Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> এক্সপ্লেইনার

সমুদ্রের এক এলাকাতেই ডুবেছে ১২৪ জাহাজ, কারণ কী

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৩: ৪৩
সমুদ্রের এক এলাকাতেই ডুবেছে ১২৪ জাহাজ, কারণ কী

হরমুজ প্রণালি দীর্ঘদিন ধরেই নৌবাণিজ্য ও সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। একইভাবে ইউরোপের দক্ষিণ প্রান্ত ও আফ্রিকার উত্তর-পশ্চিম প্রান্তের মাঝে অবস্থিত জিব্রাল্টার প্রণালিও ইতিহাসজুড়ে কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে এসেছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ মিলেছে প্রণালীর পূর্বদিকে অবস্থিত আলজেসিরাস উপসাগর বা জিব্রাল্টার উপসাগরে। আটলান্টিক মহাসাগর থেকে ভূমধ্যসাগরে (বা উল্টো পথে) যাওয়া বড় বড় তেলবাহী জাহাজগুলো প্রায়ই এখানে নোঙর করে। তাই এই উপসাগর শুধু ভৌগোলিকভাবে নয়, বাণিজ্যিক দিক থেকেও খুব গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

স্পেনের প্রত্নতত্ত্ববিদরা ২০২০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে পরিচালিত এক জরিপে এই ২৯ বর্গমাইল আয়তনের উপসাগরের নিচে ১৫১টি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের সন্ধান পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ১২৪টি জাহাজডুবির নিদর্শন।

গবেষণা অনুযায়ী, এসব জাহাজডুবি বিভিন্ন সময়কাল ও সভ্যতার সাক্ষ্য বহন করে। এরমধ্যে প্রাচীন পিউনিক (কার্থাজিনীয়), রোমান, মধ্যযুগীয় এবং আধুনিক যুগেরও নিদর্শন রয়েছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
গবেষকদের মতে, ইউরোপ ও আফ্রিকার মধ্যবর্তী জিব্রাল্টার প্রণালিটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ নৌপথ, যা হরমুজের মতোই কৌশলগতভাবে অপরিহার্য। ভূমধ্যসাগর থেকে আটলান্টিক মহাসাগরে যেতে হলে সব জাহাজকেই এই প্রণালী অতিক্রম করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে খারাপ আবহাওয়া এড়াতে জাহাজগুলোকে আলজেসিরাস উপসাগরে নোঙর করে অপেক্ষা করতে হয়।

গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার উপসাগরটির আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সামুদ্রিক কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। প্রাচীনকাল থেকেই এখানে নগর বসতি ছিল। মধ্যযুগে আইবেরীয় উপদ্বীপে প্রবেশের অন্যতম পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে এই উপসাগর। আধুনিক যুগে আবার প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নৌ-সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দু ছিল এটি।

দীর্ঘদিন ধরে চাপা পড়ে থাকা বহু জাহাজডুবির নিদর্শন ধীরে ধীরে উন্মোচিত হচ্ছে। ছবি: ফেলিপে সেরেজো আন্দ্রেও
দীর্ঘদিন ধরে চাপা পড়ে থাকা বহু জাহাজডুবির নিদর্শন ধীরে ধীরে উন্মোচিত হচ্ছে। ছবি: ফেলিপে সেরেজো আন্দ্রেও

স্পেনের ইউনিভার্সিটি অফ কাডিজের পানির নিচের প্রত্নতত্ত্বের গবেষক ফেলিপে সেরেজো আন্দ্রেও জানিয়েছেন, যদিও অধিকাংশ জাহাজডুবি আধুনিক সময়ের, তবে গবেষকরা কিছু অজানা ও গুরুত্বপূর্ণ জাহাজডুবির সন্ধানও পেয়েছেন।

হরমুজের পরে কি মালাক্কা প্রণালিতেও টোল দিতে হবে?malacca strait

গবেষকরা বলছেন, ঐতিহাসিক ও সংরক্ষণাগারের নথিতে হাজারো নৌদুর্ঘটনার উল্লেখ থাকলেও পানির নিচে থাকা এসব নিদর্শনের ওপর পর্যাপ্ত প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা না হওয়ায় অনেক জাহাজডুবির সন্ধান এখনো অজানাই রয়ে গেছে।

আন্দ্রেও সিএনএনকে জানান, সবচেয়ে প্রাচীন যে ধ্বংসস্তূপের নিদর্শনটি পাওয়া গেছে তা খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীর একটি জাহাজডুবির ঘটনার। তিনি আরও জানান, জাহাজটি সম্ভবত স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কাদিজে উৎপাদিত মাছের সস বহন করছিল এবং তা ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে পরিবহন করা হচ্ছিল।

আধুনিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে নেপোলিয়নের যুদ্ধের সময়ের জাহাজডুবির ঘটনা। উনিশ শতকের শুরুর দিকে ফ্রান্স ও ইউরোপের বিভিন্ন জোটের মধ্যে সংঘটিত এসব যুদ্ধের সঙ্গে এসব নিদর্শনের সম্পর্ক রয়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

এছাড়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরুর সময়কার জাহাজডুবিরও সন্ধান মিলেছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘মাইয়ালে’ বা ‘পিগ’ নামে পরিচিত এক ধরনের ক্ষুদ্র সাবমেরিনের ধ্বংসাবশেষ, যা ইতালির নৌবাহিনী জিব্রাল্টার প্রণালিতে ব্রিটিশ নৌবহরের ওপর হামলার জন্য ব্যবহার করত।

ছবি: ফেলিপে সেরেজো আন্দ্রেও
ছবি: ফেলিপে সেরেজো আন্দ্রেও

গবেষকদের মতে, ইউরোপ ও আফ্রিকার মধ্যবর্তী জিব্রাল্টার প্রণালিটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ নৌপথ, যা হরমুজের মতোই কৌশলগতভাবে অপরিহার্য। ভূমধ্যসাগর থেকে আটলান্টিক মহাসাগরে যেতে হলে সব জাহাজকেই এই প্রণালী অতিক্রম করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে খারাপ আবহাওয়া এড়াতে জাহাজগুলোকে আলজেসিরাস উপসাগরে নোঙর করে অপেক্ষা করতে হয়। একারণে এটি প্রণালির ‘বন্দর’ হিসেবেও পরিচিত।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গবেষণা শুরুর আগে এসব জাহাজডুবির অধিকাংশের কোনো প্রত্নতাত্ত্বিক নথি ছিল না। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের আগে এই এলাকায় পানির নিচের মাত্র চারটি প্রত্নস্থানের কথা জানা ছিল, যার মধ্যে কেবল একটি জাহাজডুবির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে বিবেচিত হতো।

ইরানে মার্কিন যুদ্ধের চড়া দাম দিচ্ছে পুরো বিশ্বiran-war-suffer

গবেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রস্রোত ও উপসাগরের তলদেশে পলির গতিবিধিতে পরিবর্তন ঘটছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে চাপা পড়ে থাকা বহু জাহাজডুবির নিদর্শন ধীরে ধীরে উন্মোচিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান গবেষক আন্দ্রেও।

প্রত্নতত্ত্ববিদরা সমুদ্রতল চিহ্নিত করতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে মাল্টিবিম ইকোসাউন্ডার—যা শব্দ তরঙ্গের মাধ্যমে সমুদ্রতলের ত্রিমাত্রিক মানচিত্র তৈরি করে। এছাড়া রয়েছে ম্যাগনেটোমিটার, যা চৌম্বক ক্ষেত্র পরিমাপ করে। এসব প্রযুক্তির সাহায্যে তলদেশে থাকা বস্তু ও পলির নিচে চাপা অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করার পর ডুবুরিরা সরেজমিনে নেমে পরিমাপ ও ডিজিটাল মডেল তৈরি করেন।

গবেষকদের মতে, এসব প্রত্নস্থল সংরক্ষণ ও বিশদভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি, কারণ এগুলোতে ওই অঞ্চলের সামুদ্রিক ইতিহাস সংরক্ষিত রয়েছে। এরমধ্যে নৌপথ, বাণিজ্য, নৌপ্রযুক্তি এবং সমুদ্রযাত্রীদের তথ্য উল্লেখযোগ্য। তবে উপসাগরে নোঙর করা বড় জাহাজের কার্যক্রম এবং পরিবর্তনশীল ভৌগোলিক অবস্থার কারণে এসব নিদর্শন ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

আন্দ্রেও বলেন, “এসব নিদর্শন সংরক্ষণের জন্য সেগুলো নথিভুক্ত করা এবং প্রযুক্তিগতভাবে ডিজিটাল রূপে সংরক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি জানান, এখন পর্যন্ত গবেষকরা প্রায় ১০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত অনুসন্ধান চালিয়েছেন। তবে আলজেসিরাস উপসাগরের গভীরতা প্রায় ৪০০ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। আরও গভীরে প্রাগৈতিহাসিক যুগের নিদর্শনও থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন এই গবেষক।

গবেষকরা সিএনএনকে জানিয়েছেন, ভবিষ্যৎ প্রকল্পগুলোতে প্রতিটি জাহাজডুবির বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা হবে। এখন পর্যন্ত শনাক্ত প্রত্নস্থলগুলোর মাত্র ২৪ শতাংশ নিয়ে কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি আরও গভীর এলাকায় অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিষয়: তেলবাহী জাহাজজাহাজডুবিজাহাজহরমুজ প্রণালিনৌপথবন্দর
সর্বশেষ
  • ১

    উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে সিকৃবিতে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত

  • ২

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট ২৯ অক্টোবর

  • ৩

    হত্যা মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হলো কলিমুল্লাহকে

  • ৪

    মনপুরায় মেঘনার পাড়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় যুবক উদ্ধার

  • ৫

    মহাখালীতে এসকেএস টাওয়ারের পেছনের ভবনে আগুন

সম্পর্কিত
  • গুমের ঘটনায় কী সুরক্ষা দিচ্ছে নতুন আইন

    গুমের ঘটনায় কী সুরক্ষা দিচ্ছে নতুন আইন

    গুমকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপসযোগ্য নয় এমন ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে তিন দিন আগে পাস হয়েছে। বিলে গুমের অভিযোগ করা, তদন্ত, নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা, বিচার এবং ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের প্রতিকারের জন্য আইনি কাঠামো রাখা হয়েছে।

  • নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে যা আছে

    নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে যা আছে

    জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আরও ‘স্বাধীনভাবে’ পরিচালনা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত ও প্রতিকারের সুযোগ রেখে নতুন আইন করা হয়েছে। নতুন আইনে কমিশনের গঠন, নিয়োগ, অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত, ক্ষতিপূরণ, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা এবং নির্যাতন প্রতিরোধে বিশেষ ইউনিট গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। তবে শৃঙ্খলা বাহিনীর বির

  • সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে কী আছে সংশোধিত আইনে

    সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে কী আছে সংশোধিত আইনে

    উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি দান করলেও দাতা চাইলে নিজের জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার রেখে দিতে পারবেন। এ জন্য নিবন্ধিত দলিলে দাতার জীবনকালীন ভোগস্বত্ব সংরক্ষণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

  • সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?

    সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?

    জাতীয় সংসদে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ নিয়ে তীব্র বিতর্কের পর ওয়াকআউট করেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। সন্তানের নামে জমি বা সম্পত্তি নিবন্ধনের পরও বাবা-মায়ের আজীবন ভোগদখল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে বিলে।