‘হাওয়া’ থেকে ‘রইদ’: বাউল-ব্যান্ডের রসায়নে সিনেমার গানে হাওয়া বদল
তুহিন কান্তি দাস
‘হাওয়া’ থেকে ‘রইদ’: বাউল-ব্যান্ডের রসায়নে সিনেমার গানে হাওয়া বদল
তুহিন কান্তি দাস
প্রকাশ : ২৬ মে ২০২৬, ১৯: ১৩
নতুন করে আবার আলোচনায় এসেছে বাংলা চলচ্চিত্রের গান। ছবি: ফেসবুক
সহজিয়ার ‘রইদ’, মেঘদলের ‘হাওয়া’ কিংবা হাশিম মাহমুদের ‘সাদা সাদা কালা কালা’, বীরভূমের মনিরুদ্দিন আহমেদের ‘আটটা বাজে দেরি করিস না’ অথাবা মাতান চাঁদ গোসাইয়ের লেখা কানাই দাস বাউলের গাওয়া ‘মন ছাড়া কি মনের মানুষ রয়’। হাওয়া থেকে রইদ চলচ্চিত্রের গানে চমক দেখাচ্ছেন পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমন। যেন সিনেমার গানে হাওয়া বদল।
হাওয়া সিনেমার পর রইদেও দেখালেন জাদু। দুই চলচ্চিত্রের মোট ৫টি গান যথারীতি বাংলা চলচ্চিত্রের সংগীতে নতুন করে প্রাণ দিচ্ছে। গানগুলো শহুরে রুচিশীল মানুষের গণ্ডি পেরিয়ে জায়গা করে নিচ্ছে জনমানুষের পছন্দের তালিকায়। এর মাধ্যমে নতুন করে আবার আলোচনায় এসেছে বাংলা চলচ্চিত্রের গান।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলা সিনেমার গান সকল শ্রেণির স্রোতামহলে খুব একটা পৌঁছাচ্ছে না। সিনেমার একটা থেকে দুইটা গান নির্দিষ্ট এক শ্রেণির মানুষকে সুরের মূর্চ্ছনায় ভাসালেও গ্রাম-নগরের সকল বয়সী মানুষের মনের খোরাক মেটাতে পারছিল না। কিন্তু এই দুই চলচ্চিত্রের ‘সাদা সাদা কালা কালা’, ‘আটটা বাজে দেরি করিস না’, ‘রইদে আইলা গা জুড়াইতে’ কিংবা ‘মন ছাড়া কি মনের মানুষ রয়’–এই চারটি গান রীতিমতো গানপ্রেমীদের বিস্মিত করেছে। বিশেষত সিনেমার গানে মাটি ও মানুষের আবেগের জায়গা খুব একটা দেখা মিলত না সাম্প্রতিক সময়ে। কিন্তু এবার দেখা গেল জাদুকরি সাড়া।
হাশিম মাহমুদ। ছবি: ফেসবুক
শুধু কী চলচ্চিত্রের গান! হাওয়া চলচ্চিত্র প্রকাশের মাধ্যমে লোকচক্ষুর আড়ালে হারিয়ে যাওয়া শিল্পী হাশিম মাহমুদের ‘সাদা সাদা কালা কালা’ গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। এই গানের মাধ্যমে বহু বছর পর আবার আলোচনায় আসেন নব্বই দশকের শিল্পী মহলে পরিচিত মেধাবী শিল্পী হাশিম মাহমুদ। এরপর ইমন চৌধুরীর সংগীতায়োজনে কোক স্টুডিওতে প্রকাশ হয় এই গুণী শিল্পীর লেখা ও সুর করা ‘দেখা না দিলে বন্ধু’ নামের গানটি। পরে নিজের কণ্ঠে গাওয়া ‘বাজি’ নামের আরও একটি গান। গানগুলো প্রকাশের পর সারা দেশে হৈচৈ শুরু হয় হাশিম মাহমুদকে নিয়ে। সিনেমার সাথে সাথে উঠে আসছে হারিয়ে যাওয়া হাশিম মাহমুদের সংগীত জীবন।
অন্যদিকে আছে ভারতের বীরভূমের মনিরুদ্দিন আহমেদের লেখা ও সুর করা গান ‘আটটা বাজে দেরি করিস না’। গানটি বাসুদেব বাউলের কণ্ঠে শুনেছে অনেকেই। তবে হাওয়া সিনেমায় প্রকাশের পর লুফে নেয় দর্শক। শুরুতে গানের গীতিকার ও সুরকারের পরিচয় না জানা গেলেও পরে পাওয়া যায় আসল স্রষ্টার পরিচয়। ‘হাওয়া’ ছবির পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমন তার এক ফেসবুকে পোস্টের মাধ্যমে জানিয়েছেন, ভারতের বীরভূমের পঞ্চায়েত অফিসের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী মনিরুদ্দিন আহমেদ ‘হাওয়া’ সিনেমার ‘আটটা বাজে দেরি করিস না’ গানের সুরকার-গীতিকার।
সিনেমার গানে এমন অভিনবত্ব কেন, জানতে চাইলে নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন চরচাকে বলেন, “আমি যে গল্পের আবহ তৈরি করতে চেয়েছিলাম, এই গানগুলো সেই আবহ দর্শকদের কাছে পৌঁছে দেয়। গান একটা গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম, যা সিনেমার গল্পটা বা গল্পের আবহ দর্শকের কাছে পৌঁছে দেয়। গানটা শুনে দর্শক বুঝতে পারে যে, সিনেমাটা বোধহয় এই আবহের বা এই টেক্সচারের। এইটা কোনো ব্যাতিক্রম চেষ্টা না। আমি যে ধরনের গান শুনি, বিশ্বাস করি, আমার গল্প যে ধরনের গান ডিমান্ড করে, আমি সেই গানগুলো নিয়ে কাজ করি। কানাই দাস বাউলের এই গানটা আমি দীর্ঘদিন ধরে শুনে আসছি। সিনেমার স্ক্রিপ্টটা যখন লিখছিলাম, তখন আমি গানটা শুনে শুনে লিখতাম। একটা বিষয়ের সাথে আসলে আরেকটা জড়িত।”
সুমনের এবারের চলচ্চিত্র ‘রইদ’। সিনেমাটি এখনো প্রকাশের অপেক্ষায়। ইতিমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে ‘রইদ’ সিনেমার তিনটি গান। প্রথম প্রকাশ পায় ‘রইদ’। ‘রইদে আইলা গা জুড়াইতে’ শিরোনামের গানটির কথা, সুর ও কণ্ঠ দিয়েছেন সহজিয়া ব্যান্ডের রাজীব আহমেদ রাজু। সংগীত পরিচালনা করেছেন রাশীদ শরীফ শোয়েব। প্রকাশের পরই গানটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছে রইদের পোস্ট আর রিলে।
সুমনের সিনেমায় শুধু কি বাউল মরমী সাধকদের গল্প উঠে আসছে! উত্তর হবে, ‘না’। সুমনের চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সর্বমহলে পরিচিতি পাচ্ছে সহজিয়া এবং মেঘদলের মতো প্রতিশ্রুতিশীল ব্যান্ডও। বিশেষ করে রইদের আগে মেঘদলের ‘হাওয়া’ গানটি তরুণদের মন জয় করেছিল। জনপ্রিয়তা পেয়েছিল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চৌকাঠ পেরিয়ে গ্রামীণ জনপদ পর্যন্ত।
সুমনের সিনেমার গানে বাউল ও ব্যান্ডের গানের রসায়ন সম্পর্কে জানতে চাইলে মেঘদল ব্যান্ডের ভোকাল ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শিবু কুমার শীল চরচাকে বলেন, “মানুষ যেভাবে বিষয়টাকে সেলিব্রেট করছে এইটা নিঃসন্দেহে আশাপ্রদ। এই যাত্রা শুরু হয়েছিল মূলত নির্মাতা গিয়াসউদ্দিন সেলিমের ‘মনপুরা’ সিনেমার মাধ্যমে। মনপুরা সিনেমায় অর্ণবের সংগীতায়োজনে গানগুলো চলচ্চিত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল। এই ধারাবাহিকতায় মেজবাউর রহমান সুমনের হাওয়া ও রইদ সিনেমা। রায়হান রাফীর মতো পরিচালকেরাও এখন এই চেষ্টা করছেন। এই চেষ্টা অব্যাহত থাকলে আরও ভালো ভালো গান আসবে সিনেমার মাধ্যমে। একই সঙ্গে বাউল এবং ব্যান্ডের সংমিশ্রণের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব সুমনের। আমরা শুধু অনুষঙ্গ।”
নতুন করে আবার আলোচনায় এসেছে বাংলা চলচ্চিত্রের গান। ছবি: ফেসবুক
সহজিয়ার ‘রইদ’, মেঘদলের ‘হাওয়া’ কিংবা হাশিম মাহমুদের ‘সাদা সাদা কালা কালা’, বীরভূমের মনিরুদ্দিন আহমেদের ‘আটটা বাজে দেরি করিস না’ অথাবা মাতান চাঁদ গোসাইয়ের লেখা কানাই দাস বাউলের গাওয়া ‘মন ছাড়া কি মনের মানুষ রয়’। হাওয়া থেকে রইদ চলচ্চিত্রের গানে চমক দেখাচ্ছেন পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমন। যেন সিনেমার গানে হাওয়া বদল।
হাওয়া সিনেমার পর রইদেও দেখালেন জাদু। দুই চলচ্চিত্রের মোট ৫টি গান যথারীতি বাংলা চলচ্চিত্রের সংগীতে নতুন করে প্রাণ দিচ্ছে। গানগুলো শহুরে রুচিশীল মানুষের গণ্ডি পেরিয়ে জায়গা করে নিচ্ছে জনমানুষের পছন্দের তালিকায়। এর মাধ্যমে নতুন করে আবার আলোচনায় এসেছে বাংলা চলচ্চিত্রের গান।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলা সিনেমার গান সকল শ্রেণির স্রোতামহলে খুব একটা পৌঁছাচ্ছে না। সিনেমার একটা থেকে দুইটা গান নির্দিষ্ট এক শ্রেণির মানুষকে সুরের মূর্চ্ছনায় ভাসালেও গ্রাম-নগরের সকল বয়সী মানুষের মনের খোরাক মেটাতে পারছিল না। কিন্তু এই দুই চলচ্চিত্রের ‘সাদা সাদা কালা কালা’, ‘আটটা বাজে দেরি করিস না’, ‘রইদে আইলা গা জুড়াইতে’ কিংবা ‘মন ছাড়া কি মনের মানুষ রয়’–এই চারটি গান রীতিমতো গানপ্রেমীদের বিস্মিত করেছে। বিশেষত সিনেমার গানে মাটি ও মানুষের আবেগের জায়গা খুব একটা দেখা মিলত না সাম্প্রতিক সময়ে। কিন্তু এবার দেখা গেল জাদুকরি সাড়া।
হাশিম মাহমুদ। ছবি: ফেসবুক
শুধু কী চলচ্চিত্রের গান! হাওয়া চলচ্চিত্র প্রকাশের মাধ্যমে লোকচক্ষুর আড়ালে হারিয়ে যাওয়া শিল্পী হাশিম মাহমুদের ‘সাদা সাদা কালা কালা’ গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। এই গানের মাধ্যমে বহু বছর পর আবার আলোচনায় আসেন নব্বই দশকের শিল্পী মহলে পরিচিত মেধাবী শিল্পী হাশিম মাহমুদ। এরপর ইমন চৌধুরীর সংগীতায়োজনে কোক স্টুডিওতে প্রকাশ হয় এই গুণী শিল্পীর লেখা ও সুর করা ‘দেখা না দিলে বন্ধু’ নামের গানটি। পরে নিজের কণ্ঠে গাওয়া ‘বাজি’ নামের আরও একটি গান। গানগুলো প্রকাশের পর সারা দেশে হৈচৈ শুরু হয় হাশিম মাহমুদকে নিয়ে। সিনেমার সাথে সাথে উঠে আসছে হারিয়ে যাওয়া হাশিম মাহমুদের সংগীত জীবন।
অন্যদিকে আছে ভারতের বীরভূমের মনিরুদ্দিন আহমেদের লেখা ও সুর করা গান ‘আটটা বাজে দেরি করিস না’। গানটি বাসুদেব বাউলের কণ্ঠে শুনেছে অনেকেই। তবে হাওয়া সিনেমায় প্রকাশের পর লুফে নেয় দর্শক। শুরুতে গানের গীতিকার ও সুরকারের পরিচয় না জানা গেলেও পরে পাওয়া যায় আসল স্রষ্টার পরিচয়। ‘হাওয়া’ ছবির পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমন তার এক ফেসবুকে পোস্টের মাধ্যমে জানিয়েছেন, ভারতের বীরভূমের পঞ্চায়েত অফিসের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী মনিরুদ্দিন আহমেদ ‘হাওয়া’ সিনেমার ‘আটটা বাজে দেরি করিস না’ গানের সুরকার-গীতিকার।
সিনেমার গানে এমন অভিনবত্ব কেন, জানতে চাইলে নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন চরচাকে বলেন, “আমি যে গল্পের আবহ তৈরি করতে চেয়েছিলাম, এই গানগুলো সেই আবহ দর্শকদের কাছে পৌঁছে দেয়। গান একটা গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম, যা সিনেমার গল্পটা বা গল্পের আবহ দর্শকের কাছে পৌঁছে দেয়। গানটা শুনে দর্শক বুঝতে পারে যে, সিনেমাটা বোধহয় এই আবহের বা এই টেক্সচারের। এইটা কোনো ব্যাতিক্রম চেষ্টা না। আমি যে ধরনের গান শুনি, বিশ্বাস করি, আমার গল্প যে ধরনের গান ডিমান্ড করে, আমি সেই গানগুলো নিয়ে কাজ করি। কানাই দাস বাউলের এই গানটা আমি দীর্ঘদিন ধরে শুনে আসছি। সিনেমার স্ক্রিপ্টটা যখন লিখছিলাম, তখন আমি গানটা শুনে শুনে লিখতাম। একটা বিষয়ের সাথে আসলে আরেকটা জড়িত।”
সুমনের এবারের চলচ্চিত্র ‘রইদ’। সিনেমাটি এখনো প্রকাশের অপেক্ষায়। ইতিমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে ‘রইদ’ সিনেমার তিনটি গান। প্রথম প্রকাশ পায় ‘রইদ’। ‘রইদে আইলা গা জুড়াইতে’ শিরোনামের গানটির কথা, সুর ও কণ্ঠ দিয়েছেন সহজিয়া ব্যান্ডের রাজীব আহমেদ রাজু। সংগীত পরিচালনা করেছেন রাশীদ শরীফ শোয়েব। প্রকাশের পরই গানটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছে রইদের পোস্ট আর রিলে।
সুমনের সিনেমায় শুধু কি বাউল মরমী সাধকদের গল্প উঠে আসছে! উত্তর হবে, ‘না’। সুমনের চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সর্বমহলে পরিচিতি পাচ্ছে সহজিয়া এবং মেঘদলের মতো প্রতিশ্রুতিশীল ব্যান্ডও। বিশেষ করে রইদের আগে মেঘদলের ‘হাওয়া’ গানটি তরুণদের মন জয় করেছিল। জনপ্রিয়তা পেয়েছিল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চৌকাঠ পেরিয়ে গ্রামীণ জনপদ পর্যন্ত।
সুমনের সিনেমার গানে বাউল ও ব্যান্ডের গানের রসায়ন সম্পর্কে জানতে চাইলে মেঘদল ব্যান্ডের ভোকাল ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শিবু কুমার শীল চরচাকে বলেন, “মানুষ যেভাবে বিষয়টাকে সেলিব্রেট করছে এইটা নিঃসন্দেহে আশাপ্রদ। এই যাত্রা শুরু হয়েছিল মূলত নির্মাতা গিয়াসউদ্দিন সেলিমের ‘মনপুরা’ সিনেমার মাধ্যমে। মনপুরা সিনেমায় অর্ণবের সংগীতায়োজনে গানগুলো চলচ্চিত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল। এই ধারাবাহিকতায় মেজবাউর রহমান সুমনের হাওয়া ও রইদ সিনেমা। রায়হান রাফীর মতো পরিচালকেরাও এখন এই চেষ্টা করছেন। এই চেষ্টা অব্যাহত থাকলে আরও ভালো ভালো গান আসবে সিনেমার মাধ্যমে। একই সঙ্গে বাউল এবং ব্যান্ডের সংমিশ্রণের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব সুমনের। আমরা শুধু অনুষঙ্গ।”