Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> এক্সপ্লেইনার

‘ইসলামী নাম’ বদলে কেন হিন্দু-শিখ নাম রাখছে পাকিস্তান?

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৬, ২০: ১৬
‘ইসলামী নাম’ বদলে কেন হিন্দু-শিখ নাম রাখছে পাকিস্তান?

সাতচল্লিশের দেশভাগের পর কেটে গেছে দীর্ঘ আট দশক। যে পাকিস্তান একসময় নিজের বুক থেকে অমুসলিম বা ঔপনিবেশিক ইতিহাসের চিহ্ন মুছে ফেলতে মরিয়া ছিল, সেই পাকিস্তানই এবার হাঁটল উল্টো পথে। দেশটির পাঞ্জাব সরকার আচমকাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, লাহোরের বেশ কিছু এলাকার বর্তমান ইসলামিক নামগুলো বাদ দিয়ে সেখানে ফিরিয়ে আনা হবে দেশভাগের আগের মূল হিন্দু, শিখ ও জৈন নামগুলো।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

কিন্তু হঠাৎ কেন এই ঐতিহাসিক ‘ইউ-টার্ন’?

সম্প্রতি পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশ সরকার শহরের বেশ কিছু রাস্তা, গলি ও এলাকার নাম পরিবর্তন করে দেশভাগের আগের মূল হিন্দু, শিখ, জৈন ও ব্রিটিশ আমলের নামে ফিরিয়ে নেওয়ার একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে। মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পাঞ্জাব ক্যাবিনেট বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়।

জানা যায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের নেতৃত্বাধীন ‘লাহোর হেরিটেজ এরিয়াস রিভাইভাল প্রজেক্ট’–এর অধীনে এই অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি এবং ইতিহাস চর্চায় একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
লাহোর অথরিটি ফর হেরিটেজ রিভাইভাল-এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, লাহোরের পরিচয় একক কোনো সংস্কৃতির নয়, বরং এটি মুসলিম, শিখ, হিন্দু, খ্রিস্টান এবং পার্সি সংস্কৃতির এক অপূর্ব মিশ্রণ। নতুন প্রজন্মকে শহরের প্রকৃত ও ধর্মনিরপেক্ষ ইতিহাসের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম পাকিস্তান টুডে এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে ইতিহাস রক্ষা, জনমানসের মনস্তত্ত্ব এবং রাজনৈতিক ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের এক গভীর সমীকরণ। মূলত গত কয়েক দশকে লাহোরের বহু ঐতিহাসিক স্থানের নাম বদলে ইসলামিক, পাকিস্তানি বা স্থানীয় মুসলিম বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামে রাখা হয়েছিল। তবে সরকারিভাবে নাম পরিবর্তন করা হলেও লাহোরের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কথ্য ভাষা থেকে এই পুরনো নামগুলো কখনোই মুছে যায়নি। রিকশাচালক থেকে শুরু করে স্থানীয় দোকানদার বা সাধারণ পথচারী–সবাই চেনা এলাকাগুলোকে যুগ যুগ ধরে পুরনো নামেই ডেকে এসেছেন।

লাহোর অথরিটি ফর হেরিটেজ রিভাইভাল-এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, লাহোরের পরিচয় একক কোনো সংস্কৃতির নয়, বরং এটি মুসলিম, শিখ, হিন্দু, খ্রিস্টান এবং পার্সি সংস্কৃতির এক অপূর্ব মিশ্রণ। নতুন প্রজন্মকে শহরের প্রকৃত ও ধর্মনিরপেক্ষ ইতিহাসের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পাকিস্তানের পাঞ্জাবে উন্নয়ন কার্যক্রম। ছবি: ফেসবুক
পাকিস্তানের পাঞ্জাবে উন্নয়ন কার্যক্রম। ছবি: ফেসবুক

দেশটির সংবাদমাধ্যম ট্রিবিউন বলছে, নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে লাহোরের বেশ কিছু প্রধান এলাকার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের পুরনো রূপে ফিরছে। যেমন, বহু বছর ধরে ‘ইসলামপুরা’ নামে পরিচিত এলাকাটি এখন আবার তার আদি নাম ‘কৃষ্ণ নগর’ ফিরে পাচ্ছে। একইভাবে ‘সুন্নাত নগর এলাকাটি পুনরায় ‘সান্ত নগর’ এবং ‘মোস্তফাবাদ’ এলাকাটি তার পুরনো নাম ‘ধরমপুরা’ হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে।

এ ছাড়া সাবেক বাবরি মসজিদ চকের নাম বদলে করা হচ্ছে ‘জৈন মন্দির চক’ এবং মওলানা জাফর আলী খান চকের নাম পুনরুজ্জীবিত করে রাখা হচ্ছে ‘লক্ষ্মী চক’। শুধু ধর্মীয় নামই নয়, ব্রিটিশ আমলের ঐতিহাসিক নামগুলোকেও ফিরিয়ে আনা হচ্ছে, যার ফলে ‘বাগ-ই-জিন্নাহ’ এলাকার রাস্তাটি আবার ‘লরেন্স রোড’ এবং ‘ফাতিমা জিন্নাহ রোড’ তার পুরনো নাম ‘কুইন্স রোড’ হিসেবে পরিচিতি পাবে। এ ছাড়াও মোহন লাল বাজার, ভগবান পুরা, রাম গলি এবং শান্তি নগরের মতো ঐতিহ্যবাহী এলাকাগুলোও তাদের পুরনো নাম ও গৌরব ফিরে পাচ্ছে।

যুদ্ধ থামাতে গিয়ে পাকিস্তান কি পরিস্থিতি জটিল করে তুলছে?Pakistan Prime Minister

পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান সংবাদমাধ্যম ডন বলছে, এই প্রকল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, লাহোরের ঐতিহাসিক মিন্টো পার্কের (বর্তমান গ্রেটার ইকবাল পার্ক) তিনটি ক্রিকেট মাঠ এবং একটি ঐতিহ্যবাহী কুষ্টির আখড়া পুনর্নির্মাণের প্রস্তাব। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি আসলে শরিফ পরিবারের একটি রাজনৈতিক ক্ষতিপূরণ বা ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’-এর চেষ্টা। ২০১৫ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ যখন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন একটি নগর উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য এই ঐতিহাসিক মাঠ ও আখড়াগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছিল, যা ক্রীড়ামোদীদের মধ্যে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়। অথচ দেশভাগের আগে ও পরে এই মাঠেই অনুশীলন করেছিলেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি ক্রিকেটার ইনজামাম-উল-হক এবং ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যক্তিত্ব লালা অমরনাথ। একই সাথে বিশ্ববিখ্যাত অপরাজেয় কুস্তিগীর গামা পেহলওয়ান এই আখড়াতেই লড়াই করতেন। তাছাড়া পার্কটি প্রাক-দেশভাগ আমলে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব দশেরার মূল কেন্দ্রও ছিল।

মরিয়ম নওয়াজ, নওয়াজ শরিফ ও শাহবাজ শরিফ। ছবি: ফেসবুক
মরিয়ম নওয়াজ, নওয়াজ শরিফ ও শাহবাজ শরিফ। ছবি: ফেসবুক

পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের গবেষকরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, গঙ্গা রাম হাসপাতাল বা লক্ষ্মী চকের মতো নামগুলো লাহোরের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা মুছে ফেলা সম্ভব নয়।

তবে কিছু কিছু পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় স্তরে জাতীয় ব্যক্তিত্বদের নাম সংবলিত রাস্তা পরিবর্তনের বিষয়ে সামান্য বিতর্কও তৈরি হয়েছে। সরকার অবশ্য আশ্বস্ত করেছে, সামাজিক সম্প্রীতি ও ইতিহাসকে যথাযথ মর্যাদা দিয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনেই পর্যায়ক্রমে এই কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট বলছে, লাহোরের দেয়ালে দেয়ালে নতুন সাইনবোর্ডে ‘কৃষ্ণ নগর’ বা ‘জৈন মন্দির’-এর মতো নামগুলো ফিরে আসা কেবলই কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়। এটি আসলে আধুনিক পাকিস্তানের বুকে এক সময়ের অবিভক্ত পাঞ্জাবের বহুত্ববাদী ও সম্প্রীতির ইতিহাসকে নতুন করে মেনে নেওয়ার প্রয়াস।

বিষয়: পাকিস্তাননওয়াজ শরিফরাজনীতিমুসলমানইসলাম
সর্বশেষ
  • ১

    লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

  • ২

    মহাখালীতে পরিত্যক্ত ভবনে আগুন

  • ৩

    রাজধানীর ধানমন্ডিতে ভবনে আগুন

  • ৪

    হংকংয়ের বিনিয়োগ আকর্ষণে বিশেষ সুবিধার প্রস্তাব বাংলাদেশের

  • ৫

    মেঘের শারীরিক অবস্থা এখনো ‘অস্থিতিশীল’, মেডিকেল বোর্ড গঠন

সম্পর্কিত
  • গুমের ঘটনায় কী সুরক্ষা দিচ্ছে নতুন আইন

    গুমের ঘটনায় কী সুরক্ষা দিচ্ছে নতুন আইন

    গুমকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপসযোগ্য নয় এমন ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে তিন দিন আগে পাস হয়েছে। বিলে গুমের অভিযোগ করা, তদন্ত, নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা, বিচার এবং ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের প্রতিকারের জন্য আইনি কাঠামো রাখা হয়েছে।

  • নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে যা আছে

    নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে যা আছে

    জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আরও ‘স্বাধীনভাবে’ পরিচালনা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত ও প্রতিকারের সুযোগ রেখে নতুন আইন করা হয়েছে। নতুন আইনে কমিশনের গঠন, নিয়োগ, অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত, ক্ষতিপূরণ, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা এবং নির্যাতন প্রতিরোধে বিশেষ ইউনিট গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। তবে শৃঙ্খলা বাহিনীর বির

  • সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে কী আছে সংশোধিত আইনে

    সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে কী আছে সংশোধিত আইনে

    উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি দান করলেও দাতা চাইলে নিজের জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার রেখে দিতে পারবেন। এ জন্য নিবন্ধিত দলিলে দাতার জীবনকালীন ভোগস্বত্ব সংরক্ষণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

  • সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?

    সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?

    জাতীয় সংসদে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ নিয়ে তীব্র বিতর্কের পর ওয়াকআউট করেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। সন্তানের নামে জমি বা সম্পত্তি নিবন্ধনের পরও বাবা-মায়ের আজীবন ভোগদখল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে বিলে।