Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশ্লেষণ

গুজব ছড়াতে কত খরচ, আয়ই বা কত

ফজলুল কবির

ফজলুল কবির

প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০২৫, ১৭: ১৫
গুজব ছড়াতে কত খরচ, আয়ই বা কত

গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে তো বটেই গোটা বিশ্বে গুজব, অপতথ্য, মিথ্যা তথ্য ইত্যাদিকে ঘিরে যত সংঘাত, যত অঘটন ঘটেছে, তাতে একে আর নিরীহ বলার জো নেই। আদতে কোনো গুজবই নিরীহ নয়। ২০২০ সালের ক্যাপিটল হিল হামলা হোক, কিংবা দেশের নাসিরনগর—সবখানে গুজব একই ধরনের পরিণতি ডেকে এনেছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

এই যে গুজব, এটি আসলে কী? ফ্যাক্ট বা তথ্যের মধ্যে কোনো ধারণা বা অন্য কিছু থাকার সুযোগ নেই। এটি তখনই মিথ্যা বা অপতথ্যে পরিণত হয় যখন, তা পুরোপুরি বা আংশিক মিথ্যা বা ধারণাপ্রসূত বিষয়াদি যুক্ত করে পরিবেশন করা হয়। আর গুজব? হ্যাঁ, গুজব বিষয়টি এ দুইয়ের মধ্যেই পড়ে এর রকমবিচারে। কখনো পূর্ণ মিথ্যা, কখনো আংশিক সত্য ছড়িয়ে পড়ে গুজব হিসেবে। একটি তথ্য বা তথ্যসমষ্টি তখনই গুজব হিসেবে সাব্যস্ত হয়, যখন তা এর উৎস বা সত্যাসত্য বিচার ছাড়াই মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমান বাস্তবতায় এই গুজব ছড়ানোর সবচেয়ে ভয়াবহ মাধ্যম হলো সামাজিক মাধ্যম। এক হিসাবে দেখা গেছে, প্রচলিত অনলাইনভিত্তিক সংবাদমাধ্যমগুলোয় ১০ শতাংশের কিছু বেশি ক্ষেত্রে তথ্য উৎস হিসেবে সামাজিক মাধ্যমকে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু গুজবের ক্ষেত্রে দেখা গেছে এ ধরনের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভুয়া তথ্যের মধ্যে ৪১ শতাংশের বেশির উৎস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।

এটি কারা উৎপাদন করে? যে কেউ করতে পারে। কখনো সংবাদমাধ্যমও গুজবের উর্বর ভূমিতে পরিণত হয়। তবে বিভিন্ন সময় ব্যবসায়িক গোষ্ঠী, রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি, বিনোদন জগতের তারকারা এই গুজবের জন্ম দেন।

সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত ভুল, ভুয়া, অপ বা মিথ্যা তথ্য যা–ই হোক না কেন, তার পেছনে অসাবধানতা যেমন থাকে, তেমনি কিছুটা হলেও সামাজিক মাধ্যম থেকে আরও আরও ডলার আনার বিষয়টিও যুক্ত। ছবি: পিক্সাবে
সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত ভুল, ভুয়া, অপ বা মিথ্যা তথ্য যা–ই হোক না কেন, তার পেছনে অসাবধানতা যেমন থাকে, তেমনি কিছুটা হলেও সামাজিক মাধ্যম থেকে আরও আরও ডলার আনার বিষয়টিও যুক্ত। ছবি: পিক্সাবে

এ ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমগুলোকে পড়তে হচ্ছে বড় ধরনের সংকটে। একদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই যুগে দ্রুততম সময়ে যথাযথ তথ্য পাঠক–দর্শকের সামনে হাজির করার চাপ, অন্যদিকে তথ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে এর যাচাইয়ে নানা প্রতিবন্ধকতা ও বিভ্রান্তির ফেরে পড়তে হচ্ছে প্রচলিত সংবাদমাধ্যমগুলোকে। এ ক্ষেত্রে ইউটিউব, ফেসবুকসহ সামাজিক মাধ্যমের নানা প্ল্যাটফর্ম থেকে আয়ের সুযোগ এবং সেই সূত্রে লাইক–ভিউ ইত্যাদির ইঁদুর দৌড়ে এগিয়ে থাকার লোভও অনেক সময় যথাযথভাবে যাচাই ছাড়া সংবাদ পরিবেশনে প্ররোচিত করছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

অর্থাৎ, সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত ভুল, ভুয়া, অপ বা মিথ্যা তথ্য যা–ই হোক না কেন, তার পেছনে অসাবধানতা যেমন থাকে, তেমনি কিছুটা হলেও সামাজিক মাধ্যম থেকে আরও আরও ডলার আনার বিষয়টিও যুক্ত। এখানে এটা বলার সুযোগ নেই যে, সব সংবাদমাধ্যমই এ দৌড়ে নেমে হিতাহিত জ্ঞান ভুলে যায়। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বহু সংবাদমাধ্যমের নাম দেওয়া সম্ভব, যারা সঠিক তথ্য পরিবেশনের ওপরই সর্বোচ্চ মনোযোগ দেয়।

এবার তাকানো যাক কোনো একটি অর্ধসত্য বা ভুয়া বা অপতথ্যকে গুজবে রূপ দিয়ে ব্যবসায়িক মুনাফা কামানোর দিকে। ১৯৮০–এর দশকে আমেরিকায় পপ রকস ব্র্যান্ডের একটি ক্যান্ডি বেশ জনপ্রিয়তা পায়। হঠাৎ করেই এই ক্যান্ডের সাথে কোকাকোলাকে মিশিয়ে এক অদ্ভুত গুজব চাউর হয়। দাবি করা হয়—পপ রকস ক্যান্ডি খাওয়ার পর কোকাকোলা পান করে পেট ফেটে মিকি মাউস মারা গেছে। লক্ষ্য পরিষ্কার—ক্যান্ডির মুখ্য ভোক্তা শিশুরা। এর ভয়াবহ প্রভাব পড়ে। এটা এতটাই যে, কোম্পানিটি রীতিমতো বন্ধ হওয়ার জোগাড় হয়। মিকি মাউস জীবিত বলেও কোনো লাভ হচ্ছিল না। শেষে এফডিএর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নিজেকে প্রমাণ করতে হয়। এমন ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়েছে পেপসি, কেএফসিসহ বহু নামজাদা ব্র্যান্ডকে।

রাজনৈতিক গুজবগুলোর সরাসরি লক্ষ্য থাকে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল বা নেতা–কর্মীরা। ছবি: পেক্সেলস
রাজনৈতিক গুজবগুলোর সরাসরি লক্ষ্য থাকে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল বা নেতা–কর্মীরা। ছবি: পেক্সেলস

ব্যবসায়িক পরিমণ্ডলের গুজবের সাথে আর্থিক বিষয়াদি জড়িয়ে থাকবে—এ তো জানা কথাই। তাহলে অন্য গুজব? হ্যাঁ, অন্য গুজবগুলোর সাথেও কোনো না কোনোভাবে আর্থিক বিষয়াদি যুক্ত থাকে। কোনো পক্ষ মুনাফা গোনে, তো কোনো পক্ষকে গুনতে হয় লোকসান। রাজনৈতিক গুজবগুলোর সরাসরি লক্ষ্য থাকে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল বা নেতা–কর্মীরা। এ ক্ষেত্রে হয় কোনো দলকে মূল্য চোকাতে হয়, না হলে কোনো নেতাকে। আর বর্তমান দুনিয়ায় রাজনীতি আর্থিক লাভালাভ নিরপেক্ষ নয়—এ তো সবাই জানে। এমনকি ধর্মকে কেন্দ্র করে ছড়ানো নানা গুজবের সাথেও লেপ্টে থাকে আর্থিক বিষয়াদি। ভূমি থেকে উৎখাত হোক, কিংবা ব্যবসা বা অন্য কোনো ক্ষমতা বা প্রভাবের সমীকরণের প্রয়োজনে হোক, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এ সম্পর্কিত গুজব চাউর করাটা এই বিশ্বে বহু আগে থেকে চলে আসছে।

পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট স্ট্যাটিস্টার তথ্যমতে, ২০২০ সালেই শুধু গুজবের কারণে ৭ হাজার ৮০০ কোটি মার্কিন ডলারের আর্থিক মূল্য চোকাতে হয়েছে বিশ্বকে। এ তো গেল তদনগদ অর্থনৈতিক ক্ষতি। গুজবের সামাজিক প্রভাব বিবেচনা করলে এর দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ক্ষতিটি আরও অনেক বেশি।

ফরাসি প্রতিষ্ঠান বাস্টার ডট এআই জানাচ্ছে, গুজবের কারণে এক পক্ষ যেমন লোকসান গুনছে, অন্য পক্ষ কিন্তু মুনাফাও গুনছে। সেটা কেমন? তারা বলছে, এই ধারাটি একটি সমান্তরাল অর্থনীতিতে রূপ নিচ্ছে। ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সময়ে বড় নির্বাচনগুলোকে কেন্দ্র করে প্রচার ও অপপ্রচার সম্পর্কিত বিজ্ঞাপন খাত থেকে সারা বিশ্বের বিভিন্ন কোম্পানি আয় করেছে ৪০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ২০১৬ সালে এক আমেরিকাতেই হয়েছে ২০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের প্রচার ব্যবসা। কিন্তু রাজনীতিই কেবল লক্ষ্যবস্তু নয়। ২০২১ সালে সাড়ে ৩ কোটি ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছিল শুধু জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত ধারণা নিয়ে সংশয় ছড়াতে।

ফলে বোঝাই যাচ্ছে যে, গুজব কোনো হেসে উড়িয়ে দেওয়ার বিষয় নয়। নানা ধরনের আপাত নিরীহ এবং বোকা বোকা গুজবের পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে বিরাট কোনো অর্থনৈতিক–রাজনৈতিক পরিকল্পনা। আর প্রতিটি গুজবের সামাজিক প্রভাব তো আছেই। গুজব মূলত বিরাট জনপরিসরের মন ও চিন্তা নিয়ে খেলে। এই জনসমষ্টি কিন্তু ভোক্তাও। এখানে ভোক্তা বলতে শুধু পণ্যের ভোক্তা ধরে নিলে ভুল হবে। সংস্কৃতি, সাহিত্য, ধারণা, চিন্তা ইত্যাদিরও কিন্তু ভোক্তা আছে। গুজব মূলত এই ভোক্তা সমাজ নিয়ে কাজ করে। ফলে কোনো তথ্যকে গুজব হিসেবে চিহ্নিত করে চুপ করে বসে থাকার বা সামাজিক মাধ্যমে এ সম্পর্কিত পোস্টে ‘হাহা’ প্রতিক্রিয়া দিয়ে বা কোনো প্রতিক্রিয়া না দিয়ে এড়িয়ে যাওয়াটা ওই গুজবকে আরেকটু শিকড় গাড়তে দেওয়ারই নামান্তর।

বিষয়: গুজবফ্যাক্টচেকসামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসংবাদমাধ্যমগণমাধ্যম
সর্বশেষ
  • ১

    উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে সিকৃবিতে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত

  • ২

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট ২৯ অক্টোবর

  • ৩

    হত্যা মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হলো কলিমুল্লাহকে

  • ৪

    মনপুরায় মেঘনার পাড়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় যুবক উদ্ধার

  • ৫

    মহাখালীতে এসকেএস টাওয়ারের পেছনের ভবনে আগুন

সম্পর্কিত
  • লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

    লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

    চলতি মাসে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যে লং মার্চ করেছে তাকে সরকারের জন্য ‘ওয়েক আপ কল’ বলে উল্লেখ করছেন জোটটির নেতারা। প্রায় ১ হাজার গাড়ি নিয়ে এই লং মার্চ করে জোটের পক্ষ থেকে সরকারকে ৬ দফা দাবি দেওয়া হয়েছে। জোট নেতারা ওই ৬ দফায় বিদ্যুৎ, গ্যাস সংকট

  • বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    ১৭ বছরের বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-গ্রেপ্তার আর রাজনৈতিক চাপ সামলে এখন সরকারে বিএনপি। গত ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর দলের শীর্ষ নেতাদের বড় একটি অংশ এখন সরকারের দায়িত্বে ব্যস্ত। মন্ত্রিসভা, সংসদ, প্রশাসন, অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্

  • কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    চীনের সরকার আসলে কী কী বন্ধ করে দেয় – শুধুই কি বিদেশি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়, নাকি দেশের ভেতরে থাকা সমালোচকদের ওপরও এই নিষেধাজ্ঞা আছে, এমন চিন্তাটা আসা খুবই স্বাভাবিক। তবে এখানে সরকারের লক্ষ্য এর চেয়েও বড়।

  • ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধের ছয় মাস পেরিয়েছে। এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে তেলের বাজার তীব্রভাবে প্রভাবিত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে আমেরিকানদের ওপর। গ্যাসের দাম কয়েক সপ্তাহ ধরে ৪ ডলারের বেশি। বন্ধকী ঋণের সুদের হারও বেড়ে প্রায় ৭ শতাংশের দিকে যাচ্ছে। আবার ডিজেলের রেকর্ড