পরিবারের বাইরে আমাদের জীবনে যার গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি, তাকে আমরা বন্ধু বলি। মনের কথা প্রকাশের জন্য আমাদের সবচেয়ে বড় নির্ভরতার নাম বন্ধু। ভালো বা খারাপে, সুখে কিংবা দুঃখে, আনন্দে বা বিষণ্নতায় যার কথা সবার আগে মাথায় আসে, সে আমাদের বন্ধু।
আজ সেই বন্ধুদের দিবস। জীবনে বন্ধুদের ভূমিকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, বন্ধুত্ব উদযাপন করাটাও তেমনি গুরুত্বপূর্ণ। আর সে উদযাপনের জন্যই বেছে নেওয়া বন্ধুত্ব দিবসটিকে।
‘পুরো পৃথিবী এক দিকে, আর আমি অন্য দিক/সবাই বলে করছ ভুল, আর তোরা বলিস ঠিক/তোরা ছিলি, তোরা আছিস/জানি তোরাই থাকবি/বন্ধু বোঝে আমাকে, বন্ধু আছে আর কী লাগে?’— শিল্পী তপুর এই এক গানেই বন্ধুত্বের গভীরতা প্রকাশ পেয়েছে।
বিশ্বের অধিকাংশ দেশে প্রতি বছর আগস্ট মাসের প্রথম রোববার বন্ধুত্ব দিবস পালিত হয়। দিনভিত্তিক হওয়ায় প্রতি বছর এর তারিখ বদলে যায়। তবে ভিন্ন ভিন্ন দেশে আলাদা দিনে পালিত হলেও, ৩০ জুলাই জাতিসংঘ কর্তৃক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধু দিবস।
বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে বন্ধুত্বকে ঘিরে একটি বিশেষ দিন পালনের ধারণা প্রথম মাথায় আসে ‘হলমার্ক কার্ডস’-এর প্রতিষ্ঠাতা জয়েস হলের। তিনি শুভেচ্ছা কার্ড আদান-প্রদানের মাধ্যমে এই দিনটি পালনের প্রস্তাব দেন।
শুরুতে এই ভাবনা বাণিজ্যিক হিসেবে দেখা হলেও ১৯৫০-এর দশকে প্যারাগুয়েতে এটি দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। সেখানে ‘ওয়ার্ল্ড ফ্রেন্ডশিপ ক্রুসেড’ নামে একটি সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে বন্ধুত্বের মাধ্যমে শান্তি ও সৌহার্দ্য ছড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। সময়ের ব্যবধানে এই দিনটি কার্ড দেওয়া-নেওয়ার সীমা ছাড়িয়ে সত্যিকারের ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিন হিসেবে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
তথ্যসূত্র: দ্য সানডে গার্ডিয়ান