Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> এক্সপ্লেইনার

আমির খানের বিয়ে, কেন আলোচনায় লাভ জিহাদ?

সুদীপ্ত সালাম

সুদীপ্ত সালাম

প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৬, ২১: ০৫
আমির খানের বিয়ে, কেন আলোচনায় লাভ জিহাদ?

বলিউড তারকা আমির খান আবার বিয়ে করেছেন। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন তিনি। বিয়ে তিনি করতেই পারেন। সে আলাপে গিয়ে আমাদের কাজ নেই। আমরা কথা বলতে চাই লাভ জিহাদ নিয়ে। প্রেমিকা গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করার পরপরই আমির খানের বিরুদ্ধে ‘লাভ জিহাদের’ অভিযোগ তুলেছে ভারতের হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ‘বজরং দল’। তাদের অভিযোগ, বারবার হিন্দু নারীদের বিয়ের মাধ্যমে আমির আসলে হিন্দু সংস্কৃতিকে নষ্ট করছেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

গত ৫ জুলাই আমির খান মুম্বাইয়ের নিজ বাসভবনে এক ছোট ও সাদামাটা আয়োজনে গৌরি স্প্র্যাটকে বিয়ে করেছেন। দুজনের মধ্যে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ে কিন্তু কোনো ধর্মীয় রীতিতে হয়নি। হয়েছে ‘স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট’-এ। কিন্তু হিন্দুত্ববাদীরা নাখোশ। নাখোশ অবশ্য সেই প্রথম বিয়ে থেকেই। মুসলিম হয়ে তিনি কেন হিন্দু নারী বিয়ে করবেন!

ভারতে বর মুসলিম, আর কনে হিন্দু হলেই লাভ জিহাদের অভিযোগ ওঠে। কী এই ‘লাভ জিহাদ’? অনেকের মতে, এটি একটি ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ বা ‘কন্সপিরেসি থিওরি’। প্রধানত মুসলিম বিদ্বেষী হিন্দুত্ববাদীদের বিশ্বাস, মুসলিম পুরুষরা হিন্দু নারীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করে। বিয়ের পর জোর করে তাদের ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করে নেয়। এই প্রক্রিয়াটিকে একটি সংগঠিত জনসংখ্যাগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখে ডানপন্থী হিন্দুরা।

১৯২১-২২ সালের দিকে কেরালার মালাবার অঞ্চলে একটি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল। বিদ্রোহটি ইতিহাসে ‘মালাবার বিদ্রোহ’ হিসেবে পরিচিত। এই বিদ্রোহে নেতৃত্ব দিয়েছিল প্রধানত মুসলিম কৃষকরা। তাদের লড়াইটা মূলত ছিল হিন্দু জমিদারদের বিরুদ্ধে। তখন বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে হিন্দুদের নির্যাতন, জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং হিন্দু নারীদের অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল। এই সংঘাতের জেরে হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কের আরো অবনতি হয়। ১৯২৮ সালে আর. দায়ালু নামে একজন একটি কবিতা লিখে ফেললেন। পরে কবিতাটি নিষিদ্ধও হয়েছিল। সেই কবিতায় কবি ভারতে নারীদের জোরপূর্বক ধর্মান্তরের মাধ্যমে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির কথিত পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছিলেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

২০১৩ সালে মুজাফফরনগর দাঙ্গা লাভ জিহাদের আগুনে ঘি ঢেলে দেয়। এক মুসলিম যুবকের বিরুদ্ধে প্রভাবশালী হিন্দু জাট সম্প্রদায়ের এক তরুণীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এই দাঙ্গা শুরু হয়েছিল। পরে ঘটনাটিতে লাভ জিহাদের রং মাখা হয়। দাবি করা হয়, হিন্দু নারীদের লক্ষ্য করে মুসলিম পুরুষরা বিশেষ অভিযানে নেমেছে। যদিও তদন্ত করে এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সবশেষে, ২০২৩ সালের ৫ মে মুক্তি পায় সুদীপ্ত সেন পরিচালিত সিনেমা ‘দ্য কেরালা স্টোরি’। সিনেমায় দেখানো হয়, মুসলিম পুরুষরা কীভাবে হিন্দু ও খ্রিস্টান নারীদের প্রলোভন দেখিয়ে ইসলামিক স্টেটে যোগ দিতে উদ্বুদ্ধ করে। ছবিতে আরও দাবি করা হয়, কেরালার ৩২ হাজার নারী মুসলিম পুরুষদের ফাঁদে পড়ে নিখোঁজ এবং পরে আইএস-এর মতাদর্শে দীক্ষিত হয়। বিজেপিসহ রাজনৈতিক নেতারা ছবিটির প্রতি সমর্থন জানান। ১৫-২০ কোটি রুপি বাজেটের এই সিনেমা বড় কোনো তারকা ছাড়াই ৫৬ কোটি রুপির বেশি আয় করে। যদিও ফ্যাক্ট-চেকিং ওয়েবসাইট ‘আল্ট নিউজ’ ৩২ হাজার নারী নিখোঁজ হওয়ার দাবির পেছনে কোনো সত্যতা পায়নি।

‘লাভ জিহাদ’ সত্য হোক বা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব–তাতে কিছুই যায় আসে না। যা হওয়ার, তা হচ্ছেই। এর মাধ্যমে জাতিবাদ ও ধর্মীয় বিদ্বেষকে চাঙা করা যায়। আর ভারতের রাজনীতিতে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়ায় তা ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা হরহামেশাই নেওয়া যাচ্ছে, ফলে সমাজ সবসময় বিপদের ঝুঁকিতে থাকছে। শুধু তাই নয়, তথাকথিত ‘লাভ জিহাদ’ থেকে সুরক্ষার নামে হিন্দু নারীদের স্বাধীনতা হরণ ও নিয়ন্ত্রণ করার পথও খোলা রাখা হচ্ছে বলেও অনেকে মনে করেন। ২০১২ সালে উত্তর প্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলে একটি খাপ পঞ্চায়েত নারীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছিল। কারণ, গ্রামের নীতিনির্ধারকরা মনে করতেন, মুসলিম মালিকানাধীন মোবাইল ফোনের দোকানগুলো হিন্দু নারী ও মুসলিম পুরুষদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করে দিচ্ছে।

‘লাভ জিহাদ’ ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিমদের বিরুদ্ধে ‘হেইট ক্রাইম’কে বারবার উসকে দিচ্ছে। ২০১৭ সালে রাজস্থানের আফরাজুল খান হত্যাকাণ্ড তারই উদাহরণ। তাকে কুপিয়ে হত্যার পর তার মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। শুধু তাই নয়, পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে অনলাইনে ছড়িয়েও দেওয়া হয়েছিল। সেই ভিডিওতেই দাবি করা হয়েছিল, লাভ জিহাদ ঠেকাতে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড।

প্রাপ্তবয়স্ক যে কারো স্বাধীনভাবে নিজের জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার অধিকার ও স্বাধীনতা আছে। ভারতের আইনও তা মঞ্জুর করে। কোনো বিয়েকে লাভ জিহাদের তকমা দেওয়া বা লাভ জিহাদের জিকির তুলে সহিংসতা করাকে কোনো দেশের আইন বৈধতা দেয় না। আইনের ব্যত্যয় ঘটলে সংবিধান আছে, আদালত আছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আছে, তারা দেখবে। আইনের বাইরের যে কোনো কিছুই সমাজকে ভারসাম্যহীন করে তুলতে বাধ্য। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, আইনের প্রতি সম্মান এবং নাগরিক সচেতনতাই পারে যেকোনো উগ্রবাদকে রুখে দিতে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি, ৭ ডিসেম্বর ২০১৭

gnet-research.org, ২১ জুন ২০২৩

hauterrfly.com, ১২ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
  • ১

    লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

  • ২

    মহাখালীতে পরিত্যক্ত ভবনে আগুন

  • ৩

    রাজধানীর ধানমন্ডিতে ভবনে আগুন

  • ৪

    হংকংয়ের বিনিয়োগ আকর্ষণে বিশেষ সুবিধার প্রস্তাব বাংলাদেশের

  • ৫

    মেঘের শারীরিক অবস্থা এখনো ‘অস্থিতিশীল’, মেডিকেল বোর্ড গঠন

সম্পর্কিত
  • গুমের ঘটনায় কী সুরক্ষা দিচ্ছে নতুন আইন

    গুমের ঘটনায় কী সুরক্ষা দিচ্ছে নতুন আইন

    গুমকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপসযোগ্য নয় এমন ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে তিন দিন আগে পাস হয়েছে। বিলে গুমের অভিযোগ করা, তদন্ত, নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা, বিচার এবং ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের প্রতিকারের জন্য আইনি কাঠামো রাখা হয়েছে।

  • নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে যা আছে

    নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে যা আছে

    জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আরও ‘স্বাধীনভাবে’ পরিচালনা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত ও প্রতিকারের সুযোগ রেখে নতুন আইন করা হয়েছে। নতুন আইনে কমিশনের গঠন, নিয়োগ, অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত, ক্ষতিপূরণ, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা এবং নির্যাতন প্রতিরোধে বিশেষ ইউনিট গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। তবে শৃঙ্খলা বাহিনীর বির

  • সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে কী আছে সংশোধিত আইনে

    সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে কী আছে সংশোধিত আইনে

    উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি দান করলেও দাতা চাইলে নিজের জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার রেখে দিতে পারবেন। এ জন্য নিবন্ধিত দলিলে দাতার জীবনকালীন ভোগস্বত্ব সংরক্ষণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

  • সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?

    সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?

    জাতীয় সংসদে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ নিয়ে তীব্র বিতর্কের পর ওয়াকআউট করেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। সন্তানের নামে জমি বা সম্পত্তি নিবন্ধনের পরও বাবা-মায়ের আজীবন ভোগদখল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে বিলে।