Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশ্লেষণ

ন্যাটো কি দুইভাগে বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে?

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২৬, ১৭: ৫৫
ন্যাটো কি দুইভাগে বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে?

তুরস্কের আঙ্কারায় হয়ে যাওয়া ন্যাটো সম্মেলনটি বেশ সফল হয়েছে। প্রথমত, ইউরোপের নেতারা নিজেদের সামরিক খরচ বাড়ানোর প্রমাণ দেখিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শান্ত রাখতে পেরেছেন। ফলে বড় কোনো ঝামেলার সৃষ্টি হয়নি।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

অন্যদিকে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আরও কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন। এই নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে তুরস্কের জন্য আমেরিকার তৈরি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কেনার পথ অবশেষে খুলে যেতে পারে।

এই সম্মেলনের অন্যতম প্রাপ্তি ছিল একটি যৌথ ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা। ডোনাল্ড ট্রাম্প যখনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বে থাকেন, এই ধরনের চুক্তিপত্র বা দলিল নিয়ে প্রায়ই সমস্যা তৈরি হয়। তবে আঙ্কারার এই ঘোষণাপত্রটি ছিল একেবারেই সাদামাটা ও আপোসমূলক।

তারপরও, এতে জোটের প্রয়োজনীয় ও চেনা সব গৎবাঁধা কথা ও প্রতিশ্রুতির উল্লেখ ছিল। ওয়াশিংটন চুক্তির অনুচ্ছেদ ৫ এর অধীনে মিত্র দেশগুলোর যৌথ আত্মরক্ষার অটুট অঙ্গীকার থেকে শুরু করে সব দিক থেকে হুমকি মোকাবিলার জন্য ৩৬০-ডিগ্রি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার মতো সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ই এই ঘোষণাপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

সম্মেলন শেষে অংশ নেওয়া বিশ্বনেতারা সাথে করে একটি চমৎকার উপহার নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান প্রত্যেক নেতার হাতে তাদের নিজেদের নাম খোদাই করা একটি করে গুলিভর্তি পিস্তল উপহার হিসেবে তুলে দেন।

দেশ ভেদে এই উপহারটি কারো কাছে বেশ চিন্তাশীল ও দারুণ মনে হয়েছে, আবার কারো কাছে এটি আইনি ও দাপ্তরিক জটিলতার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এমনকি এই শীর্ষ সম্মেলন চলাকালীনই ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন বিমান হামলা নতুন করে শুরু হলেও, তা ন্যাটোর এই বৈঠকের কার্যক্রমে কোনো ধরনের ব্যাঘাত ঘটাতে পারেনি।

এ পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাকই মনে হয়েছে। তবে যৌথ ঘোষণাপত্রের শেষ দিকে একটি বিষয় বেশ নজর কেড়েছে। ন্যাটো নেতারা ভবিষ্যতে আবার বৈঠকে বসার কথা বললেও, পরবর্তী সম্মেলনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো তারিখ ঠিক করেননি।

ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল কেন কথা বলছেন না?badrul alam 3

এর থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে ন্যাটো সম্মেলন মানেই নতুন কোনো ঝামেলা বা মার্কিন প্রেসিডেন্টের হঠাৎ রেগে যাওয়ার ভয়।

নেতারা মনে করছেন, এই সম্মেলনগুলো জোটের নিয়মিত ও স্বাভাবিক কাজকর্মের গতি কমিয়ে দেয় এবং ঝামেলার সুযোগ তৈরি করে। আর সেই ভয় থেকেই মূলত পরবর্তী বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা হয়নি।

সুন্দর পরিবেশ আর প্রচুর ছবি তোলার মধ্য দিয়ে সম্মেলনটি শেষ হলেও একটি বড় সমস্যা ঠিকই সামনে এসেছে। গত কয়েক বছরে ন্যাটোর সদস্য দেশগুলো নিজেদের সামরিক খরচ বাড়ানোর ক্ষেত্রে বেশ ভালো অগ্রগতি দেখিয়েছে।

কিন্তু এত কিছুর পরও, জোটের দেশগুলোর একটি প্রশ্নে কেমন যেন বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে। প্রশ্নটি হলো- এই যে নতুন করে এত বিপুল পরিমাণ টাকা সামরিক খাতে খরচ করা হচ্ছে, তা দিয়ে আসলে তারা কী অর্জন করতে চায়?

মজার বিষয় হলো এই প্রশ্ন বা মতবিরোধের দুই পাশে দাঁড়িয়ে দুই মার্ক। একজন হলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এবং অন্যজন ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক রুট।

ওপর ওপর দেখলে মনে হতে পারে, এই দুই নেতার পার্থক্য শুধু তাদের কথা বলার ধরণে। যেখানে কার্নি সরাসরি ট্রাম্পের মুখোমুখি হতে রাজি, সেখানে রুটের অতিরিক্ত তোষামোদ করার অভ্যাস নিয়ে অনেকেই হাসাহাসি করেন।

তবে আসলে, এই সামরিক জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা সম্পূর্ণ আলাদা দুটি যুক্তি দিচ্ছেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল একে বর্ণনা করেছে ‘ইউরোপে বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা এক বড় বিতর্কের দুটি উল্টো দিক’ হিসেবে।

আলোচনার শুরুতেই বলা যাক মার্ক রুটের কথা। ন্যাটোর প্রধান হওয়ার পর থেকে তিনি ট্রাম্পকে খুশি রাখার জাদুকর হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্টকে তেল দেওয়ায় তিনি এতটাই পটু যে, ন্যাটোর জোট থেকে ট্রাম্পের বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি তিনি একাই সামাল দিতে পারেন।

এফ-৩৫। ছবি: রয়টার্স
এফ-৩৫। ছবি: রয়টার্স

ট্রাম্পকে ঠাণ্ডা রাখার জন্য রুটের প্রধান অস্ত্র হলো সদস্য দেশগুলোর সামরিক খরচ বাড়ানো। ন্যাটোর আগের প্রধানদের তুলনায় এই জায়গায় রুট বেশ বড় সাফল্য দেখাতে পেরেছেন।

ন্যাটো ৩.০: বৈশ্বিক ভূরাজনীতির এক নতুন সমীকরণnato 3.0

রুট দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কানাডা এবং ইউরোপীয় দেশগুলো সামরিক খাতে অতিরিক্ত ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার খরচের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে কেবল জার্মানিই ২০২৭ সালে প্রতিরক্ষায় প্রায় ১২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করছে।

অন্যদিকে, পোল্যান্ড তাদের মোট জিডিপির ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে খরচের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সামরিক সরঞ্জাম কেনাকাটা, বাজেট এবং নিজস্ব শিল্প রক্ষার অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখনো রয়ে গেলেও, ইউরোপীয় দেশগুলো অবশেষে নিজেদের প্রকৃত সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে।

রুট কিন্তু একটি বিষয়ে বেশ পরিষ্কার করে বলেছেন যে এই বিপুল সামরিক খরচের উদ্দেশ্য আমেরিকার ক্ষমতাকে সরিয়ে দেওয়া বা খাটো করা নয়।

বরং এর লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে ইউরোপের প্রতি মার্কিন সমর্থন ও অঙ্গীকার ধরে রাখা। ইউরোপীয় দেশগুলোর নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর চেয়ে আমেরিকার তৈরি অস্ত্র ও সরঞ্জাম কেনাই এই পরিকল্পনার বড় অংশ।

বহু বছর ধরে ইউরোপের নেতারা ভয়ে ছিলেন যে, তারা যদি নিজেরা সামরিক খাতে বেশি খরচ করতে শুরু করেন, তবে হয়তো যুক্তরাষ্ট্র এই জোট থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে।

কিন্তু রুট উল্টো যুক্তি দিয়ে দেখিয়েছেন, এই সামরিক খরচ আসলে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বোঝানোর একটি উপায় যাতে তিনি ইউরোপ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার না করেন।

ইউরোপীয় দেশগুলোর পক্ষ থেকে এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি একটি বিশ্বস্ততার প্রমাণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

আর রুটের এই অবস্থানের একদম বিপরীত মেরুতে আছেন কার্নি। মার্ক কার্নি একজন বড় সমালোচক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। অবশ্য এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

কানাডাকে নিয়ে ট্রাম্পের নানা আজেবাজে কথা এবং দেশটির ওপর জোর করে শুল্ক বসানোর বারবার হুমকি কার্নির প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পথকে অনেকটাই সহজ করে দিয়েছিল।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করে কার্নি নিজের দেশে রাজনৈতিক সুবিধা পেতে পারতেন। তার চেয়েও বড় বিষয় হলো তার দেওয়া বক্তব্যগুলো ছিল অনেক বেশি কৌশলী ও বুদ্ধিদীপ্ত।

ন্যাটো জোটে ভাঙনের ছায়াnato-logo

চলতি বছরের শুরুর দিকে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে (ডব্লিউইএফ) দেওয়া এক বক্তব্যে উপস্থিত সবাইকে চমকে দেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি।

তিনি বলেন, কানাডা ও ইউরোপের মতো মাঝারি শক্তির দেশগুলোকে বর্তমানের এই বহু-মেরুকেন্দ্রীক বিশ্বে নিজেদের ক্ষমতা জাহির করার পথ খুঁজে নিতে হবে।

অন্যথায় তারা বড় পরাশক্তিগুলোর শিকারে পরিণত হতে পারে। কার্নির এই বক্তব্য সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে চলে আসে।

কারণ, তিনি আকারে-ইঙ্গিতে বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, আমেরিকা ও চীন উভয় দেশই এমন শিকারি পরাশক্তি হতে পারে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী। ছবি: রয়টার্স
কানাডার প্রধানমন্ত্রী। ছবি: রয়টার্স

এই বক্তব্যের পরপরই কার্নি বেইজিং সফর করেন এবং তার মূল বক্তব্যটি আবারও তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, কানাডার মতো আমেরিকার দীর্ঘদিনের মিত্র ও প্রতিবেশী দেশেরও এখন নিজেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য বিকল্প পথ বা কৌশলের কথা ভাবা দরকার।

আঙ্কারা সম্মেলনে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ন্যাটোর মাঝারি শক্তির দেশগুলোকে একজোট হওয়ার কথা বলেন।

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র এখন “নিজেদের স্বার্থের কথা নতুন করে ভাবছে", তাই মিত্রদের সাবধান হতে হবে।

মার্ক রুটের তেল দেওয়ার নীতির উল্টো পথ দেখিয়ে কার্নি বলেন, আমেরিকার বাইরের দেশগুলোর এখন নিজেদের আলাদা সামরিক শক্তি গড়ে তোলা দরকার।

এটি করলে ইউরোপ থেকে মার্কিন সেনা চলে যাওয়ার ঝুঁকি যেমন কমবে, তেমনি দিন দিন খামখেয়ালি হয়ে ওঠা আমেরিকার ওপর নির্ভরতাও কমবে।

এই ধরণের স্বাধীন কৌশলের কথা বলার জন্য আঙ্কারা ছিল একেবারে সঠিক জায়গা। কারণ ইউরোপের দেশ বা কানাডা যদি কার্নির এই পথ বেছে নেয়, তবে তাদের নীতি অনেকটাই তুরস্কের মতো হয়ে উঠবে।

ইরান যুদ্ধ ন্যাটোকে ভেঙে দিতে পারেnato-ai pic

তুরস্ক ন্যাটোর এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হলেও দীর্ঘদিন ধরে তারা সম্পূর্ণ নিজেদের মতো করে চলেছে। এরদোয়ানের তুরস্ক ন্যাটো জোটকে ঠিক ততটুকুই সাহায্য করেছে যতটুকু তাদের নিজেদের লাভ বা স্বার্থের সাথে মিলেছে।

আঙ্কারা সম্মেলন থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়েছে যে, ইউরোপীয় নেতারা সামরিক খরচ এবং ক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হলেও, তারা এখনো দুটি আলাদা বিশ্বভাবনায় বিভক্ত।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর মতো নেতারা দীর্ঘদিন ধরেই কানাডার প্রধানমন্ত্রী কার্নির এই মতকে সমর্থন দিয়ে আসছেন। আসলে ফ্রান্স তো কার্নিরও আগে থেকেই এই পথে হাঁটছে।

ইউরোপে যখন আমেরিকার বাইরে গিয়ে ভাবাটাই অন্যায় মনে করা হতো, তখন থেকেই ফ্রান্স যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইউরোপের নিজস্ব স্বাধীন ক্ষমতার কথা বলে আসছে।

অন্যদিকে, আঙ্কারা সম্মেলনে ন্যাটোর প্রধান রুটের পাশে দাঁড়িয়েছেন অন্যান্য দেশের নেতারা, যাদের মধ্যে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও রয়েছেন।

স্টারমার হয়তো শীঘ্রই ক্ষমতা ছাড়তে যাচ্ছেন, তবে তার জায়গায় যিনিই আসুন না কেন, তিনিও রুটের এই তোষামোদের নীতিকেই সমর্থন করবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

ট্রাম্প ‘হ্যাঁ’ও করতে পারছেন না, ‘না’ও বলতে পারছেন নাthumbnailbee_A4mPYD4bFCA_hq

ন্যাটোর ভেতরের এই মতবিরোধের প্রভাব অত্যন্ত গভীর। বর্তমানের সময়ে জোটের দেশগুলো কোন খাতে বিনিয়োগ করবে—তা এই দ্বন্দের কারণেই নির্ধারিত হচ্ছে।

এখন প্রশ্ন উঠেছে, কেবল সামরিক খরচ বাড়ানোই কি যথেষ্ট? নাকি ইউরোপীয় দেশগুলোর উচিত দ্রুত নির্দিষ্ট কোনো সামরিক সক্ষমতা অর্জনের দিকে মনোযোগ দেওয়া?

আপাতত এই জোটে এমন কারো কোনো স্থান নেই যারা হয় আমেরিকার সাথে সম্পর্ক পুরোপুরি ভেঙে ফেলতে চায়, অথবা ট্রাম্প-পূর্ববর্তী স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যেতে চায়।

এমনকি মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের (পেন্টাগন) প্রস্তাবিত ‘ন্যাটো ৩.০’ (NATO 3.0) কৌশলের জন্যও এখানে খুব একটা জায়গা নেই।

উল্লেখ্য, এই কৌশলের লক্ষ্য ছিল আটলান্টিক মহাসাগরের দুই পারের সামরিক জোটকে টিকিয়ে রাখা, তবে ইউরোপের মাটিতে মার্কিন সেনার উপস্থিতি কমিয়ে আনা।

পরিশেষে, কার্নি নাকি রুট- কার চিন্তাধারা শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে তা সময়ই বলে দেবে। তবে আপাতত ন্যাটো নেতারা আবারও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারছেন এই ভেবে যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের কোনো বড় ক্ষোভের মুখে না পড়েই আরও একটি শীর্ষ সম্মেলন শেষ হলো।

কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায় যে সামরিক জোটের সব জটিল সমস্যা কি কেবলই কিছু তোষামোদ আর সুন্দর ছবি তোলার সুযোগ দিয়ে এত সহজে সমাধান করা সম্ভব?

*লেখাটি ফরেন পলিসিতে প্রকাশিত নিবন্ধ থেকে অনূদিত*

বিষয়: তুরস্ককানাডাএরদোয়ানইউরোপডোনাল্ড ট্রাম্পন্যাটো
সর্বশেষ
  • ১

    লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

  • ২

    মহাখালীতে পরিত্যক্ত ভবনে আগুন

  • ৩

    রাজধানীর ধানমন্ডিতে ভবনে আগুন

  • ৪

    হংকংয়ের বিনিয়োগ আকর্ষণে বিশেষ সুবিধার প্রস্তাব বাংলাদেশের

  • ৫

    মেঘের শারীরিক অবস্থা এখনো ‘অস্থিতিশীল’, মেডিকেল বোর্ড গঠন

সম্পর্কিত
  • লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

    লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

    চলতি মাসে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যে লং মার্চ করেছে তাকে সরকারের জন্য ‘ওয়েক আপ কল’ বলে উল্লেখ করছেন জোটটির নেতারা। প্রায় ১ হাজার গাড়ি নিয়ে এই লং মার্চ করে জোটের পক্ষ থেকে সরকারকে ৬ দফা দাবি দেওয়া হয়েছে। জোট নেতারা ওই ৬ দফায় বিদ্যুৎ, গ্যাস সংকট

  • বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    ১৭ বছরের বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-গ্রেপ্তার আর রাজনৈতিক চাপ সামলে এখন সরকারে বিএনপি। গত ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর দলের শীর্ষ নেতাদের বড় একটি অংশ এখন সরকারের দায়িত্বে ব্যস্ত। মন্ত্রিসভা, সংসদ, প্রশাসন, অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্

  • কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    চীনের সরকার আসলে কী কী বন্ধ করে দেয় – শুধুই কি বিদেশি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়, নাকি দেশের ভেতরে থাকা সমালোচকদের ওপরও এই নিষেধাজ্ঞা আছে, এমন চিন্তাটা আসা খুবই স্বাভাবিক। তবে এখানে সরকারের লক্ষ্য এর চেয়েও বড়।

  • ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধের ছয় মাস পেরিয়েছে। এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে তেলের বাজার তীব্রভাবে প্রভাবিত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে আমেরিকানদের ওপর। গ্যাসের দাম কয়েক সপ্তাহ ধরে ৪ ডলারের বেশি। বন্ধকী ঋণের সুদের হারও বেড়ে প্রায় ৭ শতাংশের দিকে যাচ্ছে। আবার ডিজেলের রেকর্ড