Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশ্লেষণ
আল জাজিরার প্রতিবেদন

‘বাংলাদেশি’ তকমার ছায়ায় টিকে থাকার লড়াইয়ে বিহারের মুসলিমরা

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৫, ১৩: ৫৩
‘বাংলাদেশি’ তকমার ছায়ায় টিকে থাকার লড়াইয়ে বিহারের মুসলিমরা

এক দশকেরও বেশি আগে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় বিহার রাজ্যের কিষাণগঞ্জের একটি সরকারি স্কুলে পড়তেন মুখতার আলম। সহপাঠীদের মধ্যে এক হিন্দু বন্ধুর সঙ্গে তার ছিল গভীর বন্ধুত্ব। তারা একসাথে পড়াশোনা করত, স্কুল প্রজেক্ট করত, এমনকি দুপুরের খাবারও ভাগ করে খেত। আলম যখন তার নিরামিষভোজী বন্ধুর সঙ্গে খেত, তখন সে মাংস খাওয়া এড়িয়ে চলত, যেন বন্ধুর অস্বস্তি না হয়।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

কিন্তু কয়েক বছর আগে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা তাদের বন্ধুত্বে এমন ফাটল ধরায়, যা আজও পূরণ হয়নি।

বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপির জোটসঙ্গী জিতনরাম মাঝি কিষাণগঞ্জে এক রাজনৈতিক সমাবেশে বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি শেরশাহাবাদি মুসলমানদের ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ বলে আখ্যা দেন। এই মন্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, আর স্থানীয় মুসলমানদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

শেরশাহবাদি নামটি এসেছে ঐতিহাসিক শেরশাহবাদ অঞ্চল থেকে। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের কিছু এলাকা অন্তর্ভুক্ত। আর ‘শেরশাহবাদ’ শব্দটির উৎপত্তি বলা হয় আফগান শাসক শেরশাহ সূরির নাম থেকে। তিনি শক্তিশালী মুঘলদের পরাজিত করে ষোড়শ শতকে অল্প সময়ের জন্য বিহার ও বাংলার (বর্তমান বাংলাদেশসহ) শাসন করেছিলেন। বর্তমানে এই অঞ্চল বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের অংশে বিস্তৃত, যেখানে বাংলাভাষী মুসলমানদের বসবাস।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

আলম নিজেও একজন শেরশাহাবাদি মুসলমান। ব্যবসা প্রশাসনে স্নাতক এই যুবক মাঝির বক্তব্যে মর্মাহত হন। তিনি প্রতিবাদ জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার নিচে মন্তব্য আসে, তোমরা সবাই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী। আর সেই মন্তব্যটি করেন তার সেই ঘনিষ্ঠ হিন্দু বন্ধু।

আলম বলেন, ‘ওই মন্তব্যটা পড়েই আমার শরীর কেঁপে উঠেছিল। আমরা একে অপরের প্রতি বিশ্বাস হারালাম। বন্ধুত্ব, ভ্রাতৃত্ব সব শেষ হয়ে গেল।’

ইতিহাস, ভাষা আর পরিচয়ের টানাপোড়েন

বিহারে সাধারণত হিন্দি ও উর্দু ভাষা প্রচলিত হলেও শেরশাহাবাদি মুসলমানরা বাংলার একটি বিশেষ উপভাষায় কথা বলেন, যেখানে উর্দু ও হিন্দির সংমিশ্রণ আছে। স্থানীয়ভাবে তাদেরকে ‘বাদিয়া’ বা ‘ভাটিয়া’ বলা হয়—যার অর্থ ‘নদীর স্রোতের বিপরীতে চলা’। ধারণা করা হয়, তাদের পূর্বপুরুষরা পশ্চিমবঙ্গের মালদা ও মুর্শিদাবাদ থেকে গঙ্গা পার হয়ে বিহারের সীমান্তে বসতি স্থাপন করেছিলেন।

আজ এই অঞ্চল ভারতের সবচেয়ে দরিদ্র অংশগুলোর একটি। ২০২৩ সালের রাজ্য সরকারের জনশুমারি অনুযায়ী, প্রায় ১৩ লাখ শেরশাহাবাদি মুসলমান বিহারে বসবাস করেন, অধিকাংশই কিষাণগঞ্জ ও কাটিহার জেলায়।

রাজনীতি ও ‘অনুপ্রবেশকারী’ তত্ত্ব

বিহার যখন নভেম্বরের বিধানসভা নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে, তখন বিজেপি সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ বিরোধী প্রচারণা জোরদার করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ইস্যু শুধু রাজ্য নয়, জাতীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

চলতি মাসের শুরুর দিকে বিজেপির আসাম শাখা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ভিডিও প্রকাশ করে। ‘আসাম উইদআউট বিজেপি’—শিরোনামের ৩০ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দাবি করা হয়, রাজ্যে মুসলিম জনসংখ্যা দ্রুত ৯০ শতাংশে পৌঁছে যাবে এবং তারা চা বাগান, বিমানবন্দর, স্টেডিয়ামের মতো সব জনসমাগমস্থল দখল করে নেবে। ভিডিওতে দেখানো হয়, মুসলিমরা কাঁটাতারের বেড়া ভেঙে অবৈধভাবে প্রবেশ করবে এবং গরুর মাংস খাওয়া বৈধ করবে। উল্লেখ্য, ভারতের বেশির ভাগ রাজ্যে গরুর মাংস বিক্রি বা খাওয়া নিষিদ্ধ, আর উচ্চবর্ণের অনেক হিন্দুই নিরামিষাশী।

গত মাসে কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী ও বিহারের বিজেপি নেতা গিরিরাজ সিং পূর্ণিয়ায় এক সমাবেশে বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে অনেক দানব এসেছে, আমাদের সেই দানবদের মারতে হবে।’

এর আগেও গত বছরের অক্টোবরে গিরিরাজ সিং সীমাঞ্চল ও পার্শ্ববর্তী ভাগলপুর জেলায় একটি ‘হিন্দু প্রাইড মার্চ’ আয়োজন করেছিলেন। ওই এলাকায়ও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মুসলিম বাস করেন। সমাবেশে তিনি বারবার বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের কথা বলেন। পাশাপাশি রোহিঙ্গা শরণার্থী ও ‘লাভ জিহাদ’–এর মতো ইস্যু তোলেন। ‘লাভ জিহাদ’—হলো হিন্দু ডানপন্থী গোষ্ঠীর প্রচারিত একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব, যেখানে বলা হয়—মুসলিম পুরুষেরা হিন্দু নারীদের প্রেম বা বিয়েতে প্রলুব্ধ করে ধর্মান্তরিত করছে।

গত বছরের কিষাণগঞ্জের সমাবেশে তিনি সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ‘এই বাদিয়া (শেরশাহবাদি), অনুপ্রবেশকারী আর মুসলিমরা যদি আমাদের একবার থাপ্পড় মারে, আমরা একসঙ্গে হয়ে তাদের হাজারবার থাপ্পড় মারব।’ তার এই মন্তব্যে উপস্থিত জনতা ফেটে পড়ে।

আল–জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিজেপির বিধায়ক হরিভূষণ ঠাকুর জানান, তার দলের সীমাঞ্চলের শেরশাহবাদি মুসলিমদের বিরুদ্ধে প্রচারণা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়। তিনি দাবি করেন, ‘এটা কোনো ভোট বা মেরুকরণের বিষয় নয়। সীমাঞ্চলে মুসলিম জনসংখ্যা বাড়ছে অনুপ্রবেশের কারণে। তাই ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। যদি অনুপ্রবেশ বন্ধ না হয়, ২০–২৫ বছরের মধ্যে সীমাঞ্চল বাংলাদেশে পরিণত হবে।’

মুম্বাইয়ের টাটা ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল সায়েন্সেসের সাবেক অধ্যাপক পুষ্পেন্দ্র মনে করেন, বিজেপির এই মেরুকরণের কৌশল সীমাঞ্চলে তেমন কার্যকর হবে না। তিনি বলেন, ‘বিজেপি ঝাড়খণ্ডের ২০২৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময়ও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর ইস্যু তুলেছিল। কিন্তু কাজ হয়নি, কারণ অভিযোগের কোনো ভিত্তি ছিল না। একই ঘটনা বিহারেও ঘটবে। কারণ সীমাঞ্চলে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ আদৌ নেই। আর কীভাবে হবে? সীমাঞ্চলের সঙ্গে তো বাংলাদেশের সীমান্তই নেই।’

modi bbc

১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা দেন, ‘অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করতে একটি বিশেষ মিশন গঠন করা হবে।’ যদিও তিনি নির্দিষ্ট করে বলেননি কারা ‘অনুপ্রবেশকারী’।

ভারতের হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরেই বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানদের ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে আসছে, বিশেষত বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম রাজ্যে। আসামে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ‘অবৈধ অভিবাসী’ বিরোধী অভিযান চলছে—যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে মুসলমানদের লক্ষ্য করে।

বিজেপি শাসিত কয়েকটি রাজ্যে ইতিমধ্যেই কথিত ‘অবৈধ বাংলাদেশিদের’ বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। আসাম, গুজরাট, মহারাষ্ট্র ও দিল্লি থেকে বহু মানুষকে তাড়ানো হয়েছে, যদিও অনেকের কাছেই নাগরিকত্বের কাগজ ছিল।

এমন প্রেক্ষাপটে সীমান্তবর্তী মুসলমানদের মধ্যে ভয় ক্রমেই বাড়ছে। কিষাণগঞ্জের আলম বলেন, ‘যখনই কোনো হিন্দু নেতার সফর হয়, আমরা ভয় পাই—জানি না এবার কী অভিযোগ উঠবে আমাদের বিরুদ্ধে।’

পুরোনো এক তকমার পুনরুত্থান

বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানদের ‘বাংলাদেশি’ বলে অভিযুক্ত করার রাজনীতি শুরু হয় আসামে, ১৯৭০-এর দশকের শেষ দিকে। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে বিহারেও। আরএসএসের ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি) প্রথম এই ইস্যু তোলে সীমাঞ্চলে।

১৯৮৩ সালে নির্বাচন কমিশন এবিভিপির দাবিতে কয়েক হাজার মুসলমানকে নাগরিকত্ব প্রমাণের নোটিশ দেয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাউকেই বিদেশি প্রমাণ করা যায়নি।

কিন্তু সেই ইতিহাস আবার ফিরে আসছে। বিজেপি এখন আসামের মতো বিহারেও ‘জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন’ (এনআরসি) চালুর দাবি তুলছে। বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে সংসদে বলেছেন, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের কারণে কাটিহার, কিষাণগঞ্জ, পূর্ণিয়া ও আরারিয়ার জনসংখ্যার চিত্র বদলে গেছে। তাই এনআরসি জরুরি।

সম্প্রতি বিহারে ভোটার তালিকার একটি বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া ( স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর) শুরু হয়। এতে নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হয়। মুসলমানদের অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এটি তাদের ভোটাধিকার সীমিত করার কৌশল।

সমালোচকেরা বলছেন, এটি ছিল সরকার সমর্থিত এক কৌশল, যাতে মুসলমান ও অন্যান্য দুর্বল গোষ্ঠীকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যায়। বিজেপি মরিয়া হয়ে এই রাজ্য জিততে চায়।

এসআইআর প্রক্রিয়ার সময় বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘কেবল প্রথম সাত দিনে কিষাণগঞ্জ আবাসিক সনদের আবেদন বেড়ে গেছে ১০ গুণ। এর মানে বাংলাদেশিরা অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে।’

গত ৩০ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন বিহারের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করে। এতে প্রায় ৮ কোটি ভোটারের মধ্যে প্রায় ৬ শতাংশের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। মুসলিম অধ্যুষিত কিষাণগঞ্জ ৯ দশমিক ৭ শতাংশ নাম কাটা গেছে। পুরো সীমাঞ্চল অঞ্চলে বাদ পড়েছে গড়ে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ ভোটার। অন্যদিকে বিহারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রতিষ্ঠাতা লালু প্রসাদ যাদবের নিজ জেলা গোপালগঞ্জে সবচেয়ে বেশি ভোটার বাদ পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বর্জনের পেছনে উদ্দেশ্য ছিল সীমান্তবর্তী মুসলমানদের রাজনৈতিক প্রভাব কমানো।

পরে সংবাদ সম্মেলনে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে বারবার জিজ্ঞেস করা হয়—এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কতজন ‘বিদেশি ভোটার’ শনাক্ত হয়ে তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন? তিনি বলেন, ‘নাম বাদ দেওয়ার প্রধান কারণগুলো হলো, ভোটারদের অনেকেই মারা গেছেন, কেউ ভারতের নাগরিক নন, কারও নাম একাধিকবার উঠেছে, আবার অনেকে বিহার ছেড়ে চলে গেছেন।’ পরে নির্বাচন কমিশন জানায়, যদি কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি মনে করেন কোনো বৈধ ভোটারের নাম বাদ গেছে, তাহলে অভিযোগ বা দাবি দাখিল করা যাবে।

কিষাণগঞ্জের শেরশাহবাদি মুসলিম আকবরের নাম চূড়ান্ত তালিকায় রয়েছে। তিনি জানান, এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি ভয় পাননি। কারণ, তার প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র আছে। তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে আমাদের সব প্রমাণপত্র আছে। যাদের টার্গেট করা হয়, তারাই বরং সব সময় শক্ত প্রমাণপত্র গুছিয়ে রাখে।’

স্থানীয় শিক্ষাবিদ পুষ্পেন্দ্রর মতে, বিজেপি শেরশাহবাদি মুসলমানদের বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বলে আখ্যা দিয়ে শুধু সীমাঞ্চল নয়, সারা বিহারে নির্বাচনী সুবিধা নিতে চাইছে। তিনি বলেন, ‘সীমাঞ্চলে মুসলমান বেশি থাকায় সেখানে বিজেপির তেমন লাভ হবে না। তারা জানে, শেরশাহবাদি মুসলিমদের দোষারোপ করে আসলে সীমাঞ্চলের বাইরের হিন্দু ভোটারদের প্রভাবিত করা সম্ভব। এর মাধ্যমে রাজ্যের অন্যান্য জায়গায় বেশি আসন জিততে চাইছে বিজেপি।’

রাজনৈতিক এই প্রচারণা সামাজিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলছে। কিষাণগঞ্জের স্কুলশিক্ষক তফহীম রহমান জানান, ‘এক দশক আগে আমাদের স্কুলে ১৬ শতাংশ হিন্দু ছাত্র ছিল, এখন মাত্র ২ শতাংশ। হিন্দু পরিবারগুলো মুসলিম পরিচালিত স্কুলে সন্তান পাঠাতে ভয় পাচ্ছে।’

একইভাবে, স্থানীয় চিকিৎসক আজাদ আলম বলেন, ‘অনেকে এখন মুসলিম ডাক্তার বা হাসপাতালের কাছে যেতে সংকোচ বোধ করে। এমনকি চিকিৎসক সংগঠনগুলোও আমাদের পক্ষে খুব কম দাঁড়ায়।’

তবুও কিছু মানুষ এই বিভাজন মানতে নারাজ। ৪৯ বছর বয়সী ধোপা অজয় কুমার চৌধুরী বলেন, ‘আমার ৯০ শতাংশ গ্রাহক মুসলমান। তাদের ছাড়া আমরা টিকতে পারব না। আমি রোগীর ধর্ম দেখি না বরং ভালো ডাক্তার খুঁজি।’

কিন্তু বিজেপির পুরোনো কর্মী ও আইনজীবী অমরিন্দর বাঘি বলেন, ‘যদি কেউ অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করে, সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হবে। নইলে আমরা দুর্বল প্রমাণিত হব।’

সমাজবিজ্ঞানী আদিল হোসেন মনে করেন, ‘সীমাঞ্চলের উন্নয়ন সমস্যা রয়েছে, কিন্তু সেটিকে নিরাপত্তা সংকটে পরিণত করা হচ্ছে। এতে মানুষ ভয় ও অনিশ্চয়তায় বাস করছে, যা তাদের নাগরিক হিসেবে আত্মবিশ্বাস ধ্বংস করে দিচ্ছে।’

কিষাণগঞ্জের তরুণ মুখতার আলমের কথাতেই যেন সেই বাস্তবতার প্রতিফলন। তিনি বলেন, ‘যখনই কেউ বলে আমরা বাংলাদেশি, তখনই প্রমাণ দিতে হয় যে আমরা ভারতীয়। এই কথাগুলো একটা রোগের মতো, একটা ভূতের মতো আমাদের মাথায় ঘুরে বেড়ায়।’

বিহারের সীমান্তে জন্ম নেওয়া, বেড়ে ওঠা লাখো মুসলমান আজও ‘বাংলাদেশি’ তকমার বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছেন। ভোটের রাজনীতি, ভাষা ও ধর্মের ভিত্তিতে তৈরি বিভাজনের মধ্যে তাদের নাগরিকত্ব যেন এক অবিরাম পরীক্ষার সামনে দাঁড়িয়ে।

বিষয়: বাংলাদেশমোদিবিরোধীবিজেপিমুসলিমভারত
সর্বশেষ
  • ১

    উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে সিকৃবিতে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত

  • ২

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট ২৯ অক্টোবর

  • ৩

    হত্যা মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হলো কলিমুল্লাহকে

  • ৪

    মনপুরায় মেঘনার পাড়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় যুবক উদ্ধার

  • ৫

    মহাখালীতে এসকেএস টাওয়ারের পেছনের ভবনে আগুন

সম্পর্কিত
  • লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

    লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

    চলতি মাসে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যে লং মার্চ করেছে তাকে সরকারের জন্য ‘ওয়েক আপ কল’ বলে উল্লেখ করছেন জোটটির নেতারা। প্রায় ১ হাজার গাড়ি নিয়ে এই লং মার্চ করে জোটের পক্ষ থেকে সরকারকে ৬ দফা দাবি দেওয়া হয়েছে। জোট নেতারা ওই ৬ দফায় বিদ্যুৎ, গ্যাস সংকট

  • বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    ১৭ বছরের বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-গ্রেপ্তার আর রাজনৈতিক চাপ সামলে এখন সরকারে বিএনপি। গত ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর দলের শীর্ষ নেতাদের বড় একটি অংশ এখন সরকারের দায়িত্বে ব্যস্ত। মন্ত্রিসভা, সংসদ, প্রশাসন, অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্

  • কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    চীনের সরকার আসলে কী কী বন্ধ করে দেয় – শুধুই কি বিদেশি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়, নাকি দেশের ভেতরে থাকা সমালোচকদের ওপরও এই নিষেধাজ্ঞা আছে, এমন চিন্তাটা আসা খুবই স্বাভাবিক। তবে এখানে সরকারের লক্ষ্য এর চেয়েও বড়।

  • ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধের ছয় মাস পেরিয়েছে। এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে তেলের বাজার তীব্রভাবে প্রভাবিত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে আমেরিকানদের ওপর। গ্যাসের দাম কয়েক সপ্তাহ ধরে ৪ ডলারের বেশি। বন্ধকী ঋণের সুদের হারও বেড়ে প্রায় ৭ শতাংশের দিকে যাচ্ছে। আবার ডিজেলের রেকর্ড