Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> ভাবনা

সমাজ ও রাষ্ট্রের লজ্জা আদতেই কি আছে?

সুব্রত শুভ্র

সুব্রত শুভ্র

প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬, ১৫: ৫৩
সমাজ ও রাষ্ট্রের লজ্জা আদতেই কি আছে?

মানুষের সমাজ ও রাষ্ট্রের নৈতিক কাঠামো একবার পুরোপুরি ভেঙে পড়লে শুধু আইন দিয়ে তা আর মেরামত করা যায় না। আসলে এই দেশের, সমাজের ভেতরে অসুখ হয়েছে। বহুকাল ধরেই, এখানে মৃত্যু শুধু দেহের শেষ নয়; মৃত্যু মানে ভয় নিয়ে বড় হওয়া, নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে হাঁটা, নীরবে সহ্য করা, এবং প্রতিদিন একটু একটু করে মানবিক মর্যাদা হারিয়ে ফেলা। কন্যাশিশুদের ক্ষেত্রে আরও নির্মম। কারণ, তাদের জীবন শুরু হওয়ার আগেই সমাজ ও নরপশুরা তাদের ওপর নিষ্ঠুরতার ছায়া ফেলে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

কন্যাশিশুর চোখে যদি খেলনার আগে আতঙ্ক এসে বসে, যদি একটি মেয়েশিশু নিজের ঘরের ভেতরেও নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে না পায়, তবে বুঝতে হবে, সেই সমাজ তার মানবিকতা অনেক আগেই হারিয়ে ফেলেছে। তাদের শৈশব হয়তো শুরুই হয় না। কষ্ট, ভয় আর অসম্মানের ভার বহন করতে করতেই তারা বড় হতে থাকে। যে মেয়ে-শিশু ঘরের ভেতরেও নিরাপদ নয়, তার কাছে পৃথিবী আর আশ্রয় থাকে না; হয়ে ওঠে এক ধীর, নিঃশব্দ ধ্বংসের ক্ষেত্র।

বাংলাদেশের বাস্তবতায় নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রায়ই এমনভাবে ঘটে, যেখানে অপরাধ শুধু শরীরকে আঘাত করে না; মন, আত্মসম্মান, ভবিষ্যৎ—সবকিছুকেই ক্ষতবিক্ষত করে দেয়। ধর্ষণ, নির্যাতন, হত্যার খবর যখন বারবার আসে, তখন সমাজের বিবেকেও এক ধরনের অবশতা জন্মায়। আমরা প্রতিটি ঘটনার পর সাময়িক ক্ষোভে ফেটে পড়ি। কিন্তু সেই ক্ষোভকে যদি ন্যায়বোধ, বিচার, নিরাপত্তা আর সংস্কারের দিকে নিয়ে যাওয়া না যায়, তবে প্রতিটি নতুন খবর আগের ক্ষতেরই পুনরাবৃত্তি হয়ে দাঁড়ায়।

রামিসা আমার মেয়ে না, তাই কি কষ্ট আমার না?Ramisa

এ দেশে প্রতিদিন ‘বারবার মরতে হয়’ আমাদেরকে, এখানে মৃত্যু একবার ঘটে না; একই মানুষ প্রতিবার খবরের শিরোনামে, প্রতিবার সামাজিক অবজ্ঞায়, প্রতিবার আইনের দুর্বলতায়, প্রতিবার নীরবতায় আবারও নিহত হয়।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

মানুষে-সমাজে-রাষ্ট্রে এমন এক নৈতিক স্খলনের পরিবেশ, যেখানে জীবনের বদলে মৃত্যুর আশঙ্কাই বেশি বাস্তব। এই দেশে শিশু ও নারী যেন বেঁচে থাকে শর্তসাপেক্ষে। রাস্তায়, ঘরে, স্কুলে, কর্মক্ষেত্রে, এমনকি নিজেদের শরীরের মধ্যেও তারা পূর্ণ অধিকার নিয়ে দাঁড়াতে পারে না। এ দেশের সমাজে পরিবার, রাষ্ট্র, আর সামাজিক নীতির যে ফাঁকফোকর রয়েছে, সেখানেই এই সহিংসতার শেকড়।

শিশুরা নিরাপদ না থাকে, নারীরা সম্মান নিয়ে বাঁচতে না পারে যেখানে, সেখানে উন্নয়নের সব কথা কাগুজেই। যেখানে জীবনকে রক্ষা করার কথা থাকলেও বারবার জীবনই বিপন্ন হয়, আর সেই বিপন্নতার সবচেয়ে বড় শিকার হয় তারা, যাদের কণ্ঠ সবচেয়ে কম শোনা যায়।

‘জুতা পরার সময়ও পায়নি রামিসা, পাষণ্ডটা টান দিয়া নিয়া গেছে’ramisha

নারী ও শিশুদের কাছে জীবন যেন শর্তসাপেক্ষ এক অনুমতি, অধিকার নয়। তারা হাঁটে ভয়ে, বাঁচে সতর্কতায়, কথা বলে সঙ্কোচে, আর দিন কাটায় সম্ভাব্য বিপদের ছায়া মাথায় নিয়ে। যাদের নিরাপত্তা সবচেয়ে জরুরি, তারাই সবচেয়ে বেশি অনিরাপদ। এই অনিরাপত্তা শুধু দেহে ক্ষত তৈরি করে না, সমাজের বিবেককেও ক্ষতবিক্ষত করে।

এই দেশে এখন মানুষ সহিংসতার খবর শুনে শুধু কেঁপে ওঠে না, অভ্যস্ত হয়ে যায়। আর সেই অভ্যস্ততাই সবচেয়ে ভয়ংকর মৃত্যু, কারণ তখন অন্যের কষ্ট আর কারও হৃদয়ে নাড়া দেয় না। যাদের সবচেয়ে বেশি সুরক্ষা পাওয়ার কথা, তারাই সবচেয়ে বেশি অনিরাপদ। অবাধ্য, ক্ষুব্ধ হয়ে কেউ কেউ আমরা প্রচলিত সভ্যতার মুখোশ ছিঁড়ে ফেলতে চাই আর্তনাদে, সমাজ ও রাষ্ট্রকে লজ্জা দিতে চায়, জাগাতে। কিন্তু সমাজ ও রাষ্ট্রের লজ্জা আদতেই কি আছে?

কারণ যে সমাজ ও রাষ্ট্র তার শিশুদের, বিশেষ করে তার কন্যাশিশু ও নারীদের নিরাপত্তা দিতে পারে না, সে সমাজ ও রাষ্ট্র মানবিকতার দাবি করার কোনো অধিকার রাখে না। আমাদের হৃদয় এখনও কাঁপে। এখনও জ্বলে। হয়তো সেই আগুনই একদিন এই অন্ধকারকে পুড়িয়ে ছাই করে দেবে।

লেখক: মাল্টিডিসিপ্লিনারি আর্টিস্ট, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সংগঠক

বিষয়: দেশমানুষসমাজমৃত্যুরাষ্ট্র
সর্বশেষ
  • ১

    রাজধানীর ধানমন্ডিতে ভবনে আগুন

  • ২

    হংকংয়ের বিনিয়োগ আকর্ষণে বিশেষ সুবিধার প্রস্তাব বাংলাদেশের

  • ৩

    মেঘের শারীরিক অবস্থা এখনো ‘অস্থিতিশীল’, মেডিকেল বোর্ড গঠন

  • ৪

    সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক: তিন দিনে ২৬ হাজার গ্রাহক তুললেন কত টাকা

  • ৫

    ফিলিপাইনে যাত্রীবাহী ফেরিতে আগুনে নিহত ৫, নিখোঁজ ৮০ জনের বেশি

সম্পর্কিত
  • মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    আমাদের দেশে মব আর নতুন কোনো বিষয় নয়। বরং দিনকে দিন কিছুটা স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে উঠছে যেন। কখনও বাড়ে, কখনও একটু কমে- কিন্তু মব বিদায় হচ্ছে না কোনোভাবেই। উল্টো যেন মব রপ্তানির দেশে পরিণত হচ্ছে আমাদের এই বাংলাদেশ! ভাবে? চলুন, আলোচনার ভেতরে ঢোকা যাক। শুরুতেই বর্তমানে দেশের ভেতরে মব কি অবস্থায় আছ

  • সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরতে ইউনেসকো ১৯৬৬ সালে ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ঘোষণা করে। বিশ্বজুড়ে এর উদযাপন শুরু হয় ১৯৬৭ সালে; আর স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে।

  • রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    ২৩ আগস্ট রাতে সাবেক স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর পুরো পরিবারের শেষ হয়ে যাওয়ার খবরটা প্রথম শুনে বুঝিনি যে এই ঘটনা সামনে অনেক চমক তৈরি করে রেখেছে। হত্যা রহস্য উন্মোচনের জন্য গোলকধাঁধা অপেক্ষা করছে–কে জানত? রাতে ঘুমিয়ে সকালে উঠেই শুনি দুই আসামি ধরা পড়েছে, এমনকি হত্যার দায়ও স্বীকার করে নিয়েছেন

  • সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    গত রোববার জাতীয় সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস হয়েছে। এর মধ্যে বহুলালোচিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ২০২৬’ এবং ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল ২০২৬’ নিয়ে পরে আলোচনা করার ইচ্ছা আছে। এখানে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল ২০২৬’ নিয়ে কথা বলব। এই আইনের উদ্দেশ্য–বাবা–মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়া