Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> ভাবনা

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি এত সহজ নয়

ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার

ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার

প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৯: ৪৫
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি এত সহজ নয়
মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলো নিয়ে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোট গঠিত হবে। ছবি: রয়টার্স

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রধান মুসলিম শক্তি ইরানকে বাইরে রেখে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো মুসলিম প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের যোগ দেওয়া কৌশলগতভাবে বহুমাত্রিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। পররাষ্ট্রনীতি সাধারণত সরকারের তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক অবস্থানের বিষয় নয়; এটি মূলত রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ, নিরাপত্তা, ইতিহাস, ভূগোল, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের আচরণ এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। একটি রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির সিদ্ধান্ত তাই কেবল আজকের লাভ-ক্ষতির হিসাব দিয়ে নেওয়া যায় না। রাষ্ট্রের জন্মের ইতিহাস, ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা, প্রতিবেশী শক্তির চরিত্র, সম্ভাব্য শত্রুতা এবং বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার ভবিষ্যৎ গতিপথ—সবকিছু একসঙ্গে বিবেচনায় নিতে হয়।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ এটিকে বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে মূল্যায়ন করছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিকে বাংলাদেশের জন্য একটি সাধারণ কূটনৈতিক ঘটনা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। গত ৭ আগস্ট ২০২৬ মক্কায় স্বাক্ষরিত চুক্তিতে বলা হয়েছে, কোনো এক সদস্যের ওপর সশস্ত্র আক্রমণকে তিন দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। পরবর্তী পর্যায়ে রাজনৈতিক ও সামরিক সমন্বয়, যৌথ মহড়া, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, সাইবার ও অন্যান্য সামরিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার কাঠামোও গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

অতএব, এটি শুধু তিনটি মুসলিম দেশের একটি সৌজন্যমূলক সমঝোতা নয়; এটি পরিবর্তিত মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোর একটি সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ বাঁক।

মক্কা চুক্তি: বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্য একটি পরীক্ষাturkey pakistan pact

প্রথমত: পাকিস্তানের উপস্থিতিকে বাংলাদেশের দৃষ্টিকোণ থেকে আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে। বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো— এই ব্যবস্থার অন্যতম কেন্দ্রীয় রাষ্ট্র পাকিস্তান। বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কের বর্তমান বাস্তবতা অতীতের ইতিহাস থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। ১৯৭১-এর অভিজ্ঞতা, রাষ্ট্রের জন্মের ইতিহাস এবং পরবর্তী কয়েক দশকের রাজনৈতিক সম্পর্ক বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ভিত্তি। ফলে পাকিস্তান যখন সৌদি আরব ও তুরস্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রের সঙ্গে একটি নতুন যৌথ নিরাপত্তা কাঠামোর কেন্দ্রে অবস্থান নেয়, তখন বাংলাদেশের জন্য সেটিকে কেবল ইসলামি বিশ্বের অভ্যন্তরীণ সহযোগিতা হিসেবে দেখা যথেষ্ট নয়।

বাংলাদেশ যদি এই কাঠামোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়, তাহলে তার প্রতিক্রিয়া শুধু পাকিস্তান-বাংলাদেশ সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তর শক্তির ভারসাম্যেও তার প্রভাব পড়তে পারে।

দ্বিতীয়ত: ভারতের প্রতিক্রিয়াকে অবমূল্যায়ন করা বিপজ্জনক। বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা হলো তার ভৌগোলিক অবস্থান। ভারত বাংলাদেশের বৃহত্তম প্রতিবেশী এবং অর্থনীতি, বাণিজ্য, যোগাযোগ, সীমান্ত, পানি, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে তার প্রভাব অত্যন্ত গভীর।

মক্কা চুক্তিতে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্তি ভারতের জন্য স্বাভাবিকভাবেই একটি কৌশলগত প্রশ্ন তৈরি করে। ইতিমধ্যেই ভারত এই নতুন ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সম্ভাব্য প্রভাব পর্যবেক্ষণ করছে।

এখানে সবচেয়ে বড় ভুল হবে ধরে নেওয়া যে বাংলাদেশ এই ব্যবস্থায় যুক্ত হলেই ইউক্রেনের মতো কোনো পরিস্থিতি তৈরি হবে। বাস্তবতা এত সরল নয়। কিন্তু সরাসরি সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা না থাকলেও কূটনৈতিক চাপ, বাণিজ্যিক পুনর্বিন্যাস, সীমান্ত-রাজনীতি, আঞ্চলিক যোগাযোগ এবং অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে চাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

রাষ্ট্রের জন্য ঝুঁকি সবসময় যুদ্ধের আকারে আসে না। কখনও তা আসে বাজার, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কূটনৈতিক সমর্থন, আন্তর্জাতিক ফোরামে অবস্থান কিংবা আঞ্চলিক সংযোগের মাধ্যমে।

তৃতীয়ত: সম্ভাব্য পাল্টা শক্তির বিন্যাসও দেখতে হবে। মক্কা চুক্তিকে যদি একটি নতুন নিরাপত্তা কাঠামোর সূচনা হিসেবে দেখা হয়, তাহলে এর বিপরীতে অন্যান্য রাষ্ট্র কীভাবে নিজেদের কৌশল সাজাতে পারে—সেটিও বাংলাদেশের হিসাবের মধ্যে থাকতে হবে। ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্য ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারত, ইসরায়েল, জাপান ও অন্যান্য অংশীদারের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের কৌশলগত সহযোগিতা রয়েছে। ফলে একদিকে পাকিস্তান-সৌদি-তুরস্কের নিরাপত্তা সমন্বয় এবং অন্যদিকে ভারত-ইসরায়েল-জাপানসহ অন্যান্য শক্তির ক্রমবর্ধমান সহযোগিতা—এই দুই প্রবণতা ভবিষ্যতে পরস্পরকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশ্লেষকদের কেউ কেউ এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা রাজনীতিতে এমন দুটি ক্রমবর্ধমান অক্ষের কথা উল্লেখ করেছেন।

বাংলাদেশের জন্য বিপজ্জনক হবে যদি সে কোনো একটি অক্ষের অংশ হয়ে যায় এবং অন্য অক্ষকে সম্পূর্ণভাবে প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করে। বাংলাদেশের ঐতিহ্যগত শক্তি বরং অন্য জায়গায়—ভারসাম্য রক্ষা, বহু-মুখী সম্পর্ক এবং কোনো এক শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হওয়া।

চতুর্থত: ইরানকে হিসাবের বাইরে রেখে মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ বোঝা যাবে না। এখানেই বিষয়টির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত দিক। মক্কা চুক্তির পক্ষগুলো এটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানবিরোধী জোট হিসেবে ঘোষণা করেনি; তুরস্কও জোর দিয়ে বলেছে যে চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে তৈরি হয়নি। কিন্তু একই সময়ে চুক্তির পটভূমিতে ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা এবং উপসাগরীয় নিরাপত্তা সংকট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মক্কা চুক্তি: অনেক প্রশ্নের উত্তর জরুরিmecca pact

অতএব, কাগজে-কলমে চুক্তির ভাষা যতই প্রতিরক্ষামূলক হোক, এর ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষণের সময় ইরানকে বাদ দেওয়া যাবে না। কারণ ইরান মধ্যপ্রাচ্যের একটি বড় রাষ্ট্রশক্তি এবং তার সঙ্গে চীন ও রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। চীন ইরানের অন্যতম প্রধান তেল ক্রেতা, আর রাশিয়ার সঙ্গেও ইরানের গভীর কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে।

সুতরাং বাংলাদেশের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের নতুন কোনো নিরাপত্তা কাঠামোকে কেবল সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে ইরান, চীন, রাশিয়া, ভারত, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কও একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

পঞ্চমত: বাংলাদেশের অবস্থান হওয়া উচিত ‘কাউকে বাদ দিয়ে’ নয়, ‘সবার সঙ্গে’। বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত কূটনৈতিক অবস্থান সম্ভবত কোনো একটি সামরিক অক্ষের অন্ধ অনুসারী হওয়া নয়।

বাংলাদেশ যদি মক্কা চুক্তির সঙ্গে কোনো পর্যায়ে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব বিবেচনা করে, তাহলে প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত:

  • এই অংশগ্রহণ কি বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে বাড়াবে, নাকি বাংলাদেশকে এমন একটি সংঘাতপূর্ণ ভূরাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যে নিয়ে যাবে যার নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতে থাকবে না? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হলে অন্তত কয়েকটি বিষয় পরিষ্কার করতে হবে—
  • বাংলাদেশের ওপর কোনো পারস্পরিক প্রতিরক্ষা বাধ্যবাধকতা থাকবে কি না;
  • অন্য কোনো সদস্য রাষ্ট্রের সংঘাতে বাংলাদেশকে সামরিকভাবে জড়ানোর সম্ভাবনা থাকবে কি না;
  • ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ওপর এর প্রভাব কী হবে;
  • চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কীভাবে প্রভাবিত হবে;
  • ইরানের সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের কী হবে;
  • মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিক ও প্রবাসীদের ওপর কোনো প্রতিক্রিয়া পড়বে কি না;
  • বাংলাদেশের বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব কী;
  • এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, বাংলাদেশের নিজস্ব কৌশলগত শাসন কতটা বজায় থাকবে।

ষষ্ঠত: বাংলাদেশের জন্য ইরানকে বাদ দেওয়ার নীতি কৌশলগতভাবে অপ্রয়োজনীয়। এর অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশকে ইরানের সামরিক বা রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে একাত্ম হতে হবে। বাংলাদেশের কূটনীতি হওয়া উচিত—ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের সব গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ বজায় রাখা।

যদি মক্কা-ভিত্তিক নতুন নিরাপত্তা কাঠামো বাস্তবেই ভবিষ্যতের আঞ্চলিক শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে, তাহলে বাংলাদেশ সেখানে নিজের স্বার্থ রক্ষা করবে কেবল তখনই, যখন একই সঙ্গে ইরান, চীন, রাশিয়া, তুরস্ক, সৌদি আরব এবং অন্যান্য শক্তির সঙ্গে তার যোগাযোগের দরজা খোলা থাকবে।

সপ্তমত: বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার কৌশলগত ভারসাম্য। বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন গভীরভাবে বৈশ্বিক বাণিজ্য, রপ্তানি, প্রবাসী আয়, জ্বালানি, সমুদ্রপথ ও আঞ্চলিক সংযোগের ওপর নির্ভরশীল। তাই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এমন হওয়া উচিত নয় যাতে একটি ভূরাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বাজার বা অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মক্কা চুক্তির সম্ভাব্য সুবিধা অবশ্যই আছে—নিরাপত্তা সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে কৌশলগত যোগাযোগ এবং নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তার মধ্যে থাকতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে এর সম্ভাব্য মূল্যও রয়েছে। রাষ্ট্রের বিচক্ষণতা হলো শুধু সুযোগ দেখা নয়; সুযোগের সঙ্গে যুক্ত ঝুঁকির মূল্যও হিসাব করা।

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি তাই বাংলাদেশের জন্য কোনো সাধারণ কূটনৈতিক প্রস্তাব নয়। এটি পরিবর্তিত মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া এবং বৃহত্তর এশীয় ভূরাজনীতির একটি সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ ‘টার্নিং পয়েন্ট’।

বাংলাদেশের উচিত বিষয়টিকে আবেগ, ধর্মীয় পরিচয় কিংবা পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক—কোনো একক দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখা। রাষ্ট্রীয় স্বার্থের জায়গা থেকে দেখতে হবে।

পাকিস্তান আছে—তাই ভারতের প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করতে হবে। সৌদি আরব ও তুরস্ক আছে—তাই মধ্যপ্রাচ্যের নতুন নিরাপত্তা কাঠামো বিবেচনা করতে হবে। ইরান আছে—তাই চীন ও রাশিয়ার অবস্থানও বিবেচনায় নিতে হবে। ভারত, ইসরায়েল ও জাপানের সম্ভাব্য কৌশলগত সমন্বয় আছে—তাই তার প্রতিক্রিয়াও হিসাব করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র এই নতুন ব্যবস্থাকে কীভাবে ব্যবহার করতে পারে—সেটিও দেখতে হবে।

সবশেষে বাংলাদেশের নিজের ইতিহাস, ভৌগোলিক বাস্তবতা, অর্থনৈতিক নির্ভরতা এবং জাতীয় নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান হওয়া উচিত কোনো একটি অক্ষের সঙ্গে নিজেকে বেঁধে ফেলা নয়; বরং এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান তৈরি করা, যেখানে মক্কা কাঠামোর সঙ্গেও সম্পর্ক রাখা যায়, আবার ভারত, ইরান, চীন, রাশিয়া, জাপান, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র—কোনো গুরুত্বপূর্ণ শক্তির সঙ্গে বাংলাদেশের কৌশলগত দরজাও বন্ধ না হয়। এটাই হতে পারে বাংলাদেশের প্রকৃত ‘স্ট্র্যাটেজিক অটোনমি’।

কারণ ইতিহাসের শিক্ষা হলো—ছোট ও মধ্যম শক্তির রাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ কূটনীতি হলো অন্যের সংঘাতের অংশ হয়ে যাওয়া নয়; বরং এমন অবস্থান তৈরি করা, যাতে সবাই বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চায়।

মক্কা চুক্তিকে সেই বৃহত্তর রাষ্ট্রীয় স্বার্থের আলোতেই বিচার করা উচিত। তারপরও যদি বাংলাদেশকে এ ধরনের চুক্তিতে যোগদান করতে হয়, তবে জাতীয় নিরাপত্তা, কৌশলগত স্বার্থ ও আঞ্চলিক ভারসাম্য নিশ্চিত করতে ইরান অন্তর্ভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশকে এ ধরনের চুক্তিতে যোগদান থেকে বিরত থাকতে হবে। শেষ কথা, বাংলাদেশ কেবল তখনই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে পারে, যখন ইরানও এই নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হবে।

লেখক: অধ্যাপক, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

বিষয়: সৌদি আরবপাকিস্তানমক্কামধ্যপ্রাচ্যভূরাজনীতিচুক্তিইরানবাংলাদেশদক্ষিণ এশিয়া
সর্বশেষ
  • ১

    লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

  • ২

    মহাখালীতে পরিত্যক্ত ভবনে আগুন

  • ৩

    রাজধানীর ধানমন্ডিতে ভবনে আগুন

  • ৪

    হংকংয়ের বিনিয়োগ আকর্ষণে বিশেষ সুবিধার প্রস্তাব বাংলাদেশের

  • ৫

    মেঘের শারীরিক অবস্থা এখনো ‘অস্থিতিশীল’, মেডিকেল বোর্ড গঠন

সম্পর্কিত
  • মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    আমাদের দেশে মব আর নতুন কোনো বিষয় নয়। বরং দিনকে দিন কিছুটা স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে উঠছে যেন। কখনও বাড়ে, কখনও একটু কমে- কিন্তু মব বিদায় হচ্ছে না কোনোভাবেই। উল্টো যেন মব রপ্তানির দেশে পরিণত হচ্ছে আমাদের এই বাংলাদেশ! ভাবে? চলুন, আলোচনার ভেতরে ঢোকা যাক। শুরুতেই বর্তমানে দেশের ভেতরে মব কি অবস্থায় আছ

  • সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরতে ইউনেসকো ১৯৬৬ সালে ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ঘোষণা করে। বিশ্বজুড়ে এর উদযাপন শুরু হয় ১৯৬৭ সালে; আর স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে।

  • রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    ২৩ আগস্ট রাতে সাবেক স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর পুরো পরিবারের শেষ হয়ে যাওয়ার খবরটা প্রথম শুনে বুঝিনি যে এই ঘটনা সামনে অনেক চমক তৈরি করে রেখেছে। হত্যা রহস্য উন্মোচনের জন্য গোলকধাঁধা অপেক্ষা করছে–কে জানত? রাতে ঘুমিয়ে সকালে উঠেই শুনি দুই আসামি ধরা পড়েছে, এমনকি হত্যার দায়ও স্বীকার করে নিয়েছেন

  • সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    গত রোববার জাতীয় সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস হয়েছে। এর মধ্যে বহুলালোচিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ২০২৬’ এবং ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল ২০২৬’ নিয়ে পরে আলোচনা করার ইচ্ছা আছে। এখানে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল ২০২৬’ নিয়ে কথা বলব। এই আইনের উদ্দেশ্য–বাবা–মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়া