নির্বাচনে সংখ্যালঘু ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নাগরিক সমাজের ৮ দফা দাবি

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
নির্বাচনে সংখ্যালঘু ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নাগরিক সমাজের ৮ দফা দাবি
নির্বাচনে সংখ্যালঘু ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নাগরিক সমাজের মানববন্ধন। ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যালঘু, নারীসহ ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে আট দফা দাবি জানানো হয়েছে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে।

গতকাল সোমবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এই দাবি জানানো হয়। ‘নারী, সংখ্যালঘু, আদিবাসী ও প্রতিবন্ধীসহ প্রান্তিক ভোটারদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগের নিশ্চয়তা চাই’ শিরোনামে ‘নাগরিক সমাজ’–এর ব্যানারে এই মানববন্ধন হয়। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে নাগরিক সমাজ।

মানববন্ধনে মূল বক্তব্য পাঠ করেন অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (এএলআরডি) নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা। এতে বক্তব্য রাখেন ‘নিজেরা করি’র সমন্বয়কারী খুশী কবির, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, বাংলাদেশ খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্মল রোজারিও , বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মনীন্দ্র কুমারনাথ, আইনজীবী সুব্রত চৌধুরীসহ অনেকে।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, “ভোটকে কেন্দ্র করে যে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে, তাতে শুধু আদিবাসী, সংখ্যালঘু বা নারীরাই নন, প্রার্থীরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। একটি অন্তর্ভূক্তিমূলক ভোটের যে পরিবেশ তৈরি করার কথা সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও সরকার উভয়ই নির্লিপ্ততা প্রদর্শন করছেন।”

রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, “নির্বাচনে নারী, সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শঙ্কাহীন উপস্থিতি নিয়ে আজকে আমাদের এখানে মানববন্ধন করার কথা নয়। ভোটাধিকার নির্বিঘ্নে প্রয়োগ করা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিতে সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তৎপর হতে হবে।”

খুশী কবির বলেন, “নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে নারী ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিভিন্ন সময়ে দাবি জানানো হলেও কোনো পক্ষ সন্তোষজনক পদক্ষেপ নেয়নি। নির্বাচন যাতে হতে পারে, এই পরিবেশ তৈরিতে নির্বাচন কমিশন ও সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।”

সংসদ নির্বাচনে সংখ্যালঘু, নারীসহ ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেল সক্রিয় করা, প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও নির্বাচনী এলাকায় যারা মাঠ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা, নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ, নির্বাচনের পরও যাতে কোনো সংখ্যালঘু, আদিবাসী, দলিত এবং বিশেষভাবে প্রান্তিক ও দুর্বল সামাজিক অবস্থানে থাকা নারীরা কোনো সহিংসতার শিকার না হন, কারো বাড়িঘর সম্পদ আক্রান্ত বা নষ্ট না হয়, তার পূর্ণ নিশ্চয়তা এখন থেকেই দিতে হবে এবং জনমনে আস্থা সৃষ্টির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়াসহ আট দফা দাবি জানানো হয়।

সম্পর্কিত