Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশ্লেষণ

কেন দেশবাসীকে সোনা কিনতে না করছেন মোদি

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৬, ১২: ৩৫
কেন দেশবাসীকে সোনা কিনতে না করছেন মোদি

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারতের জনগণকে বাড়ি থেকে কাজ করার, আন্তর্জাতিক সফর এড়িয়ে চলার এবং সোনা না কেনার আহ্বান জানিয়েছেন। আমেরিকা-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

গত রোববার হায়দ্রাবাদের একটি জনসভায় মোদি এই বিশেষ অনুরোধ জানান। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

মোদি আসলে কি বলেছেন?

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, মানুষের উচিত সশরীরে উপস্থিত না হয়ে অনলাইনে মিটিং করা এবং কোভিড-১৯ মহামারীর সময় বিশ্বব্যাপী গৃহীত ওয়ার্ক-ফ্রম-হোম মডেল অনুসরণ করা। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, এই ধরনের অভ্যাস জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে আনবে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

এর পাশাপাশি, মোদি জ্বালানি বাঁচাতে জনগণকে গণপরিবহন ব্যবহার এবং কারপুলিং (একই গাড়িতে কয়েকজন মিলে যাতায়াত) করার আহ্বান জানান। তিনি পরিবারগুলোকে ভোজ্যতেলের ব্যবহার কমানোর অনুরোধ করেন। এই পদক্ষেপকে একইসঙ্গে স্বাস্থ্যকর ও দেশপ্রেমিক হিসেবে বর্ণনা করেন।

মোদি ভারতীয়দের অন্তত এক বছরের জন্য সোনা কেনা এবং অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান। এছাড়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের সারের ব্যবহার প্রায় অর্ধেক কমিয়ে ফেলার অনুরোধ করেন।

জনগণের জীবনযাত্রায় এবং পরিকল্পনায় কেন এই পরিবর্তনের প্রয়োজন, তার যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের ওপর অত্যন্ত গুরুত্ব দিতে হবে।”

মোদী ভারতীয়দের অন্তত এক বছরের জন্য সোনা কেনা এবং অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান। ছবি: রয়টার্স
মোদী ভারতীয়দের অন্তত এক বছরের জন্য সোনা কেনা এবং অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান। ছবি: রয়টার্স

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক কি স্বাভাবিক হতে যাচ্ছে?thumbnailbee_cwro09MTKTg_hq

এখন প্রশ্ন হলো, মোদি এখানে আসলে কোন ‘বর্তমান পরিস্থিতির’ কথা বলছেন?

সহজ কথায়, মোদি ইরান যুদ্ধের কথা বলেছেন এবং বিশেষ করে ভারতের ওপর এর সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক প্রভাবের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

যুদ্ধের শুরুতেও মোদি এই সংঘাত থেকে উদ্ভূত অর্থনৈতিক সংকটকে কোভিড-১৯ মহামারীর পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। গত রোববার তিনি সেই একই ধারাবাহিকতায়টা ভারতীয়দের আবারও সেই সব কড়াকড়ি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান, যা করোনা সংকটের সময় বিশ্বের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২৭ ফেব্রুয়ারি ছিল ব্যারেল প্রতি ৭২.৮৭ ডলার। গত সোমবার তা ব্যারেল প্রতি ১০৫.৪৫ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে—যা প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি।

যুদ্ধের শুরুর সপ্তাহগুলোতে পারস্য উপসাগরের তেল ও গ্যাস স্থাপনায় ইরানি হামলার ফলে জ্বালানি সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মার্চের শুরু থেকে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলও সীমিত করে দিয়েছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ২০ শতাংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। বর্তমানে ইরান কেবল নির্দিষ্ট কিছু দেশের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে, যাদের ট্রানজিটের জন্য ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সাথে আলোচনা করতে হচ্ছে।

এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোতে জাহাজ প্রবেশ বা বের হওয়ার ওপর নৌ-অবরোধ ঘোষণা করে, যা বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। জ্বালানির খরচ বাড়ার ফলে বিমান সংস্থাগুলোও টিকিটের দাম বাড়িয়েছে।

বিশ্বে ব্যবহৃত ইউরিয়া সারের প্রায় অর্ধেক এবং অন্যান্য সারের একটি বিশাল অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে রপ্তানি করা হয়। বর্তমানে সেই সরবরাহ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

মোদি বলেন, “দেশপ্রেম মানে শুধু সীমান্তে প্রাণ উৎসর্গ করার ইচ্ছা নয়। এই সময়ে দায়িত্বশীলতার সাথে জীবনযাপন করা এবং আমাদের দৈনন্দিন জীবনে দেশের প্রতি কর্তব্য পালন করাই হলো আসল দেশপ্রেম।”

আর মোদির বক্তব্যে এই কর্তব্য ও দায়িত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ।

আইএমএফ আগেই বলেছে , ২০২৬ সালে ভারতের চলতি হিসাবের ঘাটতি (সিএডি) হবে ৮৪ বিলিয়ন ডলার। ছবি: রয়টার্স
আইএমএফ আগেই বলেছে , ২০২৬ সালে ভারতের চলতি হিসাবের ঘাটতি (সিএডি) হবে ৮৪ বিলিয়ন ডলার। ছবি: রয়টার্স

ধর্ম কি আবারও বাংলা ভাগ করছে?Bangladesh west bengal map

এবার একটু জেনে নেওয়া যাক ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আসলে কী অবস্থায় আছে?

ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক (আরবিআই)-এর তথ্য অনুযায়ী, ১ মে পর্যন্ত ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৬৯০.৬৯ বিলিয়ন ডলার, যা মার্চের শেষ নাগাদ থাকা রিজার্ভের চেয়ে ৭ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার বা ১ দশমিক ১২ শতাংশ কম। যুদ্ধের আগের পরিস্থিতির তুলনায় এই পতন আরও তীব্র। ২৭ ফেব্রুয়ারি ভারতের রিজার্ভ ছিল ৭২৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) আগেই বলেছে , ২০২৬ সালে ভারতের চলতি হিসাবের ঘাটতি (সিএডি) হবে ৮৪ বিলিয়ন ডলার। নেতিবাচক সিএডি-এর অর্থ হলো দেশ তার আয়ের চেয়ে বেশি ব্যয় করছে।

এবারে প্রশ্ন তেল, সোনা, বিদেশ ভ্রমণ এবং সারের সাথে এর সম্পর্ক কী?

চীন ও আমেরিকার পর ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত গত অর্থবছর ভারত ১২৩ বিলিয়ন ডলারের অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে, যা ভারতের আমদানিবাজেটের একক বৃহত্তম খাত। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সোনা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতীয়রা ৭২ বিলিয়ন ডলারের সোনা আমদানি করেছে, যা বিশ্বে চীনের পরেই দ্বিতীয়।

ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স সংস্থা অ্যাকোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ সালে বিদেশ ভ্রমণে ভারতীয়রা ৩১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। ইমিগ্রেশন ব্যুরোর তথ্যমতে, ২০২৪ সালে প্রায় ৩০ দশমিক ৯ মিলিয়ন ভারতীয় নাগরিক দেশ ছেড়ে বিদেশে গিয়েছেন, যা ২০২৩ সালের (২৭.৯ মিলিয়ন) তুলনায় অনেক বেশি। ভারত বিশ্বের বৃহত্তম ইউরিয়া আমদানিকারক দেশও বটে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের বিশ্লেষণ অনুযায়ী গত বছর ভারত প্রায় ১০ মিলিয়ন টন ইউরিয়া আমদানি করেছে।

কেন এটি ভারতের জন্য এখন উদ্বেগের বিষয়?

তেল, সোনা, সার আমদানি ও বিদেশ ভ্রমণে বিপুল ব্যয়ের কারণে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ক্রমশ ফুরিয়ে আসছে। তবে এর মধ্যে তেল এবং সারের খরচ কমানো ভারতের জন্য অত্যন্ত কঠিন। ভারতের অর্থনীতি সচল রাখতে জ্বালানি আমদানি অপরিহার্য, আর কৃষিপ্রধান এই দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্ধেকেরও বেশি পরিবারের জীবিকার জন্য সার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই কাটছাঁট করার জায়গা হিসেবে পড়ে থাকে কেবল সোনা এবং বিদেশ ভ্রমণ। তবে ভারতীয়রা প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানে কতটা সাড়া দেবেন, তা এখনও অনিশ্চিত।

বিষয়: আমেরিকাইরানইরান-ইসরায়েল সংঘাতনরেন্দ্র মোদিবৈদেশিক মুদ্রাযুদ্ধবৈদেশিক রিজার্ভভারত
সর্বশেষ
  • ১

    উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে সিকৃবিতে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত

  • ২

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট ২৯ অক্টোবর

  • ৩

    হত্যা মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হলো কলিমুল্লাহকে

  • ৪

    মনপুরায় মেঘনার পাড়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় যুবক উদ্ধার

  • ৫

    মহাখালীতে এসকেএস টাওয়ারের পেছনের ভবনে আগুন

সম্পর্কিত
  • লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

    লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

    চলতি মাসে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যে লং মার্চ করেছে তাকে সরকারের জন্য ‘ওয়েক আপ কল’ বলে উল্লেখ করছেন জোটটির নেতারা। প্রায় ১ হাজার গাড়ি নিয়ে এই লং মার্চ করে জোটের পক্ষ থেকে সরকারকে ৬ দফা দাবি দেওয়া হয়েছে। জোট নেতারা ওই ৬ দফায় বিদ্যুৎ, গ্যাস সংকট

  • বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    ১৭ বছরের বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-গ্রেপ্তার আর রাজনৈতিক চাপ সামলে এখন সরকারে বিএনপি। গত ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর দলের শীর্ষ নেতাদের বড় একটি অংশ এখন সরকারের দায়িত্বে ব্যস্ত। মন্ত্রিসভা, সংসদ, প্রশাসন, অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্

  • কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    চীনের সরকার আসলে কী কী বন্ধ করে দেয় – শুধুই কি বিদেশি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়, নাকি দেশের ভেতরে থাকা সমালোচকদের ওপরও এই নিষেধাজ্ঞা আছে, এমন চিন্তাটা আসা খুবই স্বাভাবিক। তবে এখানে সরকারের লক্ষ্য এর চেয়েও বড়।

  • ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধের ছয় মাস পেরিয়েছে। এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে তেলের বাজার তীব্রভাবে প্রভাবিত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে আমেরিকানদের ওপর। গ্যাসের দাম কয়েক সপ্তাহ ধরে ৪ ডলারের বেশি। বন্ধকী ঋণের সুদের হারও বেড়ে প্রায় ৭ শতাংশের দিকে যাচ্ছে। আবার ডিজেলের রেকর্ড