Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> ভাবনা

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান: শোকযাত্রা থেকে দ্রোহযাত্রার রূপান্তর

রাফিকুজ্জামান ফরিদ

প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৮: ১৫
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান: শোকযাত্রা থেকে দ্রোহযাত্রার রূপান্তর

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান আমাদের জীবনস্মৃতিতে একটা বড় স্থান নিয়ে থাকবে আজীবন। গণঅভ্যুত্থান দেখতে ও তাতে অংশগ্রহণ করতে সকলে পারে না। আমাদের সে সুযোগ হয়েছিল। এই আন্দোলনের প্রধান কারিগর ছিল জনগণ। এত ব্যাপক ও বিচিত্র ধরণের জনসম্পৃক্ততা আর এত বড় সংখ্যায় প্রাণহানি স্বাধীনতা পরবর্তীকালের বাংলাদেশে কখনো দেখা যায়নি। আমি ছাত্র আন্দোলনের একজন সংগঠক হিসেবে এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলাম এবং এই বিরাট মিছিলের একজন ছিলাম। আমরা সকলে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ নামে আন্দোলনের যে প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলেছিলাম, তার নেতৃত্বেই আন্দোলনে ছিলাম। সেখানে আমার সংগঠন ‘সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট’ ও ছাত্র সংগঠনগুলোর যে জোটে আমরা আছি, সেই ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট’ তাদের সাধ্য অনুসারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

শোক থেকে দ্রোহ

একেবারে শুরু থেকে দীর্ঘ ইতিহাস বলা অপ্রয়োজনীয়; তবে যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ আমরা নিতে পেরেছিলাম– সেটা উল্লেখ করা মনে হয় জরুরি। ১৬ জুলাই, রংপুরে শহীদ আবু সাইদের দুহাত প্রসারিত করে শাসকের বুলেটকে আহ্বান করার দৃশ্য এই গণ-অভ্যুত্থানের প্রতীকে পরিণত হয়। আবু সাইদ যে মুহূর্তে গুলিবিদ্ধ হন তখন তার কাছেই ছিলেন ছাত্র ফ্রন্ট রংপুর জেলা শাখার সভাপতি সাজু বাসফোর। সাজুই রিকশা করে গুলিবিদ্ধ আবু সাইদকে হাসপাতালে নিয়ে যান। সাজু বাসফোর আবু সাইদ হত্যা মামলার একজন অন্যতম সাক্ষী।

১৯ জুলাই রাতে ফ্যাসিট হাসিনা সরকার কারফিউ জারি করে, বন্ধ করে দেওয়া হয় ইন্টারনেট সংযোগ, রাস্তার মোড়ে মোড়ে সেনাবাহিনীর টহল আর সাঁজোয়াযান। কারফিউ জারির পর ২৬ জুলাই রাস্তায় প্রথম পা দেন সংস্কৃতিকর্মীরা, গানের মিছিলের মাধ্যমে। এই দিনে বিকেলে পল্টন এলাকায় শোক মিছিল করে ‘বাম গণতান্ত্রিক জোট’। শোক মিছিল থেকে ছাত্র-জনতাকে হত্যার দায়ে শেখ হাসিনার পদত্যাগ দাবি করা হয়। ২৭ জুলাই সকালে পল্টন মোড়ে ‘ছাত্র-জনতার পাশে নারী সমাজ’ ব্যানারে বামপন্থী নারী সংগঠন ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার নারীদের অংশগ্রহণে শিক্ষার্থী হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ২৮ জুলাই ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট’ পুলিশী বাঁধা মোকাবেলা করে শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগ, কারফিউ প্রত্যাহার ও স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়ার দাবিতে কালো পতাকা মিছিল ও সমাবেশ করে। এদিন বামপন্থী শ্রমিক সংগঠনগুলোর জোট ‘জাতীয় শ্রমিক কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদ’ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে প্রেসক্লাব এলাকায় বিক্ষোভ করে। কারফিউ জারির পর ২ আগস্ট পর্যন্ত ‘বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন’র ঘোষিত কর্মসূচি কেন্দ্রীয়ভাবে মুলত পল্টন-প্রেসক্লাব এলাকায় পালন করা হতো।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
‘জুলাইয়ের পর উগ্রপন্থার উত্থান হয়েছে’thumbnailbee_grGJfY4y0xQ_hq

পল্টন-প্রেসক্লাব এলাকার এসব কর্মসূচিতে ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের’ নেতা-কর্মীরাই নেতৃত্ব দিয়েছে। গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের মধ্যে আগে থেকেই একটা আলোচনা চলছিল– সবাইকে যুক্ত করে শহিদদের স্মরণে একটা নাগরিক শোকমিছিল আমরা করতে পারি কি না। এ বিষয়ে ৩১ সাংস্কৃতিক সংগঠনের জোট (বর্তমানে গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য) ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের সাথে যখন আমাদের কথা হয়। তখন দেখি তারাও একইরকম ভাবছে। এরই ধারবাহিকতায় ৩১ সাংস্কৃতিক সংগঠনের জোট, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক, নারী সংগঠন, শ্রমিক সংগঠনসহ আন্দোলনে সক্রিয় সকল পক্ষকে সাথে নিয়ে প্রথমে ২ আগস্ট ‘শোকযাত্রা’ করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। কিন্তু প্রতিদিন যেভাবে পাল্লা দিয়ে মৃতের সংখ্যা বাড়ছিল, সকলের দাবি ও আকাঙ্ক্ষা যেভাবে শেখ হাসিনা পতনের এক দাবিতে এসে কেন্দ্রীভূত হচ্ছিল– সেটা দেখে আমরা সিদ্ধান্ত নেই যে, এখন ‘শোকযাত্রা’ মানায় না। তখন আমরা এ কর্মসূচির নাম আমরা শোকযাত্রার বদলে ‘দ্রোহযাত্রা’ ঘোষণা করি।

২ আগস্ট বিকেল ৩টায় প্রেসক্লাবে ছিল আমাদের সমাবেশ। সেখান থেকে শুরু হয়ে ‘দ্রোহযাত্রা’ শহিদ মিনারে গিয়ে শেষ হবে। দুপুর ১টা থেকেই প্রেসক্লাবের সামনে লোক জড়ো হতে থাকে। ফলে আমরা আমাদের আয়োজনও শুরু করি নির্ধারিত সময়ের আগে। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা চলতে থাকে আর বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়। আমাদের ব্যানারে লেখা ছিল, ‘রক্তের দাগ দিচ্ছে ডাক, স্বৈরাচার নিপাত যাক’। এ সমাবেশে ঢাকা শহরের শ্রমিক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শিল্পী, চলচ্চিত্র নির্মাতা, ডাক্তার, প্রকৌশলী, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ঢল নেমেছিল। বৃষ্টির কারণে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা সংক্ষিপ্ত করে আমরা দ্রুত দ্রোহযাত্রা শুরু করি।

দ্রোহযাত্রা শুরুর আগে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ তার সভাপতির ভাষণে হাসিনা সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণা করেন। হাজার হাজার মানুষের ‘দ্রোহযাত্রা’ জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে শুরু হয়ে হাইকোর্ট-দোয়েল চত্বর-টিএসসি হয়ে শহিদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। এই ‘দ্রোহযাত্রা’ থেকে স্পষ্টভাবে সরকারের পদত্যাগের এক দফা ঘোষণা করা হয়। এর আগে থেকে বিচ্ছিন্নভাবে এক দফা উচ্চারিত হচ্ছিল, কিন্তু সম্মিলিতভাবে ‘দ্রোহযাত্রা’ থেকেই এটা সবার সামনে আসে। এরপর ৩ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার ডাকা সংলাপ প্রত্যাখান করে ছাত্র-নাগরিকের অভ্যুত্থানের ডাক দেওয়া হয়। ৪ আগস্ট শাহবাগ চত্বরে ডাকা সমাবেশ থেকে ৫ আগস্ট ‘লংমার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়। স্লোগান ওঠে ‘ছাড়তে হবে ক্ষমতা, ঢাকায় আসছে জনতা’।

সরকার নিজেকে রক্ষার শেষ চেষ্টা হিসেবে ৪ তারিখ সন্ধ্যা ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করে। তাতে শেষরক্ষা আর হয়নি হাসিনার। লক্ষ লক্ষ ছাত্র-জনতা কারফিউ ভেঙে ঢাকার রাজপথ ও গণভবন দখল করে। তার আগেই হাসিনা পদত্যাগ করে এবং দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।

গণঅভ্যুত্থান শেষ হয়েছে, লড়াই নয়

বাংলাদেশের ইতিহাসের আরেক মাইলফলকের সাথে জড়িয়ে গিয়েছিলাম আমরা। আজও আছি। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী দেশে লড়াই থামে না। বরং গণঅভ্যুত্থানের গণচেতনা রক্ষার জন্য এ লড়াই আরও বিপুল বেগে চালিয়ে নিতে হয়। আমরা সেই লড়াই আজও চালিয়ে যাচ্ছি।

লেখক: সাধারণ সম্পাদক, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট

বিষয়: রক্তাক্ত জুলাইজুলাই সনদজুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ড
সর্বশেষ
  • ১

    রাজধানীর ধানমন্ডিতে ভবনে আগুন

  • ২

    হংকংয়ের বিনিয়োগ আকর্ষণে বিশেষ সুবিধার প্রস্তাব বাংলাদেশের

  • ৩

    মেঘের শারীরিক অবস্থা এখনো ‘অস্থিতিশীল’, মেডিকেল বোর্ড গঠন

  • ৪

    সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক: তিন দিনে ২৬ হাজার গ্রাহক তুললেন কত টাকা

  • ৫

    ফিলিপাইনে যাত্রীবাহী ফেরিতে আগুনে নিহত ৫, নিখোঁজ ৮০ জনের বেশি

সম্পর্কিত
  • মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    আমাদের দেশে মব আর নতুন কোনো বিষয় নয়। বরং দিনকে দিন কিছুটা স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে উঠছে যেন। কখনও বাড়ে, কখনও একটু কমে- কিন্তু মব বিদায় হচ্ছে না কোনোভাবেই। উল্টো যেন মব রপ্তানির দেশে পরিণত হচ্ছে আমাদের এই বাংলাদেশ! ভাবে? চলুন, আলোচনার ভেতরে ঢোকা যাক। শুরুতেই বর্তমানে দেশের ভেতরে মব কি অবস্থায় আছ

  • সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরতে ইউনেসকো ১৯৬৬ সালে ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ঘোষণা করে। বিশ্বজুড়ে এর উদযাপন শুরু হয় ১৯৬৭ সালে; আর স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে।

  • রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    ২৩ আগস্ট রাতে সাবেক স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর পুরো পরিবারের শেষ হয়ে যাওয়ার খবরটা প্রথম শুনে বুঝিনি যে এই ঘটনা সামনে অনেক চমক তৈরি করে রেখেছে। হত্যা রহস্য উন্মোচনের জন্য গোলকধাঁধা অপেক্ষা করছে–কে জানত? রাতে ঘুমিয়ে সকালে উঠেই শুনি দুই আসামি ধরা পড়েছে, এমনকি হত্যার দায়ও স্বীকার করে নিয়েছেন

  • সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    গত রোববার জাতীয় সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস হয়েছে। এর মধ্যে বহুলালোচিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ২০২৬’ এবং ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল ২০২৬’ নিয়ে পরে আলোচনা করার ইচ্ছা আছে। এখানে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল ২০২৬’ নিয়ে কথা বলব। এই আইনের উদ্দেশ্য–বাবা–মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়া