপরে বাংলাদেশ নাকি বিদেশি আধিপত্যবাদী ও সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা? আমরা আশা করব, সরকার এই ইজারা দেওয়ার কাজটি থেকে বিরত থাকবে।’’

তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘‘আমাদের যেন বলতে না হয় যে, তারা বিদেশি কোম্পানিকে বন্দরটি দিয়ে দেশের স্বার্থবিরোধী অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। দেশের অর্থনীতি এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব বিরোধী অবস্থানে কাউকে যেতে দেওয়া হবে না। আমরা বন্দর রক্ষা করেই ঘরে ফিরব।’’

সম্পর্কিত