Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> ভাবনা

নিজের স্বার্থেই বাংলাদেশের তামাকের ওপর কর বাড়ানো প্রয়োজন

ডা. আহমেদ জামশেদ মোহাম্মদ

ডা. আহমেদ জামশেদ মোহাম্মদ

প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৬, ১১: ২৮
নিজের স্বার্থেই বাংলাদেশের তামাকের ওপর কর বাড়ানো প্রয়োজন

বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা দেখা দিচ্ছে। জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি এবং সরবরাহের ঘাটতি উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং অর্থনীতিকে চাপে ফেলছে। বাংলাদেশের জন্য এই পরিস্থিতি এমন এক সংকটময় মুহূর্তে এসেছে যখন দেশে বাজেট মৌসুম চলছে। স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন খাতের বড় বড় চ্যালেঞ্জগুলো দেশের উৎপাদনশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি মানবসম্পদ উন্নয়নকে ক্রমাগত বাধাগ্রস্ত করছে। বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি। একই সময়ে সরকারি ঋণ বাড়ছে এবং আগামী বছরগুলোতে তা জিডিপির ৪৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এটি স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন খাতে বিনিয়োগের জরুরি প্রয়োজনের মুহূর্তে সরকারের আর্থিক সক্ষমতাকে সংকুচিত করে তুলছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

এই উভয় সংকট মোকাবিলার একটি সুস্পষ্ট সুযোগ হতে পারে তামাকের ওপর কর আরও জোরদার করা। এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) কর্তৃক সুপারিশকৃত একটি সর্বোত্তম নীতি। এই নীতি একদিকে জনস্বাস্থ্য রক্ষা করে এবং অন্যদিকে ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধিতে বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি রাজস্ব শক্তিশালী করে।

বাংলাদেশে প্রতি বছর তামাক ব্যবহারের কারণে প্রায় ২লাখ মানুষ মারা যায়, যা এক দশক আগের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি। এটি হৃদরোগ, ক্যানসার এবং দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগের একটি প্রধান কারণ। পাশাপাশি এটি যক্ষ্মার অন্যতম বড় ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান, যা যক্ষ্মায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে জটিলতা—উভয়ই বাড়িয়ে দেয়।

তামাক নিয়ন্ত্রণে কঠোর সরকার, ই-সিগারেটে ‘নীরব’ কেন?cigarette

এর অর্থনৈতিক বোঝাও সমানভাবে মারাত্মক। শুধুমাত্র ২০২৪ সালেই চিকিৎসা ব্যয়, উৎপাদনশীলতা হ্রাস, অকালমৃত্যু এবং পরিবেশগত ক্ষতির কারণে তামাক ব্যবহারের ফলে আনুমানিক ৮৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতির পরিমাণ তামাক ব্যবহার থেকে অর্জিত কর রাজস্বের দ্বিগুণেরও বেশি।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

এত সব ক্ষতি সত্ত্বেও তামাকের ব্যবহার ব্যাপকভাবে রয়ে গেছে। বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে প্রতি তিনজনে একজনেরও বেশি মানুষ তামাক ব্যবহার করেন। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে অল্প বয়সেই তামাকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ার বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বর্তমানে বাংলাদেশে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের প্রায় ১০ শতাংশই ইতিমধ্যে তামাক ব্যবহার করছে।

বাংলাদেশে তরুণদের মধ্যে ধূমপানের মাত্রা দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বেড়েই চলেছে। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি
বাংলাদেশে তরুণদের মধ্যে ধূমপানের মাত্রা দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বেড়েই চলেছে। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো তামাক পণ্যের সহজলভ্যতা ও সাশ্রয়ী মূল্য। বিশ্ববাজার এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে সিগারেটের দাম বেশ কম। বাজার মূলত নিম্ন ও মাঝারি মূল্যের ব্র্যান্ডগুলোর দখলে। একটি বহুল প্রচলিত প্যাকেটের (২০ শলাকা) দাম মাত্র ১.২০ ডলারের কাছাকাছি এবং গড়ে একজন ব্যক্তির আয়ের চার শতাংশেরও কম খরচ করে ১০০ প্যাকেট সিগারেট কেনা সম্ভব। তাই এর সমাধান সহজ। খুচরা মূল্য বাড়িয়ে তামাক পণ্যের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে আনা এবং কর কাঠামোকে সহজ করা, যাতে নিম্ন ও মাঝারি স্তরের সিগারেটের মধ্যকার কৃত্রিম বিভাজন দূর করা যায়।

বাংলাদেশে তামাক শিল্পের প্রভাব কতটা মারাত্মক?ciggerate

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জন্য তামাক কর ইতিমধ্যেই রাজস্বের একটি বড় উৎস। অন্যদিকে, তামাক শিল্প ক্রমাগত যুক্তি দিয়ে আসছে যে উচ্চ করের ফলে অবৈধ বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে এবং সরকারের রাজস্ব কমে যাবে। এই দাবিগুলো কর কাঠামোর শক্তিশালী সংস্কার প্রক্রিয়াকে মন্থর করতে ভূমিকা রেখেছে। সুতরাং, আসল চ্যালেঞ্জটি কর আরোপ নয়, বরং করের যথাযথ প্রয়োগ। আরও শক্তিশালী কর প্রশাসন, সাপ্লাই চেইন পর্যবেক্ষণ, লাইসেন্সিং ব্যবস্থা এবং ‘ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস’ প্রযুক্তির ব্যবহার কার্যকরভাবে অবৈধ বাণিজ্য রোধ করতে পারে; যা একইসাথে কর কমপ্লায়েন্স বা অনুবর্তিতা নিশ্চিত করবে, রাজস্ব রক্ষা করবে এবং করের আওতা বৃদ্ধি করবে।

বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই এই লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে যাচ্ছে, যার অংশ হিসেবে তামাকের প্যাকেটে কিউআর কোড চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল’-এর একটি স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের এই ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই একটি শক্তিশালী ভিত্তি রয়েছে। তামাক পণ্যের অবৈধ বাণিজ্য নির্মূল সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক প্রটোকলে যোগদান করা এবং এর বৈশ্বিক সর্বোত্তম অনুশীলনগুলো বাস্তবায়ন করা হবে করের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে এবং তামাক করের শক্তিশালী সংস্কার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার পরবর্তী যৌক্তিক পদক্ষেপ।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তামাকের ওপর কর বৃদ্ধির পাশাপাশি উদীয়মান নিকোটিন ও তামাকজাত পণ্য—যেমন ই-সিগারেট এবং নিকোটিন পাউচের ওপর সমানভাবে কঠোর আইনি নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত। যেসব দেশে তরুণ জনগোষ্ঠীর আধিক্য রয়েছে, সেখানে সাম্প্রতিক কিছু আইনি শিথিলতা এবং বিশেষ নীতিগত ছাড় তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলছে। একইসাথে এটি তামাক শিল্পের জন্য কারসাজি করার এবং তরুণদের লক্ষ্যবস্তু বানানোর নতুন সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে।

যেসব তরুণ ই-সিগারেট ব্যবহার করে, পরবর্তীতে তাদের প্রচলিত সিগারেট খাওয়া শুরু করার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে। ছবি: বাসস
যেসব তরুণ ই-সিগারেট ব্যবহার করে, পরবর্তীতে তাদের প্রচলিত সিগারেট খাওয়া শুরু করার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে। ছবি: বাসস

ঝুঁকিটি এখানে আরও বেশি কারণ নিকোটিনে আসক্তি এখন খুব অল্প বয়স থেকেই শুরু হচ্ছে। তামাক শিল্পের বিভিন্ন বিপণন কৌশল যেমন—সুগন্ধিযুক্ত পণ্য, আকর্ষণীয় প্যাকেজিং এবং ডিজিটাল প্রচারণাগুলো বিশেষভাবে তৈরিই করা হয়েছে কিশোর ও তরুণদের আকৃষ্ট করার জন্য। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব তরুণ ই-সিগারেট ব্যবহার করে, পরবর্তীতে তাদের প্রচলিত সিগারেট খাওয়া শুরু করার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে। এটি জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে গত কয়েক দশকের অর্জনকে ধূলিসাৎ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে এবং দেশের স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক খাতকে বাঁচাতে বাংলাদেশের এখনই ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। একটি শক্তিশালী তামাক কর নীতি ও কঠোর আইনের সমন্বিত প্রয়োগ একদিকে যেমন বহু মানুষের অকালমৃত্যু ঠেকাবে এবং চিকিৎসা খরচ কমাবে, অন্যদিকে দেশের উন্নয়নমূলক কাজের জন্য অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বাড়াবে। ফলে, এই বিষয়ে চুপ করে থাকা বাংলাদেশের পক্ষে এখন আর সম্ভব নয়।

লেখক: বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি

বিষয়: বাংলাদেশবিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকরসিগারেটবাজেটতামাক
সর্বশেষ
  • ১

    লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

  • ২

    মহাখালীতে পরিত্যক্ত ভবনে আগুন

  • ৩

    রাজধানীর ধানমন্ডিতে ভবনে আগুন

  • ৪

    হংকংয়ের বিনিয়োগ আকর্ষণে বিশেষ সুবিধার প্রস্তাব বাংলাদেশের

  • ৫

    মেঘের শারীরিক অবস্থা এখনো ‘অস্থিতিশীল’, মেডিকেল বোর্ড গঠন

সম্পর্কিত
  • মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    আমাদের দেশে মব আর নতুন কোনো বিষয় নয়। বরং দিনকে দিন কিছুটা স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে উঠছে যেন। কখনও বাড়ে, কখনও একটু কমে- কিন্তু মব বিদায় হচ্ছে না কোনোভাবেই। উল্টো যেন মব রপ্তানির দেশে পরিণত হচ্ছে আমাদের এই বাংলাদেশ! ভাবে? চলুন, আলোচনার ভেতরে ঢোকা যাক। শুরুতেই বর্তমানে দেশের ভেতরে মব কি অবস্থায় আছ

  • সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরতে ইউনেসকো ১৯৬৬ সালে ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ঘোষণা করে। বিশ্বজুড়ে এর উদযাপন শুরু হয় ১৯৬৭ সালে; আর স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে।

  • রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    ২৩ আগস্ট রাতে সাবেক স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর পুরো পরিবারের শেষ হয়ে যাওয়ার খবরটা প্রথম শুনে বুঝিনি যে এই ঘটনা সামনে অনেক চমক তৈরি করে রেখেছে। হত্যা রহস্য উন্মোচনের জন্য গোলকধাঁধা অপেক্ষা করছে–কে জানত? রাতে ঘুমিয়ে সকালে উঠেই শুনি দুই আসামি ধরা পড়েছে, এমনকি হত্যার দায়ও স্বীকার করে নিয়েছেন

  • সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    গত রোববার জাতীয় সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস হয়েছে। এর মধ্যে বহুলালোচিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ২০২৬’ এবং ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল ২০২৬’ নিয়ে পরে আলোচনা করার ইচ্ছা আছে। এখানে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল ২০২৬’ নিয়ে কথা বলব। এই আইনের উদ্দেশ্য–বাবা–মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়া