Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> প্রবাস

জীবিকার জন্য মধ্যপ্রাচ্যে এসে যুদ্ধের মধ্যে পড়ে নিরুপায় প্রবাসীরা

বিডিজেন ডেস্ক

প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০২৬, ১৬: ৩৪
জীবিকার জন্য মধ্যপ্রাচ্যে এসে যুদ্ধের মধ্যে পড়ে নিরুপায় প্রবাসীরা

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাইয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরদিনই এক বাংলাদেশি ডেলিভারি রাইডার আবার তার বাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। এদিন রাস্তাঘাট অন্য সময়ের তুলনায় বেশ শান্ত, তবে বকশিশের পরিমাণ ছিল বেশ ভালো। অন্যদিকে একই শহরে চার বছর ধরে প্রতিদিন ১২ ঘণ্টার শিফটে কাজ করা এক পাকিস্তানি রাইডারের সামনে আর কোনো বিকল্প ছিল না।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মিডল ইস্ট আইকে পাকিস্তানি ওই চালক বলেন, “আমি এখানে এসেছি টাকা উপার্জন করতে। এখন যেকোনো পরিস্থিতিতেই কাজ করা আমার জন্য একপ্রকার আবশ্যিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকে ভয় পেলেও আমাদের মতো রাইডারদের সাহস নিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে হয়। প্রতিটি ডেলিভারির জন্যই আমি টাকা পাই। তাই আমি যদি কাজ না করি, তবে আমাকে হয়তো না খেয়ে থাকতে হবে।”

ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর যুদ্ধে এখন অস্থির গোটা মধ্যপ্রাচ্য। এর মধ্যেই লাখো পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নির্মাণশ্রমিক, গাড়িচালক ও নিরাপত্তাপ্রহরীই উপসাগরীয় দেশগুলোর চাকা সচল রেখেছে। ওই রাইডার তাদেরই একজন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

যুদ্ধ শুরুর পর উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানি হামলায় অন্তত ১২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কথা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য; কারণ, সেখানে এখন পর্যন্ত নিহত হওয়া বেসামরিক ব্যক্তিরা বাংলাদেশ, নেপাল বা পাকিস্তানের প্রবাসী শ্রমিক।

নিহতদের একজন ৫৫ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক সালেহ আহমেদ। যুদ্ধের প্রথম দিন সংযুক্ত আরব আমিরাতে পানি সরবরাহ করার সময় তিনি প্রাণ হারান।

ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্যে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী শ্রমিক, যারা কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোর মোট জনসংখ্যার বড় অংশ, তাদের কার্যত ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থা ইকুডেমের নির্বাহী পরিচালক মোস্তফা কাদরি মিডল ইস্ট আইকে বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, সৌদি আরব ও জর্ডানে তাদের সংস্থার প্রবাসী শ্রমিক গবেষক নেটওয়ার্ক কাজ করছে। তাদের অনুসন্ধানে এসব দেশে প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও মানসিক ট্রমায় পড়ার তথ্য উঠে এসেছে। একই সঙ্গে সরকারি নিরাপত্তাব্যবস্থা থেকেও তাদের দৃশ্যত বাদ দেওয়ার বিষয়টি নথিবদ্ধ করা হয়েছে।

কাদরি বলেন, “শ্রমিকেরা যে দেশ থেকেই আসুক না কেন, তাদের সবার মধ্যে ট্রমা, আতঙ্ক আর উদ্বেগ একই রকম। আমি এখানে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা এবং ভিন্ন ভিন্ন পেশায় নিয়োজিত নারী ও পুরুষ—উভয় শ্রেণির শ্রমিকের কথাই বলছি।”

কাদরির দৃষ্টিতে, এই শ্রমিকেরা সুনির্দিষ্টভাবে দুই ধরনের বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।

প্রথমটি হলো সরকারি নিরাপত্তাসংক্রান্ত যোগাযোগ বা নির্দেশনা থেকে তাদের বাদ দেওয়া। যদিও কিছু আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ‘সকল বাসিন্দার’ কথা উল্লেখ করা হয়েছে; কিন্তু মাঠপর্যায়ে কর্মরত শ্রমিকেরা বলছেন, আশ্রয়কেন্দ্র, নিরাপদ স্থানান্তর পথ বা জরুরি সহায়তার বিষয়ে তারা কার্যকর কোনো দিকনির্দেশনা পাননি।

দ্বিতীয়টি হলো কাঠামোগত বৈষম্য। উপসাগরীয় দেশগুলোর সমাজের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ খাত—নির্মাণ, আতিথেয়তা (হসপিটালিটি), স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা, গৃহস্থালি কাজ এবং কৌশলগত—সবখানেই এই প্রবাসী শ্রমিকেরা অপরিহার্য। ফলে যখন হামলা চলে, তখনো তাদের কাজ চালিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে তাদের বিপদ থেকে দূরে সরে যাওয়ার বদলে উল্টো বিপদের মুখেই এগিয়ে যেতে হয়।

কাদরি বলেন, অপেক্ষাকৃত গরিব দেশগুলো থেকে আসা শ্রমিকদের দিয়ে এই কঠিন কাজগুলো করিয়ে নেওয়ার পেছনে একটি সচেতন সিদ্ধান্ত কাজ করে। কারণ, তাদের বেতন কম দিতে হয় এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সামাজিক প্রেক্ষাপটে তাদের ক্ষমতাও অনেক কম। ফলে তারা অভিযোগ করার বা নিজেদের সুরক্ষার দাবি জানানোর সুযোগ পায় না।

কাদরির চোখে সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো ডেলিভারি রাইডার এবং ‘গিগ ইকোনমি’ বা খণ্ডকালীন চুক্তিতে কাজ করা অন্য শ্রমিকদের অবস্থা। যখন তাদের সচ্ছল গ্রাহকেরা নিরাপদ আশ্রয়ে ঘরে অবস্থান করে, তখন এই শ্রমিকদের ঠিকই খোলা আকাশে কাজ চালিয়ে যেতে হয়।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে উপসাগরীয় দেশগুলোর নাগরিকদের মধ্যে ডেলিভারি সেবার ওপর নির্ভরতা আরও বেড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বা সওদা করতে বাইরে বের হওয়ার ঝুঁকি না নিয়ে তারা ঘরে থাকতেই পছন্দ করছেন।


‘একের পর এক অর্ডার’

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বড় বড় ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মে কর্মরত তিনজন রাইডারের সঙ্গে কথা বলেছে মিডল ইস্ট আই। তাদের প্রত্যেকেই জানিয়েছে, কোনো ধরনের নির্দেশনা, সহায়তা বা বিকল্প ছাড়াই তাদের মৃত্যুর ঝুঁকির মধ্যে কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কাজের চাপ বহুগুণ বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছে এই রাইডাররা। তবে নিজেদের কর্মসংস্থান বা চাকরি টিকিয়ে রাখার স্বার্থে তারা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছে।

দুই বছর ধরে একটি কোম্পানিতে কর্মরত এক বাংলাদেশি রাইডার বলেন, প্রথম হামলার দিন রাস্তাঘাট একদম জনশূন্য ছিল। কিন্তু তার পরদিন থেকেই তাকে আবারও ডেলিভারি দেওয়ার জন্য রাস্তায় নামতে হয়েছে। তিনি লক্ষ করেছেন, সাধারণ সময়ের চেয়ে এখন গ্রাহকেরা টিপস বা বকশিশ একটু বেশিই দিচ্ছে।

আবুধাবিতে পাঁচ বছর ধরে কর্মরত এক পাকিস্তানি রাইডার জানায়, হামলার ঠিক পরের দিনগুলো ছিল এককথায় ‘বিরামহীন’। স্থানীয় বাসিন্দাদের বড় একটি অংশ ঘর থেকে বের হতে অনাগ্রহী থাকায় তাদের কাছে ডেলিভারির ফরমায়েশ বা অর্ডারের জোয়ার বইছিল।

তিনি মিডল ইস্ট আইকে বলেন, “আমি দিন-রাত এক করে কাজ করেছি, মাঝেমধ্যে শুধু অল্প সময়ের জন্য বিশ্রাম নিতাম।”

তার ধারণা অনুযায়ী, রাস্তায় সাধারণ সময়ের তুলনায় মাত্র ৭০ শতাংশ মানুষ চলাচল করছিল। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় মানুষ আতঙ্কিত হয়ে প্রচুর পরিমাণে খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মজুত করার জন্য অর্ডার দিচ্ছিল।

দুবাইয়ে একই কোম্পানিতে চার বছর ধরে কর্মরত আরেক পাকিস্তানি রাইডার এমন এক অবস্থার কথা বর্ণনা করেছে, যেখানে ভয়ের কোনো স্থান নেই। অর্থাৎ মৃত্যুভয় থাকলেও কাজ থেকে পিছু হটার কোনো উপায় নেই।

তিনি বন্ধুদের সঙ্গে একটি মেসে থাকেন এবং দিনে ১২ ঘণ্টার শিফটে কাজ করেন। তিনি বলেন, “কোম্পানি আমাকে কেবল প্রতিটি ডেলিভারির ওপর ভিত্তি করে টাকা দেয়। আমি যদি কাজে না বের হই, তবে আমার কোনো আয় নেই।”

হামলার ভয়াবহতা যখন ছড়িয়ে পড়ছে, তখন এই প্রবাসী শ্রমিকেরাই হয়ে উঠেছে যুদ্ধের প্রভাব টুকে রাখার প্রধান সাক্ষী।

অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ধ্বংসযজ্ঞের অধিকাংশ দৃশ্যই ধারণ করেছেন এবং শেয়ার করেছেন এই প্রবাসী শ্রমিকেরা। তারা নিজেদের মুঠোফোনে এসব চিত্র ধারণ করছেন। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে বাহরাইন ৫ জন পাকিস্তানি এবং একজন বাংলাদেশি শ্রমিককে গ্রেপ্তার করে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, হামলার পরবর্তী দৃশ্য ধারণ করার সময় তারা ইরানের এই হামলার প্রশংসা করে।

কাদরি আশঙ্কা করছেন, আগামী দিনে আরও অনেক শ্রমিক গ্রেপ্তার হতে পারে এবং কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থার শিকার হতে পারে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। কারণ, নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কোনো ঘটনার ভিডিও ধারণ করার অপরাধে কারাদণ্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশটির রেকর্ড রয়েছে।

কাদরি বলেন, এটি অনেকটা গাজার পরিস্থিতির মতোই, যেখানে একটি সমাজের সবচেয়ে অসহায় বা সুবিধাবঞ্চিত মানুষেরাই যুদ্ধক্ষেত্রের ‘চোখ ও কান’ (তথ্যদাতা বা সাক্ষী) হয়ে ওঠে। আর এই দায়িত্ব পালনের জন্য তাদের কোনোভাবেই হেনস্তা বা নিগৃহীত করা উচিত নয়।

এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে শ্রমিক পাঠানো বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, কেনিয়া ও ইথিওপিয়ার মতো দেশগুলোর ঐতিহাসিকভাবে দুর্বল কূটনৈতিক রেকর্ড। নিজেদের নাগরিকদের অর্থবহ কূটনৈতিক সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে এই দেশগুলোর ভূমিকা বরাবরই প্রশ্নবিদ্ধ।

কাদরি বলেন, প্রবাসীদের নিজ নিজ দেশের মানুষ ও পরিবারগুলো তাদের নাগরিকদের সুরক্ষায় সরকারকে পদক্ষেপ নিতে চাপ দিচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রগুলোর পক্ষ থেকে পাওয়া সাড়া বা ভূমিকা খুবই অপর্যাপ্ত।

উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলার কারণে চরম ঝুঁকিতে আছে নেপালি শ্রমিকদের জীবন। নেপালের ‘নিরপেক্ষ’ অবস্থানের কারণে এসব স্থানে তারা নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পায়। এসব ঘাঁটির সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, ঝুঁকি বাড়লে পশ্চিমা বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়া হয়, অথচ রান্নাবান্না বা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মতো জরুরি সেবা চালু রাখতে অভিবাসী শ্রমিকদের ঠিকই সেখানে রেখে দেওয়া হয়।

কাদরি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, যারা এই যুদ্ধের সূচনা করেছে এবং অন্য পশ্চিমা দেশ যারা পরোক্ষভাবে একে সমর্থন দিচ্ছে, তারা তাদের নিজেদের নাগরিকদের অঞ্চলটি থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে। ফলে এই রাষ্ট্রগুলোর পক্ষ থেকে অভিবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যাপারে খুব একটা চাপ বা তাগিদ নেই।


অনুভূতিহীনতা

কাতারে শাহীন আবদুল্লাহ যখন তার বাড়ির কাছের প্রধান সড়কে মোড় নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই বিস্ফোরণ শুরু হয়। তিনি তৎক্ষণাৎ গাড়ি থামিয়ে দেন। আগুনের কুণ্ডলী পাকানো একটি স্প্লিন্টার (লেলিহান ধাতব টুকরা) ঠিক তার গাড়ির সামনে এসে পড়ে। গাড়ির পেছনের আসনে থাকা তার পরিবারের সদস্যরা এই ভয়াবহ দৃশ্যটি চোখের সামনে প্রত্যক্ষ করে।

শাহীন আবদুল্লাহ মিডল ইস্ট আইকে বলেন, “আমি যদি পারতাম, তবে চাইতাম তারা যেন এই দৃশ্য দেখতে না পারে।”

বিস্ফোরণের পর শাহীন পুলিশকে ফোন করেছিলেন। তাকে লাইনে অপেক্ষা করিয়ে রাখার মধ্যেই পুলিশ সদস্যরা সেখানে পৌঁছে এলাকাটি ঘিরে ফেলে। শাহীন বলেন, “মুহূর্তের জন্য আমি স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম, কিন্তু পরক্ষণেই আর খুব একটা ভাবিনি।”

শাহীন আবদুল্লাহর যে অনুভূতিহীনতা, এটাই এখন সবার স্বাভাবিক অবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দোহায় একটি দোকানের মালিক শাহীন এমন এক অভিবাসী শ্রমিক সমাজের কথা বলেন, যাদের সামনে চলমান পরিস্থিতি মুখ বুজে মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোনো পথ নেই। কারণ, দোকানপাট, রেস্তোরাঁ আর ডেলিভারি সেবাগুলো কোনোভাবেই বন্ধ হওয়ার সুযোগ নেই।

“কারও পক্ষেই এক দিনের জন্য ছুটি নেওয়া সম্ভব নয়,” বলেন তিনি।

বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ এই পরিস্থিতির বিপরীতে যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে, তার মধ্যে এক তীব্র বৈষম্যের দিকেও তিনি আঙুল তোলেন।

শাহীন আবদুল্লাহ বলেন, সবাই দেখছে কীভাবে ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের নাগরিকদের সরিয়ে নিচ্ছে। কিন্তু যাদের ফিরে যাওয়ার মতো কিছুই নেই, তাদের মাথায় এই ‘উদ্ধার’ বা দেশান্তরের চিন্তা কাজ করে না। কারণ, সেই সামর্থ্য বা বিলাসিতা তাদের নেই।

শাহীন আবদুল্লাহ জানান, যখন তাদের প্রবাসী সমাজে এই যুদ্ধ বা সংঘাত নিয়ে কোনো আলাপ ওঠে, তখন নিজেদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়টি সেখানে খুব কমই স্থান পায়।

আবদুল্লাহ শাহীন বলেন, “আমাদের আলোচনাগুলো ব্যক্তিগত মঙ্গল বা নিরাপত্তা নিয়ে নয়; বরং সেগুলো রাজনৈতিক এবং অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই–সংক্রান্ত। ট্রমা বা মনের গভীর ক্ষতগুলো এখানে অনুচ্চারিতই থেকে যায়।”

তার ভাষায়, “মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি এখানে গৌণ। এখনকার মূল লক্ষ্য হলো মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা এবং যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে এই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া। দিনের মধ্যে ১৫ মিনিট আকাশ থেকে পড়া জ্বলন্ত স্প্লিন্টার বা বোমার টুকরা নিয়ে দুশ্চিন্তা করা—এটাকে এখন মানুষ নিয়তি হিসেবে মেনে নিয়েছে।”

বিষয়: দোহাউপসাগরীয় অঞ্চলমধ্যপ্রাচ্যদুবাইপ্রবাসীপাকিস্তানিক্ষেপণাস্ত্রবাংলাদেশিকাতার
সর্বশেষ
  • ১

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট ২৯ অক্টোবর

  • ২

    হত্যা মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হলো কলিমুল্লাহকে

  • ৩

    মনপুরায় মেঘনার পাড়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় যুবক উদ্ধার

  • ৪

    মহাখালীতে এসকেএস টাওয়ারের পেছনের ভবনে আগুন

  • ৫

    ‘২৪ ঘণ্টা হল খোলা চাই, এইখানে একটা মিসলিডিং আছে’

সম্পর্কিত
  • সিগন্যালটা ভুল বুঝেছিলাম, সত্যটা নয়

    সিগন্যালটা ভুল বুঝেছিলাম, সত্যটা নয়

    ভালোবাসা মানুষকে পাওয়ার নাম নয়, মানুষকে তার সত্যের মধ্যে গ্রহণ করার নাম। আর সততা শুধু অন্যকে সত্য বলা নয়, অন্যের সত্যকে মেনে নেওয়ার সাহসও।

  • টরন্টোয় বজ্রঝড় ও বন্যায় বিপর্যস্ত প্রবাসীসহ হাজার হাজার মানুষ

    টরন্টোয় বজ্রঝড় ও বন্যায় বিপর্যস্ত প্রবাসীসহ হাজার হাজার মানুষ

    বজ্রঝড়ে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ হাজার হাজার মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

  • অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকারে প্রথম বাংলাদেশি নারী ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত

    অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকারে প্রথম বাংলাদেশি নারী ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত

    দুই দশকের বেশি সময় আগে এলিজা আজাদ শিক্ষার্থী হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় আসেন। পরবর্তী সময়ে তিনি অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান ক্ষমতাসীন দল লেবার পার্টির রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন।

  • নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন

    নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন

    নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নিউইয়র্কে প্রায় ৩ লাখ বাংলাদেশি বসবাস করলেও বাংলাদেশ সোসাইটির সদস্য হয়েছেন প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ। সদস্য হতে ২০ ডলার চাঁদা দিতে হয়েছে। এ হিসাবে সদস্য চাঁদা থেকেই সংগঠনটির আয় হয়েছে প্রায় ৭ লাখ ডলার।