Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশ্লেষণ

চীনের বিরল ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ও পশ্চিমা বিশ্বের চরম ভণ্ডামি

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২৬, ১৯: ৩৮
চীনের বিরল ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ও পশ্চিমা বিশ্বের চরম ভণ্ডামি

কীভাবে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে পশ্চিমা দেশগুলো নিজেদের সামরিক কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেয় এবং একই ধরনের কর্মকাণ্ড অন্য কোনো দেশ, বিশেষ করে চীন করলে তার তীব্র নিন্দা জানায় তার প্রমাণ মিলেছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

সম্প্রতি দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় চীনের একটি পারমাণবিক চালিত সাবমেরিন থেকে পরীক্ষামূলকভাবে একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এই পরীক্ষার পূর্বে চীন আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে ওই অঞ্চলের প্রধান প্রধান দেশগুলোকে অগ্রিম সতর্কবার্তা বা নোটিশ দিয়েছিল। এমনকি উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের কাছাকাছি অবস্থিত জাপান এবং পৃথিবীর অন্য প্রান্তে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রকেও এই পরীক্ষার বিষয়ে আগে থেকেই অবহিত করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা রাজনৈতিক মহল ও বিশ্লেষকদের মধ্যে এক ধরনের চরম হুলুস্থুল সৃষ্টি হয়।

চীনের এই ক্ষেপণাস্ত্রটিতে কোনো আসল পারমাণবিক অস্ত্র ছিল না, বরং এটি ছিল একটি নকল বা ডামি ওয়ারহেড সংবলিত ক্ষেপণাস্ত্র। পশ্চিমা পণ্ডিত ও রাজনীতিবিদরা যেভাবে এই ঘটনাটির নিন্দা জানাতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন, তা তাদের নিজেদের অতীত ও বর্তমান কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করলে অত্যন্ত হাস্যকর এবং এক প্রকারের কৃত্রিম নাট্যমঞ্চের মতো মনে হয়।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট পত্রিকায় গবেষক ও বিশ্লেষক অ্যালেক্স লোইন তার এক নিবন্ধে অত্যন্ত জোরালোভাবে বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

চীনের এই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ‘হাউস সিলেক্ট কমিটি অন চায়না’ এটিকে মার্কিন মিত্র এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সমমনা অংশীদারদের প্রতি একটি ‘আগ্রাসী’ আচরণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। কমিটি এক বিবৃতিতে দাবি করেছে যে, চীনের এই দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কোনো সাধারণ বা রুটিন মহড়া ছিল না। তারা আরও দাবি করেন যে, চীন যেহেতু ২০৩০ সালের মধ্যে ১ হাজারটি পারমাণবিক ওয়ারহেড অর্জনের লক্ষ্যে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে, তাই যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই এমন একটি প্রতিরক্ষা শিল্প ভিত্তি তৈরি করতে হবে যা চীনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে এবং তাদের মিত্র ও অংশীদারদের আত্মরক্ষায় সহায়তা করতে পারে।

তবে অ্যালেক্স লোইন তার লেখায় প্রশ্ন তুলেছেন যে, এই কমিটি ঠিক কীভাবে এই ধরনের সংখ্যার হিসাব এবং সময়সীমা নির্ধারণ করল তা মোটেও স্পষ্ট নয়। কারণ বর্তমান বাস্তবতার দিকে তাকালে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বর্তমানে ৫ হাজারেরও বেশি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে, যার মধ্যে ১৭৭০টি সম্পূর্ণ সক্রিয়ভাবে মোতায়েন করা আছে। এর বিপরীতে চীনের কাছে রয়েছে মাত্র ৬২০টির মতো ওয়ারহেড, যার মধ্যে মাত্র ৩৪টি সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। এর চেয়েও বড় বিষয় হলো, বেইজিং স্বেচ্ছায় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে তারা কখনো আগে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে না (নো ফার্স্ট ইউজ নীতি)। অথচ যুক্তরাষ্ট্র এই ধরনের কোনো নীতি গ্রহণ করতে বরাবরই অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে।

চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বায়োটেক যুদ্ধে ক্ষতি হচ্ছে কার?china biotech

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট আবার অন্য এক অজুহাতে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছে যে, ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল, যা তাদের ভাষায় ‘স্ট্যান্ডার্ড প্র্যাকটিস’ বা আদর্শ নিয়মের পরিপন্থী। তবে এই তথাকথিত আদর্শ নিয়মটি আসলে কী, তা তারা সুনির্দিষ্ট করে উল্লেখ করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের নিজেদের ট্র্যাক রেকর্ডের দিকে তাকালে দেখা যায়, তারা অত্যন্ত ঘন ঘন এই ধরনের পরীক্ষা চালায়। উদাহরণস্বরূপ, গত মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্র ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যানডেনবার্গ স্পেস ফোর্স বেস থেকে একটি ‘মিনিটম্যান’ ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল (আইসিবিএম) উৎক্ষেপণ করেছিল, যা মাত্র ২৪ মিনিটে ৬৭০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি গিয়ে পতিত হয়। ঠিক একইভাবে গত নভেম্বর মাসেও তারা আরেকটি আইসিবিএম পরীক্ষা চালায় যা একই এলাকায় গিয়ে পড়ে। এই মিনিটম্যান ৩ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো একাধিক পারমাণবিক ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম। চীনের এই একক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়টি যখন অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মূলধারার সংবাদমাধ্যমে প্রধান শিরোনাম হিসেবে প্রচার পাচ্ছিল, তখন যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘন ঘন আইসিবিএম পরীক্ষার খবরগুলো এই সমস্ত সংবাদমাধ্যমে প্রায় সম্পূর্ণ চেপে যাওয়া হয়েছিল। উল্টো চীনের এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সময়টাতে ফিজি ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিকে এই উত্তেজনার কারণ হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হয়।

অস্ট্রেলিয়ার লোয়ি ইনস্টিটিউটের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কর্মসূচির একজন গবেষক ডেভিড ভ্যালেন্স দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকায় প্রকাশিত একটি নিবন্ধে চীনের এই পরীক্ষার সময়কাল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি লিখেছেন, যেদিন ফিজি যুক্তরাষ্ট্র, নিউজিল্যান্ড ও পাপুয়া নিউগিনির পর অস্ট্রেলিয়ার চতুর্থ আনুষ্ঠানিক চুক্তিভিত্তিক মিত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল, ঠিক সেই দিনই চীনের এই পরীক্ষাটি অত্যন্ত কৌতুহলোদ্দীপক এবং এটি বড়জোর একটি উসকানি অথবা চরম জবরদস্তির শামিল। তিনি আরও দাবি করেন যে, এই ধরনের পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে সময় লাগে এবং এটি সম্ভব যে ওশান অব পিস অ্যালায়েন্স চুক্তি স্বাক্ষরের কারণে চীন তাদের পরীক্ষার সময়সূচি কিছুটা এগিয়ে এনেছিল।

ভ্যালেন্স প্রশ্ন তোলেন যে, হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে পারমাণবিক ক্ষমতাসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানতে পারে তা প্রদর্শন করার মাধ্যমে বেইজিং কীভাবে ‘শান্তিপূর্ণ উন্নয়নের পথে’ চলার অঙ্গীকারের প্রমাণ দেয়? তবে অ্যালেক্স লোইন এই যুক্তি খণ্ডন করে বলেছেন যে, ভ্যালেন্সের এই প্রশ্নটি অত্যন্ত বৈধ হলেও, একই প্রশ্ন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ঘন ঘন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ক্ষেত্রে কেন তুলছেন না, সেটাই বড় প্রশ্ন।

একই সুর মেলাতে দেখা গেছে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়াং-কে, যিনি চীনের এই পরীক্ষাকে ‘আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিনষ্টকারী’ বলে অভিহিত করেছেন। এবং দাবি করেছেন যে, চীনের এই দ্রুত সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজও এই বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন যে, চীনের এই আইসিবিএম যদি যুদ্ধাস্ত্রে রূপান্তরিত করা হয় তবে তা ‘প্রচুর ক্ষতি’ করতে সক্ষম। এই বক্তব্যের জবাবে লেখক কটাক্ষ করে বলেছেন যে, টনি (অ্যালবানিজ) সাহেব ঠিক এই কারণেই তো চীন আসল পারমাণবিক ওয়ারহেডের পরিবর্তে একটি নকল বা ডামি ওয়ারহেড ব্যবহার করেছে যাতে কোনো ক্ষতি না হয়।

নিউজিল্যান্ড, জাপান ও তাইওয়ানের রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষকেরাও একইভাবে এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। কিন্তু তারা সবাই সুবিধাজনকভাবে এই তথ্যটি এড়িয়ে গেছেন যে, পৃথিবীর অপর প্রান্তে থাকা দেশ যুক্তরাষ্ট্র ২০২১ সাল থেকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অন্তত ১৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। যেখানে চীনের ক্ষেত্রে ১৯৮০ সালের পর থেকে এটি ছিল মাত্র দ্বিতীয় ঘটনা। এর আগে সর্বশেষ সেপ্টেম্বর ২০২৪-এ চীন দেশের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত হাইনান দ্বীপ থেকে একটি ভূমিভিত্তিক আইসিবিএম পরীক্ষা চালিয়েছিল। পশ্চিমা মিত্রদের এই ধরনের অন্ধ ও একপেশে প্রতিক্রিয়া মূলত তাদের চিরচেনা দ্বিচারিতা এবং ভণ্ডামিরই বহিঃপ্রকাশ।

এই চরম ভণ্ডামি কেবল ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সামগ্রিক আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে দৃশ্যমান। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি সম্মিলিতভাবে এই বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছিল যে, তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলে টহলরত চীনা কোস্টগার্ডের জাহাজগুলো আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নৌচলাচলের স্বাধীনতার জন্য হুমকি স্বরূপ। কিন্তু তারা এই সত্যটি উল্লেখ করেনি যে, জাপান ও ফিলিপাইন মূলত সেই বিতর্কিত জলসীমা নির্ধারণের চেষ্টা করছে যা চীন নিজের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন (ইইজেড) হিসেবে দাবি করে।

যেহেতু এই পশ্চিমা দেশগুলোর কেউই তাইওয়ানকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয় না, তাই এই দ্বীপের আঞ্চলিক জলসীমা রক্ষা করার কোনো আইনি অধিকার বা দাবি তাদের থাকতে পারে না। তা সত্ত্বেও পশ্চিমা মিত্ররা প্রায় প্রতি মাসে অন্তত একবার তাইওয়ান প্রণালির মধ্য দিয়ে তাদের যুদ্ধজাহাজ পরিচালনা করে। মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ারগুলো এই তথাকথিত ফ্রিডম অব নেভিগেশন অপারেশনের সিংহভাগ পরিচালনা করে এবং তাদের সাথে প্রায়শই কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জাপান, নিউজিল্যান্ড ও জার্মানির মতো মিত্র দেশগুলো যোগ দেয়। যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে প্রতি কয়েক মাস পর পর এই ট্রানজিট সম্পন্ন করে এবং তাদের মিত্রদের সাথে যৌথভাবে বছরে বহুবার এই জলপথ ব্যবহার করে, যা অনেক সময় চীনের সামরিক মহড়ার ঠিক কয়েকদিন পরেই ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়।

অথচ গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে যখন চীনের মাত্র তিনটি যুদ্ধজাহাজ আন্তর্জাতিক জলসীমা এবং তাসমান সাগরে অস্ট্রেলিয়ার এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের (ইইজেড) মধ্য দিয়ে যাত্রা করেছিল, তখন অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে। অর্থাৎ, পশ্চিমা মিত্ররা যখন অত্যন্ত ঘন ঘন এই ধরনের কাজ করে, তখন সেটি হয় নৌচলাচলের স্বাধীনতার চর্চা; কিন্তু চীন যখন অত্যন্ত বিরলভাবে বা আন্তর্জাতিক আইন মেনে কোনো পদক্ষেপ নেয়, তখন তা হয়ে যায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। এই দ্বিমুখী নীতি কেবল জলসীমায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও দৃশ্যমান।

চীনা করপোরেশনগুলো যখনই বিশ্বের কোনো বিদেশি বন্দর বা কার্গো টার্মিনালে বিনিয়োগ করে, তখনই পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো সেটিকে চীনা সামরিক বাহিনীর সম্ভাব্য দ্বৈত-ব্যবহার বা নৌঘাঁটি হিসেবে প্রচার করতে শুরু করে। অথচ বাস্তবে চীনের পুরো বিশ্বে মাত্র একটিই বিদেশি সামরিক বা নৌঘাঁটি রয়েছে, যা আফ্রিকার জিবুতিতে অবস্থিত। জিবুতির এই ঘাঁটিটির পেছনেও একটি অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট রয়েছে।

চীন-রাশিয়া সম্পর্কে বিশ্বস্ততার নতুন সমীকরণxi-putin

জিবুতিতে বর্তমানে পাঁচটি প্রধান বিদেশি দেশের–চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ইতালি ও জাপানের সামরিক স্থাপনা রয়েছে যা তাদের জাতীয় ব্যবসার একটি বড় অংশ এবং জিবুতির অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অন্তত ৭০টি প্রাথমিক বা প্রধান সামরিক ঘাঁটি পরিচালনা করছে, যার মধ্যে শত শত সুযোগ-সুবিধা, সামরিক স্থাপনা এবং অনেক অঘোষিত বা গোপন সাইট রয়েছে। এই বিশাল সামরিক সাম্রাজ্য থাকার পরেও পশ্চিমা শক্তিগুলো চীনের একটি মাত্র ঘাঁটি বা একটি বিরল ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে যেভাবে বিশ্বজুড়ে ভীতি সঞ্চার করার চেষ্টা করছে, তা মূলত তাদের নিজেদের আধিপত্য টিকিয়ে রাখার একটি ভূরাজনৈতিক কৌশল।

পরিশেষে, দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের কোনো দ্বীপ রাষ্ট্র বা দেশের ওপর চীনের আগে থেকে আক্রমণ করার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ বা ইচ্ছা নেই, যদি না তারা নিজেরা প্রথমে চীনকে আক্রমণ করে। তাই পশ্চিমা দুনিয়ার এই হাহাকার ও উদ্বেগ কেবলই এক ধরনের কৃত্রিম রাজনৈতিক ভণ্ডামি ছাড়া আর কিছুই নয়।

বিষয়: যুদ্ধজাহাজমিসাইলক্ষেপণাস্ত্রযুক্তরাষ্ট্রচীন
সর্বশেষ
  • ১

    সিএমএসএমই খাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনআরবি ব্যাংকের চুক্তি

  • ২

    উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে সিকৃবিতে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত

  • ৩

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট ২৯ অক্টোবর

  • ৪

    হত্যা মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হলো কলিমুল্লাহকে

  • ৫

    মনপুরায় মেঘনার পাড়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় যুবক উদ্ধার

সম্পর্কিত
  • লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

    লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

    চলতি মাসে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যে লং মার্চ করেছে তাকে সরকারের জন্য ‘ওয়েক আপ কল’ বলে উল্লেখ করছেন জোটটির নেতারা। প্রায় ১ হাজার গাড়ি নিয়ে এই লং মার্চ করে জোটের পক্ষ থেকে সরকারকে ৬ দফা দাবি দেওয়া হয়েছে। জোট নেতারা ওই ৬ দফায় বিদ্যুৎ, গ্যাস সংকট

  • বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    ১৭ বছরের বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-গ্রেপ্তার আর রাজনৈতিক চাপ সামলে এখন সরকারে বিএনপি। গত ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর দলের শীর্ষ নেতাদের বড় একটি অংশ এখন সরকারের দায়িত্বে ব্যস্ত। মন্ত্রিসভা, সংসদ, প্রশাসন, অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্

  • কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    চীনের সরকার আসলে কী কী বন্ধ করে দেয় – শুধুই কি বিদেশি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়, নাকি দেশের ভেতরে থাকা সমালোচকদের ওপরও এই নিষেধাজ্ঞা আছে, এমন চিন্তাটা আসা খুবই স্বাভাবিক। তবে এখানে সরকারের লক্ষ্য এর চেয়েও বড়।

  • ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধের ছয় মাস পেরিয়েছে। এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে তেলের বাজার তীব্রভাবে প্রভাবিত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে আমেরিকানদের ওপর। গ্যাসের দাম কয়েক সপ্তাহ ধরে ৪ ডলারের বেশি। বন্ধকী ঋণের সুদের হারও বেড়ে প্রায় ৭ শতাংশের দিকে যাচ্ছে। আবার ডিজেলের রেকর্ড