Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশ্লেষণ

সুপার এল নিনো কি বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটের কারণ হবে?

তৌকির আহমেদ

প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১৭: ০২
সুপার এল নিনো কি বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটের কারণ হবে?
কৃষি ফসলের পাশাপাশি উত্তপ্ত আবহাওয়ার প্রভাব পড়ে পশুসম্পদ ও মৎস্য খাতেও। ছবি: রয়টার্স

একদিকে প্রশান্ত মহাসাগরের গভীরে জমা হওয়া অস্বাভাবিক তাপমাত্রা, অন্যদিকে বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত— এই দুইয়ের জোড়া ধাক্কায় এখন বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তা নতুন করে মারাত্মক ঝুঁকির মুখোমুখি। জলবায়ুর ‘অনিয়ম’ যখন শস্যক্ষেত্র ধ্বংস করে আর বাণিজ্যিক পথগুলোকে বাধাগ্রস্ত করে, তার চূড়ান্ত খেসারত দিতে হয় সাধারণ মানুষকে—উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও খাবারের বাড়তি দামের মাধ্যমে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) তথ্য অনুযায়ী, এই দ্বিমুখী ধাক্কায় বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোর কোটি কোটি মানুষ নতুন করে খাদ্যসংকটের মুখোমুখি হতে পারেন। আন্তর্জাতিক জলবায়ু ও খাদ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈরী আবহাওয়া ও সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে অস্থিরতার সংমিশ্রণ বিশ্বজুড়ে দীর্ঘস্থায়ী খাদ্য মূল্যস্ফীতি ও সরবরাহের ঘাটতি তৈরি করছে।

এল নিনো কী?

‘এল নিনো’ (El Niño) হলো ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলে সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডলের মধ্যকার এক জটিল প্রাকৃতিক মিথস্ক্রিয়া, যা বৈজ্ঞানিকভাবে ‘এল নিনো-সাউদার্ন অসিলেশন’ (ইএনএসও) নামে পরিচিত। স্পেনীয় ভাষায় এর অর্থ ‘ছোট ছেলে’ বা ‘শিশু যিশু’। দক্ষিণ আমেরিকার পেরু ও ইকুয়েডরের জেলেরা বড়দিনের সময় সমুদ্রের উপরিভাগের পানির এই অস্বাভাবিক উষ্ণায়ন প্রথম লক্ষ্য করেছিলেন বলে এর এমন নামকরণ করেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

প্রশান্ত মহাসাগরের বায়ুমণ্ডলীয় ও সামুদ্রিক জলবায়ু প্রধানত তিনটি চক্রাকার অবস্থার মধ্য দিয়ে পরিবর্তিত হয়। প্রথমটি হলো এল নিনো, যখন মহাসাগরের মধ্য ও পূর্ব অঞ্চলের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অন্তত ০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি বৃদ্ধি পায় এবং এর প্রভাবে পূর্ব থেকে পশ্চিমে প্রবাহিত স্বাভাবিক বাণিজ্য বায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে।

দ্বিতীয়টি লা নিনা, যা এল নিনোর ঠিক বিপরীত রূপ এবং এ সময় সমুদ্রের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ঠান্ডা হয়ে যায়। আর তৃতীয়টি হলো নিরপেক্ষ অবস্থা, যেখানে সমুদ্রের তাপমাত্রা এবং বায়ুমণ্ডলীয় চাপ একদম স্বাভাবিক মাত্রায় থাকে।

স্বাভাবিক অবস্থায় শক্তিশালী পুবালী বাণিজ্য বায়ু প্রশান্ত মহাসাগরের উত্তপ্ত পানিকে পশ্চিম দিকে ঠেলে দেয়। ফলে গভীর সমুদ্রের ঠান্ডা ও পুষ্টিসমৃদ্ধ পানি দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলে উঠে আসে, যাকে ‘আপওয়েলিং’ বলা হয়। তবে এল নিনো শুরু হলে এই বাণিজ্য বায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে উষ্ণ পানি আবার পূর্ব দিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং বায়ুমণ্ডলে প্রচুর তাপ মুক্ত করে। এই তাপীয় পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বৃষ্টির স্বাভাবিক ছন্দ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে দক্ষিণ এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার মতো অঞ্চলে মারাত্মক খরা দেখা দেয়, অন্যদিকে দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলে সৃষ্টি হয় অতিবৃষ্টি ও ভয়াবহ বন্যা।

আরও শক্তিশালী হচ্ছে এল নিনো, তাপপ্রবাহ নিয়ে জাতিসংঘের সতর্কবার্তাEl  nino

তাহলে ‘সুপার এল নিনো’ কী?

‘সুপার এল নিনো’ কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বৈজ্ঞানিক নাম নয়। আবহাওয়াবিদেরা একে ‘অত্যন্ত শক্তিশালী এল নিনো’ হিসেবে চিহ্নিত করেন। যখন প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি বৃদ্ধি পায়, তখন সংবাদমাধ্যম ও নীতিনির্ধারকেরা একে ‘সুপার এল নিনো’ বলে থাকেন।

যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তরের (মেট অফিস) সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মহাসাগরের কিছু অংশে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি বৃদ্ধি পেতে পারে, যা কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম তীব্র সামুদ্রিক উষ্ণায়ন। এর ফলে বিশ্বব্যাপী সাময়িকভাবে গড় তাপমাত্রা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

এল নিনো একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া হলেও মানবসৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে এর বিধ্বংসী ক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে গেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট স্বাভাবিক উত্তাপের সঙ্গে এল নিনোর তাপ যুক্ত হয়ে রেকর্ড দাবানল, রেকর্ড তাপদাহ এবং অনাবৃষ্টির সৃষ্টি করছে।

এল নিনোর প্রভাবে ইউরোপ জুড়ে চলছে তাপদাহ । ছবি: রয়টার্স
এল নিনোর প্রভাবে ইউরোপ জুড়ে চলছে তাপদাহ । ছবি: রয়টার্স

বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার বাস্তব চিত্র

এল নিনো ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের মেলবন্ধন কীভাবে আমাদের জীবন ও প্রকৃতিকে বিপর্যস্ত করছে, তা সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ইউরোপজুড়ে নেমে আসা চরম তাপদাহে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং দাবানলের গ্রাসে ভস্মীভূত হয়েছে বিস্তীর্ণ বনভূমি। আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা নেটওয়ার্ক ‘ক্লাইমেটমিটার’-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছে, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এভাবে বাড়তে থাকলে আগামী দিনে বিশ্বজুড়ে দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমির পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে যাবে।

একই সঙ্গে চরম আবহাওয়ার ধাক্কা লেগেছে মহাদেশটির নদীভিত্তিক অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাতেও। ইউরোপীয় খরা পর্যবেক্ষণ সংস্থার (ইডিও) গবেষণা অনুযায়ী, মহাদেশের অন্যতম দুই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ— দানিউব ও রাইন নদীর পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নেমে গেছে। এতে একদিকে যেমন রিভার ক্রুজ ও পণ্যবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে নদীর পানি দিয়ে পারমাণবিক চুল্লি ঠান্ডা রাখার সুবিধা কমে যাওয়ায় বুলগেরিয়ার মতো দেশ তাদের পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে।

পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বৈশ্বিক ভূমির অবক্ষয়। জাতিসংঘের মরুকরণ প্রতিরোধ সনদের (ইউএনসিসিডি) তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘস্থায়ী খরা ও বিধ্বংসী দাবানলের আগুনে বিশ্বজুড়ে বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি চিরতরে উর্বরতা হারাচ্ছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যে পরিমাণ জমি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, বাস্তবতা তার চেয়ে অনেক পিছিয়ে রয়েছে।

এল নিনো নয়, আসছে ‘সুপার’ এল নিনোEl nino

উত্তপ্ত সমুদ্র যেভাবে রান্নাঘরের খরচে আঘাত হানে

দূর মহাসাগরের উত্তাপ আপাতদৃষ্টিতে দূরবর্তী ভৌগোলিক ঘটনা মনে হলেও, তা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের রান্নাঘরের বাজেটে সরাসরি আঘাত হানে। সমুদ্র অতিরিক্ত উত্তপ্ত হলে আবহাওয়ার স্বাভাবিক ছন্দ বিগড়ে যায়, যার প্রথম বলি হয় কৃষি খাত। যুক্তরাজ্যের ‘এনার্জি অ্যান্ড ক্লাইমেট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট’ (ইসিআইউ)-র গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী খরা ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে গম, ধান, ভুট্টা ও তৈলবীজের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় শস্যের উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। যেমন, যুক্তরাজ্যে তীব্র শুষ্ক আবহাওয়ার ধাক্কায় দানাশস্য ও তৈলবীজের উৎপাদন প্রায় ২৫ লাখ মেট্রিক টন কমে যাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা স্থানীয় কৃষকদের কোটি কোটি পাউন্ড রাজস্ব ক্ষতির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

এল নিনোর কারণে বাড়ছে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা। ছবি: রয়টার্স
এল নিনোর কারণে বাড়ছে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা। ছবি: রয়টার্স

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)-এর গবেষণা অনুযায়ী, কৃষি ফসলের পাশাপাশি উত্তপ্ত আবহাওয়ার প্রভাব পড়ে পশুসম্পদ ও মৎস্য খাতেও। তীব্র অনাবৃষ্টির কারণে চারণভূমি শুকিয়ে পশুখাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দেয়, যা দুধ ও মাংস উৎপাদন কমিয়ে দেয়। অন্যদিকে সমুদ্রের পানির অস্বাভাবিক উষ্ণায়ন সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস করে মাছের প্রজনন ব্যাহত করে। একই সঙ্গে দেখা দেয় সরবরাহ শৃঙ্খলে তীব্র জট।

যুক্তরাজ্যের দৈনিক দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাপদাহে রাইন বা দানিউবের মতো গুরুত্বপূর্ণ নদীর পানির স্তর কমে বাণিজ্যিক জলপথ বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা সামরিক সংঘাতের কারণে সমুদ্রপথ অবরুদ্ধ হওয়া—প্রতিটি ঘটনা খাদ্যসামগ্রী পরিবহনে অতিরিক্ত সময় ও পরিবহন খরচ যুক্ত করে।

একদিকে এল নিনোর কারণে বিশ্বজুড়ে কৃষি উৎপাদন হ্রাস, অন্যদিকে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে রাশিয়া ও ইউক্রেনের সংঘাতের ফলে কৃষি অবকাঠামো এবং শস্যবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা— এই দুইয়ের জোড়া ধাক্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যের দাম হু হু করে বাড়ছে। এর চূড়ান্ত পরিণতিতে স্থানীয় খুচরা বাজারে তৈরি হচ্ছে তীব্র মূল্যস্ফীতি, যা সাধারণ পরিবারের নিত্যদিনের খাদ্যের খরচ বাড়িয়ে জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলছে।

সুদানে আরও গভীর খাদ্য সংকটের আশঙ্কা ডব্লিউএফপিরBurnt shops lies down closed in downtown in Khartoum, Sudan–REUTERS

কীভাবে এটি বৈশ্বিক খাদ্যসংকটে রূপ নেয়?

ডব্লিউএফপির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এল নিনোর ক্ষয়ক্ষতি এবং খাদ্যসংকটের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধান (Lag Effect) থাকে। ফসলহানি বা উৎপাদন কম হওয়ার পরপরই সংকট পুরোপুরি টের পাওয়া যায় না। বাজারে এর প্রকৃত প্রভাব পৌঁছাতে প্রায় ৯ থেকে ১২ মাস সময় লাগে।

প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে মধ্য আমেরিকা, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চল। এসব অঞ্চলে নতুন করে কোটি কোটি মানুষ চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়তে পারেন। ২০২৫ সালে বাম্পার ফলনের ওপর ভর করে বিশ্ব খাদ্য বাজার কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও, নতুন চরম আবহাওয়া ও সংঘাতের কারণে শস্যের ক্ষয়ক্ষতি বিশ্বজুড়ে নতুন করে মূল্যস্ফীতি উসকে দিচ্ছে।

সরকার ও কৃষকদের প্রস্তুতি কী হতে পারে?

আগাম সতর্কবার্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার: বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) এবং জাতিসংঘের ‘আর্লি ওয়ার্নিংস ফর অল’-র সুপারিশ অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকদের কাছে দ্রুত নির্ভুল আবহাওয়া পূর্বাভাস পৌঁছানো জরুরি। সময়মতো তথ্য পেলে কৃষকেরা খরার আগেই কম পানি লাগে কিংবা দ্রুত পেকে যায় এমন বিকল্প ফসল রোপণের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, যা ক্ষয়ক্ষতি বহুগুণ কমিয়ে আনে।

সহনশীল শস্য ও টেকসই সেচ ব্যবস্থাপনা: আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইআরআরআই) এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) মতে, খরা ও লবণাক্ততা সহনশীল আধুনিক ধানের জাত সম্প্রসারণ এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে ড্রিপ ইরিগেশন বা বৃষ্টির পানি ধরে রাখার সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পানির অপচয় রোধ করা প্রয়োজন।

পূর্বপ্রস্তুতিমূলক অর্থায়ন ও খাদ্য মজুত: জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এবং বিশ্বব্যাংকের জলবায়ু নীতি কাঠামোয় বলা হয়েছে, দুর্যোগ আঘাত হানার পর ত্রাণের পেছনে অর্থ ব্যয় করার চেয়ে আগে থেকে ‘পূর্বপ্রস্তুতিমূলক অর্থায়ন’ ছাড় করা অনেক বেশি কার্যকর। এতে সংকট শুরুর আগেই সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদার করা এবং জাতীয় শস্যাগারে পর্যাপ্ত জরুরি খাদ্য মজুত রাখা সম্ভব হয়।

আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও সাপ্লাই চেইন সচল রাখা: আন্তর্জাতিক খাদ্য নীতি গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইএফপিআরআই) এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বৈশ্বিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপট কিংবা প্রাকৃতিক বাধার মুখে কৃষ্ণসাগরীয় বাণিজ্যপথের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক রুটগুলো উন্মুক্ত রাখতে সক্রিয় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন, যাতে শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশগুলো থেকে শস্য ও সারের বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যাহত না হয়।

সাম্প্রতিক বিজ্ঞান ও বৈশ্বিক প্রমাণ আমাদের সতর্ক করছে যে, এল নিনোর তীব্রতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের যৌথ প্রভাব কেবল বৈজ্ঞানিক আলোচনার বিষয় নয়—এটি কোটি কোটি মানুষের খাদ্যের সংস্থানে সরাসরি হুমকি। যদিও প্রতিটি চরম আবহাওয়া ঘটনা এককভাবে এল নিনোর কারণে ঘটে না, তবে এটি জলবায়ু ঝুঁকিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। সঠিক পূর্বাভাস, খাদ্য মজুত এবং সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে না পারলে এই জলবায়ু অস্থিরতা আগামী দিনগুলোতে বৈশ্বিক খাদ্যসংকটকে আরও তীব্র করে তুলবে।

বিষয়: তাপমাত্রাকৃষিপণ্যকৃষি খাতগবাদিপশুপশুআবহাওয়াখাদ্যসংকটজাতিসংঘডব্লিউএফপিপ্রশান্ত মহাসাগরকৃষিএল নিনো
সর্বশেষ
  • ১

    রাজধানীর ধানমন্ডিতে ভবনে আগুন

  • ২

    হংকংয়ের বিনিয়োগ আকর্ষণে বিশেষ সুবিধার প্রস্তাব বাংলাদেশের

  • ৩

    মেঘের শারীরিক অবস্থা এখনো ‘অস্থিতিশীল’, মেডিকেল বোর্ড গঠন

  • ৪

    সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক: তিন দিনে ২৬ হাজার গ্রাহক তুললেন কত টাকা

  • ৫

    ফিলিপাইনে যাত্রীবাহী ফেরিতে আগুনে নিহত ৫, নিখোঁজ ৮০ জনের বেশি

সম্পর্কিত
  • বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    ১৭ বছরের বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-গ্রেপ্তার আর রাজনৈতিক চাপ সামলে এখন সরকারে বিএনপি। গত ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর দলের শীর্ষ নেতাদের বড় একটি অংশ এখন সরকারের দায়িত্বে ব্যস্ত। মন্ত্রিসভা, সংসদ, প্রশাসন, অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্

  • কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    চীনের সরকার আসলে কী কী বন্ধ করে দেয় – শুধুই কি বিদেশি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়, নাকি দেশের ভেতরে থাকা সমালোচকদের ওপরও এই নিষেধাজ্ঞা আছে, এমন চিন্তাটা আসা খুবই স্বাভাবিক। তবে এখানে সরকারের লক্ষ্য এর চেয়েও বড়।

  • ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধের ছয় মাস পেরিয়েছে। এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে তেলের বাজার তীব্রভাবে প্রভাবিত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে আমেরিকানদের ওপর। গ্যাসের দাম কয়েক সপ্তাহ ধরে ৪ ডলারের বেশি। বন্ধকী ঋণের সুদের হারও বেড়ে প্রায় ৭ শতাংশের দিকে যাচ্ছে। আবার ডিজেলের রেকর্ড

  • বিশ্বজুড়ে ফিরেছে মূল্যস্ফীতি?

    বিশ্বজুড়ে ফিরেছে মূল্যস্ফীতি?

    ‘সফট ল্যান্ডিং’-এর কথা মনে আছে? আগে বলে নেওয়া দরকার সফট ল্যান্ডিং কী? ‘সফট ল্যান্ডিং’ বলতে বোঝায়, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি নিয়ন্ত্রিত ও ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা, যাতে মূল্যস্ফীতি কমে আসে, কিন্তু অর্থনীতিতে মন্দা দেখা না দেয় বা বিপুলসংখ্যক মানুষ চাকরি না হারান।