গুম প্রতিরোধ, ভুক্তভোগীদের উদ্ধার ও দায়ীদের বিচারে জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’-এ একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও বিশেষায়িত তদন্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি)। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আজ রোববার এক সংবাদ বিবৃতিতে সংগঠনটি এই আহ্বান জানায়।
বিবৃতিতে এইচআরএফবি উল্লেখ করে, গুমকে স্বতন্ত্র অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার রক্ষা, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে তদন্তব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাধীন না হলে আইনে যত কঠোর শাস্তির বিধানই থাকুক না কেন, তা কার্যকর করার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সীমাবদ্ধতা দেখা দেবে।
সংগঠনটি জানায়, বিলের ধারা ১৪(৩)-এ অভিযুক্ত কোনো শৃঙ্খলা-বাহিনীকে তদন্ত থেকে বিরত রাখার বিধানটি ইতিবাচক। তবে অভিযুক্ত বাহিনীর জায়গায় অন্য কোনো বাহিনী বা আন্তঃবাহিনী দলকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়ার যে সুযোগ রাখা হয়েছে, তা প্রকৃতপক্ষে স্বাধীন তদন্ত নিশ্চিত করে না। গুমের ঘটনায় হেফাজতের নথি, সিসিটিভি ফুটেজ বা কল রেকর্ড পরীক্ষার পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ও তদন্তে আসতে পারে। ফলে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন না হলে তদন্ত প্রভাবিত হওয়ার মারাত্মক আশঙ্কা থেকে যায়।
বাংলাদেশে প্রচলিত নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩-এর অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রাথমিক তদন্ত পুলিশের ওপর থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই সেখানে স্বার্থের সংঘাত ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি এড়াতে গুমের ঘটনা তদন্তে একটি বিশেষায়িত ও স্বাধীন তদন্ত কর্তৃপক্ষ গঠন করা জরুরি। এই কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে অন্যান্য বাহিনীর কারিগরি সহযোগিতা নিতে পারে, তবে তদন্তের নেতৃত্ব ও মূল সিদ্ধান্ত থাকবে তাদের নিজেদের হাতেই।
এইচআরএফবি জাতীয় সংসদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, বিলটি চূড়ান্তভাবে পাসের আগেই ধারা ১৪ সহ তদন্তসংক্রান্ত বিধানগুলো পুনর্বিবেচনা করতে হবে। একই সঙ্গে অতীতে ঘটে যাওয়া সমস্ত গুমের ঘটনাকেও এই স্বাধীন তদন্ত ব্যবস্থার আওতায় এনে সত্য উদঘাটন, বিচার এবং ভুক্তভোগীদের কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে সংগঠনটি।