Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> ভাবনা

বিএনপি সরকারের এক মাস ও সংস্কার নিয়ে জটিলতা

সোহরাব হাসান

সোহরাব হাসান

প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০২৬, ২০: ০২
বিএনপি সরকারের এক মাস ও সংস্কার নিয়ে জটিলতা

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারে প্রথম মাসটি কেমন গেল এ নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহল ও আগ্রহ থাকা স্বাভাবিক। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দলটি ২০৯ আসন পেয়ে সরকার গঠন করার পর তারা জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার ওপর জোর দিয়েছে। কিন্তু ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে প্রথমেই তাকে ধাক্কা খেতে হয়েছে। জ্বালানি তেলের পাশাপাশি খাদ্যপণ্যের দামও বেড়ে চলেছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

অন্তর্বর্তী সরকার যেমন আগের সরকারের কাছ থেকে যে ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছিল বিএনপির ক্ষেত্রেও তার ইতরবিশেষ ঘটেনি। যথা পূর্বাং তথা পরং।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর প্রথম সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকারের প্রতি যেমন বিশাল প্রত্যাশা আছে, তেমনি তাদের সামনে চ্যালেঞ্জও বেশি। প্রথম চ্যালেঞ্জ হলো ভঙ্গুর অর্থনীতিকে গতিশীল করা, দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ হলো বিরোধী দলকে আস্থায় এনে গণতান্ত্রিক রূপান্তর মজবুত করা, যাতে ভবিষ্যতে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরে না আসতে পারে।

সরকার জনজীবনের সংকট মোচন ও দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ১৮০ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ, গরিব মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ও ইমাম–পুরোহিতদের জন্য মাসিক সম্মানি প্রদান। যদিও ফ্যামিলি কার্ডের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই মুহূর্তে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে মাত্র ৩৭ হাজার পরিবারকে এই সুবিধা পাচ্ছে। কিন্তু নিম্ন আয়ের মানুষের বিরাট অংশ এর বাইরে থেকে যাচ্ছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

যেখানে বিশ্বব্যাংকের হিসেব অনুযায়ী সাড়ে ৩ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে, সেখানে এই সুবিধা সমুদ্রে গোষ্পদতুল্য। ফ্যামিলি কার্ডের তালিকা নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, যা আমাদের আওয়ামী লীগ আমলের ১ কোটি স্মার্ট কার্ড প্রণয়নে নয়ছয়ের কথা মনে করিয়ে দেয়।

সংসদের শুরুর দিনই হট্টগোল, ওয়াকআউটwalkout of Jamat2

এরই মধ্যে সরকারের কপালের ভাঁজ বাড়িয়ে দিয়েছে ইরানে মার্কিন–ইসরাইয়েলি আগ্রাসন। বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানির ৮০ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী থেকে তেলবাহী জাহাজ আসতে পারছে না। জ্বালানি সংকটের কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি কৃষি, শিল্প ও পরিবহনেও মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়েছে। তদুপরি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যে ৬০ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক আছেন, যুদ্ধ প্রলম্বিত হলে তাদের রুটিরুজির ওপরও আঘাত আসবে।

এ কথা ঠিক যে নির্বাচনের আগে ও পরে তারেক রহমান নিজেকে পরিবর্তিত মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। গত এক মাসে সরকার যেসব কর্মসূচি ও পদক্ষেপ নিয়েছে, তাও প্রশংসা কুড়িয়েছে। এগুলো পদক্ষেপ হিসেবে ভালো। কিন্তু ১৮ কোটি মানুষের মৌলিক ও প্রত্যাহিক চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয় বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন।

এ প্রসঙ্গে ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম লিখেছেন, “বেকারত্ব, কম বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রপ্তানির বহুমুখীকরণ ও ব্যাংকিংখাতকে স্থিতিশীল করা বিএনপি সরকারের সামনে সবচেয়ে জরুরি অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে অন্যতম। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন এবং মতের বৈচিত্র্য ও ভিন্নমত মেনে নিতে সময় লাগবে। তবে এর প্রাথমিক লক্ষণ শুরু থেকেই থাকতে হবে।”

নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জাপানি গবেষক তরু তাকাহাশি লিখেছেন, “ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র এক মাস পার করা নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এখন এক বিশাল অগ্নিপরীক্ষার মুখে। নির্বাচনটি ছিল ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার কর্তৃত্ববাদী শাসনের পতনের পরবর্তী এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের অংশ। জেনারেশন জেড (জেন জি) বা তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে শুরু হওয়া সেই গণবিক্ষোভে প্রায় ১৪০০ মানুষ প্রাণ হারান এবং হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।”

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রাটা শুরু হয়েছে বিরোধী দলের ওয়াক আউটের মধ্য দিয়ে। জুলাই সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষমতাসীন বিএনপি ও বিরোধী দল জামায়াত–এনসিপি মুখোমুখি। বিরোধী দলের দাবি হলো, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে জুলাই সনদ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে হবে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণ করতে হবে। বিএনপির বক্তব্য হলো, জুলাই সনদের প্রতি তাদের অঙ্গীকার পূরণ করতে তাদের আপত্তি নেই। তবে সংবিধানের বাইরে যাওয়া যাবে না। সাংবিধানিক বিতর্কের মাঝেই সংসদ অধিবেশন আগামী ২৯ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি হয়ে যায়। পরবর্তী অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে ৫০ ঘণ্টা আলোচনা হবে। সেক্ষেত্রে জুলাই সনদ নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের সমাধান কীভাবে হবে পরিষ্কার নয়। ইতিমধ্যে এই জুলাই সনদ নিয়ে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক আদেশ ও গণভোট নিয়ে আদালতে রিট হয়েছে এবং আদালত সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি রুলনিশি জারি করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন, জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধী দল মুখে রাজপথ গরম করার কথা বললেও এখনই মাঠে নামছে না। তারা চেষ্টা করবে সংসদের ভেতরে ও বাইরে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে। আর বিএনপি রাষ্ট্রপতি ও জুলাই সনদ উভয় বিষয়ে দেখে শুনে এগোতে চায়।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৩ সালে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে বিরোধী দল কোনোভাবে মেনে নিতে চায় না। সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিন তারা তার ভাষণ বর্জন করেছেন। তাদের দাবি, রাষ্ট্রপতি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে তার বিরুদ্ধে অভিশংসন আনা হবে। কিন্তু যেই সংসদের দুই তৃতীয়াংশ আসন ক্ষমতাসীনদের দখলে সেই সংসদে এ ধরনের উদ্যোগ সফল হবে না, যদি বিএনপির সমর্থন না পায়। রাষ্ট্রপতির অপসারণের বিষয়েও একই কথা প্রযোজ্য। বিএনপির সমর্থন না পেলে বিরোধী দল যতই অভিশংসনের প্রস্তাব আনুক না কেন পাস করতে পারবে না।

উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়েও দুই পক্ষের মধ্যে মতভেদ স্পষ্ট। বিএনপির ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাবে উচ্চকক্ষ গঠনের কথা বলা আছে নিম্নকক্ষের আসনের অনুপাতে। জুলাই সনদে ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন করার কথা বলা আছে। বিএনপি ছাড়া সব দল ভোটের অনুপাতের পক্ষে মত দিয়েছে। এ অবস্থায় বিএনপির সদিচ্ছার ওপরই উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি নির্ভর করবে। আবার জুলাই সনদ অনুযায়ী উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের সদস্যদের গোপন ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কথা। সেক্ষেত্রে উচ্চকক্ষ গঠন না হওয়া পর্যন্ত কি বিরোধী দল অপেক্ষা করবে?

গলদের মূলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। তারা সব পক্ষকে খুশি করতে গিয়ে গোলমাল করে ফেলেছে। সরকার ও বিরোধী দল সংসদে আলোচনার মাধ্যমে এর সমাধান করবে, না সমস্যা জিইয়ে যে যার মতো রাজনৈতিক ফায়দা নিতে চাইবে সেই প্রশ্নের উত্তর পেতে আমাদের আরও কিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে।

লেখক: সম্পাদক, চরচা।

বিষয়: বিএনপিত্রয়োদশ সংসদজাতীয় ঐকমত্য কমিশনসরকারজুলাই সনদসংবিধান
সর্বশেষ
  • ১

    ই-সিগারেটসহ নতুন তামাকপণ্য ব্যবহারকারী সাড়ে ৫% তরুণ: গবেষণার ফল

  • ২

    খুলনা বিভাগে হাম-ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের মৃত্যু

  • ৩

    নির্বাচনের আগে যুদ্ধ থামবে না, তেলের দামও কমবে না: ট্রাম্প

  • ৪

    মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তি পেলেন চিন্ময় কৃষ্ণ

  • ৫

    সাংবাদিকদের দমনের উদ্দেশ্যে কোনো আইন করা হচ্ছে না: তথ্যমন্ত্রী

সম্পর্কিত
  • মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    আমাদের দেশে মব আর নতুন কোনো বিষয় নয়। বরং দিনকে দিন কিছুটা স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে উঠছে যেন। কখনও বাড়ে, কখনও একটু কমে- কিন্তু মব বিদায় হচ্ছে না কোনোভাবেই। উল্টো যেন মব রপ্তানির দেশে পরিণত হচ্ছে আমাদের এই বাংলাদেশ! ভাবে? চলুন, আলোচনার ভেতরে ঢোকা যাক। শুরুতেই বর্তমানে দেশের ভেতরে মব কি অবস্থায় আছ

  • সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরতে ইউনেসকো ১৯৬৬ সালে ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ঘোষণা করে। বিশ্বজুড়ে এর উদযাপন শুরু হয় ১৯৬৭ সালে; আর স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে।

  • রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    ২৩ আগস্ট রাতে সাবেক স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর পুরো পরিবারের শেষ হয়ে যাওয়ার খবরটা প্রথম শুনে বুঝিনি যে এই ঘটনা সামনে অনেক চমক তৈরি করে রেখেছে। হত্যা রহস্য উন্মোচনের জন্য গোলকধাঁধা অপেক্ষা করছে–কে জানত? রাতে ঘুমিয়ে সকালে উঠেই শুনি দুই আসামি ধরা পড়েছে, এমনকি হত্যার দায়ও স্বীকার করে নিয়েছেন

  • সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    গত রোববার জাতীয় সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস হয়েছে। এর মধ্যে বহুলালোচিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ২০২৬’ এবং ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল ২০২৬’ নিয়ে পরে আলোচনা করার ইচ্ছা আছে। এখানে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল ২০২৬’ নিয়ে কথা বলব। এই আইনের উদ্দেশ্য–বাবা–মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়া