রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর মাথা বিচ্ছিন্ন করে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত প্রতিবেশী সোহেল রানাকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মোস্তাক সরকার। তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল স্বীকার করেছে, প্রথমে শিশুটিকে বাসার ভেতরে নিয়ে যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করে। পরে তাকে বাথরুমসংলগ্ন একটি কমন টয়লেটে নেওয়া হয়। এ সময় শিশুটিকে খোঁজাখুঁজি শুরু হলে ঘটনাটি ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।
মোস্তাক সরকার আরও বলেন, “আমাদের কাছে মনে হয়েছে, মূল অপরাধটি আড়াল করতেই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। সময় পেলে হয়তো মরদেহ গুমেরও চেষ্টা করা হতো।”
এর আগে আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের ৭ নম্বর রোডের ৩৯ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির মাথা বিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রথমে শিশুটির মাথা পাওয়া না গেলেও পরে ওই বাসার একটি বালতির ভেতর থেকে মাথাটি উদ্ধার করে পুলিশ।
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির বলেন, জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিবেশী সোহেল সুযোগ বুঝে শিশুটিকে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে হত্যা করে।
হাসান বাসির আরও বলেন, অভিযুক্তের স্ত্রীকে হেফাজতে নেওয়া হলেও পুরো হত্যাকাণ্ড তার সামনে ঘটেনি। তবে ঘটনার কিছু অংশ সম্পর্কে তিনি অবগত থাকতে পারেন বলে ধারণা করছে পুলিশ। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় লামিসার বাবা আব্দুল হান্নন মোল্লা বাদি হয়ে সোহেল ও তার স্ত্রীকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।