Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> ভাবনা

লন্ডনের বুকে বৈশাখের রং

প্রতি বছর লন্ডনের বৈশাখী মেলায় প্রায় ৮০ থেকে ৯৫ হাজার মানুষ অংশ নেয়। নটিং হিল কার্নিভালের পর এটিকে অনেকেই দ্বিতীয় বৃহত্তম স্ট্রিট ফেস্টিভ্যাল হিসেবে বিবেচনা করেন।

ড. আজিজুল আম্বিয়া

ড. আজিজুল আম্বিয়া

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২: ১৯
লন্ডনের বুকে বৈশাখের রং

হাজারো মাইল দূরে থেকেও প্রবাসী বাঙালিরা এই দিনটিকে একই আবেগ ও আনন্দে উদ্‌যাপন করে আসছে। বিশেষ করে লন্ডনের বৈশাখী মেলা এখন শুধু একটি উৎসব নয়, বরং প্রবাসী বাঙালিদের পরিচয়, ঐক্য ও সংস্কৃতির অন্যতম বড় প্ল্যাটফর্ম।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

লন্ডনে পয়লা বৈশাখ উদ্‌যাপনের ইতিহাস খুব পুরনো না হলেও এর শিকড় গভীরে প্রোথিত। স্বাধীনতার পর থেকেই প্রবাসী বাংলাদেশিরা নিজেদের সংস্কৃতি ধরে রাখার প্রয়াসে বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট আয়োজন শুরু করে। ট্রাফালগার স্কোয়ারসহ নানা জায়গায় নববর্ষ উদ্‌যাপনের প্রবণতা ক্রমে বাড়ছে।

তবে সংগঠিত ও বৃহৎ আকারে বৈশাখী মেলার সূচনা ঘটে ১৯৯০-এর দশকে। বিশেষ করে ১৯৯১-৯৬ সময়কালে ‘দেশ বিকাশের মেলা’ নামে কিছু অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়, যা পরে বৈশাখী মেলার ভিত্তি তৈরি করে। এই ধারাবাহিকতা থেকেই ১৯৯৭ সাল থেকে বৈশাখী মেলা একটি বড় সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়।

লন্ডনের ব্রিক লেন এলাকা বহুদিন ধরেই ‘বাংলাটাউন’ নামে পরিচিত। এখানকার বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কমিউনিটির কারণে এটি প্রবাসী বাঙালিদের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

১৯৯৮ সালের ১০ মে প্রথম বড় আকারের বৈশাখী মেলা এই ব্রিক লেনেই অনুষ্ঠিত হয়। সেই আয়োজনই আজকের বিশাল বৈশাখী মেলার ভিত্তি স্থাপন করে। সময়ের সঙ্গে এই মেলা ব্রিক লেনের পাশাপাশি বেথনাল গ্রিন, উইভার্স ফিল্ডস ও অ্যালেন গার্ডেনস পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।

Boishakh
লন্ডনের ব্রিক লেনে আয়োজিত নববর্ষের উৎসব। ফাইল ছবি

বর্তমানে বৈশাখী মেলা টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটি, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়। একসময় এই মেলা সম্পূর্ণভাবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে পরিচালিত হলেও পরে এটি আরও সংগঠিত রূপ পায়। ‘বৈশাখী মেলা ট্রাস্ট লিমিটেড’ নামের একটি অলাভজনক সংস্থা এখন এর পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ডলারের দুর্বলতায় ইউয়ানের সোনালি সুযোগdollar-and-yan

বাংলা নববর্ষ সাধারণত এপ্রিল মাসের ১৪ বা ১৫ তারিখে উদ্‌যাপিত হয়। কিন্তু লন্ডনের আবহাওয়া বাংলাদেশের মতো নয়। এপ্রিল মাসে বৃষ্টি ও ঠান্ডার কারণে উন্মুক্ত স্থানে বড় আয়োজন করা কঠিন। এ কারণে লন্ডনের বৈশাখী মেলা সাধারণত মে, জুন বা কখনো জুলাই মাসে আয়োজন করা হয়, যখন আবহাওয়া তুলনামূলক উষ্ণ ও অনুকূল থাকে। ফলে প্রবাসে থেকেও উৎসবের আনন্দে কোনো ঘাটতি থাকে না।

লন্ডনের বৈশাখী মেলা নানা দিক থেকে অনন্য। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক উৎসব। এই উৎসবে যোগ দিয়েছিলেন ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ গানের গীতিকার আবদুল গাফফার চৌধুরী, বিশিষ্ট লেখক ও সাংবাদিক ইসহাক কাজলসহ অনেক গুণীজন। এখনো নিয়মিত অংশ নেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ কূটনীতিক আনোয়ার চৌধুরী। এ ছাড়া ব্রিটিশ এমপি রুশনারা আলী, আফসানা বেগমসহ অনেক রাজনীতিক, সমাজকর্মী, লেখক ও সাংবাদিকরা নিয়মিত মেলায় অংশ নেন।

মেলার অন্যতম আকর্ষণ হলো শোভাযাত্রা। বাঙালির ঐতিহ্যবাহী মোটিফ; যেমন–বাঘ, পাখি, গ্রামীণ জীবন ও লোকজ উপাদান দিয়ে সাজানো বিশাল ভাস্কর্য শোভাযাত্রাকে রঙিন করে তোলে। দিনভর চলে গান, নাচ, নাটক ও আবৃত্তির অনুষ্ঠান। বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের জনপ্রিয় শিল্পীরা এতে অংশ নেন। লোকসংগীত থেকে আধুনিক গান, এমনকি বাংলা র‍্যাপ পর্যন্ত পরিবেশিত হয়।

Mangal Shobhajatra
পয়লা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা। ফাইল ছবি

বৈশাখী মেলা মানেই বাঙালি খাবারের উৎসব। পান্তা-ইলিশ, ফুচকা, চটপটি, বিরিয়ানি, মিষ্টি–সবকিছুই পাওয়া যায়। মেলায় প্রায় এক শ বা তারও বেশি স্টল বসে, যেখানে পোশাক, গয়না, বই, হস্তশিল্পসহ নানা ধরনের পণ্য বিক্রি হয়।

এ বৈশাখী মেলা নতুন প্রজন্মকে তাদের শিকড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। বিদেশে জন্ম নেওয়া বা বেড়ে ওঠা তরুণদের কাছে এটি বাংলা সংস্কৃতি শেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তারাও গান, নাচ, নাটকসহ বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশ নেয়, যা তাদের মধ্যে আত্মপরিচয় ও সাংস্কৃতিক গর্ব তৈরি করে।

নববর্ষের ভেতর-বাহিরMangal Shobhajatra

বৈশাখী মেলা প্রবাসী বাঙালিদের জন্য একটি বড় সামাজিক প্ল্যাটফর্ম। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশি ও ব্রিটিশ সমাজের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়েরও একটি মাধ্যম।

প্রতি বছর এই মেলায় প্রায় ৮০ থেকে ৯৫ হাজার মানুষ অংশ নেয়। এটি যুক্তরাজ্যের অন্যতম বড় পথ উৎসব হিসেবে স্বীকৃত। নটিং হিল কার্নিভালের পর এটিকে অনেকেই দ্বিতীয় বৃহত্তম স্ট্রিট ফেস্টিভ্যাল হিসেবে বিবেচনা করেন। এই বিপুল জনসমাগম প্রমাণ করে–বৈশাখী মেলা শুধু বাংলাদেশিদের নয়, বরং বহুজাতিক।

এক সময় বাংলা টিভি ছিল এই মেলার প্রধান সম্প্রচারক। পরে চ্যানেল এস এই দায়িত্ব নেয়। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে বিবিসি এশিয়ান নেটওয়ার্ক মেলার পৃষ্ঠপোষকতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

লন্ডনের বৈশাখী মেলা এখন প্রবাসী বাঙালিদের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতীক, যা শিকড়ের সঙ্গে সংযোগ রক্ষার পাশাপাশি বিশ্বদরবারে বাংলা সংস্কৃতিকে তুলে ধরে।

প্রবাসে থেকেও বাঙালিরা তাদের সংস্কৃতি ভুলে যায় না–লন্ডনের বৈশাখী মেলা তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। এটি শুধু একটি উৎসব নয়, এটি একটি আবেগ, একটি পরিচয়, একটি ঐতিহ্য। নতুন প্রজন্ম, পুরনো স্মৃতি, সাংস্কৃতিক চর্চা–সবকিছু মিলিয়ে এটি প্রবাসী বাঙালিদের হৃদয়ের উৎসব।

লন্ডনের আকাশে যখন বৈশাখের রং ছড়িয়ে পড়ে, তখন মনে হয়–দেশ থেকে দূরে থেকেও বাঙালির প্রাণের উৎসব কখনো ম্লান হয় না।

লেখক: ড. আজিজুল আম্বিয়া, কলাম লেখক ও গবেষক

বিষয়: উৎসববৈশাখ চরচাবাঙালিবৈশাখ চরচা ১৪৩৩প্রবাসীনববর্ষপয়লা বৈশাখ
সর্বশেষ
  • ১

    সিএমএসএমই খাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনআরবি ব্যাংকের চুক্তি

  • ২

    উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে সিকৃবিতে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত

  • ৩

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট ২৯ অক্টোবর

  • ৪

    হত্যা মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হলো কলিমুল্লাহকে

  • ৫

    মনপুরায় মেঘনার পাড়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় যুবক উদ্ধার

সম্পর্কিত
  • মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    আমাদের দেশে মব আর নতুন কোনো বিষয় নয়। বরং দিনকে দিন কিছুটা স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে উঠছে যেন। কখনও বাড়ে, কখনও একটু কমে- কিন্তু মব বিদায় হচ্ছে না কোনোভাবেই। উল্টো যেন মব রপ্তানির দেশে পরিণত হচ্ছে আমাদের এই বাংলাদেশ! ভাবে? চলুন, আলোচনার ভেতরে ঢোকা যাক। শুরুতেই বর্তমানে দেশের ভেতরে মব কি অবস্থায় আছ

  • সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরতে ইউনেসকো ১৯৬৬ সালে ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ঘোষণা করে। বিশ্বজুড়ে এর উদযাপন শুরু হয় ১৯৬৭ সালে; আর স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে।

  • রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    ২৩ আগস্ট রাতে সাবেক স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর পুরো পরিবারের শেষ হয়ে যাওয়ার খবরটা প্রথম শুনে বুঝিনি যে এই ঘটনা সামনে অনেক চমক তৈরি করে রেখেছে। হত্যা রহস্য উন্মোচনের জন্য গোলকধাঁধা অপেক্ষা করছে–কে জানত? রাতে ঘুমিয়ে সকালে উঠেই শুনি দুই আসামি ধরা পড়েছে, এমনকি হত্যার দায়ও স্বীকার করে নিয়েছেন

  • সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    গত রোববার জাতীয় সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস হয়েছে। এর মধ্যে বহুলালোচিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ২০২৬’ এবং ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল ২০২৬’ নিয়ে পরে আলোচনা করার ইচ্ছা আছে। এখানে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল ২০২৬’ নিয়ে কথা বলব। এই আইনের উদ্দেশ্য–বাবা–মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়া