পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি পুনঃস্থাপন করা কোনো রাজনৈতিক শক্তির পক্ষে বা আমলাতান্ত্রিক সরকারের পক্ষে সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। তিনি মনে করেন, একমাত্র বাংলাদেশের সেনাবাহিনী পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন করতে পারে।
আজ বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ৫ মাস: পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে আমাদের পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এ অভিযোগ করেন।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “পার্বত্য অঞ্চলে বাংলাদেশের শান্তি পুনঃস্থাপন করা কোনো রাজনৈতিক শক্তির পক্ষে বা আমলাতান্ত্রিক সরকারের পক্ষে সম্ভব না। একমাত্র বাংলাদেশের সেনাবাহিনী পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন করতে পারে।”
তিনি বলেন, “এদেশের সেনাবাহিনী আন্তর্জাতিকভাবে শান্তি মিশনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে সেই সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে।”
ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, “বাংলাদেশে চুক্তি বাস্তবায়নের ইতিহাস খুব একটা গৌরবজনক না। আমাদের জাতীয় জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি, সবচেয়ে পবিত্র চুক্তি হয়েছে রাষ্ট্রের সাথে জনগণের। সেখানেও চুক্তি ভঙ্গের অহরহ দৃষ্টান্তের মধ্যেও পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে সরকার উদ্যোগী হবে।”
বক্তারা বলেন, তারেক রহমানের সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মসূচিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়নি। নির্বাচনের আগে ‘রেইনবো নেশন’ বা বহুজাতিভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার করা হলেও বাস্তবে পাহাড়ে বৈষম্য ও দমন-পীড়ন অব্যাহত রয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা কেবল পাহাড়ের নয়, এটি জাতীয় সমস্যা”। তিনি একটি ‘জাতীয় কমিশন’ গঠনের প্রস্তাব দিয়ে বলেন, “পাহাড়ের জাতিসত্তাগুলোর অধিকার নিশ্চিত না করে বাংলাদেশে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।”
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল কাফি রতন বলেন, ২৯ বছর ধরে একটি চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলন করা লজ্জার বিষয় । তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে অঘোষিত ‘সামরিকীকরণ’ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সমালোচনা করে অবিলম্বে সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
সভায় আরও বলা হয়, ১৯৯৭ সালে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও ভূমি সমস্যাসহ মৌলিক বিষয়গুলোর সমাধান হয়নি। চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণাও দেন আয়োজকরা।