Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশ্লেষণ

জেন-জিদের নতুন কিছু দেখার অপেক্ষায় ভারত

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৮: ৪১
জেন-জিদের নতুন কিছু দেখার অপেক্ষায় ভারত
ছাত্রদের প্রবল আন্দোলনের মুখে শেষমেশ পদত্যাগ করতে বাধ্য হন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী। ছবি: রয়টার্স

বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে রাজনৈতিকভাবে প্রায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী বলে মনে করা হতো। তার নেতৃত্বাধীন সরকার রাজনৈতিক বিরোধীদের পরাস্ত করে, পাবলিক ডিসকোর্স বা জনপরিসর নিজেদের দখলে রেখে এবং দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোয় বিরোধিতার সুযোগকে অত্যন্ত সংকুচিত করে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করে আসছিল।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

তবে সম্প্রতি কয়েক সপ্তাহের পুরনো, অনলাইনভিত্তিক ও তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বাধীন প্রতিবাদ আন্দোলন ভারতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপট বদলে দিয়েছে। মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনের সাংবাদিক ও গবেষক রিয়া মোগল এবং কুনাল সেহগালের এক বিশেষ বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে ভারতের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক দৃশ্যপটের এই অভূতপূর্ব পরিবর্তন ফুটে উঠেছে।

প্রধান বিরোধী দলগুলো বছরের পর বছর ধরে যা করতে ব্যর্থ হয়েছিল, জেন-জি তরুণদের এই ক্ষণস্থায়ী আন্দোলন ঠিক সেটিই করে দেখিয়েছে। এই আন্দোলনের চাপে পড়ে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে নরেন্দ্র মোদির শক্তিশালী সরকার। ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার চরম ব্যর্থতার বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে আসা এই তরুণদের সম্মিলিত কণ্ঠস্বর শেষ পর্যন্ত মোদি সরকারের অন্যতম আস্থাভাজন এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগে বাধ্য করেছে, যা ভারতের সাম্প্রতিক রাজনীতিতে এক বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রিয়া মোগল ও কুনাল সেহগালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নয়াদিল্লিতে টানা কয়েক দিন ধরে হাজার হাজার জেন-জি বিক্ষোভকারী রাজপথে অবস্থান নেন। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি নামের একটি ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলনের ছায়াতলে একজোট হয়ে আন্দোলন পরিচালনা করেন তারা। মেডিকেল ও ডেন্টাল প্রবেশিকা পরীক্ষা বা নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় লাখ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ার পর তরুণদের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়। এর সরাসরি কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান, যার কার্যকালে এই বিশাল প্রশ্ন ফাঁস কাণ্ড ঘটেছিল।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
প্রোপাগান্ডা দিয়ে কি ব্যর্থতা ঢাকতে পারবেন মোদি?modi-ai

আন্দোলনকারীদের অব্যাহত দাবির মুখে শনিবার ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের খবর পৌঁছাতেই দিল্লির ঐতিহ্যবাহী অষ্টাদশ শতকের তৈরি মানমন্দির যন্তর মন্তরে উদ্যাপনের জোয়ারে ভেসে যায়। জাতীয় পতাকা হাতে গভীর রাত পর্যন্ত নাচ-গান ও উদ্যাপনের মাধ্যমে আন্দোলনকারীরা জবাদিহি ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার এই সাফল্য উপভোগ করে। এটি ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জন্য এক চরম পিছু হটার ঘটনা। কারণ ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে দলটি বেশ কয়েকটি বেসামরিক ও সামাজিক আন্দোলন সফলভাবে সামাল দিলেও এবার তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত শক্তির সামনে তারা নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে। এর ফলে নরেন্দ্র মোদির গড়ে তোলা ‘শক্তিশালী নেতা’র ভাবমূর্তিও এক বড় ধাক্কা খেয়েছে।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণ এবং তাদের অভিভাবকরা মূলত মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণীর। ছবি: রয়টার্স
আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণ এবং তাদের অভিভাবকরা মূলত মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণীর। ছবি: রয়টার্স

এই নজিরবিহীন সাফল্য সাধারণ মানুষ ও অন্যান্য আন্দোলনকারীদের নতুন করে আশাবাদী করে তুলেছে। দিল্লির প্রতিবাদ স্থল থেকে ২২ বছর বয়সী সফটওয়্যার প্রকৌশলী আকশিত ত্যাগী জানান, এক সপ্তাহ আগেও সরকারের যেকোনো সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া জানানো অসম্ভব বলে মনে হতো।

কিন্তু এখন সবাই প্রকাশ্যে বেরিয়ে আসছে। তরুণরা বুঝতে পারছে যে সরকারের কাছ থেকে নিজেদের অধিকার ও জবাবদিহি দাবি করা সম্ভব। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের পার্শ্ববর্তী তিনটি দেশ– শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও বাংলাদেশ–তরুণদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলন ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তন প্রত্যক্ষ করেছে। এখন ভারতেও প্রশ্ন উঠছে যে, তথাকথিত ‘ককরোচ’ বা তেলাপোকার এই সাফল্য কি এমন এক দেশে বৃহত্তর কোনো পরিবর্তনের সূচনা করতে যাচ্ছে, যেখানে বহু দিন ধরে তরুণদের ভেতরে গভীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসন্তোষ তুষের আগুনের মতো জ্বলছিল।

যন্তর মন্তরের আন্দোলন কি মোদির জন্য ‘অশনিসংকেত’?modi-ai

যন্তর মন্তরে জড়ো হওয়া বেশির ভাগ তরুণই নরেন্দ্র মোদির শাসনকালে বড় হয়েছে। জাতীয় মহানির্দেশনা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং প্রবল জাতীয়তাবাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েই তাদের বেড়ে ওঠার সময়টি নিয়ন্ত্রিত হয়েছে। সেই প্রতিশ্রুতিগুলো তরুণদের প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছিল। বর্তমানে ভারত বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি এবং মোদি সরকারের তিন মেয়াদের শাসনামলে পরিকাঠামো, প্রযুক্তি ও উৎপাদন খাতে বিশাল বিনিয়োগ হয়েছে। কিন্তু ভারতের বিশাল সংখ্যক তরুণ জনগোষ্ঠীর কাছে এই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল পৌঁছায়নি।

ভারতের জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশ তরুণ, যেখানে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩৬ কোটি। কিন্তু সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা গেছে যে, ২৫ বছর বা তার কম বয়সী স্নাতকদের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশই বেকার। একদিকে ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব, অন্যদিকে মে মাসে সরকারের পক্ষ থেকে মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের সত্যতা স্বীকার এবং দেশজুড়ে লাখ লাখ পরীক্ষার্থীর পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার নির্দেশ তরুণদের দীর্ঘদিনের জমানো ক্ষোভকে গণবিক্ষোভে রূপ দেয়।

এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভকেই সফলভাবে কাজে লাগায় বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক অভিজিৎ দিপকের প্রতিষ্ঠিত অনলাইন ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। খুব দ্রুত এটি কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের রসিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে তরুণদের সামাজিক উদ্বেগ, কর্মসংস্থানের অভাব, প্রশাসনিক অবহেলা ও সামাজিক অগ্রগতির অভাব প্রকাশের এক প্রধান মাধ্যমে পরিণত হয়।

ভারত: তরুণরা বললে রাজনীতিকদের শুনতে হবেSupporters of the Cockroach Janta Party march toward parliament–Reuters

নয়াদিল্লিভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চ’-এর ফেলো ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক রাহুল বর্মা এই আন্দোলন ও পদত্যাগের ঘটনাকে বিজেপির জন্য একটি বড় ধাক্কা ও স্তম্ভিত করার মতো ঘটনা বলে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, সমাজে যে ধরনের গভীর হতাশা ও উদ্বেগ জমা হচ্ছিল, বিজেপি সরকার তা সম্ভবত আগে থেকে আন্দাজ করতে পারেনি।

বিগত ১২ বছরের শাসনামলে বিজেপি সরকার বহু নীতিগত ও আদর্শগত আন্দোলনের মুখোমুখি হয়েছে এবং সেগুলোকে সফলভাবে মোকাবেলাও করেছে। ২০১৬ সালের আকস্মিক নোটবাতিল বা ডিমোনেটাইজেশন সিদ্ধান্ত, যা দেশের ৮০ শতাংশের বেশি ব্যাংকনোট অচল করে দিয়েছিল, সেখান থেকে শুরু করে বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন বিরোধী আন্দোলন কিংবা কৃষি নীতি সংস্কারের বিরুদ্ধে মাসের পর মাস ধরে চলা কৃষক আন্দোলন–সবক্ষেত্রেই সরকার তাদের সমর্থক ও পাল্টা আখ্যান তৈরি করে স্থায়িত্ব বজায় রাখতে পেরেছিল।

কিন্তু রাহুল বর্মা তুলে ধরেছেন যে, পূর্ববর্তী আন্দোলনগুলো ছিল নীতিগত বা আদর্শগত মতভেদের ওপর ভিত্তি করে, যেখানে সরকারের পাল্টা আখ্যান তৈরির সুযোগ ছিল। এর বিপরীতে, ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনটি ছিল মূলত সরকারের সরাসরি ‘প্রশাসনিক ব্যর্থতা’র বিরুদ্ধে একটি স্বতঃস্ফূর্ত গণসংগ্রাম। নীতিগত বিতর্কের মতো কৌশল দিয়ে প্রশাসনিক ব্যর্থতার আন্দোলন চেপে রাখা বা নিয়ন্ত্রণ করা সরকারের জন্য অত্যন্ত কঠিন প্রমাণিত হয়েছে।

ভারত: যন্তর মন্তরে তরুণেরা কীভাবে ভয়ের শিকল ভাঙলPolice use batons to disperse supporters of the Cockroach Janta Party as they march toward parliament–Reuters

শুরুর দিকে ভারতের কেন্দ্রীয় শাসকেরা এই আন্দোলনকে গুরুত্ব দিতে চাননি এবং ব্যঙ্গাত্মক দৃষ্টিতে দেখেছিলেন। গত মাসে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ককরোচ জনতা পার্টিকে এমনকি ‘সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীদের বি-টিম’ হিসেবেও আখ্যায়িত করেছিলেন। একই সাথে, ভারতের মূলধারার টেলিভিশন চ্যানেলগুলো তরুণদের এই প্রতিবাদ নিয়ে বিশেষ কোনো সংবাদ প্রচার থেকে বিরত থাকে। কিন্তু এই নীরবতা আন্দোলনকে থামাতে পারেনি, বরং শিক্ষার্থীরা নিজেরাই নিজেদের আন্দোলনের তথ্য চিত্রায়িত করা শুরু করে। সোশ্যাল মিডিয়াকে তারা প্রধান হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করে।

আন্দোলনের চাপে পড়ে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে নরেন্দ্র মোদির শক্তিশালী সরকার। ছবি: রয়টার্স
আন্দোলনের চাপে পড়ে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে নরেন্দ্র মোদির শক্তিশালী সরকার। ছবি: রয়টার্স

ইনস্টাগ্রাম রিলস, ভিডিও, মোদিকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মিম এবং আন্দোলনস্থল থেকে রিয়েল-টাইম আপডেট দিয়ে তারা ডিজিটাল মাধ্যমে আন্দোলনকে ছড়িয়ে দেয়। তাদের এই নিজস্ব প্রচার পদ্ধতি মূলধারার গণমাধ্যমের প্রভাবকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে প্রশ্ন ফাঁসের মতো সংবেদনশীল বিষয়কে জাতীয় আলোচনার শীর্ষে নিয়ে আসে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই তথ্য প্রবাহ আরও বহু তরুণকে আন্দোলনে যোগ দিতে উদ্বুদ্ধ করে, যা জেন-জি প্রজন্মের কাছে ঐতিহ্যবাহী মিডিয়া চ্যানেলের ক্ষয়িষ্ণু প্রভাবকেই স্পষ্ট করে তোলে। মূলধারার মাধ্যমগুলো যখন এটি কভার করা শুরু করে, ততক্ষণে আন্দোলনটি সাধারণ মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে।

জুলাই মাসের ২০ তারিখে আন্দোলনের তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে যায়, যখন ভারতীয় সংসদ ভবনের বর্ষাকালীন অধিবেশনের উদ্বোধনী দিনে হাজার হাজার তরুণ পদযাত্রার চেষ্টা করে। সেই সময় পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে। পুলিশি দমন-পীড়নেও তরুণরা পিছপা হয়নি, বরং তাদের প্রতিরোধ আরও জোরদার হয়। এই ঘটনার পর তরুণদের দাবি কেবল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে সীমাবদ্ধ থাকেনি, প্রথমবারের মতো আন্দোলনস্থল থেকে সরাসরি নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবিও উত্থাপিত হয়।

ভারতে প্রশ্নফাঁস থেকে রাষ্ট্রের সংকট: বিশ্বজুড়ে গণতান্ত্রিক অবক্ষয়ের আরেক অধ্যায়?cjp protest

২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে মোদি টানা তৃতীয় মেয়াদে জয়ী হলেও তার দলের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। ফলে গুরুত্বপূর্ণ কোনো ভোটার গোষ্ঠীর অসন্তোষ উপেক্ষা করা সরকারের পক্ষে আগের মতো সহজ ছিল না।

বিশ্লেষক রাহুল বর্মার মতে, আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণ এবং তাদের অভিভাবকরা মূলত মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণীর, যা ঐতিহ্যগতভাবেই বিজেপির বড় ভোটব্যাংক। স্বাভাবিকভাবেই, এই নির্দিষ্ট ও বিশ্বস্ত ভোটার গোষ্ঠীর অসন্তোষ মোদি সরকারের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক ও কৌশলগত সংকট তৈরি করে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে দেখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার চিরাচরিত কঠোর ও অনমনীয় অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসার সংকেত দেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি নিজেই সেলফি স্টাইলে দুটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে সরাসরি কথা বলেন। এটি ছিল আন্দোলনকারীদের নিজস্ব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তাদের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার এক নজিরবিহীন প্রয়াস।

মোদির প্রথম ভিডিও বার্তাটির অতি-কাছ থেকে তোলা দৃশ্য বা ক্লোজ-আপ শট নিয়ে ইন্টারনেটে নানা ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ হলে, তিনি দ্বিতীয় ভিডিওতে ক্যামেরার ফ্রেম কিছুটা দূরে সরিয়ে নেন এবং বলেন, “ধন্যবাদ বন্ধুরা, আমার ভিডিওতে তোমরা যেভাবে সাড়া দিয়েছ এবং যেসব ইতিবাচক পরামর্শ দিয়েছ, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।” সরকারের তরফ থেকে এই ধরনের নমনীয় আচরণ মোদি সরকারের রাজনৈতিক কৌশলের একটি স্পষ্ট পরিবর্তনকে নির্দেশ করে।

পরবর্তীতে শনিবার, আন্দোলনের প্রধান লক্ষ্য শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর এবং আন্দোলনকারীদের অন্যান্য দাবি– যেমন পরীক্ষা বাতিলের কারণে আত্মঘাতী হওয়া শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ অন্যান্য বিষয়ে সরকার থেকে লিখিত আশ্বাস মেলার পর, আন্দোলনের নেতারা সাময়িকভাবে বিক্ষোভ স্থগিতের ঘোষণা দেন। এরপর দিল্লির মূল আন্দোলনস্থল যন্তর মন্তর খালি করে দেওয়া হয়।

ভারতের গণতন্ত্র কি এক নতুন রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে?Cockroach Janata Party (CJP)

রিয়া মোগল ও কুনাল সেহগালের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ককরোচ জনতা পার্টি এমন একটি রাজনৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে যা খুব কম মানুষই সম্ভব বলে ভেবেছিল। তবে এই তরুণ আন্দোলনের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নির্ভর করবে যে, ভারতের জেন-জি তাদের এই তাৎক্ষণিক জয়কে তরুণ সমাজের ভবিষ্যৎ সংক্রান্ত অন্যান্য ইস্যুগুলোতে দীর্ঘস্থায়ী চাপ সৃষ্টি করতে পারবে কি না।

রাজনৈতিক বাস্তবতায় নরেন্দ্র মোদি এখনো ভারতে অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন নেতা এবং তার দল বিজেপি একটি শক্তিশালী নির্বাচনী শক্তি, যা কয়েক মাস আগেই গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য নির্বাচনে নিজেদের আধিপত্য প্রমাণ করেছে। তাছাড়া ভারতে পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে এখনো সময় আছে, যা ২০২৯ সালে নির্ধারিত।

আন্দোলনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে বিজ্ঞাপনে কর্মরত দেবাংশু গুপ্তের মতো তরুণ আন্দোলনকারীরা জানান যে, এই সংগ্রামটি ছিল মূলত তরুণদের অস্তিত্বের লড়াই। বহু বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো তরুণদের আসল সমস্যাগুলোকে সরকারের মুখোমুখি দাঁড় করানো সম্ভব হয়েছে এবং ভারতের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এটি একটি অন্যতম সেরা অর্জন।

দিল্লির যন্তর মন্তরের তাবু গুটিয়ে নেওয়ার আগে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে পরিষ্কার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তাদের এই যাত্রা এখানেই শেষ হয়ে যায়নি। আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে তিনি বিদায়ী বক্তব্যে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে যান, “এটি কোনো শেষ নয়; আমরা খুব শিগগিরই আবার এক সাথে মিলিত হব।” এই উক্তিটির মধ্য দিয়েই শেষ হওয়া প্রতিবেদন এই ইঙ্গিত করে যে, ভারতের রাজনীতিতে তরুণদের জাগ্রত এই নতুন শক্তি আগামী দিনে আরও বড় কোনো সামাজিক ও রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিতে পারে।

বিষয়: আন্দোলনসরকারনরেন্দ্র মোদিভারতজেনারেশন জেডরাজনীতি
সর্বশেষ
  • ১

    লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

  • ২

    মহাখালীতে পরিত্যক্ত ভবনে আগুন

  • ৩

    রাজধানীর ধানমন্ডিতে ভবনে আগুন

  • ৪

    হংকংয়ের বিনিয়োগ আকর্ষণে বিশেষ সুবিধার প্রস্তাব বাংলাদেশের

  • ৫

    মেঘের শারীরিক অবস্থা এখনো ‘অস্থিতিশীল’, মেডিকেল বোর্ড গঠন

সম্পর্কিত
  • লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

    লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

    চলতি মাসে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যে লং মার্চ করেছে তাকে সরকারের জন্য ‘ওয়েক আপ কল’ বলে উল্লেখ করছেন জোটটির নেতারা। প্রায় ১ হাজার গাড়ি নিয়ে এই লং মার্চ করে জোটের পক্ষ থেকে সরকারকে ৬ দফা দাবি দেওয়া হয়েছে। জোট নেতারা ওই ৬ দফায় বিদ্যুৎ, গ্যাস সংকট

  • বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    ১৭ বছরের বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-গ্রেপ্তার আর রাজনৈতিক চাপ সামলে এখন সরকারে বিএনপি। গত ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর দলের শীর্ষ নেতাদের বড় একটি অংশ এখন সরকারের দায়িত্বে ব্যস্ত। মন্ত্রিসভা, সংসদ, প্রশাসন, অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্

  • কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    চীনের সরকার আসলে কী কী বন্ধ করে দেয় – শুধুই কি বিদেশি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়, নাকি দেশের ভেতরে থাকা সমালোচকদের ওপরও এই নিষেধাজ্ঞা আছে, এমন চিন্তাটা আসা খুবই স্বাভাবিক। তবে এখানে সরকারের লক্ষ্য এর চেয়েও বড়।

  • ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধের ছয় মাস পেরিয়েছে। এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে তেলের বাজার তীব্রভাবে প্রভাবিত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে আমেরিকানদের ওপর। গ্যাসের দাম কয়েক সপ্তাহ ধরে ৪ ডলারের বেশি। বন্ধকী ঋণের সুদের হারও বেড়ে প্রায় ৭ শতাংশের দিকে যাচ্ছে। আবার ডিজেলের রেকর্ড