Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশেষ প্রতিবেদন

হামের প্রকোপ: সরকারও দৌড়াচ্ছে, সমাধান কত দূর

চৌধুরী মাছাবিহ্
আল হেলাল শুভ

চৌধুরী মাছাবিহ্ ও আল হেলাল শুভ

প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২৬, ২২: ২৮
হামের প্রকোপ: সরকারও দৌড়াচ্ছে, সমাধান কত দূর
হামে আক্রান্ত শিশু। ছবি: চরচা

‘‘ছোট সন্তানকে দাফন করে বাসায় আসি। কয়েক দিন পর মেয়ের আবারও জ্বর, কাশি ও ডায়রিয়া হয়। আজকে এক সপ্তাহ এখানে আছি। মেয়ে অনেকটা সুস্থ।’’ আট মাস বয়সী ছেলে হামে আক্রান্ত হয়ে চলে যাওয়ার পর শোকের সময়টুকুও ঠিকমতো পাননি রাসেল মিয়া। হামে আক্রান্ত আড়াই বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে তাকে ছুটতে হচ্ছে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

গতকাল শুক্রবার দুপুরে শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে চরচার এক প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয়েছিল রাসেল মিয়ার। সে আলাপে হামে আক্রান্ত ছেলের রোগ সময়মতো শনাক্ত না হওয়া থেকে শুরু করে চিকিৎসা নিয়ে ছোটাছুটি ও হয়রানির চিত্র উঠে এল। এমন ভুক্তভোগী অবশ্য রাসেল একা নন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

গত কয়েক দিনে রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে আবারও হামের রোগী বাড়ছে বলে জানিয়েছেন হামের চিকিৎসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও নার্সরা।

এ বিষয়ে মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এফ এ আসমা খান চরচাকে বলেন, ‘‘হাম রোগী বেড়েছে। কালকে (শুক্রবার) ৮-৯টি শিশু ভর্তি হয়েছে।’’

এই চিকিৎসক বলেন, “হামের প্রকোপ যখন কমে গিয়েছিল, তখন আমরা বেড বন্ধ করে দিয়েছিলাম। আবার সেগুলো চালু করতে হচ্ছে।”

অসুস্থ শিশুদের নিয়ে হাসপাতালে অভিভাবকদের ভিড়। ছবি: চরচা
অসুস্থ শিশুদের নিয়ে হাসপাতালে অভিভাবকদের ভিড়। ছবি: চরচা

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, গত ১৫ থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত হাম উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে পাঁচ হাজার ৬৬৭টি শিশু। এ সময়ে এ উপসর্গে মোট ২৩টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

চিকিৎসা নাকি ভোগান্তি

ফেরা যাক রাসেল মিয়ার কাছে। আলাপে দুই সন্তানকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘোরার তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানান রাসেল মিয়া।

চরচাকে তিনি বলেন, “আমার ছোট সন্তানকে জ্বর, কাশি উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চার দিন রাখা হয়। এরপরও ডাক্তাররা হামের বিষয়টি ধরতে পারেননি। তারা বাচ্চার শরীরে হওয়া র‍্যাশ কিংবা দাগকে ঘামের বিচি বলছিল। বাচ্চার শারীরিক অসুস্থতা বেড়ে গেলে আমাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলে। ওখানে নেওয়ার পর আমার বাচ্চার শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে আইসিইউতে নিয়ে যেতে বলে। তখন চট্টগ্রামের মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে গেলে তারাও আমার সন্তানকে আইসিইউতে চিকিৎসা দেয়।”

রাসেল মিয়ার অভিযোগ, “হামের ওয়ার্ড থাকার পরও তারা তাকে ওখানে দেয়নি। আমি জোর দিয়ে বলার পর তারা বলে হাম হয়েছে। তখন তারা আইসিইউতে নিতে বলে। আইসিইউতে দুই দিন রাখার পর আমার সন্তান মারা যায়। ওই সময় আমার বড় মেয়েরও জ্বর, কাশি হয়। তাকেও হামের চিকিৎসা করায়। এর মধ্যে সে ভালো হয়ে যায়।”

নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রাসেল মিয়া বলেন, “ছোট সন্তানকে দাফন করে বাসায় আসি। কয়েক দিন পর মেয়ের আবারও জ্বর, কাশি ও ডায়রিয়া হয়। তখন স্থানীয় ডাক্তারকে দেখানো হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে বলে। আবারো মা ও শিশু হাসপাতালে আমার মেয়েকে নিয়ে যাই। ওখানে তিন দিন রাখার পর মেয়ের কোনো উন্নতি না দেখে এখানে নিয়ে আসি। আজকে এক সপ্তাহ এখানে আছি। মেয়ে অনেকটা সুস্থ।”

এদিকে, মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ছেলে আব্দুল্লাকে নিয়ে গত বুধবার এসেছিলেন অটোরিকশাচালক বাবলু। তার সন্তানের বয়স এক বছর। হাসপাতালে বেড পাননি। জায়গা হয়েছে বারান্দায়।

হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু measles (4).jpg

বাবলু বলেন, “প্রথমে জ্বর হয়েছিল, সঙ্গে পাতলা পায়খানা। এ জন্য ছেলেকে মহাখালী কলেরা হাসপাতালে নিয়ে যাই। পরে বৃহস্পতিবার রাতে তাকে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে বলা হয়, শিশুটির হাম হয়েছে।” তিনি বলেন, “রোগী অনেক বেশি। আমার ছেলেটা অনেক অসুস্থ।”

রাসেল মিয়ার অভিযোগটি কিন্তু গুরুতর। কারণ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অনেক দিন থেকেই বলছেন, হামের এই সংক্রমণের সময়ে বিশেষত শিশুদের ক্ষেত্রে জ্বর হলে তাকে হাম ধরে নিয়েই চিকিৎসা দিতে হবে। তাহলে ঝুঁকি অনেকটা কমে যাবে।

চরচাকে দেওয়া স্বাক্ষাৎকারে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, “যেহেতু এখন শিশুদের মধ্যে হাম ছড়াচ্ছে, সেহেতু কোনো শিশুর জ্বর হলে, তাকে প্রথমেই হাম ধরে নিয়ে চিকিৎসা দিতে হবে। স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফল আসার জন্য অপেক্ষা না করে চিকিৎসা শুরু করতে হবে আগেই।”

অথচ রাসেল মিয়ার ছেলের ক্ষেত্রে ঘটনাটি ঠিক উল্টো হয়েছে।

এদিকে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নিয়ে ভোগান্তির অভিযোগ তুললেন কাজী মিঠুন। কল্যাণপুরের বাসিন্দা কাজী মিঠুনের ছেলের বয়স সাত মাস। জ্বরের সাত দিন পর তাকে আগারগাঁওয়ের শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কাজী মিঠুন বলেন, “এখানে ভর্তি প্রক্রিয়া অনেক জটিল। অনেক ঘুরতে হয়েছে। অনেকে (ভর্তি হওয়া রোগীদের অভিভাবক) আমাকে একই কথা বলেছে। সরকার যদি এখনই সিরিয়াস না হয়, তাহলে এটা আরও খারাপ হবে বলেই মনে হচ্ছে। আমার ছেলেকে নিয়েও ভয়ে আছি।”

রয়েছে আইসিইউ সংকট। কাজী মিঠুন বলেন, ‘‘ছেলেকে ভর্তি করার সময় আমাকে বলা হয়েছে, চাইলেই আইসিইউ দেওয়া সম্ভব হবে না। এটা যদি মানেন, তাহলেই ছেলেকে ভর্তি করান।”

রাজধানীর একটি হাসপাতালের ওয়ার্ড। ছবি: চরচা
রাজধানীর একটি হাসপাতালের ওয়ার্ড। ছবি: চরচা

শিশু রোগী নিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে আলাপে এমন নানা ধরনের ভোগান্তির চিত্র উঠে এল। সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে গাজীপুর থেকে নয় মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে আসা ওমর ফারুকের অভিযোগ ঠিকমতো চিকিৎসা না পাওয়ার। একইভাবে একই হাসপাতালে আসা সায়মা আক্তার কিংবা ডিএনসিসি হাসপাতালে সন্তানকে নিয়ে আসা উর্মি বেগমদের অভিজ্ঞতা হলো সন্তানকে নিয়ে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ঘোরার এবং বিলম্বিত আরোগ্যের।

হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর চাপ

এদিকে রোগী ও তার স্বজনরা যেমন হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নিয়ে সংকটে আছে, তেমনি হাসপাতালগুলোও রয়েছে অত্যধিক রোগীর চাপে।

হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের হাম বিশেষায়িত ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্স প্রতিভা রিবেরু চরচাকে বলেন, “কয়েক দিন চাপ বেশি। যে বেডগুলো ফাঁকা ছিল, তা ভরে গেছে। নিজের চোখেই তো দেখছেন, শিশুদের কী অবস্থা। এখন সারা দেশ থেকেই রোগী আসছে।”

এই নার্স আরও বলেন, “এখানে জটিল রোগীদের ভর্তি করা হয়। হামের চিকিৎসার জন্য আরও ওয়ার্ড এই হাসপাতালেই আছে।’’

ওই হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্স শরিফা খাতুনও রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির কথা জানালেন। বললেন, “এখানে কয়েক মাস ধরেই ওয়ার্ড ভর্তি থাকে। এখন তো আরও বাড়ছে, তাই বেড কখনোই খালি থাকে না।”

ভুল চিকিৎসার অভিযোগে ঢামেকের চিকিৎসকের ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ১DMC}

শরিফা বলেন, “সারা দেশের দূর-দূরান্ত থেকে রোগী আসছে। ঢাকার রোগীও আসছে। আমাদের ওয়ার্ডে বৃহস্পতিবার ৯ জন রিলিজ হয়েছে। এর পরপরই সেগুলো আবারও রোগীতে ভর্তি হয়ে গেছে।”

শুধু শিশু নয়, হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে প্রাপ্তবয়স্করাও। শুক্রবার মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে গিয়ে জানা গেল সেখানে প্রাপ্তবয়স্ক রোগীও ভর্তি হচ্ছে। এমন দুজন রোগীকে ওইদিন আইসিইউতে ভর্তি করা হয় বলেও জানান কর্তব্যরত এক চিকিৎসক।

হাসপাতালটিতে শুক্রবার হামের উপসর্গ নিয়ে আটজন ভর্তি হয়েছে বলে জানান হাসপাতালটির নার্স মাসুমা খাতুন। এর আগে ২০ আগস্ট ১০ জন এবং ১৯ আগস্ট চারজন ভর্তি হয়। শুক্রবার সব মিলিয়ে সেখানে হাম ওয়ার্ডে রোগী ছিল ২৬ জন।

কেন এই সংক্রমণ বৃদ্ধি?

হামের সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে অপুষ্টির কথা বলছেন চিকিৎসকরা। পাশাপাশি অত্যধিক গরমের এই সময়ে চলা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শিশুদের ঠান্ডা আক্রান্ত হওয়ার কথাও বলছেন তারা।

এ বিষয়ে মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এফ এ আসমা খান চরচাকে বলেন, ‘‘মায়েরা আজকাল বাচ্চাদের বুকের দুধ খাওয়াতে চায় না। মায়ের দুধ না খাওয়ালে যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মায়ের কাছ থেকে পাওয়ার কথা, সেটা শিশু পাচ্ছে না। আমরা বাচ্চাকে ৯ মাসে টিকা দিতাম, এখন তা ৬ মাসে নেমে আসছে। এ ৬ মাস তো তাকে বুকের দুধ খাইয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হবে। কৌটার দুধ খেলে বাচ্চার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হচ্ছে না। এ জন্য ৬ মাসের নিচেও বাচ্চারা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।”

পাশাপাশি অতিরিক্ত গরমের কথাও বললেন এই চিকিৎসক। চরচাকে তিনি বলেন, “অতিরিক্ত গরমে বাচ্চাদের ঠান্ডা লেগে যাচ্ছে। জ্বর আসছে। এখন বিদ্যুৎ যাচ্ছে বেশি। এ কারণে বাচ্চাদের ঠান্ডা লেগে যাচ্ছে। এখনো যে হাম, তা সন্দেহমূলক অবস্থায়ই আছে। এটা নিশ্চিত হাম–এটা বলা যাবে না।”

তবে এই সংক্রমণ বৃদ্ধি হঠাৎ করে হয়েছে–এমনটা মানতে নারাজ মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক শামীমা আলম। তিনি বলেন, “এটা হঠাৎ বাড়েনি। এটা তো আসলে ভাইরাল। যে শিশুগুলো এখন আক্রান্ত হচ্ছে।”

শিশুদের নিয়ে হাসপাতালে অভিভাবকরা। ছবি: চরচা
শিশুদের নিয়ে হাসপাতালে অভিভাবকরা। ছবি: চরচা

মুখ্য কারণ হিসেবে তিনি টিকা নাদেওয়ার বিষয়টিকে সামনে আনলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হামের টিকা দেওয়া হয়নি–এমন শিশুরাই এখন বেশি আক্রান্ত হচ্ছে এবং তাদের মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে।

অপুষ্টির বিষয়ে শামীমা আলম বলেন, “হ্যাঁ, অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সবচেয়ে খারাপ থাকে। শুধু হাম নয়, তাদের অন্য কিছুও তো হতে পারে। তবে বেশির ভাগ হাম আক্রান্ত রোগীর অপুষ্টিজনিত সমস্যা রয়েছে।”

অপুষ্টির বিষয়টি উঠে এসেছে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এবং আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি)-এর যৌথভাবে করা এক গবেষণায়ও। এতে দেখা গেছে, হামে আক্রান্ত ৬৫ শতাংশ শিশু মাঝারি থেকে তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা শিশুদের নমুনা পরীক্ষায় ৯৫ শতাংশের হাম শনাক্ত হয়েছে। গত বুধবার এ গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

এদিকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, “অপুষ্টি নিঃসন্দেহে একটি বড় কারণ। টিকা সময়মতো না দেওয়াটাও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে। মূলত দীর্ঘদিন ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন না চালানো এবং টিকা কর্মসূচি বন্ধ থাকার ধাক্কা এই সময়ে সামলাতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে দ্রুত ফল পাওয়া যাবে না। তবে টিকা কর্মসূচির পাশাপাশি ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন জোরদার করাটা ভীষণভাবে জরুরি, যা হার্ড ইমিউনিটি অর্জনে সহায়ক।”

চলতি বছরের জুনের শেষদিকে ভিটামিন ক্যাম্পেইন চালানো হয়। পাশাপাশি হামের টিকাও সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে এর বিতরণ ও কর্মসূচির পরিসর আরও ব্যাপক হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

কী বলছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়

বাংলাদেশে হাম ফিরে আসার জন্য ঠিকমতো টিকা দিতে না পারাকেই দায়ী করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. সাখাওয়াত হোসেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত ৫ এপ্রিল থেকে হামের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এতে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে।

গত বুধবার হাম নিয়ে প্রকাশিত গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বলেন, “দেশের মানুষ হামের মহামারির মধ্যে পড়ে গেছে। হামের এই প্রাদুর্ভাব থামানো কঠিন। হাম থামাতে টিকা ছাড়া আর কোনো পথ জানা নেই।”

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, টিকা দেওয়ার জন্য মাঠকর্মীর পদ আছে ৪০ হাজার। এসব পদে মানুষ আছে ২৫ হাজার। প্রায় ৪০ শতাংশ পদ খালি রেখে সব শিশুকে টিকা দেওয়া সম্ভব নয়।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বহুমাত্রিক ব্যর্থতার কারণে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ‘ম্যাজিক বুলেট’ দিয়ে এটি ঠিক করা যাবে না। তিনি বলেন, “সবকিছু ঠিক থাকলে হাম নিয়ন্ত্রণে আসতে কমপক্ষে দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে।”

চিকিৎসকদের মতে, হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করা, প্রথম ছয় মাস মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো এবং জ্বর, কাশি ও শরীরে র‍্যাশ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ সামাল দিতে পর্যাপ্ত বেড, আইসিইউ ও চিকিৎসা-সুবিধা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

বিষয়: চিকিৎসামৃত্যুসরকারচিকিৎসকহাম
সর্বশেষ
  • ১

    লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

  • ২

    মহাখালীতে পরিত্যক্ত ভবনে আগুন

  • ৩

    রাজধানীর ধানমন্ডিতে ভবনে আগুন

  • ৪

    হংকংয়ের বিনিয়োগ আকর্ষণে বিশেষ সুবিধার প্রস্তাব বাংলাদেশের

  • ৫

    মেঘের শারীরিক অবস্থা এখনো ‘অস্থিতিশীল’, মেডিকেল বোর্ড গঠন

সম্পর্কিত
  • সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক: তিন দিনে ২৬ হাজার গ্রাহক তুললেন কত টাকা

    সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক: তিন দিনে ২৬ হাজার গ্রাহক তুললেন কত টাকা

    সংকটে পড়া পাঁচ ব্যাংক একীভূত হয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে আমানত ফেরত দেওয়া চলছে। টাকা তোলার জন্য আবেদন গ্রহণ শুরুর পর প্রথম তিন দিনে ৫৮ হাজার ৭৪৫ জন গ্রাহক মোট ৩ হাজার ৩০৪ কোটি টাকা উত্তোলনের আবেদন করেছেন। এর মধ্যে ৭ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দিনে ২৬ হাজার ৫৬ জন গ্রাহক ব্যাংক থেকে মো

  • সিলেট নগরে যানজট: দায় কার, হকার নাকি অবৈধ পার্কিংয়ের?

    সিলেট নগরে যানজট: দায় কার, হকার নাকি অবৈধ পার্কিংয়ের?

    ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি জানান, যানজটমুক্ত ও সুন্দর সিলেটের কথা চিন্তা করে এই আধুনিক লাক্সারি বাসস্ট্যান্ড তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু ঘুরেফিরে ওই মূল রাস্তাতেই বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলা হয়। এসব দেখার বা বলার কেউ নেই।

  • আশুলিয়ায় ‘ট্রিপল মার্ডার’, যা জানা গেল

    আশুলিয়ায় ‘ট্রিপল মার্ডার’, যা জানা গেল

    ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়ার ‘ট্রিপল মার্ডারের’ রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে পরকীয়া সংক্রান্ত বিরোধের তথ্য পাওয়ার কথা বলছে সংস্থাটি। এ ঘটনায় মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। সোমবার মধ্যরাতে তাকে আশুলিয়ার নরসিংহপুর থেকে

  • এজেন্টদের অভিযোগ এন্তার, বিকাশ বলছে ‘ভিত্তিহীন’

    এজেন্টদের অভিযোগ এন্তার, বিকাশ বলছে ‘ভিত্তিহীন’

    মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান বিকাশ–এর বিরুদ্ধে এজেন্টদের ওপর ডিপিএস ও লেনদেনের টার্গেট পূরণে চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। অবশ্য বিকাশ এসব অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলেই উড়িয়ে দিয়েছে। ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে