কুমিল্লা-৬: অনেকটাই নির্ভার বিএনপির মনিরুল

গাজীউল হক সোহাগ
গাজীউল হক সোহাগ
কুমিল্লা-৬: অনেকটাই নির্ভার বিএনপির মনিরুল
প্রচারে বিএনপির প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরী। ছবি: বাসস

কুমিল্লা-৬ (আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন, কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকা) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরীর কোনো শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। ৪৭ বছর ধরে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি এ পর্যন্ত সাতবার প্রার্থী হয়েছেন। ছয়টি নির্বাচনের মধ্যে তিনটিতে জয়ী হয়েছেন। এবার জিতলে চারবার জয়ী হবেন।

এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মহানগর আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ প্রথমবার কোনো নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। মনিরুল হক চৌধুরীর তুলনায় অনেকটা ‘অনুজ্জ্বল’ জামায়াতের এই প্রার্থী। এ অবস্থায় মনিরুল হক চৌধুরীর সহজে জিতে যেতে পারেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে আরও পাঁচজন প্রার্থী রয়েছেন। তারা হলেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ (হাতপাখা), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির ওবায়দুল কবির মোহন (তারা), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের কামরুন্নাহার সাথী (মই), গণঅধিকার পরিষদের মোবারক হোসেন (ট্রাক),বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. ইয়াছিন (পাঞ্জা), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মো. আমির হোসেন ফরায়েজী (ছড়ি) ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. মাছুম বিল্লাহ মিয়াজী (মোমবাতি)। এই আসনে ভোটার সংখ্যা ছয় লাখ ৪৪ হাজার ৭৭৭ জন। এর মধ্যে পোস্টাল ব্যালটে নিবন্ধন করেছেন ১১ হাজার ৯১৬ জন।

মনিরুল হক চৌধুরী বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন। ষাট ও সত্তরের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৬৯ এর আন্দোলনেও তিনি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন।

মনিরুল হক একবার আওয়ামী লীগের একাংশ থেকে, তিনবার জাতীয় পার্টি থেকে, এবারসহ বিএনপি থেকে তিনবার অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে জাতীয় পার্টি থেকে দুইবার ও বিএনপি থেকে একবার সংসদ সদস্য হয়েছেন। তিনি এর আগে দক্ষিণ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, নাঙ্গলকোট, লালমাই, সদর দক্ষিণ, আদর্শ সদরের কিছু অংশ ও লাকসামের কিছু অংশ নিয়েও নির্বাচন করেন। সর্বশেষ এবার সদরে নির্বাচন করছেন।

এই নির্বাচনে মনিরুল হক চৌধুরকে নির্ভার বলে মনে করছেন দলীয় নেতা-কর্মীরা। তারা বলছেন, এবার বিএনপির সব নেতা-কর্মী ঐক্যবদ্ধ। দলের মধ্যে বর্তমানে দৃশ্যমান কোনো দ্বন্দ্ব নেই। সবাই এক মঞ্চে বক্তব্য রাখছেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ ভোটারদের কাছেও তার গ্রহণযোগ্যতা আছে।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলেন, “আমি বর্তমানে বিএনপির কোনো পদে নেই। তবে মনিরুল হক চৌধুরী আমাদের মুরুব্বি। তিনি অনেক বড় ভোটের ব্যবধানে জিতবেন। আমরা আদি বিএনপির লোক। দল বহিষ্কার করেছে তাও দলে আছি। নিলেও আছি।”

বিএনপির প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, “কুমিল্লার উন্নয়নের জন্য মানুষ আমাকে ভোট দেবে। কুমিল্লা শহর ও গ্রামকে বাঁচাতে ভোটাররা ধানের শীষে ভোট দেবেন। যেখানে যাই বিপুল সাড়া পাচ্ছি।”

মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, “আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ১৯৯৬ সালে নির্বাচনী এলাকায় এসে টাকা ছড়ান। এতে নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়। এখন তারা রাজনীতি থেকে নির্বাসিত।”

এদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কাজী দ্বীন মোহাম্মদের পক্ষে দলীয় নেতাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গণসংযোগ করছেন। তিনিও বিভিন্ন স্থানে প্রচারণা করছেন। তার ব্যানার ফেস্টুনও নির্বাচনী এলাকায় আছে। নিজের ব্যাপারে তিনি বলেন, “প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। ভোটাররা সাড়া দিচ্ছেন। বাড়ি বাড়ি কর্মীরা কাজ করছেন।”

অন্য প্রার্থীদের মধ্যে ওবায়দুল কবির মোহন, মো, হারুনুর রশিদ ও মো. ইয়াছিনের কিছু ব্যানার দেখা গেছে।

গাজীউল হক সোহাগ: সম্পাদক, আমার শহর (কুমিল্লা)

সম্পর্কিত