আল হেলাল শুভ

কওমীপন্থীদের সাতটি দল নিয়ে একটি নতুন জোটের ইঙ্গিত মিলছে। দলগুলোর নেতারা জানিয়েছেন, এরইমধ্যে হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ মহিবুল্লাহ বাবুনগরীর উদ্যোগে একসঙ্গে পথচলার দিকে যেতে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তারা। তবে জামায়াতে ইসলামী দাবি করছে, জামায়াত জোট (১১ দলীয় জোট) থেকে বের হয়ে যাওয়ার কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
দলগুলো হলো–জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। অপরদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে না বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন। তারাও নতুন জোটে যাবে বলে জানিয়েছে।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বাবুনগরীর আহ্বানে কওমি ঘরানার সাতটি ইসলামি দলের নেতৃবৃন্দ একটি সভা করেছেন। বাবুনগরীর সভাপতিত্বে চট্টগ্রাম ফটিকছড়ির জামেয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় সভাটি হয়। সভায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের তিনজন করে প্রতিনিধি অংশ নেন। এ ছাড়া হেফাজতের অন্তত ২০ জন কেন্দ্রীয় নেতা সভায় ছিলেন।
বিভক্তি ঘোচানোর দাবি
কওমীপন্থী ওই দলগুলোর নেতারা বলছেন, তারা হেফাজতে ইসলামের আমিরের আহ্বানে সেখানে একত্র হয়েছিলেন। হেফাজতে ইসলাম অরাজনৈতিক সংগঠন হলেও এই সংগঠনে রাজনৈতিক অনেকগুলো দল রয়েছে। দলগুলো যাতে একসঙ্গে কাজ করতে পারে, সেটাই হেফাজতে ইসলামের আমির চান। ওই দলগুলোও হেফাজত আমিরের আহ্বানে সাড়া দিতে চায়। যদিও সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হেফাজতের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাজনৈতিক দলগুলো ভিন্ন ভিন্ন জোটে যাওয়ায় কওমি অঙ্গনে বিভক্তি তৈরি হয়। এখন সেই বিভক্তি ঘুচিয়ে একত্র হতে চান কওমীপন্থী ওই দলগুলো।
সভা শেষে সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে হেফাজতের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান বলেন, সাতটি দল ঐক্যবদ্ধভাবে পথচলার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। অল্পদিনের মধ্যেই সেই ঐক্যের প্রক্রিয়া নির্ধারিত হবে। বৈঠক শেষে হেফাজতের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতেও একই ধরনের তথ্য জানানো হয়েছে।

কওমীপন্থী দলগুলোর নেতারা বলছেন, হেফাজতের আমির চান কওমি ধারার দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক দূরত্ব কমে আসুক এবং তারা নিজেদের মধ্যে একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলুক। এ জন্য প্রতিটি দলের কাছে লিখিত প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে। দলগুলো নিজ নিজ ফোরামে আলোচনা শেষে প্রস্তাব জমা দেবে। সেগুলো নিয়ে আগামী আগস্টের শুরুতে আবার বৈঠক হবে। তখন সম্ভাব্য ঐক্যের রূপরেখা চূড়ান্ত করার চেষ্টা হবে।
কওমীপন্থী এই সাতটি দলের মধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ গত সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছিল। বাকি ছয় দল জাতীয় নির্বাচনের আগে জামায়াত জোটে ছিল। যদিও নির্বাচনের আগে চরমোনই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গ ত্যাগ করে এককভাবে নির্বাচন করেছিল। এখনও দলটি রাজনীতির মাঠে জামায়াতের সঙ্গ এড়িয়ে চলছে।
জোটের পাকাপোক্ত সিদ্ধান্ত আগস্টে
নতুন জোটের বিষয়ে জানতে চাইলে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী বলেন, ‘‘কওমীপন্থী সাতটি দল একত্রে পথ চলতে চায়। এ থেকেই তো বোঝা যায় জোট হতে যাচ্ছে।” তিনি বলেন, ‘‘এখনো কিছু হয়নি। আশা করি কীভাবে কী হবে, সাত দল তা আগামী ৩ আগস্ট প্রস্তাব করবে। এরপর বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে (নতুন জোটের বিষয়ে)।”
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জামায়াতে ইসলামীর জোটে থাকছে কি না–জানতে চাইলে মহিউদ্দিন রাব্বানী বলেন, ‘‘এ বিষয়ে এখনো কিছু বলা যাচ্ছে না। আগামী ৩ আগস্টের আগে এ বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না।” তিনি বলেন, ‘‘৩ আগস্ট কওমীপন্থী সাত দল মিলে প্রস্তাব দেবে। সেটার আলোকে আগামীর সিদ্ধান্ত নির্ধারণ হবে। তখন চূড়ান্ত কিছু বোঝা যাবে। এর আগে নয়।”
জামায়াত ছাড়ার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘‘আমাদের দলের আমির (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক) দলীয় ফোরামে বসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি শূরার বৈঠক করবেন। তারপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। এটা এককভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।”
জোটে থাকবে না জামায়াতে ইসলামী
হেফাজত নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিনই হেফাজতে ইসলামের আমির চাচ্ছিলেন কওমীপন্থীরা সব একসঙ্গে থাকুক। তবে এটাকে জামায়াত-বিরোধী কিছু হচ্ছে বলে তারা মনে করেন না। তবে নতুন জোটে জামায়াত থাকছে না, এটা পরিষ্কার।
মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী বলেন, ‘‘হুজুরের ডাকে (হেফাজতে ইসলামের আমির) সকলে সাড়া দিয়েছেন। সেখানে যখন ঐক্যবদ্ধ হওয়ার অঙ্গীকার করেছেন, একসঙ্গে পথ চলবেন বলেছেন–এখন পর্যন্ত এটাই মূল বিষয়। বাকিটা এখনো বলা যাবে না।”
‘দ্বিমত নেই’ ইসলামী আন্দোলনের
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, ‘‘নতুন জোটের বিষয়ে যা বলা হয়েছে, সেটাই। সেখানে তো স্পষ্ট বলেছে, আমরা একত্রে কাজ করতে চাই।’’ তিনি বলেন, ‘‘এই জোট জামায়াত-বিরোধী হবে কেন? জামায়াতের রাজনীতি তাদের, আর কওমিদের রাজনীতি তাদের। তবে এখানে জামায়াতে ইসলামী থাকবে না।”
নতুন জোট হলে ইসলামী আন্দোলন কি সেই জোটে যাচ্ছে কি না–জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘আমরা ওই বৈঠকে ছিলাম। আর নতুন জোটের বিষয়েও দ্বিমত করিনি।”
নতুন জোট ‘কল্পিত’
তবে নতুন জোটকে ‘কল্পিত’ বলে আখ্যা দিয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মনির হোসেন কাসেমী। তিনি বলেন, ‘‘জোট করার কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। এখনো নেই। আসলে আমাদের কওমীপন্থীদের মধ্যে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, বোঝাবুঝির ক্ষেত্রে। এ জন্য আমরা (কওমীপন্থীরা) একসঙ্গে আবার কাজ করতে চাই।”
কাসেমী বলেন, “নির্বাচনের সময় কওমীপন্থীদের কেউ বিএনপির সঙ্গে, আবার কেউ জামায়াতের সঙ্গে জোটে গেল। তখন অনেকে বলল হেফাজত কি নেই কিনা–এ ধরনের ধুয়া তোলা হয়েছিল। এ জন্য হেফাজতে ইসলামের আমির সকলকে ডেকেছেন। রাজনীতি যেমনই হোক হেফাজতে ইসলাম যেন এক থাকে। আমরা তো ঐক্যবদ্ধ আগেও ছিলাম এখনো আছি। সেটাকে কোনোভাবেই জোট বলা চলে না।”
জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের এই নেতা বলেন, “রাজনৈতিক স্ট্যান্ড কার কী হলো-না হলো, হেফাজতে ইসলামের যেন কোনো সমস্যা না হয়, এই বার্তাই হেফাজতে ইসলামের আমিরের সঙ্গে বৈঠকের পর দেওয়া হয়েছে। এটাকে কোনো জোট বলা বাড়াবাড়ি।”
কওমীপন্থীদের কেউ কি জামায়াতের ওপর নাখোশ?
কওমীপন্থী দলগুলোর মধ্যে কেউ কি জামায়াতের ওপর নাখোশ কি না, তা জানতে দলগুলোর কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছে চরচা। তারা এই বিষয়ে কেউ পরিষ্কার করে কিছু না বললেও ইঙ্গিত দিয়েছেন। দলগুলোর কয়েকজন জানিয়েছেন, সংসদ নির্বাচনে সমঝোতার ভিত্তিতে আসন না পাওয়া এবং আদর্শিক বিরোধের কারণে খেলাফত আন্দোলন গত ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের পর থেকেই ১১ দলীয় ঐক্যের মাঠের কর্মসূচিতে অনুপস্থিত। তবে তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিয়ে এখনই বিষয়গুলো সামনে আনতে চান না।
এই বিষয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এক নেতা বলেন, “সবকিছু তো মিডিয়ায় প্রচারের মতো না। অনেকেই তো জামায়াতের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে না বললেও ভেতরে ভেতরে অনেক কিছুই থাকে। এমন আলোচনা তো হয়ই, সব আলোচনা কি মিডিয়ায় প্রকাশ করা যায়?”
জামায়াত জোটের সঙ্গে দলগুলোর দূরত্ব বেড়েছে?
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের নেতারা বলছেন, সংসদ নির্বাচনের পর ১১ দলীয় ঐক্যের শরিকদের কয়েকজনের সঙ্গে মূল দল জামায়াতের দূরত্ব বেড়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ১১ দলীয় জোটের কোনো কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে না। তবে জামায়াত থেকে বলা হচ্ছে, ১১ দলীয় জোট অটুট আছে এবং এই জোট থাকবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে খেলাফত আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মাওলানা সাইফুল ইসলাম সুনামগঞ্জী চরচাকে বলেন, “দলের আমিরের নির্দেশনায় আমরা কেউ জামায়াত জোটের (১১ দলীয় জোট) কর্মসূচিতে যাচ্ছি না।”
কেন জামায়াত জোটের কর্মসূচিতে যাচ্ছেন না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা নির্বাচনের পর থেকেই ওই জোটে নাই। আমরা তো নির্বাচনও আলাদা করেছি।”
কওমীপন্থীদের সাত দল মিলে যে জোট, সেখানে খেলাফত আন্দোলন আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা যাব। তবে শর্ত সাপেক্ষে।”
জামায়াতের দাবি–১১ দল আছে, থাকবে
১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ চরচাকে বলেন, “আমার জানামতে, ১১ দল থেকে কেউ বেরিয়ে যাওয়ার কোনো বিষয় নেই। কেউ হয়তো অসুস্থতার জন্য কর্মসূচিতে নাও আসতে পারে। এর আগে যখন ২০ দল (বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের সাবেক জোট) ছিল, তখনও তো সব কর্মসূচিতে সবাই আসত না।” তিনি বলেন, “১১ দল আছে, থাকবে ইনশাল্লাহ।”

কওমীপন্থীদের সাতটি দল নিয়ে একটি নতুন জোটের ইঙ্গিত মিলছে। দলগুলোর নেতারা জানিয়েছেন, এরইমধ্যে হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ মহিবুল্লাহ বাবুনগরীর উদ্যোগে একসঙ্গে পথচলার দিকে যেতে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তারা। তবে জামায়াতে ইসলামী দাবি করছে, জামায়াত জোট (১১ দলীয় জোট) থেকে বের হয়ে যাওয়ার কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
দলগুলো হলো–জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। অপরদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে না বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন। তারাও নতুন জোটে যাবে বলে জানিয়েছে।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বাবুনগরীর আহ্বানে কওমি ঘরানার সাতটি ইসলামি দলের নেতৃবৃন্দ একটি সভা করেছেন। বাবুনগরীর সভাপতিত্বে চট্টগ্রাম ফটিকছড়ির জামেয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় সভাটি হয়। সভায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের তিনজন করে প্রতিনিধি অংশ নেন। এ ছাড়া হেফাজতের অন্তত ২০ জন কেন্দ্রীয় নেতা সভায় ছিলেন।
বিভক্তি ঘোচানোর দাবি
কওমীপন্থী ওই দলগুলোর নেতারা বলছেন, তারা হেফাজতে ইসলামের আমিরের আহ্বানে সেখানে একত্র হয়েছিলেন। হেফাজতে ইসলাম অরাজনৈতিক সংগঠন হলেও এই সংগঠনে রাজনৈতিক অনেকগুলো দল রয়েছে। দলগুলো যাতে একসঙ্গে কাজ করতে পারে, সেটাই হেফাজতে ইসলামের আমির চান। ওই দলগুলোও হেফাজত আমিরের আহ্বানে সাড়া দিতে চায়। যদিও সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হেফাজতের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাজনৈতিক দলগুলো ভিন্ন ভিন্ন জোটে যাওয়ায় কওমি অঙ্গনে বিভক্তি তৈরি হয়। এখন সেই বিভক্তি ঘুচিয়ে একত্র হতে চান কওমীপন্থী ওই দলগুলো।
সভা শেষে সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে হেফাজতের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান বলেন, সাতটি দল ঐক্যবদ্ধভাবে পথচলার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। অল্পদিনের মধ্যেই সেই ঐক্যের প্রক্রিয়া নির্ধারিত হবে। বৈঠক শেষে হেফাজতের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতেও একই ধরনের তথ্য জানানো হয়েছে।

কওমীপন্থী দলগুলোর নেতারা বলছেন, হেফাজতের আমির চান কওমি ধারার দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক দূরত্ব কমে আসুক এবং তারা নিজেদের মধ্যে একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলুক। এ জন্য প্রতিটি দলের কাছে লিখিত প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে। দলগুলো নিজ নিজ ফোরামে আলোচনা শেষে প্রস্তাব জমা দেবে। সেগুলো নিয়ে আগামী আগস্টের শুরুতে আবার বৈঠক হবে। তখন সম্ভাব্য ঐক্যের রূপরেখা চূড়ান্ত করার চেষ্টা হবে।
কওমীপন্থী এই সাতটি দলের মধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ গত সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছিল। বাকি ছয় দল জাতীয় নির্বাচনের আগে জামায়াত জোটে ছিল। যদিও নির্বাচনের আগে চরমোনই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গ ত্যাগ করে এককভাবে নির্বাচন করেছিল। এখনও দলটি রাজনীতির মাঠে জামায়াতের সঙ্গ এড়িয়ে চলছে।
জোটের পাকাপোক্ত সিদ্ধান্ত আগস্টে
নতুন জোটের বিষয়ে জানতে চাইলে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী বলেন, ‘‘কওমীপন্থী সাতটি দল একত্রে পথ চলতে চায়। এ থেকেই তো বোঝা যায় জোট হতে যাচ্ছে।” তিনি বলেন, ‘‘এখনো কিছু হয়নি। আশা করি কীভাবে কী হবে, সাত দল তা আগামী ৩ আগস্ট প্রস্তাব করবে। এরপর বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে (নতুন জোটের বিষয়ে)।”
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জামায়াতে ইসলামীর জোটে থাকছে কি না–জানতে চাইলে মহিউদ্দিন রাব্বানী বলেন, ‘‘এ বিষয়ে এখনো কিছু বলা যাচ্ছে না। আগামী ৩ আগস্টের আগে এ বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না।” তিনি বলেন, ‘‘৩ আগস্ট কওমীপন্থী সাত দল মিলে প্রস্তাব দেবে। সেটার আলোকে আগামীর সিদ্ধান্ত নির্ধারণ হবে। তখন চূড়ান্ত কিছু বোঝা যাবে। এর আগে নয়।”
জামায়াত ছাড়ার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘‘আমাদের দলের আমির (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক) দলীয় ফোরামে বসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি শূরার বৈঠক করবেন। তারপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। এটা এককভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।”
জোটে থাকবে না জামায়াতে ইসলামী
হেফাজত নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিনই হেফাজতে ইসলামের আমির চাচ্ছিলেন কওমীপন্থীরা সব একসঙ্গে থাকুক। তবে এটাকে জামায়াত-বিরোধী কিছু হচ্ছে বলে তারা মনে করেন না। তবে নতুন জোটে জামায়াত থাকছে না, এটা পরিষ্কার।
মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী বলেন, ‘‘হুজুরের ডাকে (হেফাজতে ইসলামের আমির) সকলে সাড়া দিয়েছেন। সেখানে যখন ঐক্যবদ্ধ হওয়ার অঙ্গীকার করেছেন, একসঙ্গে পথ চলবেন বলেছেন–এখন পর্যন্ত এটাই মূল বিষয়। বাকিটা এখনো বলা যাবে না।”
‘দ্বিমত নেই’ ইসলামী আন্দোলনের
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, ‘‘নতুন জোটের বিষয়ে যা বলা হয়েছে, সেটাই। সেখানে তো স্পষ্ট বলেছে, আমরা একত্রে কাজ করতে চাই।’’ তিনি বলেন, ‘‘এই জোট জামায়াত-বিরোধী হবে কেন? জামায়াতের রাজনীতি তাদের, আর কওমিদের রাজনীতি তাদের। তবে এখানে জামায়াতে ইসলামী থাকবে না।”
নতুন জোট হলে ইসলামী আন্দোলন কি সেই জোটে যাচ্ছে কি না–জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘আমরা ওই বৈঠকে ছিলাম। আর নতুন জোটের বিষয়েও দ্বিমত করিনি।”
নতুন জোট ‘কল্পিত’
তবে নতুন জোটকে ‘কল্পিত’ বলে আখ্যা দিয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মনির হোসেন কাসেমী। তিনি বলেন, ‘‘জোট করার কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। এখনো নেই। আসলে আমাদের কওমীপন্থীদের মধ্যে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, বোঝাবুঝির ক্ষেত্রে। এ জন্য আমরা (কওমীপন্থীরা) একসঙ্গে আবার কাজ করতে চাই।”
কাসেমী বলেন, “নির্বাচনের সময় কওমীপন্থীদের কেউ বিএনপির সঙ্গে, আবার কেউ জামায়াতের সঙ্গে জোটে গেল। তখন অনেকে বলল হেফাজত কি নেই কিনা–এ ধরনের ধুয়া তোলা হয়েছিল। এ জন্য হেফাজতে ইসলামের আমির সকলকে ডেকেছেন। রাজনীতি যেমনই হোক হেফাজতে ইসলাম যেন এক থাকে। আমরা তো ঐক্যবদ্ধ আগেও ছিলাম এখনো আছি। সেটাকে কোনোভাবেই জোট বলা চলে না।”
জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের এই নেতা বলেন, “রাজনৈতিক স্ট্যান্ড কার কী হলো-না হলো, হেফাজতে ইসলামের যেন কোনো সমস্যা না হয়, এই বার্তাই হেফাজতে ইসলামের আমিরের সঙ্গে বৈঠকের পর দেওয়া হয়েছে। এটাকে কোনো জোট বলা বাড়াবাড়ি।”
কওমীপন্থীদের কেউ কি জামায়াতের ওপর নাখোশ?
কওমীপন্থী দলগুলোর মধ্যে কেউ কি জামায়াতের ওপর নাখোশ কি না, তা জানতে দলগুলোর কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছে চরচা। তারা এই বিষয়ে কেউ পরিষ্কার করে কিছু না বললেও ইঙ্গিত দিয়েছেন। দলগুলোর কয়েকজন জানিয়েছেন, সংসদ নির্বাচনে সমঝোতার ভিত্তিতে আসন না পাওয়া এবং আদর্শিক বিরোধের কারণে খেলাফত আন্দোলন গত ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের পর থেকেই ১১ দলীয় ঐক্যের মাঠের কর্মসূচিতে অনুপস্থিত। তবে তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিয়ে এখনই বিষয়গুলো সামনে আনতে চান না।
এই বিষয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এক নেতা বলেন, “সবকিছু তো মিডিয়ায় প্রচারের মতো না। অনেকেই তো জামায়াতের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে না বললেও ভেতরে ভেতরে অনেক কিছুই থাকে। এমন আলোচনা তো হয়ই, সব আলোচনা কি মিডিয়ায় প্রকাশ করা যায়?”
জামায়াত জোটের সঙ্গে দলগুলোর দূরত্ব বেড়েছে?
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের নেতারা বলছেন, সংসদ নির্বাচনের পর ১১ দলীয় ঐক্যের শরিকদের কয়েকজনের সঙ্গে মূল দল জামায়াতের দূরত্ব বেড়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ১১ দলীয় জোটের কোনো কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে না। তবে জামায়াত থেকে বলা হচ্ছে, ১১ দলীয় জোট অটুট আছে এবং এই জোট থাকবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে খেলাফত আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মাওলানা সাইফুল ইসলাম সুনামগঞ্জী চরচাকে বলেন, “দলের আমিরের নির্দেশনায় আমরা কেউ জামায়াত জোটের (১১ দলীয় জোট) কর্মসূচিতে যাচ্ছি না।”
কেন জামায়াত জোটের কর্মসূচিতে যাচ্ছেন না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা নির্বাচনের পর থেকেই ওই জোটে নাই। আমরা তো নির্বাচনও আলাদা করেছি।”
কওমীপন্থীদের সাত দল মিলে যে জোট, সেখানে খেলাফত আন্দোলন আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা যাব। তবে শর্ত সাপেক্ষে।”
জামায়াতের দাবি–১১ দল আছে, থাকবে
১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ চরচাকে বলেন, “আমার জানামতে, ১১ দল থেকে কেউ বেরিয়ে যাওয়ার কোনো বিষয় নেই। কেউ হয়তো অসুস্থতার জন্য কর্মসূচিতে নাও আসতে পারে। এর আগে যখন ২০ দল (বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের সাবেক জোট) ছিল, তখনও তো সব কর্মসূচিতে সবাই আসত না।” তিনি বলেন, “১১ দল আছে, থাকবে ইনশাল্লাহ।”

চট্টগ্রামে সম্প্রতি প্রকাশ্যে গুলি করে মানুষ হত্যা, টেলিফোনে হুমকি দিয়ে বিভিন্নজনের কাছ থেকে চাঁদা দাবি, চাঁদা চেয়ে বাসভবনের বাইরে ফাঁকা গুলি ছোড়া, না পেয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাংচুরসহ নানা ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত হিসেবে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের তালিকাভুক্ত কয়েকজন সন্ত্রাসীর নাম

রাজধানীর আমিনবাজারে নির্মাণাধীন নর্থ ঢাকা ওয়েস্ট-টু-এনার্জি পাওয়ার প্ল্যান্টে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ দুবছর পর ২০২৮ সালের আগস্টে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। এটি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি মেগা প্রকল্প। প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিদিন ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টন সলিড বর্জ্য পুড়িয়ে