Advertisement Banner

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানিতে নেপালকে কেন আটকালো ভারত?

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানিতে নেপালকে কেন আটকালো ভারত?
ছবি: পেক্সাবে থেকে নেওয়া

আগামী ১৫ জুন থেকে বাংলাদেশে কেবল ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করবে নেপাল। প্রথমে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করার কথা থাকলেও ভারত অনুমোদন না দেওয়ায় বাড়তি ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঢাকায় আসছে না। আজ রোববার নেপালের জ্বালানি কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপালের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের বিদ্যুৎ বাণিজ্য সংস্থা লিমিটেডের কাছে বাংলাদেশে বাড়তি ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির ব্যবস্থার অনুরোধ জানিয়েছিল। তবে ভারতের কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ (সিইএ) বিদ্যুৎ পরিবহন লাইনের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণ দেখিয়ে অনুমোদন স্থগিত করে দিয়েছে।

সিইএ-এর কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, নতুন একটি সংশোধিত ত্রিপক্ষীয় চুক্তি, নেপাল-ভারতের জ্বালানি বিভাগের সচিব পর্যায়ের যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির সিদ্ধান্তসহ আরও কিছু বিষয় এখনো সম্পন্ন করা বাকি।

সাধারণত বর্ষা মৌসুমে নেপাল তার বাড়তি বিদ্যুৎ বাংলাদেশ ও ভারতে রপ্তানি করে। অন্যদিকে, শীতকালে ভারত থেকে তারা বিদ্যুৎ আমদানি করে।

কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের ২৭ নভেম্বর ঢাকায় নেপাল-ভারতের সচিব পর্যায়ের কমিটির একটি বৈঠক হয়। সেখানে বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির বিদ্যমান চুক্তির বাইরে আরও ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মতি দেওয়া হয়। একইসঙ্গে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এ উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারেও বৈঠকে সবাই একমত হয়।

কিন্তু বাড়তি ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানোর পর ভারত নেপালকে জানিয়েছে, বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের যে লাইন আছে সেটি দিয়ে বাড়তি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব নয়।

নেপালের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের বিদ্যুৎ বাণিজ্য বিভাগের পরিচালক বাহাদুর থাপা বলেছেন, “এবার বাংলাদেশে শুধুমাত্র ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যাবে। যদিও বাড়তি ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির ত্রিপক্ষীয় চুক্তিটি সম্পন্ন হয়নি, কিন্তু আগের ৪০ মেগাওয়াটের মতো আমরা ভারতে বিদ্যুৎ বাণিজ্য সংস্থার মাধ্যমে এই বাড়তি বিদ্যুৎ রপ্তানির উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু তারা জানায়, বাড়তি ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির মতো সক্ষমতা তাদের নেই।”

তাই বাংলাদেশে বাড়তি এই বিদ্যুৎ রপ্তানি নিয়ে নেপাল ও ভারতকে আবারও আলোচনায় বসতে হবে। কিন্তু এ আলোচনা কবে হবে সেটি এখনো ঠিক হয়নি।

এর আগে, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ভারতের লাইন ব্যবহার করে বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানির ব্যাপারে চুক্তি হয়। ওই বছরের ১৫ নভেম্বর প্রথমবার দেশটি বাংলাদেশে বিদুৎ পাঠায়। ওইদিন ১২ ঘণ্টা তারা বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। নেপালের বিদ্যুৎ ঢালকেবার-মুজাফ্ফরপুর ৪০০ কেভি ট্রান্সমিশন লাইন দিয়ে প্রথমে ভারতে যায়। এরপর বহরমপুর-ভেড়ামারা ৪০০ কেভি লাইন দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

বর্তমানে রপ্তানির অনুমোদন পাওয়া ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নেপালের ত্রিশুলি ও চিলিমে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত হচ্ছে। অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎও একই প্রকল্প থেকে সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে, তবে এ জন্য ভারতের আলাদা অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

বর্তমানে অনুমোদিত ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে প্রতি ইউনিট ৬ দশমিক ৪০ মার্কিন সেন্ট দরে বিক্রি করা হচ্ছে। অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট অনুমোদন পেলে একই দরে সরবরাহ করার পরিকল্পনা ছিল।

কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ রপ্তানির জন্য এখন নেপাল-ভারত যৌথ বৈঠক এবং ভারতের কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। এরপর নতুন ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে। এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় বিদ্যুৎ রপ্তানি সম্প্রসারণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

নেপাল সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, অনুমোদন পাওয়া গেলে বাংলাদেশে মোট রপ্তানি ৬০ মেগাওয়াটে উন্নীত করা সম্ভব হবে।

এ পর্যন্ত ভারত ও বাংলাদেশে মোট ১ হাজার ১৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন পেয়েছে নেপাল। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে গত অর্থবছরের তুলনায় ভারত ও বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছে নেপাল।

সম্পর্কিত