Advertisement Banner

প্রথম সফরে তারেক যাচ্ছেন মালয়েশিয়াতে, কোথায় গিয়েছিলেন জিয়া-খালেদা?

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
প্রথম সফরে তারেক যাচ্ছেন মালয়েশিয়াতে, কোথায় গিয়েছিলেন জিয়া-খালেদা?
ছবি: সংগৃহীত

সরকার গঠনের পর এই প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে বিদেশে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি মালয়েশিয়া হয়ে যাবেন চীনে। তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর নিয়ে এক ধরনের আগ্রহ ছিল সবার। তিনি ভারতে যাবেন, চীনে যাবেন, না কি অন্য কোনো দেশে যাবেন—কৌতূহল ছিল এ নিয়েই।

ভারতে না গিয়ে মালয়েশিয়া হয়ে চীন–যাত্রা এক ধরনের কূটনৈতিক ভারসাম্য রাখার প্রয়াস হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরের এ মুহূর্তে তার বাবা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রথম সফর কোথায় ছিল, সেই ইতিহাসও আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।

১৯৭৭ সালের জানুয়ারিতে তৎকালীন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে প্রথমবারের মতো চীন সফর করেন। তার এই চীন সফরটি ছিল ঐতিহাসিক। সেটি ছিল দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কের সূচনার সময় উচ্চপর্যায়ের একটি কূটনৈতিক সংযোগ, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে সুসংহত করতে যুগান্তকারী অবদান রাখে।

সেই সফরের সময় বাংলাদেশের জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রচেষ্টার প্রতি চীন তাদের প্রকাশ্য ও জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেছিল। বেইজিংয়ের সেই ইতিবাচক অবস্থান দুই দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তি নির্ধারণে অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

পরবর্তীতে, এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ১৯৮০ সালের জুলাই মাসে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি হিসেবে আবারও চীন সফর করেন। তার এই সফরটি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা ও অংশীদারি আরও জোরদার করার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্থায়ী ভিত্তি স্থাপন করেছিল।

বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর পর প্রথম বিদেশ সফর ছিল ভারতে। তবে সেটি দ্বিপাক্ষিক সফর ছিল না। ১৯৯১ সালের মে মাসে। ২১ মে এক নির্বাচনী জনসভায় আত্মঘাতী বোমা হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী। খালেদা জিয়া ভারতে গিয়েছিলেন রাজীব গান্ধীর শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে।

১৯৯১ সালের শেষ দিকে খালেদা জিয়া যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছিলেন মার্কিন হোয়াইট হাউজের আমন্ত্রণে। সেবার মিয়ানমার থেকে প্রাণভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছিলেন রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থীরা। যেটি বাংলাদেশে বড় সংকট তৈরি করেছিল। খালেদা জিয়া সংকটময় বিষয়টি অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরেন মার্কিন প্রশাসনের সামনে। তার এই কূটনৈতিক তৎপরতা ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে, ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থীদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে একটি চুক্তি সই করতে বাধ্য হয়।

বাবা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে প্রথম চীনে গিয়েছিলেন। মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে গিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে। তাদের সন্তান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যাচ্ছেন মালয়েশিয়া।

ছবি: সুদীপ্ত সালাম
ছবি: সুদীপ্ত সালাম

তারেক রহমান শুরুতে মালয়েশিয়া গেলেও সেখান থেকে তিনি চীনে যাবেন। তিনি ২১ ও ২২ জুন মালয়েশিয়া থাকবেন। এরপর ২৩ থেকে ২৬ জুন করবেন চীন সফর। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তারেক প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফরে কোথায় যাচ্ছেন, এটা নিয়ে কৌতূহল ছিল সবার।

চীনে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে। আলোচনা হতে পারে তিস্তা প্রকল্প নিয়েও।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীনের এই জোড়া সফর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারি জোরদার, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কানেক্টিভিটি বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি কৌশলগত কূটনৈতিক উদ্যোগ।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে রোববার বিকেলে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে সোমবার বিকেলে তিনি চীনের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের স্টেট কাউন্সিলের প্রিমিয়ার (প্রধানমন্ত্রী) লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে তিনি চীন সফর করছেন।

চীন সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ১৭তম বার্ষিক ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস’ সভায় (২০২৬ সামার ড্যাভোস ফোরাম) যোগ দেবেন। আয়োজকেরা গত মঙ্গলবার জানিয়েছেন, সামার ড্যাভোস ফোরাম নামে পরিচিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের এই বার্ষিক সভাটি ২৩ থেকে ২৫ জুন উত্তর-পূর্ব চীনের লিয়াওনিং প্রদেশের বন্দর নগরী ডালিয়ানে অনুষ্ঠিত হবে।

আগামী ২৫ জুন চীনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ছাড়াও ২৬ জুন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী শুক্রবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

সম্পর্কিত