Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> ভাবনা

বুদ্ধিজীবী হত্যা: ব্রিটিশ সাংবাদিকের বয়ানে ‘সুপরিকল্পিত চক্রান্ত’

চরচা প্রতিবেদক

চরচা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯: ০৫
বুদ্ধিজীবী হত্যা: ব্রিটিশ সাংবাদিকের বয়ানে ‘সুপরিকল্পিত চক্রান্ত’

১৮ ডিসেম্বর ১৯৭১।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

বিজয়ের দুদিন পর রায়েরবাজারের কাঁটাসুর ও মিরপুরের শিয়ালবাড়ি নামের জায়গায় খুঁজে পাওয়া যায় মানব ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস বধ্যভূমি। মুক্তির আনন্দ আর বিজয়ের উচ্ছ্বাস মুহূর্তেই ম্লান হয়ে যায় অনির্বচনীয় এক শোকানুভূতিতে। কোনো সভ্য দেশে এমন নৃশংসতা কী সম্ভব? মুক্তির আনন্দকে গ্রাস করল কান্নার রোল।

রায়েরবাজার আর মিরপুরের শিয়ালবাড়ির পরিত্যক্ত জলাভূমি থেকে আবিষ্কৃত হলো অনেক পরিচিত মানুষের বিকৃত মরদেহ। তাদের কেউ অধ্যাপক, কেউ চিকিৎসক, সাংবাদিক কিংবা সাহিত্যিক। সমাজের উঁচুস্তরের মানুষ। সবাই সমর্থন দিয়ে গেছেন বাঙালির স্বাধিকারের দাবিকে। ১৬ ডিসেম্বরের সপ্তাহখানেক আগে থেকেই তো এঁরা সবাই নিখোঁজ ছিলেন। অনেকের ক্ষেত্রেই বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়ার সময় বলা হয়েছিল ‘সরকারি দায়িত্বের’ কথা। আল বদরের সদস্যরা তাদেরই প্রিয়জনদের আশ্বাস দিয়েছিল, ‘ভয় পাবেন না। ওনার সরকারি দায়িত্বের ডাক পড়েছে। আমাদের বলা হয়েছে নিয়ে যেতে। কাজ শেষ হলে শিগগিরই ফিরবেন তারা।’

শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার শ্রদ্ধাyunus-at-mirpur-buddhijibi

তারা কেউই ফেরেননি। ১৬ থেকে ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে এই মানুষদের অনেকেরই মৃতদেহ বিকৃত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া যায় রায়েরবাজার ও শিয়ালবাড়ির বধ্যভূমিতে। প্রিয়জনেরা যখন মরদেহ শনাক্ত করেছেন, তখন দেখা দেছে কী অত্যাচার-ই না করা হয়েছে তাদের ওপর। কারও দুই চোখ ওপড়ানো, কারও শরীরে অসংখ্য বেয়োনেটের আঘাত, কারও শরীরে অজস্র কাটার দাগ। যেন বেয়োনেট বা ধারালো কোনো কিছু দিয়ে ফালা ফালা করা হয়েছে তাদের শরীর। দেশের বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ফজলে রাব্বীর চোখ বাঁধা মরদেহে ‘হৃদয়’ ছিল না। নরপশুরা হার্টের চিকিৎসক ফজলে রাব্বীর হৃদযন্ত্র কেটে বের করে নিয়েছিল। চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. আলীম চৌধুরী, সাংবাদিক শহীদুল্লা কায়সার, নিজামউদ্দীন আহমেদ, অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, অধ্যাপক গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক রশীদুল হাসানদের মতো অনেককেই বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বিজয়ের আগ মুহূর্তে—এঁদের অনেকের মরদেহও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

সাংবাদিক নিকোলাস টোমালিন
সাংবাদিক নিকোলাস টোমালিন

মুক্তিযুদ্ধের সময় খবর সংগ্রহ করতে এদেশে এসেছিলেন ব্রিটেনের সানডে টাইমস পত্রিকার সাংবাদিক নিকোলাস টোমালিন। তিনি ১৮ ডিসেম্বর রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে গিয়ে স্তম্ভিত হয়ে যান। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা ধরনের ঘটনা কাভার করার অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ এই ব্রিটিশ সাংবাদিকের লেখাতেও রায়েরবাজার বধ্যভূমি নিয়ে এক ধরনের হতবিহ্বলতা লক্ষ্য করা যায়। তিনি রায়েরবাজার বধ্যভূমি দেখার অভিজ্ঞতা নিয়ে সানডে টাইমসে ঢাকা থেকে একটা প্রতিবেদন পাঠান।

সেখানে তিনি লেখেন, “…..এখানে এই বুদ্ধিজীবীরা শুয়ে আছেন। তাঁদের শরীরের ওপর ধুলো-কাদা, দেহগুলো গলতে শুরু করেছে। একটি বাঁধের ওপর একটি কঙ্কাল পড়ে রয়েছে। ঢাকার কুকুরগুলো নাটকীয়ভাবে দেহটাকে মাংসমুক্ত করে ফেলেছে। বাঙালি জনতা এই ডোবাগুলোতে এক অদ্ভুত শান্ত ভঙ্গিমায় চলাচল করছে। এখানে তাদেরকে ক্রোধান্বিত মনে হয় না। অন্যত্র তারা ক্রোধোন্মত্ত, কিন্তু এখানে তারা হাঁটছে, মৃদু ফিসফিস করে কথা বলছে, এমনভাবে হাঁটছে, যেন তারা গির্জা পরিদর্শনরত পর্যটক।”

শিল্পীর তুলিতে কয়েকজন শহীদ বুদ্ধিজীবী।
শিল্পীর তুলিতে কয়েকজন শহীদ বুদ্ধিজীবী।

রায়েরবাজার বধ্যভূমির একটা বর্ণনাও পাওয়া যায় তার ‘বেঙ্গলস এলিট ইন অ্য ডিচ’শিরোনামের লেখায়, “রায়েরবাজারের বধ্যভূমিটি হচ্ছে ঢাকা শহরের উচ্চ ও মধ্যবিত্তদের আবাসিক এলাকা ধানমন্ডির কাছে একটি ইটখোলা। অদ্ভুত এক নির্জন জায়গা। এদিক-ওদিক ছড়িয়ে আছে নীলচে সাদা জলাশয়। কচুরিপানা ভেসে বেড়ায় তাতে। শতশত ঢাকাবাসী এসেছিলেন মরদেহগুলো দেখার জন্য। কাদামাটির পাড় ধরে হাঁটতে থাকা অনেকেই খুঁজছিলেন নিজেদের প্রিয়জনদের মরদেহ। তাদের নিজ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল গত কয়েকদিনের মধ্যেই।”

পালানোর পথ রুদ্ধ, প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে পাকিস্তানি বাহিনীরfreedom fighter

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের ঠিক আগে দিয়ে এমন নৃশংসতা নিয়ে নিজের অভিমতও তুলে ধরেছেন টোমালিন, ‘বৃহস্পতিবার (১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ছিল বৃহস্পতিবার) ঢাকায় আত্মসমর্পণের আগে পাকিস্তান সেনাবাহিনী কমপক্ষে ৫০ জনের মতো শহরের সেরা বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, চিকিৎসক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকসহ নানা পেশাজীবীদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করে। ওটা ছিল বাঙালি এলিট বুদ্ধিজীবী ও শিক্ষিত শ্রেণির মানুষকে নিঃশেষ করে দেওয়ার সুপরিকল্পিত চক্রান্ত। সামরিক অভিযানের নামে এই নৃশংস ব্যাপারটি সম্পর্কে জেনারেল নিয়াজীসহ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাইকমান্ডের অনেকেই খুব ভালো করেই জানতেন।’

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে কতজন বুদ্ধিজীবী হত্যার শিকার হয়েছিলেন?
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে কতজন বুদ্ধিজীবী হত্যার শিকার হয়েছিলেন?

বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময়েই হয়েছে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যখন ঢাকাবাসীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, নৃশংস উন্মত্ততায় তখনই বেছে বেছে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা শুরু হয়। গণহত্যার প্রথম প্রহরেই হত্যা করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন বিশিষ্ট অধ্যাপককে। দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. গোবিন্দচন্দ্র দেব, ফলিত পদার্থবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য, মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ফজলুর রহমান খান, পরিসংখ্যান বিভাগের এ এন এম মুনীরুজ্জামান, পর্দার্থবিজ্ঞান বিভাগের আতাউর রহমান খাদিম, ইংরেজি বিভাগের ড. জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করা হলে তিনি বেঁচে ছিলেন আরও কয়েকদিন। ২৫ মার্চ রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আটজন শিক্ষককে হত্যা করেছিল পাকিস্তানি সেনারা। তাদের প্রায় সবাই ছিলেন বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের সমর্থক।

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতি ধরে রাখতে ১৯৮৮ সালে বাংলা একাডেমি একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। ‘স্মৃতি ১৯৭১’ নামে একাধিক খণ্ডে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্বজন ও পরিচিতদের লেখা স্মৃতিকথা প্রকাশিত হয়েছিল। ১৯৮৮ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ‘স্মৃতি ১৯৭১’গ্রন্থের ১৩টি খণ্ড প্রকাশিত হয়। সেখানে তিন শতাধিক শহীদ বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবীর পরিচয় পাওয়া যায়। এই স্মৃতিগ্রন্থের পরিকল্পনা করেছিলেন একাডেমির প্রয়াত মহাপরিচালক অধ্যাপক আবু হেনা মোস্তফা কামাল। সম্পাদক ছিলেন প্রয়াদ রশীদ হায়দার।

১৯৭১ বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের বছর। বিশ্ব মানচিত্র মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর বছর। কিন্তু সেটির বিনিময় মূল্য অনেক। পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসরেরা স্বাধীন বাংলাদেশকে বুদ্ধিবৃত্তিক দিক দিয়ে শেষ করে দেওয়ার পরিকল্পনাটা করেছিল ঠান্ডা মাথাতেই।

বিষয়: পাকিস্তানমুক্তিযোদ্ধাবুদ্ধিজীবীমুক্তিযুদ্ধপাকিস্তানি হানাদার
সর্বশেষ
  • ১

    উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে সিকৃবিতে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত

  • ২

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট ২৯ অক্টোবর

  • ৩

    হত্যা মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হলো কলিমুল্লাহকে

  • ৪

    মনপুরায় মেঘনার পাড়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় যুবক উদ্ধার

  • ৫

    মহাখালীতে এসকেএস টাওয়ারের পেছনের ভবনে আগুন

সম্পর্কিত
  • মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    আমাদের দেশে মব আর নতুন কোনো বিষয় নয়। বরং দিনকে দিন কিছুটা স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে উঠছে যেন। কখনও বাড়ে, কখনও একটু কমে- কিন্তু মব বিদায় হচ্ছে না কোনোভাবেই। উল্টো যেন মব রপ্তানির দেশে পরিণত হচ্ছে আমাদের এই বাংলাদেশ! ভাবে? চলুন, আলোচনার ভেতরে ঢোকা যাক। শুরুতেই বর্তমানে দেশের ভেতরে মব কি অবস্থায় আছ

  • সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরতে ইউনেসকো ১৯৬৬ সালে ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ঘোষণা করে। বিশ্বজুড়ে এর উদযাপন শুরু হয় ১৯৬৭ সালে; আর স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে।

  • রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    ২৩ আগস্ট রাতে সাবেক স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর পুরো পরিবারের শেষ হয়ে যাওয়ার খবরটা প্রথম শুনে বুঝিনি যে এই ঘটনা সামনে অনেক চমক তৈরি করে রেখেছে। হত্যা রহস্য উন্মোচনের জন্য গোলকধাঁধা অপেক্ষা করছে–কে জানত? রাতে ঘুমিয়ে সকালে উঠেই শুনি দুই আসামি ধরা পড়েছে, এমনকি হত্যার দায়ও স্বীকার করে নিয়েছেন

  • সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    গত রোববার জাতীয় সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস হয়েছে। এর মধ্যে বহুলালোচিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ২০২৬’ এবং ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল ২০২৬’ নিয়ে পরে আলোচনা করার ইচ্ছা আছে। এখানে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল ২০২৬’ নিয়ে কথা বলব। এই আইনের উদ্দেশ্য–বাবা–মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়া