Advertisement Banner

ডিসমিসল্যাবের প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ইতিহাসের বিভ্রাট

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
ডিসমিসল্যাবের প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ইতিহাসের বিভ্রাট

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এক বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। সেই বক্তব্যের ফ্যাক্টচেক করে ফ্যাক্ট চেকিং ও গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিসমিসল্যাব দাবি করেছে, তারেক রহমানের বক্তব্যে ইতিহাসের বিভ্রাট ঘটেছে।

সম্প্রতি এক বক্তব্যে তারেক রহমান দাবি করেন, ১৯৭৯ সালের নির্বাচনের সময় আবদুল হামিদ খান ভাসানী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে ধানের শীষ তুলে দেওয়ার কথা বলেছেন। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্য বাস্তবসম্মত নয়। কারণ, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর মারা যান।

গত ১৪ এপ্রিল কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনে টাঙ্গাইলে যান তারেক রহমান। টাঙ্গাইলের সন্তোষে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর কবর জিয়ারত শেষে এক সমাবেশে বক্তব্য দেন তিনি। সেদিনই প্রধানমন্ত্রীর ভেরিফায়েড পেজে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও আপলোড করা হয়।

ভিডিওর ৩ মিনিট ১৪ সেকেন্ড থেকে ৪ মিনিট ৩০ সেকেন্ড অংশে প্রধানমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, “এই মওলানা ভাসানীর একটি প্রতীক ছিল। বলেন তো তার প্রতীকটা কী ছিল? ধানের শীষ। এই মওলানা ভাসানীর প্রতীক ছিল কিন্তু ধানের শীষ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন দায়িত্বভার পেলেন, মওলানা ভাসানী দেখলেন যে, ভাসানী সারাটা জীবন দেশের জন্য যেই কষ্টটা করেছেন, কাজ করতে চেয়েছেন, দেশের মানুষের যে কথাগুলো বলতে চেয়েছেন—শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ঠিক সেই কথাগুলো বলছেন এবং সেই কাজগুলোই করার চেষ্টা করছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। সেজন্যই যখন ১৯৭৯ সালে নির্বাচনের সময় আসলো, সেই সময় মওলানা ভাসানী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বললেন, তোমার হাতে আমি ধানের শীষ তুলে দিলাম। প্রিয় ভাই-বোনেরা, সেদিন থেকে মওলানা ভাসানীর সেই ধানের শীষ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল তথা বিএনপি, শহীদ জিয়া, শহীদ জিয়ার পরে খালেদা জিয়া, খালেদা জিয়ার পরে আপনারা যারা বিএনপির নেতাকর্মী— সেই ধানের শীষকে জনগণের মাঝে নিয়ে গিয়েছেন।”

দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক বাংলা এবং দ্য বাংলাদেশ অবজারভার পত্রিকার আর্কাইভ থেকে প্রাপ্ত ছবি।
দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক বাংলা এবং দ্য বাংলাদেশ অবজারভার পত্রিকার আর্কাইভ থেকে প্রাপ্ত ছবি।

বিএনপির ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করা ভিডিওতেও প্রধানমন্ত্রীকে একই কথা বলতে শোনা যায়।

সত্যতা যাচাইয়ে সংগ্রামের নোটবুক নামের ওয়েবসাইট থেকে পুরোনো পত্রিকার আর্কাইভ বিশ্লেষণ করে ডিসমিসল্যাব। এতে সংবাদমাধ্যম ‘দৈনিক ইত্তেফাক’-এর ১৯৭৬ সালের ১৮ অক্টোবর প্রকাশিত পত্রিকার একটি আর্কাইভ খুঁজে পাওয়া যায়। পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে মওলানা ভাসানী ১৯৭৬ সালের ১৭ অক্টোবর মারা যান। এছাড়াও, ‘সংগ্রামের নোটবুক’ থেকে পাওয়া ‘দৈনিক বাংলা’ ও ‘দ্য বাংলাদেশ অবজারভার’ পত্রিকার আর্কাইভেও একই তথ্য পাওয়া যায়।

ডিসমিসল্যাবের দাবি, ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মধ্যে কথোপকথন হওয়া সম্ভব নয়। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর করা মন্তব্যটি বাস্তবসম্মত নয়।

সম্পর্কিত