Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> ভাবনা

দগ্ধ ভবন, লুটেরার উল্লাস ও শিশুর আর্তনাদ

সোহরাব হাসান

সোহরাব হাসান

প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১: ৪১
দগ্ধ ভবন, লুটেরার উল্লাস ও শিশুর আর্তনাদ

কখনো কখনো জীবন্ত মানুষের চেয়ে ইটপাথরের ভবন অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে। সেটাই যদি না হবে, তাহলে না প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ছায়ানট ও উদীচীর কার্যালয় আক্রমণের শিকার হবে কেন? কেন এসব ভবন পুড়িয়ে দেওয়া হবে?

Advertisement
Advertisement
Advertisement

এই হামলা তো কেবল নিষ্প্রাণ ভবনের ওপর নয়। এসব ভবনের পেছনে যে মানুষেরা আছেন, আক্রমণটা তাদের চিন্তা ও কাজের ওপর । নোয়াব ও সম্পাদক পরিষদ আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত বলে আখ্যায়িত করেছেন। কিন্তু আমরা মনে করি, আঘাতটা কেবল গণতন্ত্রের ওপর নয়, বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা ও মানবতার ওপরও আঘাত।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা ভেবেছিলাম, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার অবসান হয়েছে। ভেবেছিলাম, সাংবাদিকেরা মুক্ত পরিবেশে কাজ করতে পারবেন। আগের মতো নিত্য হুমকি ও হয়রানির শিকার হতে হবে না। কিন্তু গত ১৬ মাসের অভিজ্ঞতা আমাদের মোটেই আশ্বস্ত করে না। সংবাদিকদের বিরুদ্ধে গয়রহ হত্যা ও হত্যা চেষ্টা মামলা দেওয়া হয়েছে। অনেকে জেলে আছেন। কিন্তু ১৬ মাসেও মামলার তদন্ত কাজ শেষ করা হয়নি।

‘প্রথম আলো-ডেইলি স্টার কী অন্যায় করছে?’ভক্সপপ

আওয়ামী লীগ আমলে কথায় কথায় মামলা হতো, সম্পাদক-সাংবাদিকদের দৌড়ের ওপর রাখা হতো। এখন সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যম অফিস আক্রমণের শিকার হচ্ছে। কারও মত পছন্দ না হলেই মব সন্ত্রাস দিয়ে তার কণ্ঠ স্তব্ধ করা হচ্ছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। ছবি: সংগৃহীত
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। ছবি: সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যার ঘটনাটি জঘন্য অপরাধ। সারা দেশের সর্বস্তরের মানুষ এই হত্যার নিন্দা করেছে। ইনকিলাব মঞ্চসহ বিভিন্ন সংগঠন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করেছে, কোনো সমস্যা হয়নি।

কিন্তু এই হত্যার ঘটনাকে উপলক্ষ্য করে কেন দেশের দুটি শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র অফিস জ্বালিয়ে দেওয়া হলো তার ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না। গত বছর নভেম্বরে যখন প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার অফিসের সামনে জেয়াফত হয়েছিল তখন আরও অনেকের সঙ্গে শরিফ ওসমান হাদিও প্রতিবাদ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ভিন্ন মতের কারণে প্রথম আলো অফিসে হামলা করাকে আমরা সমর্থন করতে পারি না। দরকার হলে আপনারা ১০টি প্রথম আলো বানান। কিন্তু প্রথম আলো অফিসে হামলা করা হবে কেন? যিনি এই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাস করেন, তার সংগঠন বা অনুসারীরা পত্রিকা অফিস বা সংগীতভবন পুড়িয়ে দিতে পারেন না।

তাহলে এই নৃশংস হামলা কারা ঘটিয়েছে? তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কী? যারা হাদিকে হত্যা করেছে, তাদের উদ্দেশ্য যদি দেশকে নৈরাজ্যের পথে নিয়ে যাওয়া ও নির্বাচন বন্ধ করা হয়, যারা সেই হত্যাকাণ্ডকে উপলক্ষ করে পত্রিকা অফিস ও সঙ্গীত শিক্ষা ভবনে জ্বালিয়ে দেওয়ার মতো বীভৎস ঘটনা ঘটালো তাদের উদ্দেশ্যও ভিন্ন কিছু নয়। দেশে অস্থিতিশীল অবস্থা থাকলে তারাই লাভবান হবে, যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না।

সরকার ওসমান হাদির ঘাতককে ধরতে না পারলেও প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবনে হামলাকারীদের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হয়তো এর নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের নাম ও রাজনৈতিক পরিচয়ও জানা যাবে।

কিন্তু এখানে সরকারের ব্যর্থতা সীমাহীন। প্রথম আলো ভবনে আগুন দেওয়ার ঘণ্টা খানিক পর ডেইলি স্টারে আগুন দেওয়া হয়। এই এক ঘণ্টার মধ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার সহযোগিতা চেয়েও পাওয়া যায়নি। তাহলে কি প্রশাসনের মধ্যেই এমন কেউ আছেন, যারা চাননি ভবন দুটি রক্ষা পাক। এর আগে কোনো কোনো সমাবেশ থেকে প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ছায়ানট ও উদীচী তচনচ করে দেওয়ার কথা বলেছেন কেউ কেউ। প্রকাশ্যে এসব ঘোষণা কারা দিয়েছেন, তাদের নাম-পরিচয়ও সরকারের অজানা নয়।

আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করলাম, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা যখন উল্লিখিত দুই ভবনের নিরাপত্তার দায়িত্ব এলেন, তখন সব পুড়ে ছাই। একই ঘটনা ঘটেছে ছায়ানট ও উদীচী কার্যালয়ের ক্ষেত্রে। ছায়ানট ভবনের নিচে দেশের অন্যতম সেরা বিদ্যালয় নালান্দার শিশুদের যে বই খাতা ও আসবাবপত্র ছিল তাও পুড়িয়ে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা।

জামায়াতের আমির ‘জেনোসাইডের’ আশঙ্কা করছেন কেন?image-324518-1761283988

সংবাদমাধ্যমের মূল কাজ হলো মানুষের কাছে সংবাদ পৌঁছে দেওয়া। যাপিত জীবনের প্রতিটি ঘটনা বিশ্লেষণ করা। সেই বিশ্লেষণের সঙ্গে সবাই একমত হবেন এমন কথা নেই। বহু মত ও পথের মানুষের দেশে মতাদর্শিক বিরোধের নিষ্পত্তি হতে হয় আলাপ, তর্ক ও যুক্তির নিরিখে। মানুষ খুন করে কিংবা ভবন পুড়িয়ে দিয়ে নয়। যে কোনো গণতান্ত্রিক দেশে বহু মত থাকবে। মতাদর্শিক লড়াই থাকবে। সেই লড়াইয়ের যৌক্তিক সমাধান হলো আলোচনা, একপক্ষের অন্য পক্ষকে বোঝার মাধ্যমে। মতের সঙ্গে না মিললেই কেউ মব সন্ত্রাস করে প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করতে পারেন না। কোনো সভ্য দেশে সেটা চলতে দেওয়া যায় না।

অনেকে বলার চেষ্টা করেছেন যে সংবাদপত্র ও টেলিভিশন ভবনে হামলার ঘটনা আগেও ঘটেছে। আইন করে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে সাংবাদিকদের বেকার করা হয়েছে। এসব অভিযোগ সত্য। তারপরও বলব, এভাবে পত্রিকা অফিস পুড়িয়ে দিয়ে লুটপাটে মত্ত হওয়া কিংবা সেই পোড়া বাড়িতে মৃত্যুর ঝুঁকিতে থাকা সাংবাদিকদের উদ্ধার করতে যাওয়া সম্পাদক-সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের হেনস্তা হওয়ার ঘটনা স্বাধীন বাংলাদেশে অতীতে ঘটেনি।

প্রথম আলো ভবনে আগুন দেওয়ার ঘণ্টা খানিক পর ডেইলি স্টারে আগুন দেওয়া হয়। ছবি: চরচা
প্রথম আলো ভবনে আগুন দেওয়ার ঘণ্টা খানিক পর ডেইলি স্টারে আগুন দেওয়া হয়। ছবি: চরচা

একাত্তরের মার্চে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনী গণহত্যার শুরুতে সংবাদ, ইত্তেফাক ও পিপলস অফিস পুড়িয়ে দিয়েছিল। এরপর ৫৪ বছর পর পুড়ল প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার অফিস। এটা কীসের আলামত? গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এক ফ্যাসিবাদকে উৎখাত করে আমরা আরেক ফ্যাসিবাদের কবলে পড়েছি কিনা, সেই প্রশ্ন তুলেছেন কবি ও ভাব আন্দোলনের নেতা ফরহাদ মযহার।

গত কয়েক দিনে আরও বেশ কিছু সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটেছে, যা আমাদের ব্যথিত ও বিচলিত না করে পারে না। ময়মনসিংহে ধর্মাবমাননার অভিযোগ এনে দীপু দাস নামে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক শ্রমিককে হত্যা করে তার লাশ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। নোয়াখালীতে দরজা বন্ধ একটি ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারা হয়েছে একটি শিশুকে। শিশুটি ঘরের ভেতর থেকে চিৎকার করে বলেছিল, “বাবা আমি মরে যাচ্ছি, আমাকে বাঁচাও।”

এই চিৎকার কেবল ওই শিশুটির নয়, পুরো বাংলাদেশের।

এই লেখা যখন লিখছি তখনই খবর পেলাম খুলনায় এনসিপি নেতাকে গুলি করা হয়েছে, যিনি এখন চিকিৎসাধীন। হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম নাসির উদ্দিন একে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে উল্লেখ করে সবাইকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ওই ঘটনা যে বিচ্ছিন্ন নয়, এমনকি তার মৃত্যুর পর যেসব অঘটন ঘটেছে, তার কোনোটাই যে বিচ্ছিন্ন নয়, সেটা বোঝার জন্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন নেই।

সোহরাব হাসান: সম্পাদক, চরচা

বিষয়: হামলাসোশ্যাল মিডিয়াপ্রথম আলোমুক্তিযুদ্ধগণমাধ্যম
সর্বশেষ
  • ১

    উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে সিকৃবিতে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত

  • ২

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট ২৯ অক্টোবর

  • ৩

    হত্যা মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হলো কলিমুল্লাহকে

  • ৪

    মনপুরায় মেঘনার পাড়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় যুবক উদ্ধার

  • ৫

    মহাখালীতে এসকেএস টাওয়ারের পেছনের ভবনে আগুন

সম্পর্কিত
  • মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    আমাদের দেশে মব আর নতুন কোনো বিষয় নয়। বরং দিনকে দিন কিছুটা স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে উঠছে যেন। কখনও বাড়ে, কখনও একটু কমে- কিন্তু মব বিদায় হচ্ছে না কোনোভাবেই। উল্টো যেন মব রপ্তানির দেশে পরিণত হচ্ছে আমাদের এই বাংলাদেশ! ভাবে? চলুন, আলোচনার ভেতরে ঢোকা যাক। শুরুতেই বর্তমানে দেশের ভেতরে মব কি অবস্থায় আছ

  • সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরতে ইউনেসকো ১৯৬৬ সালে ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ঘোষণা করে। বিশ্বজুড়ে এর উদযাপন শুরু হয় ১৯৬৭ সালে; আর স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে।

  • রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    ২৩ আগস্ট রাতে সাবেক স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর পুরো পরিবারের শেষ হয়ে যাওয়ার খবরটা প্রথম শুনে বুঝিনি যে এই ঘটনা সামনে অনেক চমক তৈরি করে রেখেছে। হত্যা রহস্য উন্মোচনের জন্য গোলকধাঁধা অপেক্ষা করছে–কে জানত? রাতে ঘুমিয়ে সকালে উঠেই শুনি দুই আসামি ধরা পড়েছে, এমনকি হত্যার দায়ও স্বীকার করে নিয়েছেন

  • সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    গত রোববার জাতীয় সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস হয়েছে। এর মধ্যে বহুলালোচিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ২০২৬’ এবং ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল ২০২৬’ নিয়ে পরে আলোচনা করার ইচ্ছা আছে। এখানে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল ২০২৬’ নিয়ে কথা বলব। এই আইনের উদ্দেশ্য–বাবা–মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়া