রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (রাকসু) ও ইসলামী ছাত্রশিবির নেতাদের এখতিয়ারবহির্ভূত, বেআইনি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধের জোরালো দাবি জানিয়েছে ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক’ (ইউটিএন)। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সহিংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
এক বিবৃতিতে শিক্ষক নেটওয়ার্ক উল্লেখ করে, গত সোমবার রাকসুর জি.এস সালাহউদ্দিন আম্মার ও শিবির নেতারা ইতিহাস বিভাগের মো. আনাস এবং সংস্কৃত বিভাগের মাহমুদুল হাসান নামের দুই শিক্ষার্থীকে দফায় দফায় মারাত্মকভাবে পিটিয়ে আহত করেন। প্রক্টর অফিস, রাকসু ভবন, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার এমনকি অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়েও তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে আহত ওই দুই শিক্ষার্থীকেই উল্টো সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে মতবিরোধের সমাধান যুক্তি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় হওয়া উচিত। রাজনৈতিক ট্যাগিং করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং মব জাস্টিস কায়দায় নির্যাতন চালানো দেশের আইনি ব্যবস্থার জন্য এক মারাত্মক হুমকি। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে মানুষকে এভাবে হেনস্তা করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার যে সংস্কৃতি ছিল, আম্মার ও শিবির নেতাদের মাধ্যমে তা-ই নতুন পরিচয়ে ফিরে আসছে।
শিক্ষক নেটওয়ার্ক জানায়, নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই রাকসু জিএস আম্মার ও তার সহযোগীরা একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন। শিক্ষকদের অপমান ও ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলানো, উপ-উপাচার্যকে হেনস্তা, লাঠি হাতে বিতর্কিত ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ এবং ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে উসকানি দেওয়ার মতো অপরাধে তাঁরা জড়িত। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত হয়েও তাঁরা বিগত আমলের অপসংস্কৃতিই চর্চা করছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিগত সরকারের আমলে কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা বা শিক্ষার্থী অপরাধে জড়িত থাকলে তার তদন্তের দায়িত্ব একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের, কোনো ছাত্রসংগঠনের নয়। আম্মার ও শিবির নেতাদের এই বেপরোয়া সন্ত্রাসী তৎপরতায় বর্তমানে পুরো ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল ও ভীতিকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক শিক্ষাঙ্গনের জন্যই এক খারাপ দৃষ্টান্ত।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক।