চরচা ডেস্ক

বর্তমান বিশ্ব এক নজিরবিহীন অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত ১৪ জানুয়ারি প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ‘গ্লোবাল রিস্ক রিপোর্ট ২০২৬’-এ আগামী ১০ বছরের জন্য এক আশঙ্কাজনক পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
এই প্রতিবেদনে মূলত তিনটি সময়কাল— ২০২৬ সাল, পরবর্তী দুই বছর (২০২৮) এবং আগামী এক দশকের (২০৩৬) সম্ভাব্য ১০ ঝুঁকিগুলো বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
‘গ্লোবাল রিস্ক পারসেপশন সার্ভে’ (GRPS)-এর তথ্যমতে, স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী উভয় ক্ষেত্রেই বিশেষজ্ঞরা নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করছেন:
স্বল্পমেয়াদী (২ বছর): ৫০ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, আগামী দুই বছর বিশ্ব অত্যন্ত অশান্ত বা অস্থিতিশীল থাকবে।
দীর্ঘমেয়াদী (১০ বছর): এই শঙ্কা আরও বেড়ে ৫৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
স্থিতিশীলতা: মাত্র ১ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, আগামী এক দশকে বিশ্ব শান্ত বা স্থিতিশীল থাকতে পারে।
তিনটি সময়কালের শীর্ষ ১০টি বৈশ্বিক ঝুঁকি—
নিচে গুরুত্বের ক্রমানুসারে (১-১০) তিনটি ভিন্ন মেয়াদে বিশ্বের সম্ভাব্য বিপদগুলো তুলে ধরা হলো:
১. বর্তমান প্রেক্ষাপট (২০২৬):
ক. ভূ-অর্থনৈতিক সংঘাত: বাণিজ্য যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা।
খ. রাষ্ট্র-ভিত্তিক সশস্ত্র সংঘাত: চলমান যুদ্ধগুলোর বিস্তার।
গ. চরমভাবাপন্ন আবহাওয়া: অতিবৃষ্টি, খরা ও তাপদাহ।
ঘ. সামাজিক মেরুকরণ: মানুষের মধ্যে আদর্শিক বিভাজন বৃদ্ধি।
ঙ. ভুল তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিভ্রান্তি: ডিপফেক ও প্রোপাগান্ডা।
চ. অর্থনৈতিক মন্দা: বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতি।
ছ. মানবাধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতার অবক্ষয়।
জ. এআই-প্রযুক্তির প্রতিকূল ফলাফল: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার।
ঝ. সাইবার নিরাপত্তাহীনতা: বড় ধরণের ডেটা হ্যাক বা ম্যালওয়্যার আক্রমণ।
ঞ. অসমতা: ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার ব্যবধান বৃদ্ধি।
২. স্বল্পমেয়াদী প্রেক্ষাপট (২০২৮):
ক. ভূ-অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত।
খ. প্রযুক্তিগত ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তি।
গ. সামাজিক মেরুকরণ।
ঘ. চরমভাবাপন্ন আবহাওয়া।
ঙ. রাষ্ট্রভিত্তিক সশস্ত্র সংঘাত।
চ. সাইবার নিরাপত্তাহীনতা।
ছ. সামাজিক অসমতা।
জ. মানবাধিকার বা নাগরিক স্বাধীনতার অবক্ষয়।
ঝ. পরিবেশগত দূষণ।
ঞ. অনিচ্ছাকৃত অভিবাসন বা বাস্তুচ্যুতি।
৩. দীর্ঘমেয়াদী প্রেক্ষাপট (২০৩৬):
ক. চরমভাবাপন্ন আবহাওয়া: এটিই হবে আগামী দশকের ১ নম্বর বিপদ।
খ. জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি: ইকোসিস্টেম বা বাস্তুতন্ত্রের পতন।
গ. পৃথিবীর পরিবেশগত ব্যবস্থায় গুরুতর পরিবর্তন: টিপিং পয়েন্ট বা অপরিবর্তনীয় ক্ষতি।
ঘ. ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তি: তথ্যের সত্যতা নিয়ে চরম সংকট।
ঙ. এআই-প্রযুক্তির প্রতিকূল ফলাফল: কর্মসংস্থান হ্রাস বা নিরাপত্তা ঝুঁকি।
চ. প্রাকৃতিক সম্পদের ঘাটতি: পানি ও খাদ্য সংকট।
ছ. সামাজিক অসমতা।
জ. সাইবার নিরাপত্তাহীনতা।
ঝ. সামাজিক মেরুকরণ।
ঞ. দূষণ: বায়ু, পানি ও মাটির দূষণ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই রিপোর্টটি কেবল বিপদের তালিকা নয়, বরং এটি একটি 'আর্লি ওয়ার্নিং ফ্রেমওয়ার্ক' বা সতর্কবার্তা। যদি দেশগুলো এখনই 'প্রতিযোগিতার' বদলে 'সহযোগিতার' পথে না ফেরে, তবে ২০৩৬ সাল নাগাদ বিশ্ব একটি নিয়ন্ত্রণহীন পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হবে।

বর্তমান বিশ্ব এক নজিরবিহীন অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত ১৪ জানুয়ারি প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ‘গ্লোবাল রিস্ক রিপোর্ট ২০২৬’-এ আগামী ১০ বছরের জন্য এক আশঙ্কাজনক পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
এই প্রতিবেদনে মূলত তিনটি সময়কাল— ২০২৬ সাল, পরবর্তী দুই বছর (২০২৮) এবং আগামী এক দশকের (২০৩৬) সম্ভাব্য ১০ ঝুঁকিগুলো বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
‘গ্লোবাল রিস্ক পারসেপশন সার্ভে’ (GRPS)-এর তথ্যমতে, স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী উভয় ক্ষেত্রেই বিশেষজ্ঞরা নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করছেন:
স্বল্পমেয়াদী (২ বছর): ৫০ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, আগামী দুই বছর বিশ্ব অত্যন্ত অশান্ত বা অস্থিতিশীল থাকবে।
দীর্ঘমেয়াদী (১০ বছর): এই শঙ্কা আরও বেড়ে ৫৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
স্থিতিশীলতা: মাত্র ১ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, আগামী এক দশকে বিশ্ব শান্ত বা স্থিতিশীল থাকতে পারে।
তিনটি সময়কালের শীর্ষ ১০টি বৈশ্বিক ঝুঁকি—
নিচে গুরুত্বের ক্রমানুসারে (১-১০) তিনটি ভিন্ন মেয়াদে বিশ্বের সম্ভাব্য বিপদগুলো তুলে ধরা হলো:
১. বর্তমান প্রেক্ষাপট (২০২৬):
ক. ভূ-অর্থনৈতিক সংঘাত: বাণিজ্য যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা।
খ. রাষ্ট্র-ভিত্তিক সশস্ত্র সংঘাত: চলমান যুদ্ধগুলোর বিস্তার।
গ. চরমভাবাপন্ন আবহাওয়া: অতিবৃষ্টি, খরা ও তাপদাহ।
ঘ. সামাজিক মেরুকরণ: মানুষের মধ্যে আদর্শিক বিভাজন বৃদ্ধি।
ঙ. ভুল তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিভ্রান্তি: ডিপফেক ও প্রোপাগান্ডা।
চ. অর্থনৈতিক মন্দা: বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতি।
ছ. মানবাধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতার অবক্ষয়।
জ. এআই-প্রযুক্তির প্রতিকূল ফলাফল: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার।
ঝ. সাইবার নিরাপত্তাহীনতা: বড় ধরণের ডেটা হ্যাক বা ম্যালওয়্যার আক্রমণ।
ঞ. অসমতা: ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার ব্যবধান বৃদ্ধি।
২. স্বল্পমেয়াদী প্রেক্ষাপট (২০২৮):
ক. ভূ-অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত।
খ. প্রযুক্তিগত ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তি।
গ. সামাজিক মেরুকরণ।
ঘ. চরমভাবাপন্ন আবহাওয়া।
ঙ. রাষ্ট্রভিত্তিক সশস্ত্র সংঘাত।
চ. সাইবার নিরাপত্তাহীনতা।
ছ. সামাজিক অসমতা।
জ. মানবাধিকার বা নাগরিক স্বাধীনতার অবক্ষয়।
ঝ. পরিবেশগত দূষণ।
ঞ. অনিচ্ছাকৃত অভিবাসন বা বাস্তুচ্যুতি।
৩. দীর্ঘমেয়াদী প্রেক্ষাপট (২০৩৬):
ক. চরমভাবাপন্ন আবহাওয়া: এটিই হবে আগামী দশকের ১ নম্বর বিপদ।
খ. জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি: ইকোসিস্টেম বা বাস্তুতন্ত্রের পতন।
গ. পৃথিবীর পরিবেশগত ব্যবস্থায় গুরুতর পরিবর্তন: টিপিং পয়েন্ট বা অপরিবর্তনীয় ক্ষতি।
ঘ. ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তি: তথ্যের সত্যতা নিয়ে চরম সংকট।
ঙ. এআই-প্রযুক্তির প্রতিকূল ফলাফল: কর্মসংস্থান হ্রাস বা নিরাপত্তা ঝুঁকি।
চ. প্রাকৃতিক সম্পদের ঘাটতি: পানি ও খাদ্য সংকট।
ছ. সামাজিক অসমতা।
জ. সাইবার নিরাপত্তাহীনতা।
ঝ. সামাজিক মেরুকরণ।
ঞ. দূষণ: বায়ু, পানি ও মাটির দূষণ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই রিপোর্টটি কেবল বিপদের তালিকা নয়, বরং এটি একটি 'আর্লি ওয়ার্নিং ফ্রেমওয়ার্ক' বা সতর্কবার্তা। যদি দেশগুলো এখনই 'প্রতিযোগিতার' বদলে 'সহযোগিতার' পথে না ফেরে, তবে ২০৩৬ সাল নাগাদ বিশ্ব একটি নিয়ন্ত্রণহীন পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হবে।